প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১২ম সংখ্যা, জুন ২০১৬, শাবান-রমাদান ১৪৩৭ হিজরী, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
১। হে ঈমানদার লোকেরা ১ তোমরা যদি আমার পথে জিহাদ করার জন্য ও আমার সন্তোষ লাভের মানসে (দেশ ছাড়িয়া ঘর হইতে) বাহির হইয়া থাক, তাহা হইলে আমার ও তোমাদের শত্রদিগকে বন্ধু বানাইও না। তোমরা তো তাহাদের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপন কর অথচ যে সত্য তোমাদের নিকট আসিয়াছে তাহা মানিয়া লইতে তাহারা ইতিপূর্বেই অস্বীকার করিয়াছে। আর তাহাদের আচরণ এই যে, তাহারা রাসূল এবং স্বয়ং তোমাদিগকে শুধু এই কারণে দেশ হইতে নির্বাসিত করে যে, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহর প্রতি ঈমান আনিয়াছ। তোমরা গোপনে তাহাদিগকে বন্ধুত্বপূর্ণ বাণী পাঠাও,
২। তাহাদের আচরণ তো এই যে, তাহারা তোমাদিগকে কাবু ও জব্দ করিতে পারিলে তোমাদের সহিত শত্রতা করে, হাত ও মুখের ভাষা দ্বারা তোমাদিগকে জ্বালাতন দেয়। তাহারা তো ইহাই চায় যে, কোন না কোন ভাবে তোমরা কাফের হইয়া যাও।
৩। কিয়ামতের দিন না তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক তোমাদের কোন কাজে আসিবে, না তোমাদের সন্তান-সন্তুতি ২। সেই দিন আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করিয়া দিবেন ৩। আর তিনিই তোমাদের কাজ-কর্মের দর্শক।
১ তফসীরকারকগণ এ বিষয়ে একমত যে, যখন মক্কায় মুশরেকদের সাথে লিখিত হযরত হাতেব বিন্ আবি বালতাআর (রা.)-পত্র-যাতে তিনি পূর্বাহ্নে শত্রদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা আক্রমণ করতে চলেছেন ধরা পড়েছিল, সেই সময় এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।অথচ তোমরা যাহা কিছু গোপনে কর, আর যাহা কর প্রকাশ্যে, প্রত্যেকটি ব্যাপারই আমি ভালোভাবে জানি। তোমাদের যে ব্যক্তিই এইরূপ করে, নিশ্চিত জানিও, সে সত্য পথ হইতে ভ্রষ্ট হইয়া গিয়াছে।
২ হযরত হাতেব (রা.) এ কাজ এই উদ্দেশ্যে করেছিলেন যে মক্কায় তাঁর যে পরিবারবর্গ আছে যুদ্ধের সময় তারা যেন নিরাপদে থাকে;
৩ অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্ত আত্মীয়তা, সম্পর্ক ও সংযোগ সেখানে ছিন্ন করে দেয়া হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে স্বকীয় সত্তায় সেখানে উপস্থিত হবে। সুতরাং দুনিয়ার কোন লোকেরই কোন ঘনিতা বা বন্ধুত্ব বা দলবদ্ধতার খাতিরে কোন অবৈধ কাজ করা উচিত নয়। কেননা নিজের কাজের শাস্তি তার নিজেরই ভোগ করতে হবে, তার নিজের দায়িত্বের মধ্যে অন্য কেউ অংশীদার হবে না।
