প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৫, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭ হিজরী, অগ্র-পৌষ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

তলেবে ইলম বা ইলমের অন্নেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো, তারা উলামায়ে কিরামের মতানৈক্যকে নিষ্ঠার সাথে মেনে চলবে। তারা মেনে চলার পাশাপাশি উলামায়ে কিরামের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করবে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী ইমামগণ রহমতুল্লাহি আলায়হি-এর প্রতি। কারো জন্য সমীচীন নয় যে, সে ইমাম আবু হানিফার রহমতুল্লাহি আলায়হি নিন্দা করবে না ইমাম মোহাম্মদ বিন ইদ্রীস আশ-শাফীর রহমতুল্লাহি আলায়হি নিন্দা করবে। না ইমাম মালেক ইবনে আনাসকে রহমতুল্লা আলায় দোষারোপ করে, না ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলায়হি, না ইমাম আওযায়ীকে না লাইস ইবনে সাদকে রহমতুল্লাহি আলায়হি না সূফীয়ান ইবনে উমাইনাকে রহমতুল্লাহি আলায়হি, না সুফীয়ান বিন সাওরী রহমতুল্লাহি আলায়হি এবং ইসলামী ইতিহাসে তাদের মতো নক্ষত্রতুল্য ইমাম ও উলামায়ে কিরামের নিন্দা করা কারো জন্য সমীচীন নয়। তাদের নিন্দাকারীরা সলফে সালেহীনের আদর্শ হতে বিচ্যুত। সালফে সালেহীনের আদর্শ হলো উলামায়ে কিরামের মর্যাদা রক্ষা করা। যাদের মর্যাদাকে আল্লাহ তায়ালা সংরক্ষণ করেছেন। এবং আল্লাহ তায়ালা তার একত্ববাদের সাক্ষ্যের বিষয়ে তাদের নামকে ফেরেশতাদের সাক্ষ্যসহ নিজের নামের সাথে উল্লেখ করেছেন। কুরআনে সূরা ইমরানের ১৮ আয়াতে কারীমায় আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

অর্থ : আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর ফেরেশতারা ও জ্ঞানীগণও। তিনি ন্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা তাদের সম্মান ও আদবের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবো।

যদিও তারা নিষ্পাপ ছিলেন না। কিন্তু মুজতাহিদরা ইজতিহাদকালে ভুল করলে ও পাবেন একটি সওয়াব। আর মুজতাহিদগণ ইজতিহাদকালে সঠিক করলে পাবেন দুটি সওয়াব। সুতরাং মুজতাহিদ উলামাদের যে বা যারা দোষ ধরবেন তারা সরলপথ থেকে বিচ্যুত। যেমনটি ইমাম ত্বহাবী রহমতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন, আর এ জন্য পূর্ববর্তী ইমামগণ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে কোন মুসলমানের প্রতি তাদের অন্তরের কোন বিদ্বেষ না থাকার বিষয়টি প্রমাণ করেছেন। যেমন ইমাম শাফী রহমতুল্লা আলায় বাগদাদ হতে বের হতেন এবং বলতেন, আমি বাগদাদ হতে এমতাবস্থায় বের হয়েছি যে, তাতে ইমাম আহমদের (আহমদ বিল হাম্বল) মত অধিক বিচক্ষণ মর্যাদাশীল, জ্ঞানী ও মুত্তাকী কাউকে পাইনি।

অপর দিকে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলায়হি শেষ রাতে ইমাম শাফী রহমতুল্লাহি আলায়হি-এর জন্য হাত তুলে দুআ করতেন। এটাই হলো উলামায়ে কিরামের আদব। আর এটাই হলো তাদের আদর্শ ও চরিত্র। বর্তমানে আমরা আলেম নামধারী কিছু মানুষকে দেখতে পাই যারা উলামায়ে কিরামের উপর দোষারোপ করে। তাদের অবজ্ঞা করে। এবং তাদেরকে অপবাদ দেয়। আর তাদের ব্যাপারে বিদ্বেষপূর্ণ খবর প্রচার করে। তাই তলেবে ইলম বা জ্ঞান অনুসন্ধানকারীরা যেন এ বিষয়ে সতর্ক থাকেন যে, তাদের হাশরে আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ না হয়ে যায় যে, তাদের মুখ দিয়ে উলামায়ে কিরামের ব্যাপারে কোন মানহানীকর কথা বলেছেন। কেননা, উলামায়ে কিরামের গোস্তত বিষাক্ত। যদি তারা বলে, আহমদ তোমার সাথে সাক্ষাৎ করে আর তুমি তার সাথে সাক্ষাৎ কর।

আমি বলবো, কোন অবস্থাতেই তার মর্যাদা হ্রাস পায়নি বা কমে যাইনি।

যদি সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে সেটাও তার অনুগ্রহ। আর আমি যদি তার সাথে সাক্ষাৎ করি তাও তার অনুগ্রহে। সুতরাং উভয় অবস্থায় মর্যাদাবান সেই হবে।

সুতরাং তলেবে ইলম বা ইলেম অন্নেষণকারীদের জন্য এ সকল আদবের মাধ্যমে নিজেদেরকে সুসজ্জিত করা উচিত।
আর মতানৈক্যপূর্ণ মাসআলার ক্ষেত্রে একে অপরের কৈফিয়াত গ্রহণ করা উচিত। কারণ প্রত্যেক ইমামই বা উলামায়ে কিরামই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া ইলমকে সমুদ্র থেকে আঁজলা ভরে পানি নেওয়ার মতো করে অর্জনকারী বা বৃষ্টি বর্ষিত পানি থেকে পানি দেওয়ার মতো অর্জনকারী।