প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৭ম সংখ্যা, জানুয়ারী ২০১৬, রবি আউঃ-রবি সানি ১৪৩৭ হিজরী, পৌষ-মাঘ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
১৫। তাহাদের সম্মুখে রৌপ্য-নির্মিত পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা আবর্তিত করানো হইবে। সেই কাঁচ যাহা রৌপ্য জাতীয় হইবে১
১৬। এবং সেগুলিকে (জান্নাতের ব্যবস্থাপনা) পরিমাণ মতো ফর্তি করিয়া রাখিবে।
১৭। তাহাদিগকে তথায় এমন সূরা পান করানো হইবে যাহাতে শুঁটের সংমিশ্রণ থাকিবে২
১৮। ইহা হইবে জান্নাতের একটি নির্ঝর, উহাকে সালসাবীল বলা হয়।
১৯। তাহাদের সেবাকার্যে এমন সব বালক ব্যস্ত-সমস্ত হইয়া দৌড়া-দৌড়ি করিতে থাকিবে যাহারা চিরকালই বালক থাকিবে। তোমরা তাহাদিগকে দেখিলে মনে করিবে, ইহারা যেন মুক্তা ছড়াইয়া দেওয়া।
২০। তথায় যেদিকেই তুমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করিবে, শুধু নিয়ামত আর নিয়ামতই এবং একটি বিরাট সাম্রাজ্যের সাজ-সরঞ্জাম তুমি দেখিতে পাইবে।
২১। তাহাদের উপর সূক্ষ্ম রেশমের সবুজ পোশাক ও মোটা রেশম বা মখমলের কাপড় থাকিবে। তাহাদিগকে রৌপ্যের কংকন৩পরানো হইবে এবং তাহাদের খোদা তাহাদিগকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন শরাব পান করাইবেন।
২২। ইহাই হইল তোমাদের শুভ প্রতিফল। আর তোমাদের কার্যকলাপ যথার্থ ও মূল্যবানরূপে গৃহীত হইয়াছে।
২৩। হে নবী! আমরাই তোমার প্রতি এই কুরআন অল্প-অল্প করিয়া নাযিল করিয়াছি৪
২৪। অতএব তুমি তোমার খোদার আদেশ-নির্দেশ পালনে ধৈর্য্য ধারণ কর৫আর ইহাদের মধ্য হইতে কোন দুষ্কৃতিকারী কিংবা সত্য অমান্যকারীর কথা মানিও না।
২৫। তোমার খোদার নাম সকাল-সন্ধ্যা স্মরণ কর।
***১ অর্থাৎ রৌপ্য নির্মিত হবে, কিন্তু কাঁচের মতো স্বচ্ছ ঝকঝকে। সূরা যুখরুফের ৭১নং আয়াতে বলা হয়েছে তাদের সামনে স্বর্ণপাত্র আবর্তিত করানো হতে থাকবে। এ থেকে জানা গেল কখনও সেখানে স্বর্ণপাত্র ব্যবহৃত হবে এবং কখনও রৌপ্য পাত্র।
***২আরববাসীরা মদের সঙ্গে শুটমিশ্রিত পানির সংমিশ্রণ খুব পছন্দ করতো। এ কারণে বলা হয়েছে তাদের সেখানে সেই ধরনের শরাব পান করানো হবে যাতে শুটের সংমিশ্রণ থাকবে।
***৩সূরা হজ্জের ২৩নং আয়াত ও সূরা ফাতেরের ৩৩নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, সেখানে তাদের সোনার কংকন করানো হবে। এর থেকে জানা গেল তারা নিজেদের ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী কখনও সোনার কঙ্কন পরিধান করবে, কখনও রূপার কঙ্কন পরিধান করবে এবং কখনও উভয়কে মিলিয়ে পরিধান করবে।
***৪ এখানে বাহ্যত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে, কিন্তু আসলে কাফেরদের একটি আপত্তিকর উত্তর দেয়া হয়েছে। তারা বলতো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিন্তা করে করে এই কুরআন নিজে রচনা করেছে,যদি সেরূপ না হয়ে আল্লাহা তায়ালার পক্ষ থেকে কোন আদেশ অবতীর্ণ হতো তবে তা একসঙ্গে একত্রে অবতীর্ণহতো
***৫ অর্থাৎ তোমার প্রভু যে মহান কাজের দায়িত্বে তোমাকে নিযুক্ত করেছেন, সে পথের কাঠিন্যে ও বিপদ আপদে ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন কর। যা কিছু ঘটুক না কেন অবিচলভাবে তা সহ্য করে যাও কোন ক্রমেই বিচলিত ও পাশ্চলিত হয়ো না।
