প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬, মুহাররম-সফর ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

প্রশ্ন-৫৮ : ঘুমানোর পূর্বে আগুন নিভিয়ে রাখার বিষয়ে আরো কোন হাদীস আছে কি?

উত্তর : ঘুমানোর পূর্বে আগুন নিভিয়ে রাখার বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস রয়েছে। প্রথমটি বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রেখে ঘুমিওনা। (সহীহ মুসলিম)

হযরত সালেম (রহ.) তার পিতার সূত্রে জেনে বর্ণনা করেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (রাতে) ঘুমানোর সময় তোমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রেখোনা। (সহীহ আল বুখারী ও ইবনে মাজাহ)
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাতে তোমরা শোবার সময় প্রদীপগুলো নিভিয়ে দিবে, ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করে দিবে, মশকের (পানির পাত্রের) মুখ বেঁধে রাখবে এবং আহার ও পানীয়দ্রব্য ঢেকে রাখবে। (সহীহ আল বুখারী)

এ সম্পর্কে আরো একটি হাদীস এখানে আলোচনায় আনবো যা বর্ণনা করেন হযরত আবু মূসা আশ’আরী (রা.)। তিনি বলেন, একবার মদীনা শরীফের কোনো এক ব্যক্তির বাড়িতে আগুন লেগে যায়। ঘটনাটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই এই আগুন তোমাদের দুশমন। সুতরাং তোমরা ঘুমানোর পূর্বে আগুন নিভিয়ে দাও। (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ)

সুপ্রিয় পাঠক! আপনারা গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, এই চারটি মূলনীতি মেনে চলা, তথা (১) খাদ্যদ্রব্যের পাত্র ঢেকে রাখা, (২) পানীয় দ্রব্যের পাত্রের মুখ বন্ধ করে রাখা, (৩) শয়নের পূর্বে ঘরের দরজা বন্ধ রাখা এবং (৪) ঘুমানোর পূর্বে বাতি নিভিয়ে দেয়া, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অতীব প্রয়োজন, যা আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তম শতাব্দীতে বর্ণনা করে গেছেন আজ হতে ১৪০০ বছর পূর্বে। আল্লাহ্ এই চারটি মূলনীতি থেকে ফায়দা হাসিলের তাওফীক দিন। (আমীন)

শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার জন্য তিনি ঘুমাতে যাবার আগে শয্যাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝেড়ে নিতে উপদেশ দিয়েছেন, যা সত্যি বিস্ময়কর। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ শুতে যায় তখন সে যেনো শয্যাটি ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না যে তার অবর্তমানে কোনো বিষাক্ত প্রাণী বা কীটপতঙ্গ বিছানায় লুকিয়ে আছে কিনা। বিছানা ঝেড়ে ফেলার পর এই দু‘আ পড়বে।: বিইসমিকা রব্বি ওয়াঅদ্বাতু জামবি ওয়াবিকা আরফাউহু ইন আমসাকতা নাফ্সী ফাবহামহা ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাহ্ফাজু বিহিস্সলিহীন।

হে প্রতিপালক! আপনারই নামে (বিছানায় আমার) দেহ এলিয়ে দিলাম এবং আপনারই সাহায্যে আবার তা উঠাবো। যদি আপনি (এর মধ্যে) আমার জান কবজ করে নেন তবে তার ওপর রহম করুন। আর যদি তাকে থাকতে দিন তবে ঠিক সেভাবেই হিফাজত করুন যেভাবে আপনি সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের জানের হিফাজত করে থাকে। (সহীহ আল বুখারী)

প্রশ্ন-৫৯ : গত কয়েকটি পর্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কমিউনিটি হেলথ নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা শুনেছি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে। এ বিষয়ে উপসংহারে কিছু বলুন আমাদের সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোনো মন্তব্য আছে কি?

উত্তর : গত ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর Medical Biochemists of Bangladesh-এর জাতীয় কনফারেন্সে সম্মানিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দুজনেই গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দেন। সেখানে আমি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে Prophetic medicine বিষয়টি আনি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি দেখবেন। তিনি বলেন, আমরা আগামীতে স্বাস্থ্যনীতি ব্যাপকভাবে ঢেলে সাজাতে চাই এবং এ উদ্দেশ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি মন্ত্রী মহোদয়কে বিনীত অনুরোধ করেছি যে, Prophetic medical practices স্বাস্থ্যনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করুন। দেখবেন, এতে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং মানুষ সাধারণ অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে থাকবে। রোগ প্রতিকারের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হবে। ফলে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেট অনেক সাশ্রয় হবে। আবার দেশে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশিত স্বাস্থ্য ও পানাহার বিষয়ক বিধি-বিধান মেনে চলার কারণে দু’বছর কোনো লোক অসুস্থ না হয়ে থাকে, তাহলে এ দেশে তা সম্ভব হবে না কেন? যাহোক, আল্লাহর দেয়া অক্সিজেন ও আলো-বাতাস যেমন সমগ্র মানব জাতির উপকার ও কল্যাণের জন্য, তেমনি স্বাস্থ্য বিষয়ক নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিন-নির্দেশনাও সকল মানুষের কল্যাণের জন্যই। যে কোনো ব্যক্তি ইচ্ছে করলে তা থেকে উপকার লাভ করতে পারেন।

আমি সম্মানিত পাঠকদের নিকট আহ্বান জানাবো প্রাথমিক পর্যায়ে চলুন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের preventive health বিষয়ক নির্দেশনাগুলো মেনে চলি। তাহলে আমরা অনেক রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকতে পারবো ইনশা’আল্লাহ।

মানুষ যদি অসুস্থ না হয় তখন তার কোনো ওষুধও প্রয়োজন হয়না, আর ডাক্তারও দরকার হয়না। ফলে নিঃসন্দেহে আর্থিক সাশ্রয় হবে। সবচেয়ে বড় কথা, তার দৈনন্দিন কর্মঘণ্টা বেড়ে যাবে। কারণ অসুস্থ ব্যক্তি অফিস-আদালত ও কারখানায় কাজ করতে পারেনা। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক সুন্দর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অভ্যাসগুলো Good Hygienic Practice যদি মেনে চলি, তবে আমরা সর্বদিক দিয়ে কল্যাণ লাভে সমর্থ হবো। আমাদের দেহ-মন উভয়ই সুস্থ থাকবে।
যাহোক, আমি আবেদন জানাবো সরকারের নিকট, Prophetic medical sciences বিষয়টি আমাদের medical college গুলোতে undergraduate level-এ পড়ানো হোক। বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন সম্মানিত সাবেক vice chancellor অধ্যাপক ডা. এম এ তাহের ও অধ্যাপক ডাক্তার মো. নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে দৃঢ়মত পোষণ করেন যে, Prophetic medical science can be successfully taught at the undergraduate levels in our medical colleges. আমি তাদের সূচিন্তিত জ্ঞানগর্ভ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

প্রিয় পাঠক! স্বাস্থ্য, রোগ, চিকিৎসা, নিরাময় ইত্যাদি সম্পর্কে অনেকগুলো কুরআনের আয়াত এবং সহস্রাধিক সহীহ হাদীস রয়েছে, বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে। আমি এ সবগুলো হাদীস আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের আলোকে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। আমার জানামতে এতে একটি মাত্র হাদীসও খুঁজে পাওয়া যাবে না যা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। আমি তাই বিনীতভাবে ও দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই যে, স্বাস্থ্য ও রোগ নিরাময় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য তথা ‘তিব্বুন নববী’ আধুনিক এলোপ্যাথিক মেডিসিন বা হার্বাল মেডিসিনের সাথে অথবা পাশাপাশিভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে আমাদের সমাজে চালু করা যেতে পারে। কারণ, বিদ্যমান বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে কোনো একটিও রোগ নিরাময়ে সফলতার ক্ষেত্রে একক কৃতিত্বের দাবিদার হতে পারেনি। প্রত্যেক পদ্ধতিরই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তাই আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন জানাবো বর্তমানের জনস্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক স্বাস্থ্য নীতিকে অনুগ্রহপূর্বক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ নিরাময় সম্পর্কিত বাণীসমূহের আলোকে সংশোধন করতঃ নতুনভাবে সংশোধিত স্বাস্থ্যনীতিতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা বিধান অন্তর্ভুক্ত করুন। কারণ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কিত নবীজির বক্তব্য সমগ্র বিশ্ব মানবতার কল্যাণের জন্য। এসব বিধি-বিধান শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং তা সকল যুগে সকল জাতির ও সকল জনগোষ্ঠীর লোকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর দেয়া অক্সিজেন ও আলো-বাতাস যেমন সকল মানুষের জীবন ধারনের জন্য অপরিহার্য, তেমনি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহের লুকায়িত শিক্ষা, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান সকল দেশের, সকল এলাকার, সকল সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর এবং সকল ভাষাভাষীর মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ নিরাময়ে সমভাবে প্রযোজ্য।

মানবীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী! আপনি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা বিধান আমাদের স্বাস্থ্যনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে কৃতকার্য হন, তাহলে আপনার নাম বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং আপনি এ মহান কাজের বিনিময়ে ইহকালে কল্যাণ লাভ করবেন ও পরকালে জান্নাতের বিনিময়ে পুরস্কৃত হবেন ইনশা’আল্লাহ। আর এজন্য আপনি বাংলাদেশের সকল পেশা এবং রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে সবার ভালোবাসা অর্জন করতে সমর্থ হবেন।

My dear readers, In fact there have been over 500 Prophetic traditions and many Quranic verses on health and wellness, sickness and cure, particularly the preventive aspects of health. I have carefully examined them in the light of modern knowledge. In my humble opinion they can be used in combination with modern allopathic medicines and or partially herbal medicine as an integrated medical system in Bangladesh.

May I therefore, urge the Honourable Minister of Health of the Government of the People’s Republic of Bangladesh to please restructure and reorganise the existing health care system on the basis of the traditions of the Holy Prophet (SAWS). Please include the Prophetic medical practices in the revised Health Policy. This is because Prophetic traditions on health and hygiene are for the entire mankind. They are not only for the Muslims, but for the people of all nations and in all ages, irrespective of their religious beliefs, colour, language and creed. In fact all health-conscious and truth-loving men believed and lived in these traditions of the Prophet (SAWS).

Honourable Minister of Health, if you succeed in including the Prophetic medical practices in the National Health Policy, your name will be written in golden letters in the history of the health care delivery system in Bangladesh, and you will be rewarded in this life and in the life after death inshallah. You will be remembered by all people irrespective of the political beliefs and affiliations.

প্রশ্ন-৬০ : আচ্ছা মুহতারাম, স্বাস্থ্য, পবিত্রতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে মূলনীতিসমূহ জানলাম। এবার অন্য প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন করছি। আমরা প্রায় দেড় কোটি লোক ঢাকায় বাস করি। হাজার হাজার দালানকোঠা আর অফিস-আদালত আমাদের এই শহরে। তাই এ মেগাসিটিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য আমাদের রাস্তাঘাট কেমন হওয়া উচিত? এ বিষয়ে হাদীস পাকে কোনো বর্ণনা এসেছে কি ?

উত্তর : অত্যন্ত চমৎকার প্রশ্ন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো টাউন প্ল্যানার বা road expert ছিলেন না। তবুও তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত একটি হাদীস থেকে আমরা রাস্তার প্রশস্ততা সম্পর্কিত নির্দেশনা পাই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা কোন রাস্তার ব্যাপারে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হবে তখন তোমরা রাস্তা বা গলি সাত হাত প্রশস্ত রাখো। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

অপরদিকে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রাস্তার প্রস্থ নিয়ে মতানৈক্য করলে তা সাত হাত চওড়া করো। (ইবনে মাজাহ)

সম্মানিত পাঠক! এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে আমাদের শহরের রাস্তার প্রশস্ততা কী হবে। ৭ হাত মানে ১০.৫ ফুট। যদিও ঐ সময়ে গাড়ি, বাস, ট্রাক ছিলোনা, তথাপিও তিনি রাস্তা বা গলি প্রশস্ত রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং রাস্তার প্রশস্ততা ১০.৫ ফুট রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তাই রাজউকের টাইন planner-দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো, অন্তত ঢাকা শহরের কোনো রাস্তা যেনো কিছুতেই ১০.৫ ফুটের নিচে না হয়। বেশি হলে উত্তম। কোনো গলির প্রশস্ততা যেনো কিছুতেই এর কমে না হয় তা অনুগ্রহপূর্বক নিশ্চিত করুন। তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে এবং সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশও গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

প্রশ্ন-৬১। আমরা সবাই বিভিন্ন সময় হাঁচি দিয়ে থাকি। সাধারণভাবে হাঁচি দেয়াকে সভা-সমিতি ও মজলিসে আদবের পরিপন্থি বলে মনে করা হয়। অনেকে হাঁচির মধ্যে অশুভ লক্ষণ আছে বলে মনে করেন। যাহোক, এই হাঁচি দেয়ার ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উপদেশ বা বক্তব্য আছে কি? হ্যাঁচি এলে কী দু’আ পাঠ করতে বা কী করতে হয়? হাঁচি দেয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞান সমর্থন করে কি? অনুগ্রহপূর্বক বুঝিয়ে বলুন।

উত্তর : সম্মানিত পাঠক! হাঁচি দেয়া কোনো অভিশাপ নয়; কোনো কুলক্ষণও নয়; যদিও হিন্দু সম্প্রদায় ও কল্পনাপূজারী সম্প্রদায় একে অশুভ লক্ষণ মনে করে থাকে।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ্ হাঁচি আসাকে পছন্দ করেন, কিন্তু হাই তোলা পছন্দ করেননা।(সহীহ আল বুখারী ও আত-তিরমিযী)

হযরত আবু আইউব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তির হাঁচি আসলে সে উচ্চস্বরে আলহামদু লিল্লাহ আলা কুল্লি হাল অর্থাৎ আল্লাহর প্রশংসা বলবে, যেনো তার নিকট যারা থাকে, তারা তা শুনতে পায়। আর হাঁচি শ্রবণকারী জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ অর্থাৎ তোমার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষণ করুন বলবে। অতঃপর দুআর জবাবে হাঁচিদাতা বলবে, ইয়াহদীকুমূল্লাহু ওয়া য়ুসলিহ্ বালাকুম অর্থাৎ আল্লাহর তোমাদের সঠিক পথ দেখান এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন (অর্থাৎ তোমাদের মন্দকে ভালো করে দিন)। (সহীহ আল বুখারী ও আত-তিরমিযী)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-ও ঠিক অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি তাঁর হাত বা কাপড় তাঁর মুখে রাখতেন এবং যথাসম্ভব আস্তে শব্দ করে হাঁচি দিতেন। (আবু দাউদ)

তাই দেখা যাচ্ছে, হাঁচি আল্লাহর রহমত লাভের অসীলা। এই কারণেই হাঁচিদাতার ওপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা অবশ্য কর্তব্য। আর হাঁচিদাতার সঙ্গে একত্রে উপবেশনকারী ও শ্রবণকারীদের উপর হাঁচিদাতার জন্য দু’আ করা সুন্নত। যার শুকরিয়া হিসেবে হাঁচিদাতা পুনরায় তাদের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও হিদায়াতের জন্য দু’আ করে থাকেন। সত্যি, দু‘আ করা ও দু‘আ গ্রহণের কী সুন্দর নিয়ম। অথচ এ অভ্যাসগুলো পালন করতে আমাদের কোনো সময়ও লাগেনা আর কোনো টাকা-পয়সাও খরচ হয়না। আর এভাবেই সমস্ত জায়গাটি বা আলোচনার স্থানটি রহমত, সওয়াব, মঙ্গল ও বরকতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

একজন ইউরোপীয়ান গবেষক ডাক্তার হাঁচির ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে, একবার হাঁচি দিলে শরীর থেকে প্রায় তিন হাজার জীবাণু বের হয়ে যায়। আর সাধারণত হাঁচি এক সাথে দুটি হয়ে থাকে। সে হিসেবে প্রায় ছয় হাজার জীবাণু বের হয়ে যায় হাঁচি দেয়ার সময়। সুবহানাল্লাহ! অথচ এতে আমাদের কোনো খরচ বা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এ গবেষণার পর ঐ ডাক্তার সাহেব সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ করেন, আলহামদুলিল্লাহ।