প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭, জমা.আউ-জমা.সানি ১৪৩৮ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

শামী প্রণেতা বলেনঃ

ইলমে তাসাউফ শিক্ষা করা ফিকহ শাস্ত্র শিক্ষা করার ন্যায়ই যথাক্রমে ফরজে আইন, ফরজে কেফায়া ও মুস্তাহাব। ইহা গায়াতুল আওতার হইতে ইতিপূর্বে বর্ণিত হইয়াছে। ইলমে এখলাছ অর্থাৎ মানসিক সৎগুণরাশি এবং আত্ম প্রশংসা, হিংসা, রিয়া ও এতদ্ভিন্ন অহঙ্কর, শত্রুতা, প্রবঞ্চনা, ক্রোধ, লোভ, কার্পণ্য, তোষামোদ, সত্য হইতে ফিরিয়া থাকা, চক্রান্ত, প্রতারণা, নিষ্ঠুরতা, দুরাকাঙ্খা প্রভৃতি কু-রিপুসমূহ সম্বন্ধে এহ্ইয়াউল উলুমুদ্দীন কিতাবে বর্ণিত আছে যে, এই সমস্ত ক্ষতিকর রিপু হইতে কোন মানুষই বিমুক্ত নয়। কাজেই প্রত্যেকেরই উক্ত বিষয় আবশ্যক পরিমাণ শিক্ষা করা কর্তব্য এবং কু-রিপুগুলি অন্তর হইতে নির্মূল করা ফরজে আইন। আবার উক্ত রিপুসমূহের পরিচয়, উহা বিদূরিত করিবার উপায় ও প্রতিষেধক না জানিলে উহা কিরূপে দূর করা সম্ভবপর হয়। প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি পাপ কার্যগুলি চিনিতে না পারে, সে ব্যক্তি উহাতে পতিত হইয়া থাকে।

কু-রিপুগুলি সকল পাপের মূল, উহা হইতে বাঁচিয়া থাকা ফরজ । হাশিয়ায়ে তাহ্তাবী ও দুররুল মুখতার কিতাবে
علم قلب এর ব্যাখ্যায় লিখিত আছে- কৃপণতা, কাপুরুষতা, অহঙ্কার, পরিবার পরিজনের খাওয়া পরায় কষ্ট দেওয়া ইত্যাদি হারাম। এই সকল অসৎ গুণগুলি সম্যকরূপে চিনিয়া না লইলে উহা হইতে বাঁচিয়া থাকা দুষ্কর। মোটকথা, হারাম হইতে বাঁচিয়া থাকা ফরজ। সুতরাং ইলমে কলব শিক্ষা করা ফরজ। মনদুব অর্থাৎ মুস্তাহাব নহে।