প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১২ম সংখ্যা, জুন ২০১৬, শাবান-রমাদান ১৪৩৭ হিজরী, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) এর অমরকীর্তি আস্-সুন্নাহ ট্রাস্ট। এটি একটি বহুমুখী ইসলাম প্রচারের প্রতিান। সুন্নাতে উদ্ভাসিত জীবনের জন্যে – এ শ্লোগানকে সামনে রেখে এ প্রতিান নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

কর্মকাণ্ড ও প্রকল্পসমূহ

আস্সুন্নাহ ট্রাস্ট নিম্নের ৬টি শাখার মাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে :
(১) আস-সুন্নাহ শিক্ষা,
(২) আস-সুন্নাহ প্রশিক্ষণ,
(৩) আস-সুন্নাহ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা,
(৪) আস-সুন্নাহ সেবা ও উন্নয়ন,
(৫) আস-সুন্নাহ মিডিয়া ও প্রচার
(৬) মাজলিসুস সুন্নাহ

আস-সুন্নাহ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা

(১) দাওরাতুল উলূমিল ইসলামিয়্যা ওয়াল আরাবিয়্যা

প্রতি বৎসর বাংলাদেশের সকল অঞ্চলের আলিয়া বা কওমী মাদ্রাসা থেকে পাস করে আসা ৩৫০-৪০০ জন তালিব-ইলম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ায় ভর্তি হয়। এদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০-৬০ জন ছাত্র খুবই মেধাবী ও ধার্মিক থাকে। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে এ সকল ছাত্র ক্রমান্বয়ে তাদের ইলম ও আমল হারিয়ে ফেলে। শুধু চাকুরিমুখি লেখাপড়া ও দুনিয়াকেন্দ্রিক চিন্তা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এ সকল মেধাবী ও ধার্মিক তালিব ইলমদের মধ্য থেকে বাছাই করে ২০/৩০ জন ছাত্র গ্রহণ করে তাদেরকে এক বৎসরের ইলমী, আমলী ও গবেষণা প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট।

বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা এক বৎসর ট্রাস্টের আবাসনে অবস্থান করবেন। নিয়মিত রুটিনের আওতায় তারা ইবাদত, বন্দেগী, খাওয়া, ঘুম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও লেখাপড়ার পাশাপাশি কুরআন, হাদীস, ফিকহ, আরবী, ইংরেজি, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ কোর্স ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। সফলভাবে উত্তীর্ণদের বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী গবেষণা চালানোর জন্য সুযোগ ও সহায়তা দেওয়া হবে।

(২) তাখাস্সুস উলূমিল হাদীস

কওমী, আলিয়া বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে উলূমুল হাদীস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ে ২ বৎসর মেয়াদী পূর্ণকালীন শিক্ষা ও উচ্চতর ডিপ্লোমা প্রকল্প গ্রহণ করেছে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট।

(৩) কুরআন, সুন্নাহ ও সীরাত বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র

রাসূলুল্লাহ (সাঃ), তাঁর শরীয়াহ, সুন্নাহ ও সীরাত বিষয়ে গবেষণা এবং এ বিষয়ক বিভ্রান্তি, অপপ্রচার বা কুসংস্কার অপ্রনোদন করে সঠিক সত্য প্রকাশ ও প্রচারের লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট একটি গবেষণা গ্রন্থ, প্রবন্ধ, প্রচারপত্র, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি প্রকাশ ও প্রচার করা এ কেন্দ্রে কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

(৪) সুন্নাহ বিষয়ক গবেষণা চক্র

জীবন ঘনি সকল বিষয়ের সুন্নাহ নির্ভর সমাধান জানতে এবং দেশের আলিমগণকে সুন্নাহ বিষয়ক গবেষণায় শরীক করার উদ্দেশ্যে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট জাতীয় পর্যায়ে “আস-সুন্নাহ স্টাডি সার্কল” -এর উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি গবেষণা চক্রের জন্য উলামায়ে কিরামের পরামর্শের ভিত্তিতে বিষয় নির্ধারণ করে এক বা একাধিক আলিমে দীনকে প্রবন্ধ উপস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান করা হবে। লিখিত প্রবন্ধটি অংশগ্রহণকারী সকল আলিমের কাছে প্রেরণ করা হবে। নির্ধারিত দিনে প্রবন্ধ উপস্থাপক প্রথমে তাঁর প্রবন্ধের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করবেন। এরপর উপস্থিত আলিমগণ সে বিষয়ে তাদের মতামত পেশ করবেন। প্রয়োজনে একই বিষয় একাধিক মাজলিসে আলোচনা করা হবে। আলিমগণের পরামর্শ, সংযোজন, বিয়োজন বা আপত্তি-সহ বিষয়ভিত্তিক এ সকল প্রবন্ধ প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।

আস-সুন্নাহ প্রশিক্ষণ

(১) কুরআন-শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

এ কেন্দ্রে আগ্রহী ইমাম, মুয়াজ্জিন, আলিম বা তালিব-ইলমদেরকে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, অর্থ ও প্রয়োজনীয় মাসাইল শিক্ষাদান পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের কিছু ভাতা প্রদান করা হয়। সফলভাবে উত্তীর্ণদেরকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া তাদেরকে কুরআন শিক্ষা মকতব প্রতিায় সহযোগিতা করা হয়।

(২) ইমাম প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রকল্প

সমাজ উন্নয়নে ইমামগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম সমাজ সামগ্রিকভাবে মসজিদ কেন্দ্রিক। আমাদের সমাজে প্রায় ২০-২৫% মুসলিম নাগরিক নিয়মিত/অনিয়মিত মসজিদে যান। যারা মসজিদে যান না তারাও বিভিন্ন উপলক্ষ্যে ইমাম সাহেবের সাথে সম্পর্ক রাখেন ও তাদেরকে শ্রদ্ধা করেন। একজন উচ্চশিক্ষিত ও মুত্তাকী ইমাম তাঁর এলাকার মানুষদের মধ্যে বিশুদ্ধ ধর্মীয় ও মানবীয় মূল্যবোধ প্রচারে এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক দুর্নীতি ও অবক্ষয় রোধে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারেন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তি, যৌতুক, নারী-নির্যাতন, ইভটিজিং ইত্যাদির প্রতিরোধে কোটি কোটি টাকার প্রচার, সেমিনার, র্যা লি ইত্যাদির চেয়ে ইমামগণের উপদেশ ওয়াজ-নসীহত অনেক বেশি কার্যকর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও ইমামগণ এক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছেন না। আমাদের দেশে মুসলিমগণ মসজিদ নিমার্ণে অকৃপণভাবে দান করেন। তবে মসজিদের জন্য একজন ভাল, উচ্চশিক্ষিত যোগ্য ইমাম নিয়োগে আমরা অত্যন্ত কৃপণ। অথচ যথাসম্ভব উচ্চশিক্ষিত ও মুত্তাকী ইমামের মাধ্যমে মসজিদে সর্বোত্তম খুতবা, ওয়াজ, কুরআন শিক্ষা ও মাসলা-মাসাইল শিক্ষার ব্যবস্থা করাই মসজিদ আবাদ রাখার মূল বিষয়। ইমামগণকে তাদের যথাযোগ্য ভূমিকা পালন সহায়তার জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রথমত : ইমামগণকে সমকালীন সমাজমুখি ও জীবনঘনিষ্ট বিষয়াদিতে কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক খুতবা আলোচনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান। দ্বিতীয়ত: ইমামগণকে গবেষণা-কর্মে সহায়তা। তৃতীয়ত : আগ্রহী মসজিদ কমিটিকে উচ্চশিক্ষিত যোগ্য ইমাম নিয়োগ ও সম্মানী প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়তা ও অনুদান প্রদান।

আস-সুন্নাহ মিডিয়া ও প্রচার

(১) মূল্যবোধ ও অধিকার বিষয়ক গণ-সচেতনতা প্রচার

ওয়াজ, আলোচনা, লেখনি ও বিভিন্ন দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের দেশে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে সুন্নাহ নির্দেশিত হুকুকুল ইবাদ বা মানবাধিকার ও বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ক প্রচার খুবই কম। এজন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বিশেষভাবে এ বিষয়ে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব, সৃষ্টির অধিকার, সৃষ্টির সেবা, মানবাধিকার, শিশু, নারী ও দুর্বলদের অধিকার, পারিবারিক, সামাজিক ও মানবীয় মূল্যবোধ ও দায়িত্ব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, কর্ম ও কায়িক শ্রমের ফযীলত ইত্যাদি বিষয়ক কুরআন ও সুন্নাহের নির্দেশনা প্রচারের জন্য ওয়াজ মাহফিল, আলোচনা সভা, সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদির আয়োজন, প্রচারপত্র, পুস্তিকা ইত্যাদি প্রণয়ন ও প্রচার আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের কর্মকান্ডের অন্যতম।

(২) আত্মশুদ্ধি ও আত্মোন্নয়ন বিষয়ক মাজলিস

আত্মশুদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও পবিত্র-উদ্ভাসিত জীবন অর্জন ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দায়িত্ব ও কর্মসূচী বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন: “তিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দিবেন এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন।” (সূরা বাকারা : ১২৯ আরো দেখুন: সূরা বাকারা: ১৫১; সূরা আল-ইমরান: ১৬৪; সূরা জুমুআ: ২) মহান আল্লাহ আরো বলেন: “যে কোনো পুরুষ অথবা নারী সৎকর্ম করবে এবং সে মুমিন হবে নিশ্চয়ই আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কাজের শ্রে পুরুস্কার দান করব।” (সূরা নাহল : ৯৭) কুরআন ও হিকমাহ বা সুন্নাহ-এর সঠিক জ্ঞান ও অনুশীলনের অভাবে অধিকাংশ মুমিন নরনারী কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত এ পরিশুদ্ধি ও পবিত্র জীবনের অনাবিল আনন্দ থেকে বঞ্চিত। প্রকৃত আত্মশুদ্ধি, আত্মোন্নয়ন অর্জন এবং দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা, ও বিদ্বেষ মুক্ত পবিত্র জীবন অর্জনের কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত পথ ও পদ্ধতির প্রচার, প্রসার ও অনুশীলন এবং এজন্য সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক মাজলিস, অনুশীলন, আলোচনা ও প্রচার আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এর অন্যতম কর্মসূচী।

(৩) আস-সুন্নাহ এওয়ার্ড

সুন্নাতের নববীর প্রচার ও প্রতিায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে সুন্নাহ ভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা, সেবা, উন্নয়ন ও প্রচারে নিয়োজিত জাতীয় আন্তর্জাতিক ব্যক্তিগণকে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট সম্মানন ও এওয়ার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

(৪) আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স

সুন্নাহ ভিত্তিক ও সুন্নাহ কেন্দ্রিক গবেষণা কর্মাদি প্রকাশের লক্ষ্যে প্রতিা করা হয়েছে “ আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স” এ প্রতিান ইতোমধ্যে প্রায় দু ডজন গবেষণা কর্ম প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

(৫) ইন্টারনেট ভিত্তিক গবেষণা ও প্রচার প্রকল্প

বর্তমান যানজট, ব্যস্ততা, আগ্রহের কমতি ইত্যাদি কারণে অনেকেই ওয়াজ মাহফিল, আলোচনা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণের অন্যতম সহজ পদ্ধতি ইন্টারনেট। স্বল্প খরচে সহজেই ইন্টারনেটে ই-রেডিও, ই-ম্যাগাজিন, ফেসবুক, ওয়েব-পেজ, ইউটিউব, ইত্যাদির মাধ্যমে এবং কম্পিউটার প্রোগ্রাম, সফটওয়ার ইত্যাদির মাধ্যমে কুরআন, বিশুদ্ধ সুন্নাহ ও ইসলামী মূল্যবোধ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। দীনী ও ইলমী প্রচারে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যবহার আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য ট্রাস্ট একটি গবেষণা সেল প্রতিা করেছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

৬) আস-সুন্নাহ টিভি :

অতি সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট একটি ইন্টারনেট টিভি প্রতিষ্ঠ করেছে ।

আস-সুন্নাহ শিক্ষা

(১) মসজিদ ভিত্তিক কুরআন শিক্ষা মক্তব

সুন্নাহর অন্যতম নির্দেশনা কুরআন কেন্দ্রিক জীবন ও দাওয়াত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীগণের পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ, প্রদান ও প্রচার আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের অন্যতম কর্মসূচী। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : “ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয় সেই শ্রে” (বুখারী) কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীগণের সুন্নাহ ছিল অর্থ অনুধাবন ও আমল-সহ শিক্ষা। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে কুরআনের দশটি আয়াত শিক্ষা করে সেগুলির মধ্যে যা ইলম ও আমল রয়েছে তা শিক্ষা না করা পর্যন্ত পরবর্তী দশটি আয়াত শুরু করতেন না। (মুসনাদ আহমদ, হাদীসটি হাসান) মহান আল্লাহ বলেছেন: “যাদেরকে আমি কিতাব প্রদান করেছি তারা তা “হক্ক তিলাওয়াত” করে, তারাই ঈমানদার” (বাকারা : ১২১) অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে তিলাওয়াত করা ও অর্থানুসারে কর্ম করাকে হাদীসে “হক্ক তিলাওয়াত” বলা হয়েছে (সহীহ বুখারী, মুসতাদরাক হাকিম, তাফসীর ইবন কাসীর) বিভিন্ন আয়াতে কুরআনের আয়াতগুলির অর্থ চিন্তা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (নিসা: ৮২; সাদ: ২৯; মুহাম্মদ ২৪) কুরআনের অর্থ বুঝতে পারলে মুমিনের হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে, ঈমান, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রেম সুদৃঢ় ও সুগভীর হয়। অন্তত সালাতের মধ্যে যে সুরাগুলি পাঠ করা হয় সেগুলির অর্থ অনুধাবনের যোগ্যতাও একটি বড় অর্জণ।
আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট সুন্নাত পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষার বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেছে। কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষার পাশাপাশি কুরআনের অর্থ সাধ্যমত অনুধাবন করার যোগ্যতা শিক্ষার্থীর মধ্যে সৃষ্টি করা ট্রাস্টের কুরআন শিক্ষা প্রকল্পগুলির অন্যতম লক্ষ্য। প্রশিক্ষিত ও যোগ্য শিক্ষকগণের দ্বারা মসজিদভিত্তিক কুরআন শিক্ষা মকতব প্রতিা, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, কিছু সূরার অর্থ ও প্রয়োজনীয় মাসাইল শিক্ষার জন্য শিশু, বয়স্ক ও মহিলাদের জন্য মক্তব প্রতিা আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এর অন্যতম লক্ষ্য।

(২) শিক্ষা প্রতিান কেন্দ্রিক কুরআন শিক্ষা কোর্স

অধিকাংশ মুসলিম অভিভাবকই চান যে, তাদের সন্তানগণ কুরআন শিক্ষা করবে। তবে অনেকের জন্যই শিশুকালে তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেয়া সম্ভব হয় নি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়ায় রত সন্তানদেরকে মক্তবে পাঠানোও কষ্টকর। এজন্য “আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট” শিক্ষা প্রতিান কেন্দ্রিক কুরআন শিক্ষা কোর্স চালু করেছে। আগ্রহী শিক্ষা প্রতিানের সাথে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে সে প্রতিানে ১ বৎসর মেয়াদী নিয়মিত কোর্স এবং ছুটি কালীন বা পরীক্ষা পরবর্তী অবসরে ২ মাস মেয়াদী নিবিড় কোর্স চালুর ব্যবস্থা রয়েছে। এ সকল কোর্সে শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত অনুশীলন, সালাতের প্রয়োজনীয় সূরা ও দুআগুলি অর্থ-সহ মুখস্থ করানো এবং প্রয়োজনীয় মাসাইল ও আহকাম শিক্ষা দেওয়া হবে।

(৩) কুরআন শিক্ষা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়

মকতবে শিক্ষার্থীগণ খুব সময় দেয়। যে কারণে শিক্ষার্থীদেরকে “সীমাবদ্ধ” বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়া যায়। ৩/৪ বৎসর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি কুরআন, প্রয়োজনীয় সূরাগুলির অর্থ, ও জরুরী মাসাইল শিক্ষা দেওয়া সহজ হয়। এজন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট ৪ বৎসর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক কুরআন শিক্ষাবিদ্যালয় প্রতিার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ বিদ্যালয়ে শিশু থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত ৪ বৎসরে কুরআন শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দীনী আহকাম শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় পাঠ্যক্রমের সকল বিষয় পাঠ দান করা হবে। এ বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা যে কোনো সরকারী, বেসরকারী স্কুল বা মাদ্রাসায় ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে।

(৪) আল-ফারুক একাডেমী: বালক ও বালিকা শাখা

কুরআন শিক্ষা মক্তব এবং প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে আমরা “কুরআন পাঠ ও আংশিক অনুধাবনে সক্ষম” সচেতন ও সৎ মুসলিম তৈরি করতে পারি। পাশাপাশি কুরআনের বিশেষজ্ঞ, কুরআনের অর্থ ও আরবী ভাষায় পারদর্শী আলিম তৈরি সমাজের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরী। এজন্য “আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট” দুটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে: (১) “আল-ফারুক একাডেমী” এবং (২) “অর্থ-সহ হিফযুল কুরআন” প্রকল্প।

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাধারণ শিক্ষার সকল চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষা ও আরবী ভাষায় দক্ষতা সম্পন্ন জনশক্তি তৈরি এবং কুরআন, হাদীস ও ইসলামী জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ তৈরির উদ্দেশ্যে ১৯৯৮ খৃষ্টাব্দে আল-ফারুক একাডেমীর প্রতিা। বাংলাদেশের জাতীয় পাঠ্যক্রমের সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষার্থীদেরকে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, তরজমা, হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, আকীদা, আরবী, বাংলা ও ইংরেজি ভাষা, অংক, বিজ্ঞান ইত্যাদিতে দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জনের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামী আহকাম, আদব, শিষ্টাচার ইত্যাদি প্রতিপালনে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিগত বছরগুলিতে মাধ্যমিক, বৃত্তি ও সমাপনী পরীক্ষাগুলিতে, বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতা ও কুচকাওয়াজে আল-ফারুক একাডেমীর ছাত্র-ছাত্রীরা বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। একই পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচীতে পর্দার সাথে বালিকাদের লেখাপড়ার জন্য আল-ফারুক একাডেমী বালিকা মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১১ সাল থেকে।

(৫) অর্থ-সহ হিফজুল কুরআন বিদ্যালয়

মাদ্রাসা বা স্কুল থেকে তৃতীয় শ্রেণি পাস করা ৯/১০ বৎসরের শিশুদেরকে এ মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। এরপর মোট ৬ বৎসরে তাকে আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও কুরআনের অর্থ-সহ কুরআন কারীম হিফয করানো হবে। প্রথম ৩ বৎসর পড়ার পরে শিক্ষার্থী মাদ্রাসা বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দিবে। পরের ৩ বৎসর পড়ার পর সে মাদ্রাসা বোর্ডের অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দিবে। প্রথম ৪ বৎসরে কুরআন হিফয সম্পন্ন হবে। পরের দু বৎসর শুনানো চলবে। অষ্টম শ্রেণি পাসের পরে এরা যে কোনো ভাল মাদ্রাসা বা স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে।

৬) শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা শিক্ষা কোর্স

দ্রাসা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষারত শিক্ষার্থীদের আরবী ভাষার দুর্বলতা তাদের কষ্ট দেয়। এতে তাদের পরীক্ষার ফল যেমন খারাপ হয়, তেমনি মান-সম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের পথেও তাদের বড় প্রতিবন্ধক আরবী ভাষার দুর্বলতা। পাশাপাশি অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও বাংলা ভাষায়ও দুর্বল। এদের জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট আরবী, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় পারদর্শিতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কোর্স চালু করেছে।

(৭) মাদ্রাসা শিক্ষিতদের জন্য আরবী ভাষা কোর্স

দেশের শিক্ষা প্রতিানগুলির মানগত অবক্ষয় সর্বজন বিদিত। ইসলামী শিক্ষাপ্রতিানগুলিও এর ব্যতিক্রম নয়। মাদ্রাসা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বৎসর অনেক ছাত্র-ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়ে বের হলেও এদের মধ্যে আরবী গ্রন্থাদি পাঠে সক্ষম, কুরআন, হাদীস ও ফিকহের জ্ঞানে পারদর্শী খুব কমই পাওয়া যায়। অনেক আলিম কর্মজীবনে আরবী ভাষার দুর্বলতা অনুভব করেন এবং কষ্ট বোধ করেন। কিন্তু দুর্বলতা দূর করার কোনো পথ পান না। তাদের জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এবং বিশেষ “আরবী ভাষা কোর্স” প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ কোর্সের আওতায় আগ্রহী আলিম বা মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তিগণ এক বৎসর ব্যাপী প্রতি সপ্তাহে তিন দিন ২ ঘণ্টা করে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আরবী “ইবারত” পাঠ, অনুধাবন, আরবী কথোপকথন, রচনা ইত্যাদি বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করবেন। আগ্রহী সংস্থা, প্রতিান বা মাদ্রাসায় এ কোর্সটি চালু করার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

(৮) শিক্ষিতদের জন্য অর্থ-সহ কুরআন শিক্ষা কোর্স

সহজে কুরআনের ভাষা আয়ত্ব করতে পারা কুরআনের একটি অলৌকিক দিক। মহান আল্লাহ বারংবার বলেছেন : “আমি অনুধাবনের জন্য কুরআনকে সহজ করেছি।” (কামার : ১৭, ২২, ৩২, ৪০) অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে, বাংলা/ইংরেজিতে অভিজ্ঞ একজন শিক্ষিত মানুষ খুব সহজেই আরবী ব্যাকরণের প্রয়োজনীয় বিষয়-সহ কুরআনের শব্দভান্ডার শিখে কুরআনের অর্থ বুঝতে পারেন। শিক্ষিত মানুষদেরকে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত-সহ অর্থ বুঝে কুরআন পাঠে সক্ষম করতে বিশেষ কোর্স তৈরি করেছে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট।

(৯) কর্মজীবীদের জন্য নৈশ মাদ্রাসা

কর্মজীবি অনেক মানুষই ইসলামী জ্ঞানের পারদর্শিতা অর্জন করতে চান। বয়স ও কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত মাদ্রাসায় লেখাপড়া তাদের জন্য সম্ভব নয়। তাদের জন্য “নৈশ মাদ্রাসা” প্রকল্প গ্রহণ করেছে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট।

(১০) গ্রন্থ ভিত্তিক হালাকা বা ইলমী মাজলিস

কুরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন ও প্রসারের জন্য সাহাবী-তাবিয়ীগণের যুগ থেকে প্রচলিত পদ্ধতি গ্রন্থ ভিত্তিক হালাকা বা শিক্ষা মাজলিস। উন্মুক্ত আলোচনার চেয়ে গ্রন্থ কেন্দ্রিক মাজলিসের উপকারিতা বেশি। এজন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট নিজস্ব উদ্দ্যোগে বা আগ্রহী ইমাম, মুআজ্জিন বা আলিমের মাধ্যমে মসজিদ, বাড়ি, খানকা বা মাজলিসে সর্বজন স্বীকৃত ইসলামী মৌলিক গ্রন্থগুলির দরসের প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

(১১) অর্থ-সহ কুরআন মুখস্থ প্রতিযোগিতা

কুরআন শিক্ষায় উৎসাহ প্রদানের জন্য নির্ধারিত কিছু সূরা অর্থ-সহ মুখস্থ করার প্রতিযোগিতা ও সফল প্রতিযোগীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদানের প্রকল্প গ্রহণ করেছে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট। ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্কদের জন্য পৃথক প্রতিযোগিতার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

(১২) অর্থ-সহ হাদীস মুখস্থ প্রতিযোগিতা

সুন্নাতে নববীর বিশুদ্ধ আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য “অর্থ-সহ হাদীস মুখস্থ প্রতিযোগিতা” নির্ধারিত সংখ্যক হাদীস অর্থ-সহ মুখস্ত করে প্রতিযোগিরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে। ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্কদের জন্য পৃথক প্রতিযোগিতা এবং আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে।

আস-সুন্নাহ সেবা ও উন্নয়ন

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সৃষ্টির সেবা, মানব-সেবা, ও সমাজের অসহায়, দুর্বল বা বিপদগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অন্যতম সুন্নাত ও শিক্ষা। এ মহান সুন্নাত প্রতিার লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে :

(১) সাধারণ সেবা প্রকল্প

দুস্থ ও বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অন্যতম সুন্নাত। তিনি বলেন: “যে মানুষ অন্য মানুষদের জন্য অধিক উপকারী সেই আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। আল্লাহর নিকট প্রিয়তম কর্ম যে, তুমি কোনো মুসলিমের জীবনে আনন্দ প্রবেশ করাবে, তার কোনো বিপদ-কষ্ট দূর করবে, তার কোনো ঋণ দূর করবে অথবা তার ক্ষুধা দূর করবে। আমার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজনে তার সাথে পথচলা আমার কাছে মসজিদে নববীতে একমাস ইতিকাফ করা থেকে প্রিয়তর।” (তাবারানী, সহীহুল জামি, হাদীসটি হাসান)
এ সুন্নাতকে জীবন্ত করতে “আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট” দরিদ্র, দুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে সাধ্যমত আর্থিক সাহায্য, পোশাক বা শীত বস্ত্র প্রদান, নলকূপ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-বৃত্তি প্রদান, প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সাহায্যপ্রার্থী ও দুযোর্গে আক্রান্তদের সহায়তা ছাড়াও সমাজের যে সকল দুস্থ ব্যক্তি সামাজিক মর্যাদা বা অন্য কারণে সাহায্য চাইতে পারেন না, তাদেরকে চিহ্নিত করে গোপন ও সম্মানজনক সহায়তায় ট্রাস্ট সচেষ্ট।

(২) দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প

ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচনে রত থাকা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অন্যতম সুন্নাত। আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট সুন্নাতে নববীর আলোকে কায়িক শ্রম ও কর্মের ফযীলত বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মক্ষম নারী ও পুরুষদেরকে আর্থিক সহায়তা, কর্ম বা ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, সামাজিক সমর্থন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

(৩) আদর্শ দারিদ্র্যমুক্ত “যাকাত-গ্রাম” প্রকল্প

দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামের মূল ব্যবস্থা “যাকাত” কৃষি প্রধান দেশে “উশর” বা ফসলের যাকাত এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারে। আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট -এর সেবা ও উন্নয়ন মূলক অধিকাংশ প্রকল্পই যাকাত ও উশর ভিত্তিক “আদর্শ দারিদ্র-মুক্ত যাকাত গ্রাম” প্রতিা ট্রাস্টের অন্যতম প্রকল্প। বাছাইকৃত গ্রামের দারিদ্র, বেকার, ইয়াতিম, বিধবা ও দুস্থদেরকে চিহ্নিত করে তাদেরকে সাময়িক সাহায্য, শিক্ষা বৃত্তি, কর্মসংস্থান, কর্ম-উপকরণ প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রামটিকে দারিদ্র মুক্ত ও স্বনির্ভর করে তোলা এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

(৪) কর্জে হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণদান প্রকল্প

দারিদ্র বিমোচন ও সহমর্মী সমাজ গঠনে যাকাতের পাশাপাশি কর্জে হাসানা বা সূদমুক্ত সহজ ঋণের গুরুত্ব অপরিসীম। ঋণের প্রকৃতি ও উপকার হিসেবে হাদীস শরীফে একে দানের অর্ধেক, সমান বা বেশি সাওয়াবের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, দুবার ঋণ প্রদান একবার দান করার মতই। (সহীহুত তারগীব, হাদীসটি সহীহ) অন্য হাদীসে তিনি বলেন: “প্রত্যেক ঋণই দান” (সহীহুত তারগীব, হাদীসটি হাসান) অন্য হাদীসে তিনি বলেন: “জান্নাতের দরজায় লেখা রয়েছে যে, দানের সাওয়াব দশগুণ আর ঋণের সাওয়াব আঠারো গুণ।” (তাবারানী, সহীহুত তারগীব, হাদীসটি হাসান) বিভিন্ন সহীহ হাদীসে দান করার চেয়ে ঋণ দেওয়াকে উত্তম বলা হয়েছে। (সহীহুত তারগীব)

সাময়িক বিপদগ্রস্ত অনেক মুসলিম যাকাত গ্রহণ করতে পারেন না। তাদেরকে সহজ ঋণের মাধ্যমে সহায়তা করার পাশাপাশি যাকাত ও ঋণের সমন্বয় ট্রাস্টের অন্যতম লক্ষ্য। সঠিক তত্ত্বাবধান না থাকলে অধিকাংশ যাকাত-গ্রহীতা যাকাতের রিকশা, গাভী ইত্যাদি কিছুদিনের মধ্যে বিক্রয় করেন। যাকাত ও ঋণের সমন্বয় করলে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব। যেমন একজন দরিদ্রকে ১০ হাজার টাকার রিকশা প্রদান করে বলা হবে যে, এর ৮ হাজার টাকা যাকাত ও ২ হাজার টাকা ঋণ। তুমি প্রতিদিন ২০/৩০ টাকা জমা দিয়ে ঋণ শোধ করার পর তোমাকে রিকশার মালিকানা দেওয়া হবে। তাহলে সে কষ্টে অভ্যস্ত হবে এবং রিকশাটির পিছনের নিজের শ্রম ও অর্থ থাকার কারণে সহজে তা বিক্রয় করবে না। পাশাপাশি ঋণদাতা ব্যক্তি তার একই অর্থ বারবার ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দানের চেয়েও অনেক বেশি সাওয়াব লাভ করবেন।

(৫) চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্প

অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান সুন্নাতে নববীর অন্যতম দিক। মুসলিমের উপর মুসলিমের অধিকারের অন্যতম অসুস্থ ব্যক্তির পাশে থাকা। (বুখারী ও মুসলিম) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: “যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থের কাছে গমণ করলে ৭০ হাজার ফিরিশতা দুআ করতে থাকেন। (তিরমিযী, সহীহ)
এ সুন্নাত পালনের জন্য ট্রাস্ট “ইয়াদাতুল মারীদ” প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, ঔষধ, চিকিৎসাধীনদের আর্থিক সহায়তা, রক্তসংগ্রহ, চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিা ইত্যাদি।

(৬) ইয়াতিম প্রতিপালন ও সহায়তা প্রকল্প

কুরআন-সুন্নাহে ইয়াতিমদের সহায়তার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট নিজস্ব ইয়াতিমখানায় ইয়াতিমদের প্রতিপালন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

(৭) বিধবা ও দুস্থ নারী সহায়তা প্রকল্প

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: “বিধবা ও দরিদ্রদের জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী অথবা রাতভর তাহাজ্জুদ আদায়কারী ও দিনভর সিয়াম পালনকারীর মতই (সাওয়াবের অধিকারী)” (সহীহ বুখারী)

বিধবা ও দুস্থ নারীদের বাজার করা-সহ তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তা সাহাবায়ে কিরামের সুপরিচিত সুন্নাত। বর্তমানে আমাদের সমাজে ইয়াতিম বিষয়ক সচেতনতা বিদ্যমান, তবে বিধবা বিষয়ক সচেতনতা অনুপস্থিত। বিধবা ও দুস্থ মহিলাদের সেবায় সুন্নাত জীবন্ত করার লক্ষ্যে “ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট” “বিধবা ও দুস্থ নারী প্রকল্প” গ্রহণ করেছে। বিধবা নারী সাধারণত স্বামীর সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার হন। সর্বোপরি তিনি আর্থিক অসহায়ত্বে নিপতিত হন। আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বিধবাদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, তাদের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপার্জন ব্যবস্থা বা কর্ম-সংস্থান ছাড়াও তাদের অধিকার রক্ষার সামাজিক ও আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

(৮) বিবাহ ও পরিবার গঠন সহায়তা প্রকল্প

ইসলামে বিবাহ ও পরিবার গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এজন্য যাকাত ব্যবহারের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্নভাবে বিবাহকে নিরুৎসাহিত বা বিলম্বিত করা হচ্ছে এবং প্রকারন্তে অশ্লীলতাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটি জীবন্ত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে সহায়তা, যৌতুক বিহীন বিবাহ, বিবাহেচ্ছুকদের কর্মসংস্থান, বিশেষ সাহায্য, পারিবারিক সদ্ভাব সংরক্ষণে পরামর্শ ও সহায়তা ইত্যাদি এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

(৯) আইনী সহায়তা প্রকল্প

মাযলুমের পাশে দাঁড়ানো রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অন্যতম সুন্নাত। তাঁর পবিত্র জীবনে সর্বদা এ বিষয়কে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন: “মুমিনের প্রতি মুমিনের অধিকারের মধ্যে রয়েছে মাযলূম বা অসহায়কে সাহায্য করা।” (নাসাঈ, সহীহ) তিনি বলেন: “আল্লাহর নিকট প্রিয়তম কর্ম হলো যে, তুমি কোনো মুসলিমের জীবনে আনন্দ প্রবেশ করাবে, অথবা তার কোনো বিপদ-কষ্ট দূর করবে .. যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে তার সাথে গমন করে তার প্রয়োজন সমাধান করে দেবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার পদযুগলকে পিছলে পড়া থেকে রক্ষা করবেন, যেদিন অন্যদের পা পিছলে যাবে। (তাবারানী, সহীহুল জামি, হাসান)

মাযলূমের পাশে দাঁড়ানো ও প্রয়োজন মেটানোর সুন্নাত প্রতিার লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট “আইনী সহায়তা প্রকল্প” গ্রহণ করেছে। সামাজিক সালিস, থানা ও কোর্টে দুর্বল ও অসহায়দেরকে সর্ব প্রকারের আইনী সহায়তা, পরামর্শ, পাশে থেকে মনোবল বাড়ানো ও আর্থিক সাহায্য প্রদান এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

মাজলিসু সুন্নাহ

“আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট” উপর্যুক্ত সকল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে “মাজলিসুস সুন্নাহ” নামে একটি মজলিস গঠন করেছে। এ মজলিসের সদস্যগণ যথাসাধ্য সাহাবীগণের পদ্ধতিতে কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষাগ্রহণ, প্রতিপাদন, পরিবার-পরিজন ও অধিনস্থদের পরিচালন ও আত্মশুদ্ধি অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন, সমাজের সকলের হক্ক আদায়, সেবা ও ভালবাসার পাশাপাশি তাদেরকে সুন্নাতের দাওয়াত প্রদান করবেন এবং ট্রাস্টের সাথে মতবিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্নাতে নববীর চর্চা, গবেষণা, সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামী, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, শিক্ষা, নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি, সম্প্রীতি, ভালবাসা, সহনশীলতা, মানব-সেবা ও সৃষ্টির সেবা চর্চা সম্প্রসারিত করবেন। আগ্রহী মুমিনগণ দেশে ও বিদেশে যে কোনো স্থানে “মাজলিসুস সুন্নাহ” -এর শাখা প্রতিার মাধ্যমে সুন্নাতে নববীর প্রচার ও প্রতিার এ মুবারক কর্মে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

অর্থায়ন

আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের উপর্যুক্ত সকল কার্যক্রমের অর্থায়ন হয় ট্রাস্টের নিজস্ব সম্পত্তির আয় এবং আগ্রহী মুমিনগণের দান, অনুদান, চাঁদা, যাকাত ও সাদাকার মাধ্যমে। যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া, মানত ইত্যাদির অর্থ দরিদ্র ছাত্র, শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীদের সহায়তা এবং দারিদ্র বিমোচন ও সেবামূলক শরীয়াহ নির্দেশিত যাকাত খাতে ব্যয় করা হয়। সাধারণ দান, অনুদান ও সহায়তার মাধ্যমে অন্যান্য প্রকল্প ও কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের বর্তমান কিছু কার্যক্রম

(১) ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রশিক্ষণ ও ইলমী ইজতিমা

নৈতিক, মানবিক ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও ইমামগণের ভূমিকা অপরিসীম। সঠিক দিক নির্দেশনা বা উদ্দীপনার অভাবে অনেক সময় তাঁরা সঠিকভাবে এ ভূমিকা পালন করতে পারেন না। এজন্য আস-সুন্নাহ ্ট্রাস্ট ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও ইমামগণের জন্য মাসিক প্রশিক্ষণ ও ইলমী ইজতিমার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন থানা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ ইমাম এতে অংশ গ্রহণ করেন। বিকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রায় ১৬ ঘণ্টা ব্যাপী ইজতিমার কর্মসূচীর মধ্যে থাকে সামাজিক সমস্যাভিত্তিক খুতবা/বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ রচনা ও পাঠ প্রতিযোগিতা, গ্রন্থভিত্তিক অধ্যয়ন, মত বিনিময়, দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদ। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ইমামগণের যাতায়াত ও পানাহারের ব্যবস্থা করা হয়।

(২) মাসিক ইলমী ইজতেমা

প্রতিমাসে ঝিনাইদহ জেলার ইমামগণকে নিয়ে অনুতি হয় ইলমী ইজতেমা। এ ইজতেমায় শুধুমাত্র ইমাম, খতীব ও মোয়াজ্জীন সাহেবগণকে আমন্ত্রণ করা হয়। তাদের মধ্যে জ্ঞান-বৃদ্ধি, তাকওয়া, তায়াল্লুক-মাআল্লাহ, সামাজিকতা, উম্মাহর ঐক্য, উদারতা, সৃষ্টি-জীবের প্রতি ভালোবাসা, বিশেষ করে স্বজাতিপ্রীতি ইত্যাদি উত্তম বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের প্রতি লক্ষ্য রেখে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক উদ্ধৃতিগুলো মুখস্ত করণ, নিজে আমল ও অন্যকে আমলের প্রতি উৎসাহিত করার প্রবণতা ইমামগণের মধ্যে সৃষ্টি করা আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়। উপস্থিত ইমামগণের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য বক্তব্য, প্রবন্ধ, রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।

(৩) নৈতিক ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মাজলিসুস সুন্নাহ

সমাজের সাধারণ মানুষদের মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহ নির্ভর বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষা, সচেতনতা ও জীবনমুখী ধার্মিকতা প্রসারের জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট প্রতি মাসে একটি সাধারণ মাহফিলের আয়োজন করে। মাজলিসুস সুন্নাহ নামের এ মাহফিল প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম শুক্তবার অনুতি হয়।

(৪) বয়স্ক পুরুষ, মহিলা ও শিশু-কিশোরদের কুরআন ও দ্বীন শিক্ষা

আগ্রহী বয়স্ক পুরুষ, মহিলা ও শিশু-কিশোরদের কুরআন মাজীদ শিক্ষা, প্রয়োজনীয় কিছু সূরার অর্থ শিক্ষা, সালাত ও প্রয়োজনীয় দ্বীনী বিধানবলি শিক্ষার জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট মসজিদ ভিত্তিক কিছু মক্তব পরিচালনা করে।

(৫) পাঠাগার

সাধারণ মানুষদেরকে, বিশেষত কিশোর ও যুবকদেরকে বইপড়ায় অভ্যস্থ করতে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট একটি পাঠগার প্রতিা করেছে। পাঠাগারে বসে বই এবং পত্রপত্রিকা পড়া এবং সদস্যদের বই ধার নিয়ে পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

(৬) আস-সুন্নাহ কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয়

শিশু কিশোরদেরকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিবেশের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য আস-সুন্নাহ কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয় পরিচালনা করছে। শিশু শ্রেণি (প্রাক প্রাথমিক) ও প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট চারটি শ্রেণিতে এ বিভাগের পাঠ্যক্রম বিভক্ত। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয় কারিকুলামের মান সংরক্ষণের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা এখানে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন লিখন, প্রয়োজনীয় সূরা মুখস্থ, হাদীস মুখস্থ, ইসলামী আদব-আখলাক, মূল্যবোধ ও মাসাইল শিক্ষা গ্রহণ করে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর অভিভাবকদের ইচ্ছানুসারে তারা আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিচালিত হিফয বিভাগ, মাদ্রাসা বিভাগ অথবা অন্য কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

(৭) হিফযুল কুরআন বিভাগ : বালক শাখা ও বালিকা শাখা

আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বালক ও বালিকাদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থাপনায় হিফযুল কুরআন বিভাগ চালু করেছে। ৭/৮ বছর বয়সের বালক ও বালিকাদের হিফযের জন্য ভর্তি করা হয়। পূর্ণকালিন আবাসিক ব্যবস্থাপনায় সাধারণত ৪/৫ বছরের মধ্যে তারা হিফয সম্পূর্ণ করতে পারে। হিফয চলাকালীন সময়ে তাদেরকে সাধারণ শিক্ষার বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয় পড়ানো হয়। হিফয সম্পূর্ণ করার পর ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে তাদের প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষা দেওয়া ব্যবস্থা করা হয়।

(৮) মাদ্রাসা (কিতাব) বিভাগ : বালক শাখা ও বালিকা শাখা

ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত মুত্তকী মুসলিম/ মুসলিমা ও প্রাঙ্গ আলিম/আলিমা তৈরির লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট বালক ও বালিকাদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থাপনায় বালকদের জন্য ৭ বছর মেয়াদী এবং বালিকাদের ৬ বছর মেয়াদী কোর্সে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের লেখাপড়া করানো হয়।

(৯) পুনর্বাসন

জুন ২০১২ থেকে অসহায় দুস্থ নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ ও তাদের কর্মসংস্থান প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকার মাধ্যমে তাদেরকে ৬ মাস মেয়াদী কোর্সে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের দীনি শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কয়েকজনকে সেলাই মেশিন ও সেলাই উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৫ থেকে ৫০ জন মহিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ প্রকল্পে প্রতি বছর প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়।

(১০) বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্প

১৪/১০/২০১১ ইং (যুলকাদ ১৪৩২ হি.) থেকে অসহায়, গরীব ও দুস্থদের জন্য আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট যাকাত ভিত্তিক চিকিৎসা প্রকল্প চালু করেছে।

  • আস্ সুন্নাহ ট্রাস্টী বোর্ডের বর্তমান সদস্যগণ
  • জনাব উসামা খোন্দকার, চেয়ারম্যান
  • শাইখ আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী
  • ড. আ.স.ম শুআইব আহমদ
  • জনাব আব্দুর রাহমান
  • জনাব মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ খন্দকার
  • জনাব মুহাম্মাদ নুরে আলম