প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬, রমাদান-শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

৬৬. যুদ্ধলব্ধ সম্পদকে রাীয় সম্পদ জ্ঞান

১. মুজাহিদীন কর্তৃক বিনাযুদ্ধে (শত্রবাহিনী পলায়ন বা আত্মসমর্পণের দরুন) অর্জিত সম্পদ বন্টনে আল্লাহ পাক নিম্নোক্ত বিধান প্রণয়ন করেছেন
আল্লাহ জনপদ-বাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসুলকে যা দিয়েছেন , তা আল্লাহর, রসূলের, তার আত্মীয়-স্বজনের, ইয়াতীমের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভুত না হয়।(সুরা হাশর-৭)
২. সম্পদ যাতে শুধু বিত্তশালীদের কাছেই সীমাবদ্ধ না থাকে এ কারণে উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহপাক বিনাযুদ্ধে অর্জিত সম্পদের সুসম বন্টন-নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
৩. কিয়ামাতের পূর্বমুহূর্তে মানুষ উপরোক্ত বিধানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে মানবরচিত বন্টন নীতি প্রয়োগ করবে। ফলে সম্পদ শুধু নেতৃস্থানীয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গরীবদের হাতে পৌছবে না। হাদীসে এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৪. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- নিম্নোক্ত নিদর্শনগুলো প্রকাশ হতে দেখলে-লাল বাতাস, ভু-কম্পন, ভুমিধ্বস, রূপ- বিকৃতি, পাথর-বর্ষণ এবং ছিঁড়ে যাওয়া তছবিহ-র দানার মত দ্রুত একের পর এক কিয়ামাতের নিদর্শন বাস্তবায়নের অপেক্ষা করঃ

(১) যুদ্ধ- লব্ধ সম্পদকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ জ্ঞান
(২) আমানতকে খরচের বস্তু জ্ঞান
(৩) যাকাতকে জরিমানা জ্ঞান
(৪) আল্লাহর জ্ঞান ছেড়ে পার্থিব জ্ঞান অর্জনের মনোনিবেশ
(৫) মায়ের অবাধ্য হয়ে স্ত্রীকে সন্তুকরণ
(৬) পিতাকে দূরে ঠেলে বন্ধু বান্ধবকে কাছে আনয়ন
(৭) মসজিদের ভেতর উচ্চস্বরে হৈ হুল্লোড়
(৮) গোত্রীয় নেতৃত্বে পাপিদের আগমন
(৯) সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিদের হাতে জাতির নেতৃত্ব
(১০) আক্রমণের ভয়ে সম্মান
(১১) হরেক রকম বাদ্য-যন্ত্র ও অশ্লীল নর্তকীদের আত্মপ্রকাশ
(১২) ব্যাপক হারে মদ্য-পান
(১৩) পরবর্তী উম্মত কর্তৃক পূর্ববর্তী উম্মাতকে গালমন্দ ও অভিশাপ দান। (তিরমিযী)

৬৭. আমানতকে খরচের বস্তু জ্ঞান

আমানতের মালকে আল্লাহপাক বিনা হস্তক্ষেপে মূল মালিকের কাছে পৌছে দেয়ার আদেশ করেছেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকের নিকট পৌছে দাও।
(সুরা নিসা-৫৮
কিয়ামাতের পূর্ব মুহূর্তে আমানত রক্ষিত থাকবে না। কারো কাছে আমানত রাখা হলে সে তা খরচ করে ফেলবে। ফেরৎ চাইলে সামনাসামনি অস্বীকার করে দেবে। ফেরৎ দিতে অনীহা করবে।

৬৮. যাকাতকে জরিমানা জ্ঞান

দরকার তো ছিল- বছর ঘুবে আসার সাথে সাথেই মানুষ স্বর্ণ ও সম্পদের যাকাত আদায়ে উঠে পড়ে লেগে যাবে। কারণ, যাকাত-সম্পদকে পবিত্র করে দেয়, যাকাত প্রদানে আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়।
শেষ জামানায় ব্যয়কুন্ঠতা বেড়ে যাওয়ায় বিত্তবানরা যাকাত আদায়কে এক প্রকার চাঁদা ও জরিমানা মনে করবে। মনের বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে সে যাকাত আদায় করবে। সৎ নিয়তের অভাবে আল্লাহ এরকম ব্যক্তির যাকাত কখনই গ্রহণ করবে না।

৬৯. আল্লাহর জ্ঞান ছেড়ে পার্থিব জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ

১. মুসলমান হিসাবে একজন ব্যক্তির জন্য সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ইসলাম শিক্ষা অর্জন করা অতঃপর দ্বীন শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করা।

২. নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন – যারা মানুষকে কল্যাণ (দ্বীনের জ্ঞান) শিক্ষা দেয়,তাদের উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন, আসমানের ফেরেস্তাকুল, গতের পিপীলিকা এবং সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত তাদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকে। (তিরমিযী)
৩. শেষ জমানায় ইসলামী শিক্ষা অবহেলার পাত্রে পরিনত হবে। সকলেই যুগোপযোগী আধুনিক জ্ঞানার্জনে ব্যস্ত থাকবে। যে কয়জন কুরআন- হাদীসের জ্ঞান চর্চা করবে,তারাও আবার দুনিয়ার আশায়, টাকা কামানোর আশায়; বরং সমাজে সুনাম- সুখ্যাতি পাওয়ার আশায় করবে।