প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৭, জমা.আউ-জমা.সানি ১৪৩৮ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

(লোকমান আরো বলেন) হে বৎস্য! তুমি নামায প্রতিষ্ঠা কর, মানুষদের ভালো কাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখ। তোমার ওপর কোনো বিপদ মসবিত উপনীত হলে তার ওপর ধৈর্য ধারণ করা, (বিপদে ধৈর্য ধারণ করা) এ কাজ নিঃসন্দেহে একটি বড় সাহসিকতাপূর্ণ কাজ) (সূরা লুকমান : আয়াত-৩৭)


জয়ের চাবিকাঠি
– গৌরব এবং মহিমার চাবিকাঠি হলো: আল্লাহ এবং আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুম আহকাম মান্য করা।
– যোগানের চাবিকাঠি : কঠোর চেষ্টা কর যখন মহান প্রশংসিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং ভয় কর।
– বেহেশতের চাবি-তাওহিদ।
– বিশ্বাসের চাবি-আল্লাহর সৃষ্টি এবং তার নির্দেশনকে মেনে নেয়া।
– সঠিক হওয়ার চাবিকাঠি: সচেতনতা।
– আধ্যাত্মিক জীবনের চাবিকাটি: প্রভাতের শুরুতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং পাপ পরিত্যাগ করা।
– জ্ঞানের চাবিকাঠি, সঠিক প্রশ্ন করা এবং মনোযোগ সহকারে শোনা।
– জয়ের চাবি- ধৈর্য, সহনশীলতা।
– সফলতার চাবি-আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকা।
– বেশি পাওয়ার চাবি-কৃতজ্ঞতা।
– পরকালে বাঁচার চাবি, দুনিয়াবী কাজে অনাগ্রহী হওয়া।
– আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়ার চাবি-দোয়া

‘হাসি হলো সূর্যরশ্মির মতো’
(তারা আরো বলে, হে আমাদের মালিক! (একবার যখন) তুমি আমাদের (সঠিক) পথের দিশা দিয়েছো, (তখন আর) তুমি আমাদের মনের বাঁকা করে দিয়ো না, একান্ত তোমার কাছ থেকে আমাদের প্রতি দয়া কর, কেননা, যাবতীয় দয়ার মালিক তো তুমিই।
(সূরা আল-ইমরান : আয়াত-৮)


কষ্টের পরেই জয়ের আনন্দ আসে

একজন স্ত্রী-হানিমুন থেকে ফেরার পর তার মাকে লেখা চিঠি-
প্রিয় মা! আজ আমি আমার বাড়িতে ফিরে আসলাম, বাড়ি ছোট যা আমার স্বামী আমার জন্য বানিয়েছেন। হানিমুনের পর আমি তোমাকে আমার কাছে আশা করেছিলাম যাতে আমি আমার স্বামীর সাথে নতুন জীবনের কথা তোমাকে বলতাম। সে খুব ভালো মানুষ এবং সে আমাকে ভালবাসে এবং আমি তাকে ভালবাসি এবং তাকে সন্তুষ্ট রাখতে সবকিছু করতে পারি। তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পার আমি তোমার সব উপদেশ মনে রেখেছি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করি। বিয়ের রাত্রের কথা মনে রেখেছি। জড়িয়ে ধরে আমার কানে ছড়িয়ে দেয়া আপনার প্রতিটি কথা আমি এখনো স্মরণ করি।
আমি জীবনকে আপনার মাধ্যমে শোনা কথার মাধ্যমে দেখি। আপনি আমার কাছে একটি মহান উপমা। আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই একমাত্র আপনি আমার সম্মানিত প্রিয়পিতা এবং আমি যখন ছোট ছিলাম আমার জন্য যা করেছেন। আপনি আমাকে আপনার সব ভালবাসা এবং সহানুভূতি দিয়ে বড় করে তুলেছেন। আপনি আমাকে জীবনের অর্থ এবং কিভাবে বাঁচতে হবে তাও শিক্ষা দিয়েছেন। আপনি আমার মনের মধ্যে আপনার নিজ হাতে ভালবাসার বীজ বপন করেছেন।
আমি দরজায় আওয়াজ শুনতে পাই, এটা নিশ্চয় আমার স্বামী। সে তোমার কাছে লেখা আমার চিঠি পড়তে চায়, আমি তোমার কাছে কি লিখেছি তাও সে জানতে চায়। সে তার এই আনন্দঘন মুহূর্তে যোগ দিতে চায় যা আমি আপনার কাছে যেই ভালো লাগা এবং চিন্তা লিখে পাঠিয়েছি। সে আমার কাছে কলম চাইবে এবং চিঠিতে কিছু খালি জায়গা রাখতে হবে সেখানে যে তোমার কাছে লিখবে। তোমার প্রতি আমার ভালবাসা রইল, আমার পিতা এবং আমার ভাই বোনদের প্রতি।’

‘একটি হাসি যার জন্য মূল্য নেই কিন্তু এটা অনেক কিছু দেয়।’
(হে আমাদের মালিক! (আমরা যে উদ্দেশ্যে এ ঘর নির্মাণ করেছি তা) তুমি আমাদের কাছ থেকে কবুল কর, একমাত্র তুমিই সব কিছু জান এবং সব কিছু শোন)। (সূরা বাকারা : আয়াত-১২৭)


দুঃশ্চিন্তা দেহ এবং মনকে নিঃশেষ করে দেয়

দুঃশ্চিন্তার সবচাইতে খারাপ ফল হলো, এটা আমাদেরকে কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করতে অক্ষম করে ফেলে। যখন দুঃশ্চিন্তায় আমাদের মন বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। কিন্তু যদি আমরা সামনের কোনো খারাপ দৃশ্যের প্রতি চাপ প্রয়োগ করি, আমরা আমাদেরকে এমন অবস্থায় রাখি যেখানে আমরা মনের গভীর থেকে কোনো বিষয়ে মনোনিবেশ করতে পারি। আমরা আমাদেরকে উত্তেজনামূলক কাজে উদ্ভাসিত করতে পারি না এবং একই সময় কোনো কিছুতে উদ্বিগ্ন হতে পারি না। তাদের মধ্যে একটি অন্যটিকে দূর করে দিবে, যদি বর্তমানে কোনো বিষয়ে তুমি দুঃশ্চিন্তাময় অতীতে চলে যাও। এভাবে একটির মাধ্যমে অন্যটিকে দিয়ে তোমার দুঃশ্চিন্তা নিরাময় করবে। অতীতের বেদনাটা অনেক বেশি দুঃশ্চিন্তামূলক ছিল। কিন্তু তুমি এটার সাথে মানিয়ে নিয়েছিল। তাই তুমি তোমার বর্তমানের দুঃশ্চিন্তাকে দূর করতে সক্ষম যা তার চেয়ে কম তীব্র। কেউ বলে থাকে যে, তোমার জীবনের শেষ দুঃশ্চিন্তাটা অনেক মারাত্মক ছিল। কিন্তু তুমি তা সফলভাবে অতিক্রম করেছিলে। যদি তুমি এই সংকটের মোকাবেলা কর এবং নিরাপদে অতিক্রম কর, তাহলে বর্তমানের দুঃশ্চিন্তা কত কম কষ্টকর এবং কম বিপদজনক হবে।
দুঃশ্চিন্তা তোমাকে আরো বেশি কাবু করে ফেলে যদি সচেতন না হও। যখন তুমি চিন্তা পর যে সবকিছুই সম্ভব করবে। এটাই তোমার দুঃশ্চিন্তার ঔষুধ এবং যা তোমাকে লাভজনক কাজে ব্যস্ত রাখে।

‘তুচ্ছ জিনিস মানুষকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে।’
‘জীবন এক মিনিট এক সেকেন্ডের বেশি কিছু নয়’


তোমার ভালবাসার কাছেই তোমার সুখের রহস্য

একজন মেধাবী ব্যক্তি যে কোনো ক্ষেত্রেই আল্লাহর রহমতে সফলতায় ছেয়ে ফেলবে এবং তিনি হবেন অপ্রতিরোধ্য এবং আল্লাহ তায়ালা তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সম্ভাবনাময় সৃষ্টিশীলতা এবং সৃজনশীলতা তাকে দিয়েছেন। এটা একটি মাত্র এলাকা যেখানে সে পূর্ণতা এবং আনন্দ নিয়ে কাজ করতে পারে। সব বাঁধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে ফেলে। তার চাওয়া-পাওয়া এবং আশার তুলনায় যত অল্পই পরিতোষিক দারিদ্যতার মধ্যে আছে তার অভিযোগ বাদেই সে এটা প্রচুর আনন্দের সাথে করে যাবে এবং এখান থেকে সবচেয়ে সেরা সুফল বের করে আনবে।
‘নারীর মুখ নিঃসৃত একটি কথার মধ্যেই পুরুষেরা শান্তি খুঁজে পায়।’

(আর আমি যখন রোগাক্রান্ত তিনিই আমাকে সুস্থ করেন) (সূরা শু’আরা : আয়াত-৮০)


মনকে শক্তিশালী কর দেহকে নয়

একজন খ্রিস্টান নারী জীবন বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র্যতা এবং অসুস্থতাকেই জানতেন। তার বিয়ের কিছু দিন পরেই তার স্বামী মারা যায়। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী অন্য এক মেয়ের সাথে চলে যায়। অতঃপর সে নিজেকে এক নোংরা গুহায় খুঁজে পায়। তার একটি সন্তান ছিল। কিন্তু দারিদ্র্র্যতা এবং অসুস্থতার কারণে তার চার বছরের সন্তানকে ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
তার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় আসল, যখন সে শহরের রাস্তায় পদচারণা করছিল। একদিন রাস্তার পার্শ্বে বরফভেজা মাটিতে পড়েছিল। সে অনেকক্ষণ যাবত কোমায় চলে গিয়েছিল এবং পড়ে যাওয়ার কারণে এক মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল। ডাক্তার ভেবেছিল হয়ত সে খুব শীঘ্রই মারা যাবে নয়তো স¤পূর্ণ দেহ অবশ হয়ে যাবে।
যখন তিনি হাসপাতালের বিছানায় শোয়া ছিলেন সেখানে তিনি খ্রিস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গোসপেল অব মেথু থেকে কিছু শব্দ পড়লেন।
‘কিছু লোক একজন প্যারালাইসিসের রোগি নিয়ে ঈসা (আ.)-এর কাছে আসলেন, সে মাদুরে শোয়াছিল…। অতঃপর ঈসা (আ.) তাকে বললেন: ‘উঠো, তোমার মাদুর নিয়ে বাসায় যাও।’ এবং লোকটি উঠল আর বাসায় চলে গেল।’ (গোসপেল অব মেথু ৯:২ ৬-৭)
এই কথাগুলো তার মনের মধ্যে শক্তিশালী বিশ্বাস এবং মনকে প্রচুর গতিশীল করে তুলল। সাথে সাথে সে বেড থেকে উঠে দাঁড়াল এবং ঘরের মধ্যে পায়চারী করতে লাগল। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা অবশ নারীকে তার জীবনে একটি নতুন পথ উন্মোচন করল এবং অন্যদের তুলনায় আরো বেশি সুস্থ হয়ে উঠল।
ডেল কার্নেগী বলেন, ‘এটা হলো অভিজ্ঞতা যা মেরী বেকার এটাকে একটি নতুন ধর্মের দায়ী করে তুলে সেটা সম্ভবত একমাত্র ধর্ম যা একজন নারী খুঁজে পায়।’

‘সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ হলো নারী’
এবং হে মুসলমান নারী! আপনি কি করেছেন?