প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৭, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
কিন্তু তোমরা (পারিশ্রমিক ঠিক করার ব্যাপারে) যদি পরস্পরকে অসুবিধায় ফেলিতে চাও, তাহা হইলে বাচ্চাকে অপর কোন স্ত্রীলোক স্তন দিবে।
৭. সচ্ছল অবস্থার লোক নিজের সচ্ছলতা অনুযায়ী ব্যয়ভার বহন করিবে। আর যাহাকে কম রেয্ক দেওয়া হইয়াছে, সে তাহার সেই সম্পদ হইতে ব্যয় করিবে যাহা আল্লাহ তাহাকে দিয়াছেন। আল্লাহ যাহাকে যতটা দিয়াছেন, তাহার বেশি ব্যয় করার দায়িত্ব তিনি তাহার উপর চাপাইয়া দেন না। ইহা অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ অসচ্ছলতার পর প্রাচুর্যও দান করিবেন।
৮. কত জনপদ-জন-বসতি১ এমন রহিয়াছে যাহারা নিজেদের খোদা এবং তাঁহার নবী রাসূলগণের আইন-বিধানকে অমান্য করিয়াছে, ফলে তাহাদের উপর অত্যন্ত কঠিন প্রতিশোধ গ্রহণ করিয়াছি এবং তাহাদিগকে কঠিন শাস্তি দিয়াছি।
৯. তাহারা নিজেদের কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করিয়াছে এবং তাহাদের পরিণাম অত্যন্ত ক্ষতিপূর্ণ হইয়া গেল।
১০. আল্লাহ তায়ালা (পরকালে) তাহাদের জন্য কঠিন তীব্র আযাবের ব্যবস্থা রাখিয়াছেন। অতএব তোমরা সকলে আল্লাহকে ভয় কর, হে বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা, যাহারা ঈমান আনিয়াছ। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি একটা উপদেশ নাযিল করিয়াছেন-
১১. এমন একজন রাসূল২, যে তোমাদিগকে আল্লাহ তায়ালার স্পষ্ট-প্রকট হেদায়াত দানকারী আয়াতসমূহ শুনাইতেছে, যেন ঈমান গ্রহণকারী ও নেক আমলকারীদিগকে পুঞ্জীভূত অন্ধকার হইতে বাহির করিয়া আলোকোজ্জ্বল পরিবেশে লইয়া আসে।
টীকাঃ
১ আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কিতাব এর মাধ্যমে যে সব আদেশ-নির্দেশ দান করা হয়েছে যদি মুসলমানরা সেগুলি অমান্য করে তবে ইহকাল ও পরকালে তাদের পরিণাম কি ঘটবে এবং যদি তারা আনুগত্যের পথ অবলম্বন করে তবে কি পুরস্কার বা তারা লাভ করবে- এ সম্পর্কে এখন মুসলমানদের সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে-
২ তফসীরকারদের অনেকে ‘উপদেশ’ এর অর্থ- কুরআন এবং রাসূল-এর অর্থ- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রহণ করেছেন। আবার অনেক তফসীরকারের অভিমত হলো : উপদেশ-এর অর্থ- খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ রাসূলের সত্তাই আদ্যোস্ত জীবন্ত নসীহত। আমি এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যাকে সঠিকতর মনে করি।
