প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৭ম সংখ্যা, জানুয়ারী ২০১৭, রবি আউঃ-রবি সানী ১৪৩৮ হিজরী, পৌষ-মাঘ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

{(অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথে রয়েছেন, যারা (জীবনের সর্বত্র) ভয় করে চলে, (সর্বোপরি) তারা হবে সৎকর্মশীল}
(সূরা আন-নাহল: আয়াত-১৬)

যখন নিজেকে পরীক্ষা কর তখন সাহসী পদক্ষেপ নাও
তুমি নিজেকে এই প্রশ্নগুলো কর এবং ভেবে চিন্তে উত্তর দাও-
– তুমি কি জানো যে, তুমি সেই স্থানে যাত্রা করবে সেখান থেকে আর কখনো ফিরে আসবে না? এই যাত্রার জন্য তুমি কি প্রস্তুতি নিয়েছ ?
– তুমি কি এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে সঠিক কাজ করার প্রস্তুতি নিয়েছ, যা তোমাকে কবরে একাকিত্বের মধ্যে শান্তি এবং আরাম দিবে?
– তোমার বয়স কত ? তুমি কতদিন বাঁচবে? তুমি কি জানো না যার শুরু আছে তার শেষ হবে এবং সেই শেষ হবে বেহেশতে অথবা দোযখে?
– তুমি কি কল্পনা করেছ এটা কেমন হবে, যদি বেহেশতে থেকে ফেরেস্তারা এসে তোমার জান কবজ করল আর তুমি তখন অবহেলায় এবং মজায় লিপ্ত?
– তুমি কি সেই দিনের কথা চিন্তা করেছ, তোমার জীবনের শেষ মুহূর্ত যেই মুহূর্তে তুমি তোমার পরিবার, সন্তান ছেড়ে চলে যাবে, তোমার সবচাইতে কাছের ও প্রিয় মানুষ ছেড়ে চলে যাবে? এটা মৃত্যু যা ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রচন্ড বেদনা এবং আত্মার তীব্র যন্ত্রণা হয়।
– তোমার দেহ থেকে আত্মা চলে যাওয়ার পর তোমাকে গোসল করিয়ে সাজানো হবে। অতঃপর মসজিদে নিয়ে জানাযা পড়ানো হবে। অতঃপর মানুষেরা তোমাকে কাঁধে বহন করে নিয়ে যাবে? তোমাকে কোথায় নেয়া হলো? কবরে পরকালের প্রথম ধাপ। এটা তোমার জন্য হয়তো বেহেশতের বাগান হবে নয়তো জাহান্নামের গর্ত হবে।

তোমার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর

তিনিই (আল্লাহ তায়ালা)-তারা যখন (বৃষ্টির ব্যাপারে) নিরাশ হয়ে পড়ে যখন তিনি বৃষ্টি প্রেরণ করেন এবং (এভাবেই) যমীনে তিনি তার রহমত ছড়িয়ে দেন; (মূলত) তিনিই-অভিভাবক, (তিনিই) প্রশংসিত- (সূরা আশ-শুরা : আয়াত-২৮)

সাবধান!

বেঈমান এবং অনৈতিক নারী হতে সাবধান। হাদীসের বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা সেই সব পুরুষের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন, যেই পুরুষ নারীদের অনুকরণ করে এবং যেই নারী পুরুষদের অনুকরণ করে। যে সকল কাজ আল্লাহকে রাগিয়ে দেয় তা থেকে সাবধান, যার কিছু হাদীসে নিষিদ্ধ হয়েছে, এই জাতীয় অনুসরণকারী মানুষ, গাইরে মাহরাম পুরুষ থেকে পৃথক হয়ে যারা মাহরমা পুরুষের সাথে ঘোরাফেরা করে, যারা ভদ্রতা হারিয়ে ফেলেছে। ভালোভাবে জামা-কাপড় পরে না, স্রষ্টাকে ভুলে গেছে। এই সকল কিছুই লজ্জাজনক কাজ যা মনের মধ্যে হতাশা বয়ে আনে এবং এই পৃথিবী এবং পরকালে অন্ধকার বয়ে আসে। এই খারাপগুলো মুসলমান নারীদের ওজর সাধারণভাবে প্রভাব বিস্তার লাভ করেছে, শুধুমাত্র যারা মহান ক্ষমতাধর আল্লাহর ওপর বিশ্বাস এনেছে তারা ব্যতীত।

তুমি সুন্দর হলে, তোমার চিন্তা ভাবনাগুলোও সুন্দর হবে।

(হে আমাদের মালিক! তুমি আমাদের যাবতীয় গুণাহখাতা মাফ করে দাও, আমাদের যাবতীয় কাজকর্মের সব বাড়াবাড়ি তুমি ক্ষমা করে দাও)
(সূরা আল-ইমরান : আয়াত-১৪৭)


বদান্যতায় কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত

(আল-খাইযারান) ছিলেন একজন কৃতদাসী নারী, তাকে খলিফা মেহেদী বাজার থেকে ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর তাকে তিনি মুক্ত করে বিক্রয় করেন। তিনি যেমনটি চেয়েছিলেন এবং খলিফার ঔরসে তার দুটি ছেলে হয়। কিন্তু যখন তিনি রাগান্বিত হয়ে যান তখন তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন, আমি কখনো আপনার কাছে ভালো কিছু দেখিনি।

(আল-বারমাকিয়্যাহ) ছিলেন অন্য একজন কৃতদাসী নারী যাকে ক্রয় করা হয়েছিল এবং বিক্রয় করা হয়েছিল। মরক্কো রাজা আল-মুতাম্মিদ ইবনে আক্বাদ তাকে ক্রয় করেছিলেন। তিনি মুক্ত করে তাকে রানীর আসনে বসান। যখন আল খাইযারান দাসী মেয়েদের মাটিতে খেলতে দেখলেন, তিনি অতীত স্মৃতিবিধূর হয়ে গেলেন এবং তাদের মতো মাটিতে খেলতে চাইলেন। রাজা আদেশ করলেন যে, অনেক পরিমাণে সুগন্ধি তার জন্য প্রস্তুত করা হোক, যা হবে মাটির তৈরি, যাতে সে সেখানে খেলতে পারে। কিন্তু যখন তিনি রাগান্বিত হয়ে গেলেন তখন তাকে বললেন, ‘আমি আপনার কাছে কখনো ভালো কিছু দেখিনি রাজা মুচকি হেসে তাকে বললেন;
কারণ কখনো মাটির দিন আসেনি। অতঃপর তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন, অধিকাংশ মেয়েদের প্রকৃতিই এমন; কিছু কিছু মেয়ে ছাড়া যখন স্বামী ভুলে যায় অথবা তার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তখন পূর্বে তাকে যত সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে তার কথা ভুলে যায়। হাদীসে বলা হয়েছে, হে নারীরা! তোমরা দানশীল হও। কেননা, আমি তোমাদের অধিকাংশকেই জাহান্নামের অধিবাসী হতে দেখেছি।
তারা বললেন, প্রাচুর্যের কাছে আত্মসমর্পণ কর এবং যারা তোমাদের দয়া করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, আমি অধিকাংশ নারীকেই জাহান্নামে দেখেছি। কেননা, তারা সদয় ব্যক্তি এবং সদয় আচরণের প্রতি ছিল অকৃতজ্ঞ। যদি তুমি সারাজীবন তাদের জন্য কিছু কর তারা বলবে, তোমার কাছে সামান্য কিছু পেয়েছি। অথবা আমি তোমার কাছে কখনো ভালো কিছু পাইনি। কোনো মানুষ যদি নারীর এই প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত থাকে সে কখনো রাগান্বিত হবে না। যদি কোনো নারী তার সাথে কখনো অকৃতজ্ঞপূর্ণ আচরণ করে এবং দাবি করে যে, তোমার কাছে কখনো ভালো কিছু দেখিনি, এমনকি সে যদি তার জন্য অনেক কিছু করে থাকে।
একজন সফল নারী তার স্বামীর জন্য প্রশংসনীয় এবং সাহায্যপ্রবণ।

তার প্রতিবেশীকে ভালবাসবে এবং বন্ধুদের সম্মান করবে।

আমার দয়া, আমার ক্রোধের ওপর জয় লাভ করে
(হাদীসে কুদুসী)

দেহের চাইতে মনের যত্নের বেশি প্রয়োজন

যখন উমর ইবনে আবদুল আযীয খলিফা ছিলেন, তিনি একজনকে তার জন্য আট দেরহামের বিনিময়ে কাপড় কেনার আদেশ করলেন। লোকটি তা কিনল এবং খলিফার কাছে নিয়ে আসল। উমর (রা.) কাপড়টির ওপর হাত রাখলেন এবং বললেন : এটা কত সুন্দর এবং নরম। লোকটি তখন হাসল, উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন হাসলে কেন? সে বলল, হে আমীরুল মুমিনিন! আপনি খলিফা হওয়ার পূর্বে আমাকে একটি রেশমি আলখেল্লা কিনতে বলেছিলেন এবং আমি তা এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে কিনে আনলাম। কিন্তু আপনি যখন ওটার ওপর হাত রাখলেন এবং বললেন, এটা কত শক্ত।
আজ আপনার কাছে আট দিরহামের কাপড় নরম হলো।

উমর (রা.) বলল, আমি ভাবতে পারিনি যে, লোকটি এক হাজার দিরহাম দিয়ে কাপড় কিনেছিল সে আল্লাহর ভয়ে কিনেছিল। অতঃপর তিনি বললেন, আমার একটি উচ্চাকাক্সক্ষী মন আছে। প্রতিনিয়তই সে একটি অবস্থায় থাকে, এবং আরো ভালো কিছু খোঁজ করে। আমি গভর্নর হয়েছিলাম, অতঃপর চেয়েছিলাম খলিফা হতে। আমি এখন খলিফা হয়েছি। আমার মন আরো বড় কিছু চায়, সেটা হলো বেহেশত।

ন্যায়পরায়ণ লোক আমাদের দায়িত্ব নয়,
অন্যদের শাস্তির চিন্তা করা আমাদের কর্তব্য নয়।

আল্লাহর প্রতি তোমার দায়িত্ব পালন কর,
আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন

অতীত এবং ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানে বেশি ব্যস্ত থাক

কী সেই কারণ যার কারণে তোমার চিবুক বেয়ে অশ্রু ঝড়ছে অথবা তোমার পোশাককে ছিঁড়ে ফেলছে। অথবা হারিয়ে যাওয়া কোনো কিছুর জন্য ব্যথিত অথবা কিছু বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হয়েছে? কি এমন কারণ যা তোমার চিন্তা এবং অনুভূতিকে আঘাত দিয়েছে, যা তোমার ব্যথাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং তোমার মধ্যে হতাশা তৈরি করছে?
যদি অতীতে চলে যাওয়া সম্ভব হতো তবে আমাদের অপছন্দনীয় অতীতকে পরিবর্তন করা এবং আমাদের পছন্দনীয় বিকল্প পথে যাওয়া এবং অতীতে ফিরে যাওয়া অপরিহার্য হয়ে যেত। আমরা সবাই দ্রুত অতীতে চলে যেতাম এবং আমাদের পরিতাপের এবং কষ্টের বিষয়গুলোকে মুছে ফেলতাম এবং ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতাম। কিন্তু এটা অসম্ভব, তাই এটাই সবচেয়ে ভালো হবে যে, যা আমাদের বর্তমান জীবনে কাজে আসবে সেই ব্যাপারে পূর্ণ চেষ্টা করা, এটাই আমাদের একমাত্র ক্ষতিপূরণ। উহুদ যুদ্ধের পরে কুরআন আমাদের মন আকর্ষণ করে যখন আল্লাহ তায়ালা বলেন- (ওহুদের সম্মুখসমরে বিপর্যয় দেখে) তোমরা যখন (ময়দান ছেড়ে পাহাড়ের) ওপরের দিকে ওঠে যাচ্ছিলে এবং তোমরা তোমাদের কোনো লোকের প্রতি লক্ষ্য রাখছিলে না, অথচ আল্লাহর রাসূল তোমাদের (তখনও) পেছন থেকে ডাকছিল (কিন্তু তোমরা শুনলে না), তাই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দুঃখের পর দুঃখ দিলেন, যে তোমাদের কাছ থেকে যা হারিয়ে গেছে এবং যা কিছু বিপদ তোমাদের ওপর পতিত হয়েছে, এর (কোনোটার) ব্যাপারে তোমাদের সব ধরনের কর্মকা- সম্পর্কেই ওয়াকেফহাল রয়েছে।
-(সূরা আল-ইরান : আয়াত-১৫৩)

নিশ্চিত হও যে, সুখ হলো ফুলের চারার মতো,

যেখানে এখনো ফুল ফুটেনি, তবে নিশ্চিত ফুটবে।