প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৭ম সংখ্যা, জানুয়ারী ২০১৭, রবি আউঃ-রবি সানী ১৪৩৮ হিজরী, পৌষ-মাঘ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

৫. যেসব লোককে তওরাতের ধারক বানানো হইয়াছিল, কিন্তু তাহারা উহার ভার বহন করে নাই, তাহাদের দৃষ্টান্ত সেই গর্দভের ন্যায়, যাহার পৃষ্ঠে বহু কিতাব চাপাইয়া দেওয়া হইয়াছে। ইহা হইতেও নিকৃষ্টতর দৃষ্টান্ত হইল সেই সব লোকেরা, যাহারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অসত্য মনে করিয়া অমান্য করিয়াছে১। এই ধরনের যালেম লোকদিগকে আল্লাহতয়ালা হেদায়াত দান করেন না।

৬. এই লোকদিগকে বল : হে লোকেরা, যাহারা ইয়াহুদী হইয়া গিয়াছে২, তোমাদের যদি এই আত্ম-অহংকার থাকিয়া থাকে যে, অন্যান্য সব লোককে বাদ দিয়া কেবল তোমরাই আল্লাহর আহলাদের দুল্য। তাহা হইলে তোমরা মৃত্যুর কামনা কর, যদি তোমরা তোমাদের এই আত্মবিশ্বাসে সত্য হইয়া থাক৩

১ অর্থাৎ তাদের অবস্থা গাধা থেকেও নিকৃষ্টতর। গাধার জ্ঞান-বুদ্ধি না থাকায় সে নিরুপায়। কিন্তু এ সব লোক জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন, তারা তাওরাত পড়ে ও পড়ায় ও এর অর্থ তারা অজ্ঞান নয়, তবুও এর পথ-নির্দেশ থেকে তারা জেনেশুনে বিচ্যুত হচ্ছে, এবং যেই নবীকেও তারা মানতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করছে তওরাত অনুসারে যিনি সম্পূর্ণরূপে সত্য নবী। এরা না বুঝতে পারায় দোষে দোষী নয় বরং এরা জেনে বুঝে আল্লাহর আয়াতের প্রতি মিথ্যারোপ করার অপরাধে অপরাধী।
২ এ বিষয়ে লক্ষণীয় যে হে ইহুদীগণ বলা হয়নি, বরং হে লোকেরা যাহারা ইহুদী হইয়া গিয়াছে বা যারা ইহুদীত্ব গ্রহণ করেছো বলা হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে আসল ধর্ম যা মুসা (আঃ) এবং তাঁর পূর্বের ও পরের নবীরা এসেছিলেন তা তো ছিল ইসলাম ই। এই নবীগণের মধ্যে কেউই ইহুদী ছিলেন না, এবং তাঁদের সময়ে ইহুদীত্বের জন্মই হয়নি। এই নামসহ এই ধর্ম-মত অনেক পরে সৃষ্টি হয়েছে।
৩ আরবের ইহুদীরা নিজেদের সংখ্যা ও শক্তিতে মুসলমানদের থেকে কোন প্রকার কম ছিল না, এবং উপায় উপকরণের দিক থেকেও অনেক সমৃদ্ধ ছিল; কিন্তু এই অ-সমান দ্বন্দ্বে যে জিনিস মুসলমানদের বিজয়ী ও ইহুদীদেরকে পরাজিত করেছিল তা হচ্ছে মুসলমানেরা খোদার পথে মৃত্যুবরণ করতে ভীত হওয়া তো দূরের কথা অন্তরের অন্তস্থল থেকে তারা এ মৃত্যু বরণের জন্যে উৎসুক ছিল। এবং তারা প্রাণ হাতে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হত। পক্ষান্তরে ইহুদীদের অবস্থা ছিল তারা কোন পথেই জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল না, না খোদার পথে, না জাতির পথে, না নিজের প্রাণ, ধন ও সম্মানের পথে। তাদের শুধু প্রয়োজন ছিল জীবনের, সে জীবন যেরূপই হোক না কেন। এই জিনিসই তাদেরকে ভীরু ও কাপুরুষ করে রেখেছিল।

৭. কিন্তু আসলে ইহারা কখনই এইরূপ কামনা করিবে না, তাহারা যেসব কীর্তি-কলাপ করিয়াছে সেই কারণে। আর আল্লাহ এই যালেম লোকদিগকে খুব ভাল করিয়াই জানেন।

৮. ইহাদিগকে বল: যে মৃত্যু হইতে তোমরা পালাইতেছ তাহাতো তোমাদের নিকট আসিবেই। অতঃপর তোমরা সেই মহান সত্তার নিকট উপস্থাপিত হইবে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য সবই জানেন। আর তিনি তোমাদিগকে জানাইয়া দিবেন তাহা সবই, যাহা তোমরা করিতেছিলে।

৯. হে লোকেরা যারা ঈমান আনিয়াছ, জুম’আর দিনে যখন নামাযের জন্য ঘোষণা দেওয়া হইবে, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে দৌড়াও এবং কেনা-বেচা পরিত্যাগ কর৪।

৪ এই আদেশে যিকর-এর র্অথ খোতবা। কেননা আযানের পর প্রথম কাজ যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পাদন করতেন তা নামায নয় বরং খোতবা। আর তিনি নামায সর্বদা খোতবার পরে আদায় করতেন। আল্লাহর স্মরণের দিকে দৌড়াও এর অর্থ এই নয় যে দৌড়াদৌড়ি করে এসো বরং এর অর্থ হচ্ছে যথা সত্ত্বর ওখানে পৌঁছাবার চেষ্টা কর। কেনা-বেচা পরিত্যাগ কর এর মর্ম মাত্র ক্রয় ও বিক্রয় ত্যাগ করা নয় বরং নামাযের জন্যে যাওয়ার চিন্তা ছাড়া অন্য সমস্ত ব্যস্ততা ও তৎপরতা ত্যাগ কর। ইসলামী ফিকাহবিদগণ এ সম্পর্কে একমত যে, জুম’আর আযানের পর ক্রয়-বিক্রয় ও প্রত্যেক প্রকারের কারবার নিষিদ্ধ। অবশ্য হাদীস অনুযায়ী নাবালক, স্ত্রীলোক, দাস, রোগী ও মুসাফিরদেরকে জুম’আর বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে।