প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৭, রমজান-শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
উপমহাদেশের বিখ্যাত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র জামিয়া কাসেমিয়া শাহী মুরাদাবাদ ভারতের সম্মানিত মহাপরিচালক আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সায়্যিদ আশহাদ রশীদী কর্তৃক মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ বসুন্ধরায় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বয়ানের অনুবাদ।
মুহতারাম উলামায়ে কেরাম ও প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা! আল্লাহ তাআলা অনেক বড় মেহেরবানি যে তিনি আমাদের ইলমে দ্বীন অর্জনের তাওফীক দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা সবাইকে ভরপুর কামিয়াব করুন। আফিয়াত ও সুস্থতার দৌলত দান করুন। আপনাদের উত্তম উদ্দেশ্যের মাঝে সফলতা দান করুন। প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা! দুটি বিপরীতমুখী গুণ রয়েছে। একটি হলো বদান্যতা, অপরটি হলো কৃপণতা। একটি গুণ প্রশংসনীয়, অপরটি দোষণীয়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটির প্রশংসা করেছেন অপরটি খারাবি বর্ণনা করেছেন। দানশীলের ব্যাপারে তিনি বলেন, যে দানশীল হবে সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে, মানুষের মনে স্থান করে নেবে, জান্নাতের নিকটবর্তী হয়ে যাবে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবেন। এর বিপরীত যে কৃপণ হবে তার ব্যাপারে বলেছেন, যে কৃপণতা করবে সে মানুষদের থেকে দূরে সরে পড়বে, জান্নাত থেকে দূরে চলে যাবে আর জাহান্নামের নিকটবর্তী হয়ে যাবে। (তিরমিযী ৪/৩৪২ হা. ১৯৬১) আল্লাহ তাআলা সকলকে হেফাজত করুন।
প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা! উভয় সিফাত আপনাদের সামনে চলে এসেছে। এখন বলুন এর মাঝে কোনটি ভালো? নিশ্চয়ই সাখাওয়াত বা দানশীলতার গুণটিই উত্তম। আপনারা দানশীল হতে চান কি না? দানশীল কাকে বলে? আমাদের সমাজে দানশীল মনে করা হয় ওই ব্যক্তিকে, যে মানুষের জন্য টাকা-পয়সা বেশি বেশি খরচ করে, এটা তো আছেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় দানশীল কে?
আপনারা হয়তো মনে করেছেন, মাওলানা সাহেব আমাদের দানশীল হওয়ার দাওয়াত দিচ্ছেন, অথচ আমাদের পকেট খালি। আমরা তো দরিদ্র। আমরা কিভাবে দানশীল হব? কিন্তু না, আপনারাই সবচেয়ে বড় দানশীল হতে পারেন। তা কী করে হবে বুঝতে হলে এই হাদীস শরীফের মাঝে চিন্তা করতে হবে।
হযরত আনাস (রা.) বলেন, সাহাবায়ে কেরামের মজলিস ছিল, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন. তোমরা কি জানো সবচেয়ে বড় দানশীল কে? সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাঁদের সশ্রদ্ধ জবাবে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। প্রতিউত্তরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক. দুই. তিন শ্রেণির দানশীলের কথা বলেছেন। এর মাঝে আপনার আছেন কি না চিন্তা করে দেখেন।
সর্বপ্রথম বলেন, সবচেয়ে বড় দানশীল রব্বে জুল জালাল মহান আল্লাহ তাআলা। যিনি আপন-পর সকলকে দান করেন। দোস্ত-দুশমন সকলের পেট ভরেন। যিনি নিজের সম্মুখে মাথা অবনতকারীকেও দান করেন এবং নাফরমানকেও নিরাপত্তা দেন। অতএব পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নিজের দুশমনদের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, এরা ভুল কথা বলছে।
তা সত্ত্বেও বর্তমান দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি নাজ-নেয়ামত তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। লক্ষ করুন, আল্লাহ তা’আলা কী বলেন, ‘আমার জন্য কাউকে পুত্র সাব্যস্ত করা এত বড় গোনাহ যে এ কথা শুনে আসমান ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়ে যায়। জমিন চৌচির হয়ে যাবে আর পাহাড় নিজ স্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। এটা এমন খারাপ দাবি। কিন্তু যে সকল লোক এই দাবি করছে এই স্লোগান দিচ্ছে আর এই ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাস বক্ষে ধারণ করে আছে, বলুন রব্বে যুল জালাল তাদের পেট ভরে দিচ্ছেন কি না? অতএব দেখুন সবচেয়ে বড় দানশীল কে? যিনি মানুষদের খাওয়ান, জীব-জন্তুদের খাওয়ান, দোস্তকেও খাওয়ান, দুশমনকেও আহার দান করেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’আয়ালই সবচেয়ে বড় দানশীল। তাঁর খাজানা কত বড়? তাঁর কাছে কত শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার সকল মানুষের দাবি পূরণ করে যে যা চায় সব দিয়ে দেন, তবুও তাঁর খাজানার সামান্য পরিমাণ কমবে না। বিষয়টিকে হাদীসে একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে। একটি পাখি সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে বসল আর তার ঠোঁট দিয়ে সাগর থেকে পানি পান করল। বলো তো দেখি এতে কি সমুদ্রের পানিতে কোনো ঘাটতি হবে? ঠিক তদ্রƒপ দানের ফলে আল্লাহর খাজানাতেও কোনো ঘাটতি হয় না। তাই তো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দানশীলের যে তিন প্রকার উল্লেখ করেছেন তার মাঝে সবচেয়ে বড় দানশীল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সাব্যস্ত করেছেন।এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বয়ং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইরশাদ করছেন, আদম সন্তানের মধ্যে আল্লাহর পরে যদি কেহ দানশীল থাকে তবে সেটা আমিই। সত্যিকার অর্থেই তাঁর বদান্যতা ছিল অতুলনীয়, অবর্ণনীয়।
বদান্যতা বা দানশীলতা কত প্রকার তা জানা আছে কি? বদান্যতা, যা আমরা সবাই বুঝি। দুই. আত্মিক দানশীলতা। তা হচ্ছে কোনো বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া। তিন. ইলমী দানশীলতা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝে বদান্যতার এই তিন প্রকারই পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান ছিল। তিনি নিজের মাল দ্বারা বদান্যতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি এত বড় দাতা ছিলেন যে আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক আয়াত অবতীর্ণ করে তাকে ফেরাতে হয়েছে। আপনারা নিশ্চয় শুনেছেন, কোরআনের এক আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, আপনি কেন সব জিনিস অন্যকে দিয়ে দেন, নিজের শরীরের কাপড়টি পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছেন। নামাযের সময় একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজরা মোবারক থেকে বের হলেন। দেহ মোবারকে একটি কাপড় ছিল। সেটাও এক যাচনাকারীকে দিয়ে দিলেন। এবার ভেবে দেখুন কী গায় দিয়ে বাইরে বেরোলেন তিনি? এর চেয়ে বড় দানশীলতা আর কী হতে পারে!এই আয়াত যে ছাত্ররা তাফসীরের কিতাবে পড়েছেন তাঁদের নিশ্চয়ই মনে পড়ছে এর প্রেক্ষাপট ও শানে নুযুলের ঘটনা।
আত্মিক দানশীলতার কথা কী আর বলব। সাহাবায়ে কেরামের সাথে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে আচার-ব্যবহার তার দৃষ্টান্ত পৃথিবী দেখাতে পারবে না। সাহাবায়ে কেরামের সাথে সকল কাজে নবীজি সশরীরে অংশ নিতেন। ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে, ক্ষুধার তাড়নায় একবার সাহাবায়ে কেরাম (রা.) পেটে পাথর বেঁধে ছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে যখন তাঁরা কাপড় উঠিয়ে এই দৃশ্য দেখালেন তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী জবাব দিয়েছিলেন? তিনি বলেন, তোমরা তো একটি করে পাথর বেঁধেছ আর এই দেখো আমি দুটি পাথর বেঁধেছি। এটাই হচ্ছে আত্মিক সাখাওয়াত বা দানশীলতা। উম্মতের জন্য তিনি নিজের সর্বস্ব কোরবানী করে দিয়েছিলেন। নিজের কোনো জিনিস নিজের বলে রেখে দেননি বরং উম্মতের মাঝে বিলীন করে দিয়েছেন। উম্মত এর কি প্রতিদান দিতে পারবে? আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য রহমতের দু’আ করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না।
এই জন্য বিদায় হজ্জের সময় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের সামনে দণ্ডায়মান হয়ে তাদের জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার সাহাবীগণ! আল্লাহ তা’আলা যে আমানত আমার কাছে দিয়েছিলেন আমি কি সঠিকভাবে তোমাদের কাছে তা পৌঁছাতে পেরেছি। এই প্রশ্ন তিনি সাহাবাদের সামনে উত্থাপন করেন, যাঁরা সরাসরি তাঁর জানি বদান্যতা, মালি বদান্যতা, ইলমী বদান্যতা আজীবন প্রত্যক্ষ করেছেন, এমন প্রশ্ন করার সাথে সাথে সাহাবায়ে কেরাম চিৎকার করে বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম আপনি ওই আমানত যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। উম্মতের সাথে যথাসাধ্য পূর্ণ খায়েরখাহী ও হিতাকাক্সক্ষীমূলক আচরণ করেছেন। দীনের জন্য আপনি যে কোরবানী পেশ করেছেন আমরা তার কল্পনাও করতে পারি না। সাহাবাদের মুখে তিনি এ কথা শুনে সাথে সাথে আসমানের দিকে আঙুল উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, যে আমানত আপনি আমার হাতে দিয়েছিলেন তা আমি এদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।
ভাই ও দোস্ত! নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মিক কোরবানীর ফিরিস্তি এত দীর্ঘ, যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। তিনি ছিলেন বনী আদমের মাঝে সবচেয়ে বড় দানশীল। তিনি বলেন, আমি মানব জাতির মাঝে সবচেয়ে বড় দানশীল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সবচেয়ে বড় দানশীল কে? দেখুন, প্রথমত সবচেয়ে বড় দাতা হলেন আল্লাহ তা’আলা, আল্লাহর পরের স্থানে রয়েছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর আল্লাহর নবীর পর এই উম্মতের সবচেয়ে বড় দানশীল কে? নবীজি ফরমান, আমার পরে উম্মতের সবচেয়ে বড় দানশীল, অর্থাৎ যে ব্যক্তি মাল দিয়ে মানুষকে সাহায্য করে সেও দানশীল কিন্তু সবচেয়ে বড় দাতা নয়, ওয জান দিয়ে সাহায্য করে সেও দানশীল কিন্তু সবচেয়ে বড় বদান্য নয়, সবচেয়ে বড় দানশীলতা আর বদান্যতা হচ্ছে তৃতীয় নম্বরের দান। পূর্বে বলা হয়েছিল দানশীলতার তিনটি প্রকার রয়েছে, মালি, জানি ও ইলমী দানশীলতা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার পর উম্মতের মাঝে সবচেয়ে বড় দানশীল ওই ব্যক্তি, যে ইলমে দীন হাসিল করে কোনো কারখানায় চাকরি করেনি, অফিস-আদালতে গিয়ে বসেনি, বরং ইলম হাসিল করার পর তার প্রচার-প্রসারে লেগে গেছে। ওই সমস্ত লোকের কাছে ইলম পৌঁছানোর কাজে নিয়োজিত হয়েছে, যাদের সিনা ইলমে দীন থেকে খালি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই ব্যক্তিই আমার উম্মতের মাঝে সবচেয়ে বড় দানবীর। এখন বলুন, আপনারা দানশীল হতে পারবেন কি না? আপনাদের পকেট খালি হতে পারে কিন্তু সিনা খালি নয়। আপনারা নিজেদের পকেটের দিকে দেখবেন না, সিনার দিকে দেখবেন। আপনাদের সিনায় ইলম রয়েছে। আপনাদের বক্ষে কোরআনের ইলম আছে, হাদীসের ইলম আছে, শরীয়তের ইলম আছে, ইসলামের ইলম আছে। কাজেই আপনারা সবচেয়ে বড় দানশীল হতে পারবেন এর ওপর আমল করে ইলমের প্রচার-প্রসারে নিয়োজিত হওয়ার মাধ্যমে।
আল্লাহ তা’আলা আপনাদের এ পর্যায়ে ইলম হাসিল করার সুযোগ দান করেছেন, এরপর আসবে তা পৌঁছানোর পালা। বর্তমান সময়টি হচ্ছে ইলম হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ, ইলম হাসিল করতে হলে আপনাদের কয়েকটি বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। সতর্কতার সাথে মাদরাসায় চার দেয়ালের ভেতর সময় কাটাতে হবে। যদি আপনারা এ সকল বিষয়ে সজাগ থাকতে পারেন তবে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আপনাদেরকে ইলমের সম্পদ দিয়ে ধন্য করবেন। আপনাদের উম্মতের সবচেয়ে বড় দানশীলদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।
আসুন জেনে নিই ওই সকল বিষয়। আপনাদের শুধু তিনটি কাজ করতে হবে। যে এই তিনটি কাজ করবে আল্লাহ তা’আলা তার সামনে ইলমের রাস্তাসমূহ খুলে দেবেন। তাকে ইলমে নাফে’র দৌলত দেবেন এবং তাকে উম্মতের দানবীরদের তালিকায় স্থান দেবেন।
তিন কাজের সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে, এ কথার প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, যা কিছু ক্লাসে আসাতিযায়ে কেরাম থেকে শুনব তা মুখস্থ রাখার প্রতি যত্নবান হব। যদি তালিবে ইলম নিজের সবক ও পাঠ মুখস্থ করার চেষ্টা করে তবে আল্লাহ তা’আলা তাকে ইলমে নাফে দান করবেন। আর যদি শুধুমাত্র সবকে হাজির হয়ে বসে থাকে। যেমন- কেউ বলেছিল দরসগাহে ছাত্রদের এবং এর অবস্থা হয়। অর্থাৎ শুধুমাত্র শরীর হাজির থাকে আর যেহেন, দেমাগ, চিন্তা-ফিকির সব অন্যত্র ঘুরে বেড়ায়। সবক শেষ হয়ে যায় অথচ সে বলতে পারে না শুরু কোথা থেকে হয়েছে আর শেষ কোথায় হয়েছে। তাহলে বলুন ইলমে নাফে কী করে তার অর্জন হবে। ইলমে নাফে দ্বারা তার সিনা কিভাবে পূর্ণ হবে। তাই সবকে বসেন এবং প্রস্তুতি ও মনোযোগ সহকারে বসেন। বুজুর্গরা বলেছেন, দরসে বসার সময় ওজুসহ বসা হলে ইলমে নববীর নূরে সিনা আলোকিত করা সহজ হয়।
প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা! আপনারা হয়তো মুফতী আজম মুফতী কেফায়েতুল্লাহ সাহেবের নাম শুনেছেন, তিনি প্রায় ৫-৬ বছর জামেয়া কাসেমিয়া শাহী মুরাদাবাদে লেখাপড়া করেছেন এরপর দেওবন্দ গিয়ে সেখান থেকে ফারেগ হয়েছেন। ভারত বিভক্তির আগেই তিনি মুফতী আজম হিন্দ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। তার মানে হলো তিনি হিন্দুস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ গোটা ভারতবর্ষের মুফতী আজম ছিলেন। ওই সময় তাঁকে মুফতী আজমে হিন্দ বলা হতো। একবার তাঁর সহপাঠীদের কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করল, মুফতী সাহেব আপনি তো কিতাবের পোক বনে খুব বেশি পড়াশোনা করেননি, বরং শুধু সবকের গুরুত্ব দিতেন। সবকে তো আমরাও বসেছি আপনিও বসেছেন, কিন্তু যে মর্যাদা আল্লাহ পাক আপনাকে দান করেছেন সেটা তো অন্য কেহ পায়নি, এর রহস্যটা কী? মুফতী সাহেব যে উত্তর দিলেন তা ছাত্র ভাইদের জন্য মূল্যবান পাথেয় হতে পারে। তিনি বললেন, আমি কিতাবের স্তূপ নিয়ে বসে থাকতাম না, যেমন আজকাল ছাত্ররা করে থাকে। সারা বছর পড়ে না পরীক্ষা আসলে রাত জেগে কিতাবে মশগুল হয়ে যায়। বরং আমার অভ্যাস ছিল ভিন্ন। আমি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে সবকে যেতাম। উস্তাদ ক্লাসে যে সবক পড়াতেন ধ্যান দিয়ে শুনতাম, আর সবক শেষে ছাত্ররা যখন দরসগাহ থেকে চলে যেত আমি তখন যেতাম না। আমি বসে বসে ওই সব পাঠ এক-দুবার পড়ে নিতাম। ব্যস, এতে ওই পাঠ আমার অন্তরে পাথরে অঙ্কন করার ন্যায় অঙ্কিত হয়ে যেত।
আপনারাও যদি এভাবে পড়তে পারেন তবে আল্লাহ তা’আলা আপনাদেরকে ইলমে নাফে দান করবেন। আর যদি বেপরোয়াভাবে পড়াশোনা করেন, নিজেকে মুখাপেক্ষী বানিয়ে না পড়েন তবে মনে রাখবেন, আল্লাহ তা’আলার এমন লোকের কোনো দরকার নেই।
আমি গতকাল এক জায়গায় বয়ান করতে গিয়ে একটি আয়াত তেলাওয়াত করে বলেছিলাম- দেখুন, আল্লাহ বড়ই বে-নিয়াজ-অমুখাপেক্ষী। আমরা যদি তার সামনে মুখাপেক্ষী হয়ে হাজির না হই তবে আল্লাহ তা’আলা আমাদের মর্তবা বৃদ্ধি করবেন না।
আল্লাহ অন্য কোনো জাতিকে সৃষ্টি করে তাদের ইলমে নাফে দান করে ইলমের প্রচারে লাগাবেন। অতএব সবার দু’আ করা উচিত, হে আল্লাহ! অন্য কোনো জাতিকে আনার প্রয়োজন নেই ইলমের ধারক-বাহক হতে। আমরাই প্রস্তুত আছি। এটা হলো প্রথম বিষয়। আমি বলেছিলাম, আপনারা তিনটি বিষয়ের প্রতি যত্নবান হবেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাদের ইলমে নাফে দান করবেন। প্রথম কথা হচ্ছে, সবকে পাবন্দির সাথে উপস্থিত হোন এবং উস্তাদ যা বলেন তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। আমাদের ছাত্ররা সবকে উদাসীন থাকে, মনে করে শরাহ বা ব্যাখ্যা গ্রন্থ দেখে পরে বুঝে নেব, ইয়াদ করে নেব। কিন্তু মনে রাখবেন, এই ইলম শরাহ-শুরূহাত দেখে অর্জন করা সম্ভব হবে না। ইলম সিনা থেকে সিনায় স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। এই ইলমের একটি পরম্পরা ধারা রয়েছে, এর ইতিহাস রয়েছে। এটাকে শুধু কিতাব থেকে অর্জন করা সম্ভব নয়। ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে তা হাসিল করা যায় না, এটা তো সিনা থেকে সিনা হতে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। যদি ক্লাসে বসে উস্তাদের মুখনিসৃত কথাগুলো ধ্যানের সাথে শ্রবণ করা হয় তবে ইলমের মাঝে কখনো দুর্বলতা দেখা দেবে না।
দ্বিতীয় কাজ : ইলমে নাফে অর্জনের জন্য দ্বিতীয় যে কাজ করতে হবে তা হচ্ছে এ কথার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন যে আমরা কোনো কাজ, কোনো কথা বা আচার-আচরণ দ্বারা কখনো কোনো উস্তাদের মনে ব্যথা দেব না। যে নিজের উস্তাদের মনে কষ্ট দেওয়া থেকে বেঁচে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তার ইলম ও আমলে বরকত দান করবেন। আর যার কথা বা কাজ অথবা আচার-ব্যবহার দ্বারা কোনো উস্তাদের অন্তরে কষ্ট লাগে আমি স্বচক্ষে দেখেছি, সে যত বড়ই যোগ্যই হোক না কেন আল্লাহ তা’আলা তার থেকে ফয়জ ও বরকতের দরজা বন্ধ করে দেন। ফয়জ জারি যদি হতে হয়, তবে তা আসাতিযায়ে কেরামের দু’আর বরকতেই জারি হবে। আপনাদের অর্জিত ইলম যদি ইলমে নাফেয়ে রূপান্তরিত হতে হয়, তবে তা একমাত্র আসাতেযায়ে কেরামদের দু’আর বরকতেই সম্ভব হতে পারে।
আমি একটি ঘটনা বলে সামনে অগ্রসর হব। আসাতেযায়ে কেরামের দু’আর বরকত একজন ছাত্রকে সূর্যপুরুষ বানাতে পারে। আপনারা হয়তো শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর নাম শুনেছেন। উস্তাদের দু’আর বরকতেই তিনি শায়খুল ইসলাম হতে পেরেছেন। শায়খুল আরব ওয়াল আযম হতে পেরেছেন। হযরত শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান (রহ.) যখন মাল্টার জেলে ছিলেন তখন শায়খুল ইসলাম (রহ.)ও জেলে ছিলেন। কেন ছিলেন? শুধুমাত্র উস্তাদের খেদমতের জন্য ছিলেন।
তৎকালীন সৌদি সরকার শায়খুল হিন্দ (রহ.)-কে গ্রেফতার করে ইংরেজদের হাতে সোপর্দ করে। শায়খুল ইসলাম (রহ.) তখন মদীনা শরীফে থাকতেন। তিনি সৌদি সরকারের কাছে নিজেকে পেশ করে বললেন, যদি আমার উস্তাদকে গ্রেফতার করতে হয় তবে আমাকেও গ্রেফতার করে নেন। সবাই তাকে বোঝাতে লাগল, আপনার তো কোনো অপরাধ নেই। উনি তো হিন্দুস্তানে থেকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, আর আপনি তো এখানে থাকেন। আপনার কোনো অপরাধ নেই। আপনি কেন স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। এর উত্তরে তিনি বললেন, আমার উস্তাদ এই বৃদ্ধ বয়সে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পড়ে থাকবেন আর আমি বাড়িতে বসে আরাম করব-এটা হতে পারে না। আমার উস্তাদের দুঃখ-বেদনায় আমি নিজের জান কোরবান করতে প্রস্তুত। অতএব নিজেই এক স্থানে লিখেন, মাল্টায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ত। শীত থেকে বাঁচার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। গরম পানি পাওয়া যেত না। আমার উস্তাদ শায়খুল হিন্দ (রহ.) রাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম এত ঠাণ্ডার মধ্যে হযরতকে কী করে গরম পানির ব্যবস্থা করে দিতে পারি, কোনো উপায় ছিল না। অবশেষে আমি লোটায় পানি ভরে পেটের ওপর রেখে ওপরে লেপ দিয়ে ঢেকে শুয়ে পড়তাম।
বন্ধুগণ! চিন্তা করে দেখুন, কনকনে শীতের রাতে ঠাণ্ডা পানির লোটা পেটে লাগিয়ে যদি কেহ ঘুমায় তার কি ঘুম আসবে? এভাবে সারা রাত পানি পেটের ওপর রেখে শুয়ে থাকতেন। শেষ রাতে যখন উস্তাদে মুহতারাম উঠতেন তখন ওই পানি ওজুর জন্য পেশ করতেন। পানি গরম তো হতো না তবে এর ঠাণ্ডাভাব কিছুটা কমে আসত। এভাবে খেদমত করেছেন। উস্তাদের দিল থেকে তাহলে কেমন দু’আ বের হয়েছে চিন্তা করে দেখুন। আজকাল তো ছাত্ররা উস্তাদকে ধোঁকা দিয়ে থাকে। আর যে সবচেয়ে মেধাবী ও পড়ালেখায় ভালো হয় সে তো আরো বেশি ধোঁকা দেয়। রাতে কিতাব মুতালা’আ করে এশকাল ও তার জবাব লিখে নিয়ে আসে। দরসগাহে এসে উস্তাদের সামনে বসে যায়। উস্তাদ যখন সবক পড়াতে গিয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তখন সে এশকাল করা আরম্ভ করে। অথচ তার হাতে ওই এশকালের জবাব লেখা আছে। এভাবে উস্তাদকে পেরেশান করা কল্যাণকর নয়। মনের চোরকে আল্লাহ তা’আলা দেখছেন কি না? হ্যাঁ, যদি কোনো কথা বুঝে না আসে তবে জিজ্ঞেস করার অধিকার আছে। কিন্তু উস্তাদের পরীক্ষা নেওয়ার অধিকার আপনার নেই।
বন্ধুগণ! এটা হচ্ছে দ্বিতীয় কাজ। অর্থাৎ ইলমে নাফে অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হবে নিজের কোনো কাজ বা ব্যবহার দ্বারা যেন উস্তাদের মনে কষ্ট না আসে।
শেষ কথা : যদি আপনারা ইলমে নাফে অর্জন করতে চান তবে সিদ্ধান্ত নিন যে আমরা এখন, এই মাত্র জীবনে এবং ফারেগ হওয়ার পর আগামী জীবনে সদা-সর্বদা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করব। যে ব্যক্তি ইলমে দীন অর্জন করে সে যদি গোনাহ এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয় তাহলে বলুন ইলমের নূর তার সিনায় কিভাবে পয়দা হবে? আজকাল ছাত্ররা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে না। আমরা যখন দেওবন্দে পড়তাম মাওলানা এনামূল হক সাহেবও আমাদের সাথী ছিলেন, আমাদের সাথীদের মধ্যে অনেকে একটি প্রবাদ শোনাত, অন্যদের জন্য যেটা জায়েজ নেই, সেটাও ছাত্রদের জন্য জায়েয।’
আশ্চর্য কথা! এটা তারা কোথায় পেল। যেকোনো কথা নাযিল হওয়ার দুটি ধারা আছে। একটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, আরেকটি শয়তানের পক্ষ থেকে। এটা নিশ্চয়ই শয়তানি কুমন্ত্রণা থেকে এসেছে। অথচ বাস্তব সত্য হলো,
আপনারা তো তথা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা’আলা আপনাদের ইলমে দীন নসীব করার জন্য দুনিয়ার পচা-গান্ধা পরিবেশ থেকে বাঁচিয়ে মাদরাসার পরিবেশে খাছ এসেছেন। আপনারা তো আল্লাহর খাছ বান্দা। আপনাদের জন্য তো থেকে বেঁচে থাকাও জরুরি। অনেক জায়েয কাজও ছেড়ে দিতে হবে এবং তাকওয়ার ওপর আমল করতে হবে। প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা আজকাল গোনাহের সয়লাব চলছে। গোনাহের ব্যাপক প্রচলন হয়ে গেছে। আমি যত মাদরাসায় গিয়েছি সবখানে এ কথাটি বলেছি যে মাল্টিমিডিয়া মোবাইল বর্তমানে সকল গোনাহের উৎস। অথচ আমাদের প্রত্যেক তালিবে ইলমের হাতে এই মোবাইল ফোনসেট রয়েছে। মনে রেখো যে যুবকের হাতে মোবাইল রয়েছে তার চোখও গোনাহ করে, তার কানও গোনাহ করে, অন্তর ও চিন্তা-চেতনাও গোনাহের মধ্যে লিপ্ত থাকে। তাহলে বলুন, এমন ব্যক্তির সিনায় ইলমের নূর কিভাবে সৃষ্টি হবে?
হযরত ওকী (রহ.)-এর কাছে যখন ইমাম শাফী (রহ.) তাঁর স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগ করল তখন তিনি কী বলেছিলেন?
ইমাম শাফী (রহ.) তাঁর উস্তাদ ওকী (রহ.)-এর কাছে স্মরণশক্তি কমজোর হয়ে পড়ার কথা বললেন। তিনি ভিটামিন, বাদাম, কিসমিস বা অন্য কোনো ওধুষ খাওয়ার পরামর্শ দেননি বরং তিনি গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দিলেন।
প্রিয় ভাইয়েরা! আপনারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকুন। যে ইলম শিখতে এসেছেন তাতে সফলতা তখনই আসবে, যখন গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবেন। আমি ছাত্রদের বলি যে দীনের হুকুম-আহকাম পালনে ত্রুটি হয়ে গেলে তা মাফের আশা করা যায়, কিন্তু গোনাহ থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে ত্রুটি হলে মাফের প্রশ্নই আসে না। কেননা ইলমের নূর গোনাহের অন্ধকারের সাথে একত্র হতেই পারে না। অনেক তালিবে ইলম বলে থাকে আমাদের কাছে মাল্টিমিডিয়া মোবাইল ফোন নেই, সাধারণ মোবাইল ফোন আছে আমরা তার অপব্যবহার করি না। আমি বলব, এমন ছাত্ররা নিজেকেও ধোঁকা দিচ্ছে, অন্যকেও ধোঁকা দিচ্ছে। কেননা গোনাহ থেকে বাঁচার কী গ্যারান্টি আছে? আজকে হয়তো আপনি গোনাহ থেকে বাঁচতে পারছেন, কাল পারবেন কি না তা বলা যায় না। যুবক বয়স আবার শয়তান ও নফস সদা পেছনে লেগে আছে।
কখন যে আপনাকে গোনাহে লিপ্ত করিয়ে দেবে বুঝতেও পারবেন না। কাজেই এই ঝুঁকিয়ে পড়ার কী দরকার? মোবাইল ফোনটা দূরে সরিয়ে দিলেই তো হয়। তাহলে আমার বিশ্বাস, আল্লাহ আপনাকে গোনাহ থেকে হেফাজত করবেন। কভু নিজের ওপর ভরসা করতে নেই। চাই ছাত্র হোক বা আলেম, সদা-সর্বদা নিজের ফিকির নিজের নেগরানি করতে হবে। মানুষ নিজের ফিকির করলে তবেই আল্লাহর রহমত তার সাথে থাকবে। সে নফসের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারবে। অতএব গোনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন। অনেক মেহনত করে আপনারা পড়ালেখা করছেন, করতে থাকুন এবং এই তিনটি বিষয়ের প্রতি যত্নবান হোন।
এক. সবকের প্রতি পাবন্দি এবং মনোযোগ দিয়ে উস্তাদের কথা শোনা ও তা মনে রাখার চেষ্টা করা।
দুই. নিজের কোনো কথা, কাজ বা আচার-ব্যবহার দ্বারা কোনো উস্তাদের মনে কষ্ট না দেওয়া।
তিন. গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
এর সাথে আরো একটি কাজ করতে হবে। তাহলে হলো আমল। ইলমে নাফে পেতে হলে যা কিছু আপনারা পড়বেন তার ওপর আমল শুরু করে দেবেন। যদি ইলম অনুযায়ী আমল শুরু করে দেন তবে আল্লাহ তা’আলা ওই ইলমকে ইলমে নাফে বানিয়ে দেবেন। আর যদি ইলম অনুযায়ী আমল না হয় তবে মনে রাখবেন এই ইলম কোনো কাজে আসবে না। আমাদের এক উস্তাদ বলতেন, ইলমে দীন তো শুধু ইলমের জন্য নয় বরং আমলের জন্য। তাই আমলের থলে যদি খালি হয় তবে শুধু ইলম দ্বারা কোনো লাভ হবে না। আজ আমলের মাঝে অতিমাত্রায় কমতি পরিলক্ষিত হয়।
আপনাদের বলব, মাদরাসার চার দেয়ালে থাকাবস্থায় যদি আমলের ঘাটতি থাকে তবে আপনি শায়খুল হাদীস হয়ে যাওয়ার পরও আমলের ঘাটতি থাকে তবে আপনি শায়খুল হাদীস হয়ে যাওয়ার পরও আমলের মাঝে ঘাটতি রয়ে যাবে। কেননা অভ্যাস গড়ার স্থান হচ্ছে পরিবেশ। যদি এই পরিবেশে আমলের অভ্যাস না হয় তবে আর কোথায় গেলে হবে? স্মরণ রাখবেন! কোরআনে কারীমের কোনো আয়াতে আল্লাহ তা’আলা আয়াতে ইলমের বিপরীত জান্নাতের ওয়াদা করেছেন আমলের বিনিময়ে। হ্যাঁ, ইলম হচ্ছে আমলের মাধ্যম, ইলম মাকসুদে হাকীকি নয়।
এখানে হয়েছে, এটা বলা হয়নি অর্থাৎ প্রতিদান মিলবে আমলের বিনিময়ে, ইলমের বিনিময়ে নয়। ইলমের ফজীলত সেটা ভিন্ন কথা।
আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদেরকে যা কিছু জানলাম, শিখলাম ও বুঝলাম সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
