প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৮ম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৮ হিজরী, মাঘ-ফাল্গুন ১৪২৩বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

ইহা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম যদি তোমরা জান।
১০. পরে নামায সম্পূর্ণ হইয়া যাইবে তখন পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড় এবং খোদার অনুগ্রহ সন্ধান কর১। আর আল্লাহকে খুব বেশি বেশি তখন স্মরণ করিতে থাক। সম্ভবত: তোমরা সাফল্য লাভ করিতে পারিবে২।

১১. আর তাহারা যখন ব্যবসায় বা খেল-তামাশা হইতে দেখিল, তখন সেই দিকে আকৃষ্ট হইয়া দ্রুত চলিয়া গেল এবং তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রাখিয়া গেল৩।

১ এর অর্থ এই যে, জুমআর নামাজের পর পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া ও জীবিকার সন্ধানে দৌড়-ঝাপে লিপ্ত হওয়া জরুরি। বরং এ এরশাদ অনুমতির অর্থে করা হয়েছে। জুম’আর আযান শ্রবণে সমস্ত কারবার ত্যাগ করার আদেশ দেয়া হয়েছিল; এজন্য বলা হলো নামাজ শেষ হওয়ার পর তোমাদের অনুমতি দেয়া গেল, তোমরা বিক্ষিপ্ত হয়ে যাও এবং নিজেদের কোন কাজ কারবার করতে চাও তো কর। এহরাম সমাপ্তিতে শিকারের অনুমতির সঙ্গে একথা তুলনীয়। যেমন এহরামের অবস্থায় শিকার নিষিদ্ধ করে তারপর বলা হয়েছে যখন তোমরা এহরাম থেকে মুক্ত হও, তখন শিকার কর (সূরা মায়েদা, আয়াত-২)। এর অর্থ এই নয় যে, তোমরা অবশ্যই শিকার কর, বরং এর অর্থ হচ্ছেÑ তোমরা এরপর শিকার করতে পারো। সুতরাং এ আয়াতের ভিত্তিতে যারা এ যুক্তি পেশ করে যে কুরআন অনুসারে ইসলামে জুমআর ছুটি নেই তারা ভুল কথা বলে। সপ্তাহে যদি একদিন ছুটি করতে হয় তবে মুসলমানদের জুমআর দিনে তা করা উচিত যেমন ইহুদীরা শনিবার ও খৃস্টানরা রবিবার করে থাকে।
২ এ রকম অবস্থায় ====== সম্ভবত শব্দ ব্যবহার করার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তায়ালার মা-আব-আল্লাহ কোন সন্দেহ আছে। বরং আনন্দে এটা রাজকীয় বর্ণনার স্মরণ। যেমন কোন দয়ালু প্রভু নিজের কর্মচারীকে বলে ‘তুমি অমুক খেদমত আঞ্জাম দাও, সম্ভবতঃ এ দ্বারা তোমাদের পদোন্নতি মিলতে পারে।’ এর মধ্যে এক সূক্ষ্ম প্রতিশ্রুতি প্রসন্ন থাকে; আর এ আশায় কর্মচারী আন্তরিক আগ্রহে ও উৎসাহের সাথে সেই খেদমত আজ্ঞাম দেয়।
৩ এ মদীনার প্রাথমিক যুগের ঘটনা। সিরিয়া থেকে একটি তেজারতী কাফেলা (ব্যবসায়ী দল) ঠিক জুম’আর নামাযের সময় এসেছিলো, বস্তির লোকদের তাদের আগমন সংবাদ জানানোর জন্যে তারা ঢোল-তাশা বাজাতে শুরু করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময়ে খোতবা দান করছিলেন। ঢোল-তাপর শব্দ শুনে অধীর হয়ে বারোজন ছাড়া বাকী সব লোক কাফেলার দিকে দৌড়ে যায়।

তাহাদিগকে বলঃ আল্লাহর নিকট যাহা কিছু আছে তারা খেল-তামাশা ও ব্যবসার অপেক্ষা উত্তম৪। আর আল্লাহ সর্বাপেক্ষা উত্তম রিযিকদাতা৫।
৪ তোমাদের দ্বারা যে ত্রুটি ঘটেছিল এই বাক্যাংশে তার প্রকৃতি সূচিত হয়েছে। যদি-মাআব-আল্লাহ এর কারণ ঈমানের কমি ও পরকালের উপর দুনিয়াকে জ্ঞাতসারে অগ্রগণ্যতা দেয়া হতো, তবে আল্লাহ তা’য়ালার ক্রোধ ধম্কি ও তিরস্কারের ধরণ অন্যরূপ হতো। কিন্তু যেহেতু সেখানে এরূপ কোন খারাবি ছিল না বরং যা কিছু ঘটেছিল তা তরবিয়াতের (শিক্ষার) কমির জন্য ঘটেছিল, এজন্যে প্রথমে শিক্ষামূলক পদ্ধতিতে জুম’আর শিষ্টাচার নির্দেশ করা হয়েছে, তারপর ঐ ত্রুটি নির্দেশ করে অভিভাবকসূলভ ধরনে বুঝানো হয়েছে যে, জুম’আর খুতবা ও জুম’আর নামায আদায় করার জন্য খোদার কাছে যা-কিছু তোমরা প্রতিদান পাবে, তা এই দুনিয়ার ব্যবসার ও খেল-তামাশা অপেক্ষা উৎকৃষ্টকর।
৫ অর্থাৎ, এই দুনিয়াকে অপ্রকৃত অর্থে যে কেউই জীবিকা দানের উপায় স্বরূপ হোকনা কেন, তাদের সকলের চেয়ে উত্তম জীবিকাদাতা হচ্ছেন আল্লাহ্ তায়ালা।