প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৬, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
১. আনাস ইবনু মালিক (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলেছে এবং তার অন্তরে যবের দানার ওজন পরিমাণও কল্যাণ (ঈমান) থাকবে। এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলেছে এবং তার অন্তরে গমের দানার ওজন পরিমাণও কল্যাণ থাকবে। অতঃপর এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে যে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলেছে এবং তার অন্তরে অণু পরিমাণও কল্যাণ থাকবে। (হাদীসটি সহীহ: সহীহুল বুখারী হা/৬৮৬১; সহীহ মুসলিম, হা/৪৯৯, আহমাদ হা/ ১১৭৭২, ১২১৫৩, ১২৭৭২, ১৩৯২৮, ১৩৯২৯, ১৩৫৯০; ইবনু আবূ আসিম আস-সুন্নাহ হা/৮০৭; আবূ আওয়ানাহ হা/১/১৮০; ইবনু আবূ শাইবাহ, তিরমিযী হা/২৫৯৩; ইবনু মাজাহ হা/৪৩১২; ইবনু হিব্বান হা/৬৪৬৪; ইবনু মানদাহ আল- ঈমান হা/৮৬২; তায়ালিসি হা/২০১০, আবদ ইবনু হুমাইদ হা/১১৮৭, বায়হাক্বীর আল- আসমা ওয়াস সিফাত এবং আল-ই‘তিক্বাদ. হাকিম, বাগাভী)
২. আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : মহান আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে সমস্ত হাশরবাসীর সামনে আলাদা করে এনে উপস্থিত করবেন। তিনি তার সামনে ৯৯টি আমলনামার খাতা খুলে ধরবেন। প্রতিটি খাতা দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা হবে, তুমি কি এসব আমলনামার কোনো কিছুকে অস্বীকার করো। আমলনামা লিখার কাজে নিয়োজিত আমার ফিরিশতারা কি তোমার উপর কোনো যুলুম করেছে ? সে বলবে, না। অতঃপর প্রশ্ন করা হবে, এ সমস্ত গুনাহের পক্ষে তোমার কাছে কোনো ওজর আছে কি? সে বলবে, কোনো ওযর নাই। বলা হবে, তোমার একটি নেকী আমার কাছে রয়েছে। আজ তোমার উপর কোনো যুল্ম করা হবে না। অতঃপর একটি কাগজের টুকরা বের করা হবে, যাতে লিখা থাকবে : আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। বলা হবে, যাও এটাকে ওজন করে নাও। সে আরজ করবে, এতোগুলো দফতরের মোকাবেলায় এই সামান্য কাগজের টুকরা কী কাজে আসবে। বলা হবে, আজ তোমার উপর কোনো যুলুম করা হবে না। অতঃপর ঐ টুকরাটি রাখা হবে। তখন দফতরওয়ালা পাল্লাটির মুকাবিলায় ঐ কাগজের টুকরার পাল্লাটি ওজনে ভারি হয়ে যাবে। আসল কথা হলো, আল্লাহর নামের বিপরীতে কোনো কিছুই ভারি হতে পারে না। (হাদীসটি সহীহ: তিরমিযী হা/২৬৩৯; ইবনু মাজাহ হা/৪৩০০; ইবনু হিব্বান হা/২২৫; বায়হাক্বী, মুস্তাদরাক হাকিম হা/৯)
কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেবে
হুযাইফাহ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : কাপড়ের কারুকার্য যেমন মুছে যায় তেমনি ইসলামও এক সময় অষ্পষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি লোকেরা এটাও জানবে না যে, সিয়াম কী, সাদাক্বাহ কী এবং হাজ্জ কী জিনিস। একটি রাত আসবে যখন অন্তরসমূহ থেকে কুরআন উঠিয়ে নেয়া হবে এবং যমীনের উপর কুরআনের একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না। তখন মানুষদের মধ্যে একদল বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা অবশিষ্ট থাকবে। তারা বলবে, আমরা আমাদের বাপ-দাদার (পূর্ব পুরুষের) কাছ থেকে এই কালিমা লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ শুনের্ছিলাম, সেজন্য আমরাও এই কালিমা পাঠ করি। তখন সিলাহ বিন যুফার হুযাইফাহ্ (রা:)- জিজ্ঞেসা করলো, তারা যেহেতু ঐ সময় সিয়াম, সাদাক্বাহ এবং হাজ্জ সম্পর্কে অবহিত থাকবে না, তাহলে এই কালিমা তাদের কী উপকারে আসবে? হুযাইফাহ (রা:) কোনো জবাব দিলেন না। তিনি একই প্রশ্ন করলেন। প্রতিবারেই হুযাইফাহ (রা:) জবাব দিলেন না। অতঃপর তৃতীয়বারের পর (অনুরোধ)করলে তিনি বলেন, হে সিলাহ! এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবে। এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবে। এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবে। (হাদীসটি সহীহ: ইবনু মাজাহ হা/৪০৪৯; মুস্তাদরাকে হাকিম হা/৮৬৩৬, ৮৪৬০; সিলসিলাহ সহীহাহ হা/৮৭)
যার শেষ কথা হবে লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
১. আবু হুরাইরা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : তোমরা তোমাদের মৃত্যু পথযাত্রীকে লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ তালকীন করাও। কেননা যে ব্যক্তির মৃত্যুর সময় শেষ কথা হবে লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (হাদীসটি হাসান: ইবনু হিব্বান হা/৬৮৭)
২. অন্য বর্ণনায় বয়েছে: যে ব্যক্তির শেষ কথা হবে লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ, হাকিম মানদাহ আত-তাওহীদ এবং আহমাদ ইরওয়াউল গালীল হা/৬৮৭)
