প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
১. জান্নাত লাভ করবেন সেই মুমিনগণ, যারা কোনোদিন কোনো কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করেন নি। অর্থাৎ, র্শিক করেন নি। অথবা র্শিক করার পর তাওবা না করে র্শিক নিয়ে মারা যান নি।
পক্ষান্তরে যারা র্শিক করে, র্শিক নিয়ে মারা যায়, কুফরী করে, ঈমানের কোনো বিষয়কে অস্বীকার বা মিথ্যাজ্ঞান করে, তাদের জন্য জান্নাত হারাম। কুরআন-কারীমে যেখানেই জান্নাতের হকদারদের কথা বলা হয়েছে, সেখানেই কারণ স্বরূপ ঈমান ও নেক আমলকে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সেই নেক আমলের বিস্তারিত বিবরণও এসেছে।
২. আল্লাহপাক বলেছেন :
وَبَشِّرِ الَّذِينَ ا ٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوا هٰذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا بِهٖ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
যারা ঈমান আনে (বিশ্বাস করে) ও সৎকর্ম করে তাদের শুভ সংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত; যার তলদেশে নদী প্রবাহিত. যখনই তাদের ফলমূল খেতে দেওয়া হবে, তখনই তারা বলবে, আমাদেরকে (পৃথিবীতে অথবা জান্নাতে) পূর্বে জীবিকারূপে যা দেওয়া হত, এ তো তাই। তাদেরকে পরস্পর একই সদৃশ ফল দান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সহধর্মিণীগণ রয়েছে, অধিকন্তু তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। (সূরা বাকারা: আয়াত ২৫)
৩. وَبَشِّرِ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوْا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوْا هٰذَا الَّذِيْ رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوْا بِهِ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيْهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে, তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো; যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী আছে এবং তাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ঘন ছায়ায় স্থান দান করবো। (সূরা আন নিসা: আয়াত ৫৭)
৪. وَالَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِیْ مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا أَبَدًا ۖ وَعْدَ اللهِ حَقًّا ۚ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللهِ قِيْلًا
যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশাধিকার দান করবো; যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্র“তি সত্য। আর কে আছে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী? (সূরা আন নিসা: আয়াত ১২২)
৫. وَالَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ أُوْلٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে (মুমিন হয়েছে) এবং সৎকাজ করেছে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (সূরা আল বাকারা : আয়াত ৮২)
৬. إِنَّ الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوْا إِلٰى رَبِّهِمْ أُوْلٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকার্যাবলি সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের প্রতিপালকের কাছে বিনত হয়েছে, তারাই হবে জান্নাতবাসী; তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে। (সূরা হুদ: আয়াত ২৩)
৭. وَعَدَ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِیْ مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِیْ جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللهِ أَكْبَرُ ۚ ذٰلِكَ هُوْ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে এমন উদ্যানসমূহের প্রতিশ্রতি দিয়ে রেখেছেন, সেগুলোর নিম্নদেশে বইতে থাকবে নদীমালা, সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে। আরও (প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন) চিরস্থায়ী উদ্যানসমূহে (জান্নাতে আদ্নে) পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর সস্তুষ্টি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় (নিয়ামত)। এটাই হচ্ছে অতি বড় সফলতা। (সূরা আত্ তাওবা: আয়াত ৭২)
৮. إِنَّ الَّذِيْنَ ا ٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيْهِمْ رَبُّهُم بِإِيْمَانِهِمْ ۖ تَجْرِيْ مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِيْ جَنَّاتِ النَّعِيْمِ
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের বিশ্বাসের কারণে তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন, শান্তির উদ্যানসমূহে তাদের (বাসস্থানের ) তলদেশে দিয়ে নদীমালা প্রবাহিত থাকবে।
(সূরা ইউনুস: আয়াত ৯)
