প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৭ম সংখ্যা, জানুয়ারী ২০১৬, রবি আউঃ-রবি সানি ১৪৩৭ হিজরী, পৌষ-মাঘ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
নারীরা নবী নয়, কিন্তু নবীগণের মা
১
একজন জ্ঞানী নারী সুখী জীবনের উৎস
একজন নারীর উচিত, যখন তার স্বামী ঘরে প্রত্যাবর্তন করে তখন তাকে উষ্ণ অভিবাদন জানানো। স্বামীকে হতাশাগ্রস্ত এবং ক্লান্ত দেখে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। অপরদিকে স্ত্রীর উচিত দ্রুত তার অনুরোধকে পূর্ণ করা তা যাই হোক। সে বাড়িতে আসার সাথে সাথে তাকে হতাশ হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস না করা। যখন সে জামা কাপড় পরিবর্তন করে, স্থির হয়ে বসা। সম্ভবত সে দ্রুতই তার হতাশ হওয়ার কারণ বর্ণনা করবে। যদি সে বর্ণনা না করে তাহলে কৌশলগতভাবে তাকে চিন্তিত হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা। তবে স্ত্রীর উচিত হবে এমনভাবে তাকে জিজ্ঞেস করা যাতে সে বুঝতে পারে আপনি তার হতাশ হওয়ার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন এবং তাকে সাহায্য করতে চান। যদি স্ত্রী বুঝতে পারে সে তার স্বামীর সমস্যার সমাধান করার পথ অথবা কারণ খুঁজে পায় তাহলে সে যেন তা প্রকাশ করে। অতঃপর তার উচিত দ্রুত এই ব্যাপারে তাঁকে সচেতন করা। এটা তার স্বামীর বোঝাকে অনেক পরিমাণে হালকা করবে এবং স্বামী এটা অনুভব করবে যে তার ঘরে একটি দামী স্বর্ণের টুকরা রয়েছে। যেই স্বর্ণ টুকরাটি পৃথিবীর অন্যসব স্বর্ণ টুকরার চেয়ে বেশি মূল্যবান।
তুমি কখনো দুঃখ এবং হতাশ অনুভব কর না। কেননা, কিছু কাজ যা তুমি সম্পূর্ণ করতে পারনি তোমার একটা বুঝা উচিত সেই কাজ অনেক মানুষ করতে পারেনি।
যখন আল্লাহ কিছু মানুষকে ভালবাসে
তখন তাদেরকে পরীক্ষা করেন
২
শুধুমাত্র আজকের দিনটির গুরুত্ব দিন
একদা এক সুখী ব্যক্তি বলেছিল, একটা সুন্দর দিন হলো যেই দিন আমরা আমাদের সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণ রাখি এবং আমাদের সম্পর্কগুলো আমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে না। এটা এমনই একদিন যেদিন আমরা আমাদের আশাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করি এবং আমরা দাসদের মতো মালিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হই।
এই রকম কিছু দিন আমি মনে করতে পারি যা কখনো ভুলব না।
প্রতিদিন আমি নিজেকে দুঃখের পাপাচারের বলয় থেকে নিজেকে রক্ষা করি যা আমি এই সুন্দর দিনে করতে পারি এবং করতে নাও পারি।
কী সুন্দর দিন যেই দিন আমি উৎকণ্ঠায় ছিলাম যে, কোনো কাজের জন্য কিছু মানুষ আমার প্রশংসা করে এবং কোনো কাজের জন্য কিছু মানুষ আমার প্রশংসা করে না, এবং কোনো মানুষ এই ব্যাপারে জানে না। তাই আমি মানুষের এই প্রশংসাকে ভুলে গিয়েছিলাম। তৃপ্ত হয়েছিলাম একটি কাজ করে, যা আমি আমার জীবনে কখনো ভুলতে পারবো না। কিন্তু যা কেউ কখনো শুনতে পারবে না দিনটি কত সুন্দর যেই দিন আমার খালি পকেট টাকা দ্বারা পূর্ণ হয়েছিল। কিন্তু আমার সচেতনতা ছিল সীমাহীন। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমি কপর্দকশূন্য হয়ে যাব। তবুও আমার সচেতনতাকে ঠিক রাখব।
কী বিস্ময়! এই দিনগুলো বিশ্বব্যাপী অর্জন করি, কিন্তু মোদ্দাকথা এই যে, আমি আমার কাজকর্ম দ্বারা যেই আত্মসম্মান অর্জন করেছিলাম, যা সবচেয়ে মূল্যবান এবং যা আমি এ দিনগুলোতে অর্জন করেছিলাম তা মহান প্রশংসিত দয়ালু আল্লাহর নেক দৃষ্টিতে।
“যা তোমার হাতে আছে তা নিয়েই সুখী হও,
আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট হন
এবং সব ধরনের দিবা স্বপ্ন পরিহার করুন যা আপনার চেষ্টা এবং সক্ষমতাকে সঠিক রাখে না আল্লাহ অতীতকে ক্ষমা দিয়েছেন
(সূরা মায়েদা : আয়াত ৯৫)
৩
এমনটা কখনো ভেবো না যে, সবাই তোমাকে ভুলে যায়
ইহা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা তোমার দুশ্চিন্তাকে লাঘব করতে সাহায্য করবে। সাধারণ জীবনকে সাফল্যময় করে তুলবে। তোমার বন্ধু এবং পরিবারকে সুখী রাখবে। কেননা, যে ব্যক্তি মানুষের ভিতরগত প্রকৃতি এবং পরিবর্তন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে; সে নিজেকে ঘরেÑবাইরে প্রতিকুল পবিবেশেও অন্যদের চাইতে বেশি আস্থা প্রকাশ করতে পারবে। দুশ্চিন্তার স্বরূপ এরকম, যে ব্যক্তি এটার বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে এবং এটা জানে যে, যখন সে সমস্যার সম্মুখীন হয় অথবা সে যে জিনিস বা পথ চাচ্ছে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়। এরকমই আমাদের জীবন এবং কেউই তার বিশাল জীবনে পরিপূর্ণ তৃপ্ত হয় না। কোনো ব্যক্তি তার জন্য যা ভালো তা অপছন্দ করতে পারে অথবা তার জন্য যা খারাপ তা নিয়ে আনন্দিত হতে পারে এবং ভালো তাই যার মধ্যে আল্লাহর রহমত আছে। মহান প্রশংসিত আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন। যে ব্যক্তি গভীরভাবে এটা অনুভব করে যে, এই বিশাল পৃথিবীর একটি অংশ এবং এটাই তার জীবনে বেদনা এবং কষ্টের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু সুখও হবে। সে অনাকাক্সিক্ষত কিছু পায় না। সে এটা অনুভব করে না যে, সে একমাত্র ব্যক্তি যে এই সমস্যার সম্মুখীন হলো। অথবা মানুষেরা তাকে ভুলে যাবে, অথবা সর্বদা তার দুর্ভাগ্য বজায় থাকে। আর সেই সকল ব্যক্তি যার গভীর অর্ন্তদৃষ্টি আছে সে এরকম অনুভব করে না; বরং সে এটা ভাবে যে, এটাই জীবনের পরিক্রমা এবং এটা জানে যে, সে এটার অংশ তাই সে তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পর দুর্ভাগ্যকে গ্রহণ করে।
আজ এখনই সুখী হও, আগামীকাল নয়
(তারা বলবে, আজ) তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, (দুনিয়ার জীবনে) তোমরা যে পরিমাণ ধৈর্য ধারণ করেছ (এটা হচ্ছে তার বিনিময়), আখিরাতের ঘরটি কতো উৎকৃষ্ট!
৪
কষ্টের পর সফলতা খুবই আনন্দের
একজন সফল ব্যক্তি বলেছিল,আমি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলাম। তাই দোলনা থেকেই দারিদ্র্যতা আমার সঙ্গী ছিল। আমার মনে আছে, খুবই ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমি আমার মায়ের কাছে এক টুকরো রুটি চেয়েছিলাম যখন তিনি তা দিতে পারলেন না। এমনকি এক টুকরো শুকনো রুটিও দিতে পারলেন না। এমনিভাবে আমি দশ বছর বয়সে বাড়ি ত্যাগ করলাম এবং এগারো বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলাম। আমি প্রতি বছরে এক মাস পড়াশোনা করেছিলাম। এগারো বছর কঠোর পরিশ্রম করার পর আমি একজোড়া ষাড় এবং ছয়টি ভেড়ার মালিক হলাম যার মাধ্যমে ৮৪ ডলার উপার্জন করেছিলাম। আমি আমার জীবনের শান্তির জন্য একটি পয়সাও ব্যয় করিনি; বরং আমার ২০ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত আমি যা উপার্জন করেছিলাম তার প্রতিটি পয়সাই জমিয়ে রাখতাম। আমি জানতাম যে, প্রকৃত নিঃশেষিত অবস্থা কী ছিল, এবং যে ক‘মাইল ভ্রমণ করেছিলাম তখন আমি আমার বন্ধুদের কাছ থেকে কাজ চাইতাম। এইভাবে আমি আমার জীবিকা উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমি বিশ বছরে পদার্পণ করার পর প্রথম মাসে আমি দুটি ষাড় দিয়ে একটি ষাড়ের গাড়ি বানিয়ে বনে ঢুকেছিলাম কাঠ কাঁটার জন্য। আমি প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত কাঠ কাটার জন্য বনের আগা মাথা চষে বেড়াতাম। মাস শেষে যখন আমার হাতে ছয় ডলার থাকতো, প্রতিটি ডলার যেন আমার দিকে অন্ধকার রাতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো তাকিয়ে থাকতো।
যদি তুমি অতীতে কোনো ভুল করে থাক,
তা থেকে শেখো। অতঃপর তাদেরকে ভুলে যাও
(হে নবী!) আপনি বলুন, আল্লাহ আপনাকে
সবধরনের হতাশা থেকে মুক্ত রেখেছেন”
৫
আপনি আপনার অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিবেন এবং মানিয়ে নিবেন
আমি একজন মানুষকে চিনি, যার পায়ের পাতা কেটে ফেলা হয়েছিল। তাই আমি তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলাম। তিনি খুব জ্ঞানী এবং বিদ্বান ব্যক্তি ছিলেন। আমি তাকে বলতে চেয়েছিলাম : “মুসলিম উম্মাহ আপনাকে একজন দ্রুত দৌড়বিদ অথবা বিজয়ী মল্লযোদ্ধা হিসেবে দেখতে চান না; বরং জ্ঞানী ব্যক্তি এবঙ আলোকিত চিন্তার অধিকারী হিসেবে দেখতে চান। যা আপনার মধ্যে আছে অর্থাৎ মহান প্রশংসিত আল্লাহর কাছে প্রশংসিত হোন। যখন আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম সে আমাকে বলেছিল, আল্লাহর কাছে প্রশংসিত হও, এই পায়ের পাতা যা আমার সাথে যুগযুগ ধরে থাকবে এবং এটি একটি ভালো সঙ্গী হিসেবে ছিল। কিন্তু ধর্মীয় ওয়াদা আমাকে কী শান্তি দেয়।
একজন জ্ঞানী মানুষ বলেছিলেন, সবচাইতে খারাপ অবস্থাকে গ্রহণ করার মাধ্যমেই মনের শান্তি অর্জিত হয়।
এই কারণে, মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয়ে থাকে, গ্রহণযোগ্যতা শক্তিকে প্রকাশ করে। তা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ ক্রোধের বশে তাদের জীবিকাকে ধবংস করে ফেলে। কেননা, তারা বাস্তবতাকে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় এবং যা রক্ষা করতে পারত তাও রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। অতীতের কষ্টদায়ক জীবন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে যারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণের পরিবর্তে পিছিয়ে যায়। তাই তারা দুঃশ্চিন্তার বশ্যতা স্বীকার করে নেয়, যা তাদের জীবনে কোনো উদ্দেশ্য সফল হয় না।
ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্ণনা করা হয়, অতীত ব্যর্থতার অনুশোচনা, অতীতের কষ্টের জন্য কান্নকাটি করা এবং স্পষ্টভাবে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়া। এই সকল লোকদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অসস্তোষ ঘোষণা করেছেন।
হতাশা হলো তোমার সবচেয়ে বড় শত্র, যা মনের শান্তিকে বিনষ্ট করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে
আমি তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছি
৬
একজন জ্ঞানী নারীর উপদেশ
যত সংক্ষিপ্ত উপদেশ আছে তাদের মধ্যে সবচাইতে সেরা উপদেশটি আরব নারী থেকে বর্ণিত হয়েছে। উপদেশটি বর্ণিত হয়েছে উম্মা বিনতে হারীথ থেকে, যিনি তার মেয়ে ইয়াস বিনতে আওফকে রাত্রিবেলা কাপড় সেলাই করার সময় বলেছিলেন : হে আমার কন্যা! তুমি এই বাড়ি ছাড়ার পথে। কেননা, তুমি বড় হয়েছ, এখন এমন স্থানে যাচ্ছো যা সম্পর্কে তোমার কোনো, ধারণা নেই। এমন ব্যক্তি তোমার সঙ্গী হচ্ছে, যে চির অচেনা, অজানা। বিয়ের পর সে তোমার অধিকারী হবে তাই তুমি তার নিকট একজন আদর্শ নারী হও এবং সেও তোমার কাছে একজন আদর্শ স্বামী হিসেবে চিরসঙ্গী আনবে।
আমার কাছ থেকে দশটি গুণাবলি সম্পর্কে উপদেশ গ্রহণ কর, যা তোমার জন্য অনেক কল্যাণ বয়ে আনবে।
তাদের মধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয়টি হলো স্বামীকে সঙ্গী হয়ে সন্তুষ্ট লাভ কর, এবং তার কথা শোনো এবং তার আদেশ মান্য কর, যা তোমার মনের প্রশান্তি বয়ে আনবে, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার কথা শোনো এবং তার হুকুম পালন করা কর্তব্য।
তৃতীয় এবং চতুর্থ উপদেশ হলো। এটা তুমি তোমার স্বামীর কাছে নিশ্চিত কর যে, তুমি জ্ঞানে সুগন্ধি এবং দেখতে সুন্দরী। কোনো দৃষ্টিকটু তোমার মধ্যে দেখা তার জন্য উচিত নয়। আর তোমার কাছে আনন্দদায়ক সুগন্ধি ছাড়া কোনো খারাপ সুগন্ধ পাওয়া তার জন্য উচিত নয়।
পঞ্চম এবং ষষ্ঠ উপদেশ হলো, সময়মত তার খাবার পরিবেশন কর এবং সে ঘুমিয়ে পড়লে নীরব থাকো। একজন রাগী মানুষ জ্বলন্ত শিখার মতো। তার ঘুমে বিঘœতা ঘটলে সে হয়তো রেগে যাবে।
সপ্তম এবং অষ্টম হলো, তার দাসদাসী এবং ছেলে- মেয়েদের প্রতি যতœ নাও, এবং তার সম্পদের হেফাজত কর। তার সম্পদের প্রতি যত নেয়াটা এমন দেখায় যে, প্রকৃতপক্ষে তুমি তাকেই মূল্যায়ন করছ। তার সন্তান এবং দাসদাসীদের যতœ নেয়াটা এমনভাবে প্রকাশ পায় যে, তুমি তাদের উত্তম ব্যবস্থাপনা করছ। নবম এবং দশম হলো, তাঁর যে কোনো গোপন তথ্যকে প্রকাশ কর না, তাঁর কোনো হুকুমকে অমান্য কর না এজন্য যে, যদি তুমি তার কোনো গোপন কথা প্রকাশ কর তাহলে তুমি কখনই তার কাছে বিশ্বাসঘাতক ছাড়া অন্য কিছু বিবেচিত হবে না। আর তুমি যদি তার কথা অমান্য কর তাহলে তোমার প্রতি তার মন ঘৃণায় ভরে যাবে।
অতএব সাবধান হে আমার কন্যা! যখন সে মনক্ষুণ থাকে তার সামনে আনন্দ প্রকাশ কর না, আর যখন সে আনন্দে থাকে তার সামনে কষ্ট দেখিও না।
তোমার সুখ তুমি ছাড়া অন্য কারো ওপর নির্ভর করে না; বরং এটা তোমার হাতেই থাকে
আগামীকাল সূর্য উঠবে এবং আপনার হৃদয়কে আনন্দিত করবে
৭
একজন নারী নিজেকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে সন্তুষ্টি অর্জন করেছিলেন
আপনি জোহানী নামক নারীর কথা শুনেছিলেন, যিনি একটা মারাত্মক ভুল করেছিল। তিনি যিনায় লিপ্ত হয়েছিলেন, অতঃপর তিনি আল্লাহকে স্মরণ করে এবং অনুশোচনার তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে এসেছিলেন। একদিন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসেছিলেন, এবং তিনি চেয়েছিলেন তাকে যেন পাথর মেরে পবিত্র করা হয়। তিনি যিনা করার কারণে অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়েছিলেন এবং বলেছিলেন,
হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি মারাত্মক পাপ কাজ করেছি, যার জন্য আইনানুগতভাবে উপযুক্ত শাস্তি রয়েছে, তাই আমার ওপর শাস্তির বিধান আরোপ করা হউক।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকেছিলেন এবং বলেছিলেন, তার সাথে সদয় আচরণ কর, যখন সে গর্ভপাত করে তারপর আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর যখন সে আসল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম করলেন তার জামা কাপড় দ্বারা তাকে শক্ত করে বাঁধা হউক। অত:পর তাকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাফনের সময় তার জন্য দোয়া করেছিলেন।
উমর (রা) বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! যখন সে যেনা করেছিল তখন তার জন্য দোয়া করতেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন; সে এমনভাবে অনুশোচনা করেছিল যে, যদি তার এই যিনার কথা মদিনার ৭০ জন মানুষ জানত, তাহলে এটা তার জন্য যথেষ্ট হতো। তুমি কি এর চাইতে ভালো কোনো শাস্তি খুঁজে পাও? যে কোনো একজন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করল। এটা ছিল তার দৃঢ় বিশ্বাস যা তাকে পবিত্র হওয়ার পথ খুঁজতে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং পৃথিবীতে উপরিউক্ত পথকে খুঁজেছিলেন। যদি তাঁর এরকম দৃঢ় বিশ্বাস না থাকত তাহলে সে পাথর নিক্ষেপিত হয়ে মৃত্যুবরণ করাকে অধিকতর পছন্দ করত না।
কেউ একজন হয়ত এ রকম প্রশ্ন করেছিল। সে কেন যিনা করেছিল? এটা কি দুর্বল বিশ্বাসের ফল ছিল না? এটার উত্তর এই যে, কেউ হয়ত দুর্বল হয়ে পাপ কাজে লিপ্ত হলো। কেননা, তার এই ভুল দুর্বলতা থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল।
অথবা তার অপরিপক্কতার জন্য সে অল্প সময়ের জন্য বিপদগামী হয়েছিল। কিন্তু যখন বিশ্বাসের বীজ তার হৃদয়ে জেগে উঠলো তাই তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হলো, তার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ভালো গুণাবলি এবং দৃঢ় বিশ্বাস তাকে বেহেশতে নিয়ে যাবে। কী এমন জিনিস যা কিছু তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে আসল এবং তার কাছে নিজের পবিত্রতা চাইল, তাই তাঁর এই উৎসর্গ তার শান্তি প্ররোচক।
অবিরাম অভিযোগকারী হয়ো না অথবা সৌখিন অভিযোগকারী। \
প্রভাতের পূর্বেও রাত গভীর অন্ধকার থাকে
৮
যে (নারী) আল্লাহর হুকুম যথাযথভাবে পালন করেন আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন
গল্পটি বর্ণনা করা হয়েছিল একজন সুন্দরী ও সম্পদশালী নারীকে নিয়ে। যিনি তার প্রাসাদে, দাসদাসীদের নিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করেছিলেন এবং বিপদের সময় তিনি পালিয়ে যাননি; বরং কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। একদিন আলেকজান্দ্রিয়ার হানাদার বাহিনী তার বাড়িতে আক্রমণ করল। ফ্রাঙ্ক (আলেকজান্দ্রিয়ার বীর) যখন তার ঘরে প্রবেশ করে এবং তার হাত তরবারিসহ গর্জে উঠে তখন তাদের মধ্যে একজন বলেছিল, টাকা কোথায়? সে আতঙ্কিত হয়ে বলল টাকা এই ঘরের ট্রাঙ্কগুলোর মধ্যে রয়েছে এবং সে ঘরের সেই ট্রাঙ্কটিকে নির্দেশিত করতে লাগল যেটার ওপর সে বসাছিল। সে ভয়ে আতঙ্কিত হওয়া শুরু করল। দস্যুদের মধ্যে একজন বলল “ভয় পেয়ো না, তোমাকে আমাদের সাথে নিয়ে যাব এবং তুমি আমাদের সম্পদ এবং দয়াকে উপভোগ করবে।”
সে বুঝতে পেরেছিল যে, ফ্রাঙ্ক তাকে পছন্দ করেছে এবং সে তাকে চাচ্ছে……। সে তার দিকে ঝুঁকে এসে বলল, আমি শৌচাগারে যেতে চাই। সে কথাটি নরম এবং কোমলভাবে বলেছিল, ফ্রাঙ্ক মনে করল এই নারীও তাকে চাচ্ছে, ফ্রাঙ্ক তাকে যাওয়ার ইশারা করল যাতে সে চলে যায়। সে চলে গেল এবং পুনর্যাপন করল। মূলত সে পালিয়ে গিয়েছিল এবং লুটেরা ট্রাঙ্কগুলো নিয়ে যেতে লাগল। নারীটি বাড়ির বাইরে খড়কুটা ভরা একটি গুদাম ঘর খুঁজে পেল এবং সেখানে নিজেকে লুকিয়ে ফেলল। সম্পূর্ণ বাড়ি লুট করার পর ফ্রাঙ্ক তাকে খোঁজাখুজি শুরু করল। কিন্তু খুঁজে না পেয়ে তারা লুটকৃত সম্পদ নিয়ে চলে গেল। নারীটি উপরিউক্ত কৌশল ব্যবহার করে বন্দী হওয়ার চেয়ে নিজেকে মুক্ত রাখল। অপরদিকে তার দাসদাসীরাও বাড়ির ছাদে লুকিয়ে থেকে বেঁচে গিয়েছিল। নারীটি বলেছিল: “আমার ধর্মীয় ওয়াদা রক্ষা করা এবং সম্মান রক্ষা করা স্বর্ণালঙ্কার এবং সম্পদের চেয়ে অনেক উত্তম বীরব্রতী মানুষেরা রক্ষা করেছিলেন একটি উদ্দেশ্যে। কারণ বন্দী হওয়া এবং বলপ্রয়োগ করে ধর্ম পরিবর্তন করানোর চেয়ে গরিব থাকা অনেক উত্তম।
এড়ানো যায় না ব্যাপারকেও তোমার গ্রহণ করতে হনে, যা তোমার জীবনকে প্রতিঘাত করবে, যা তুমি পরিবর্তন করতে পার না। কিন্তু তুমি তা ধৈর্য এবঙ বিশ্বাসের সাথে ব্যবহার করতে পার
একজন মা, মানুষ এবং নায়ক বানানোর কারিগর
৯
অনুশোচনার অশ্র সবচাইতে খাঁটি অশ্র
যে অনুশোচনা করে আল্লাহ তাকে ভালবাসেন আর যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য অনুশোচনা করে আল্লাহ তাকে ভালবাসেন। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার অনুশোচনায় সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি আনন্দিত হন, যে ব্যক্তি তার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে যাওয়া উটকে খুঁজে পেয়ে যতটুকু আনন্দিত হন। যেই উটটি হারিয়ে যাওয়ার পর তার মালিক কোনো উর্বর ভূমির ওপর একটি গাছের নিচে হতাশ হয়ে ভাবেন যে, তার উটটি মারা গেছে। অতঃপর হঠাৎ যখন সে তার উটটি আবার দাঁড়ানো দেখতে পায়, এটার মধ্যেই তার একমাত্র অবলম্বন, তাই সে দাঁড়িয়ে যায় এবং উটের গলায় রশি পড়ায় এবং আনন্দের সাথে চিৎকার করে বলে হে আল্লাহ তুমি আমার প্রভ্ এবং আমি তোমার বান্দা। সমস্ত মহিমা আল্লাহর, যিনি কত মহান এবং কত দয়ালু, এমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার তওবায় আনন্দিত হন এবং আল্লাহর রহমতে তাকে বেহেশতে প্রবেশ করান। আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দাদেরকে উক্ত আয়াতের মাধ্যমে ঘোষণা দেন
অর্থ : (হে নবী!, একইভাবে) তুমি মুমিন নারীদেরও বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাযত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্যসমূহের হেফাযত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়। তবে তার (শরীরের) যে অংশ (এমনিই) খোলা থাকে (তার কথা আলাদা), তারা যেন তাদের বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের ছেলে, তাদের স্বামীর (আগের ঘরের) ছেলে, তাদের ভাই, তাদের ভাইয়ের ছেলে, তাদের বোনের ছেলে, তাদের (সচরাচর মেলামেশা) মহিলা, নিজেদের অধিকারভূক্ত সেবিকা, দাসী, নিজেদের অধীনস্থ (এমন) পুরুষ যাদের (মহিলাদের কাছ থেকে) কোনো কিছুই কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা এখনো মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে কিছুই জানেনা (এসব মানুষ ছাড়া তারা যেন) অন্য কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। (চলার সময়) যমীনের ওপর তারা যেন এমনভাবে নিজেদের পা না রাখেÑ যে সৌন্দর্য তারা রেখেছিল তা (পায়ের আওয়াযে) লোকদের কাছে জানাজানি হয়ে যায়। হে ঈমানদার ব্যক্তি, (ত্রটি বিচ্যুতির জন্যে) তোমরা সবাই আল্লাহর দরবারে তওবা কর, আশা করা যায় তোমরা নাজাত পেয়ে যাবে। (সূরা নূর : আয়াত৩১)
তওবা চোখের পানির মাধ্যমে মনকে পরিষ্কার করে এবং পরিতাপের আগুন মনকে পুড়ে খাটি করে এবং চোখের পানি এবং বিনয়ের অনুভূতি মনকে আরো প্রশান্ত করে। এটা হলো আল্লাহর পথ থোঁজার প্রথম ধাপ। এটা হলো সফল ব্যক্তির পুঁজি এবং বিপথগামী হওয়া থেকে সংশোধন হওয়ার চাবিকাঠি। সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মিনতি করে কাঁদে যখন অন্যরা আরাম করে সে করে না, যখন অন্যরা তার অবিরাম কান্না দেখে হতবাক হয় এবং তার মনের আকুল আকাক্সক্ষা কখনো থামে না। সে সর্বদা তার ভগ্নহৃদয় এবং হতাশ মন নিয়ে আল্লাহর দিকে চেয়ে থাকে, তার মাথা আল্লাহর দিকে অবনত রাখে, যখন তার স্মরণ হয় সে কত পাপ করেছে তখণ সে ভয়ে কেঁপে উঠে। তার দুঃখ তাকে কাঁদায়। সে নিজেকে ভবিষ্যতের জয়ের জন্য প্রস্তুত করে এবং সে তার পাপের বোঝাকে হালকা করে নেয়া যাতে সে দ্রুত কিয়ামতের দিন পুলসিরাতের রাস্তা পাড় হতে পারবে।
যখন কোনোকিছু খারাপ হয় তখন ইতিবাচক চিন্তা কর, যাতে তা অন্যদিন আনন্দ এবং সুখের উপলক্ষ হতে পারে
এবং একটি কারণ হচ্ছে, প্রধানত তারাই দাম্পত্য জীবনের জন্যে নিজেদের অর্থ সম্পদ ব্যয় করে। অতএব সতীসাধ্বী নারী হবে (একান্ত) অনুগত, পুরুষদের অনুপস্থিতিতে তারা (স্বয়ং আল্লাহর তত্ত্বাবধানে (থেকে) নিজেদের (ইযযত, আবরু ও অন্যান্য সব অদেখা কিছুর) রক্ষণাবেক্ষণ করবে। (সূরা নিসা : আয়াত ৩৪)
১০
প্রথম মুক্তিযোদ্ধা
সে তার সময়ের সবচাইতে সেরা প্রাসাদে বসবাস করত। তার প্রাসাদে দাসদাসীতে পরিপূর্ণ ছিল, অনেক নারীÑপুরুষ তার নির্দেশ মেনে চলত। তার জীবন ছিল অনেক বিলাস বহুল এবং সুখ সমৃদ্ধিতে ভরা। তার নাম ছিল আসিয়া বিনতে মোযাহিম (আ), যিনি ফারাও-এর স্ত্রী ছিলেন। একজন নারী, যিনি শারীরিকভাবে দুর্বল। কিন্তু তিনি ছিলেন ঈমানদার এবং তার প্রাসাদে সর্বদা শান্তি ছিল। তার হৃদয়ে বিশ্বাসের আলো উদিত হয়েছিল এবং তিনি জাহিলিয়্যাতের প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং যার প্রধান ছিলেন তার স্বামী। তিনি ছিলেন গভীর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন এবং তিনি এই বিশাল বিলাসবহুল রাজÑপ্রাসাদ এবং অগণিত দাসÑদাসী কোনো কিছুই তোয়াক্কা করতেন না। তাই তিনি বিশ্বস্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত হয়েছিলেন। তাই মহান প্রশংসাময় আল্লাহ তায়ালা তাকে ঈমানদারদের নিকট উদাহরণস্বরূপ পেশ করেন। যেমন
(একইভাবে) আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্যে ফেরাউনের স্ত্রীকে (অনুকরণযোগ্য) এক উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন। (সে প্রার্থনা করেছিল) হে মালিক! জান্নাতে তোমার পাশে তুমি আমার জন্যে একখানা ঘর বানিয়ে দিয়ো, আর (দুনিয়ার এ ঘরেও) তুমি আমাকে ফেরআউন ও তার (যাবতীয়) কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচিয়ে রেখো। তুমি আমাকে উদ্ধার কর এ যালেম সম্প্রদায় (-এর যাবতীয় অনাচার) থেকে। (সূরা আততাহরীম : আয়াত ১১)
একজন বিদ্ধান ব্যক্তি তার কবিতার মধ্যে উল্লেখ করেন
আসিয়া (আ) পৃথিবীর ওপর পরকালকে পছন্দ করেছিলেন। সকল মহিয়সী নারীদের মধ্যে তিনিও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। অন্য নারীদের ওপর আসিয়ার (আ) শ্রেষ্ঠত্ব এমন যেমন খাবারের মধ্যে রুটি, গোশত এবং পনির।
ইনি হলেন ঈমানদার নারী আসিয়া, এমন একটি আলোকবর্তিকা যার আলোক রশ্মি ফেরাউনের অন্ধকার প্রাসাদে জ্বলে উঠেছে। যিনি আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হতে পারেন যা আমাদেরকে ধৈর্য এবং দৃঢ়তার আলোর কিরণ দিতে পারে। যা মহা ক্ষমতাধর আল্লাহর প্রতি আমাদের আহ্বান করে।
তোমার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ কর তাহলে
তুমি সুখী হবে
