প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৮ম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৮ হিজরী, মাঘ-ফাল্গুন ১৪২৩বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

(হ্যাঁ) যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে তার জন্য (জীবনে) বাঁচার সামগ্রী সংকুচিত হয়ে যাবে, (সর্বোপরি) তাকে আমি কিয়ামতের দিন অন্ধ বানিয়ে হাযির করব।
(সূরা ত্বহা : আয়াত-১২৪)
৬
বিপদ-আপদের অর্থই আকাংক্ক হওয়া

উম্মে আল আলা (রা.) হতে বর্ণিত। আমি অসুস্থ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এসে বলেন, হে উম্মে আল-আলা, ভালো কিছুর জন্য আশাবাদী হও, যার অর্থ কোনো মুসলিম অসুস্থ হলে আল্লাহ তায়ালা তার পাপকে দূর করে দেন। যেমনিভাবে আগুন রূপাকে পুড়িয়ে খাঁটি করে।এর অর্থ এটা নয় যে, আমাদের উচিত হবে না দেহকে রোগে আক্রান্ত করানো অথবা মেডিকেল চিকিৎসার ব্যাপারে উদাসীন হওয়া। এই ভেবে যে, অসুস্থতা আমার পাপকে মুছে দিবে; বরং আমাদের উচিত নিজেদেরকে সুস্থ-সবল রাখা, পাশাপাশি অসুস্থতার সময় ধৈর্যধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে অসুস্থতা থেকে মুক্তি চাওয়া। আমাদের উচিত যাতে আমাদের আমলনামায় ভালো কিছু লিপিবদ্ধ হয়। এটাই শিক্ষা যা আমাদের নেক নারী দিয়ে থাকে।

যখন কোনো নারীর স্বামী এবং সন্তান হারিয়ে যায় তখন তার উচিৎ ধৈর্য ধারণ করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তায়ালা তার ঈমানদার বান্দাদেরকে বেহেশত ছাড়া অন্য কিছু উপহার দিলে খুশী হবেন না, যদি পৃথিবীর মধ্যে কোনো প্রিয় বান্দা আল্লাহর ক্ষমা চায় এবং ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কার চায়।যদি কোনো নারী তার স্বামীকে হারায় যার অর্থ আল্লাহ তার বান্দাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন, এবং সে এটা করার সবচেয়ে বেশি অধিকার রাখে। যদি কোনো নারী বলেন, তোমার স্বামী অথবা, আমার সন্তান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার বান্দা এবং সবচাইতে আমার অধিকার বেশি। স্বামী হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ঋণ, সন্তান ঋণ, ভাই ঋণ, পিতা ঋণ, স্ত্রী ঋণ।

পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার কর

তাহলে তুমি বিপদ-আপদ পরিহার করতে পারবে।

আল্লাহ তায়ালা ঐ ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন না

যে মানুষের প্রতি দয়া করে না। (বুখারী : ৭৩৭৬)
৭
দুনিয়ার মানুষের প্রতি দয়া দেখাও তাহলে যারা বেহেশতে আছে তারা তোমার প্রতি দয়া দেখাবেন

সন্তানের প্রতি মায়ের দয়া খুব স্পষ্টভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এটা আদর্শ, করুণা, ভালবাসা, সমস্ত ক্ষমতাধর, দয়ালু এবং করুণাময় আল্লাহর রহমতে মহৎ কল্যাণ এবং করুণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন। উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন যে, কিছু নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল এবং তিনি দেখলেন যে, একজন নারী বেদনাদায়কভাবে সন্তানকে খুঁজছে। যখন সে তার সন্তান পেল, সে বাচ্চাটিকে তার বুকের দুধ খাওয়াতে শুরু করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি চিন্তা করতে পার এই নারী তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে? তারা বলল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই নারী তার সন্তানের প্রতি যতটুকু দয়ালু আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার প্রতি তার চেয়ে বেশি দয়ালু।এই নারীকেই বন্দী করা হয়েছিল এবং তিনি খুব হতাশাগ্রন্ত এবং বেদনাদায়ক ছিলেন। সে তার ঘরের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার বাড়িতে তার স্বামীকে সবাই মান্য করত। সে বন্দী হওয়ার হুকুমের গোলাম বনে গেল। সে এমন অবস্থার মধ্যে ছিল যেখানে যে কোনো ব্যক্তি তার চার পাশের ঘটনা ভুলে যেত এবং তার মন বেদনায় ভরাক্রান্ত হয়ে যেত। কিন্তু এটা তার আদরের সন্তানকে কোনো কিছুই আঘাত করতে দিবেন না, কেনো তুচ্ছ কিছুই না, এবং তার সন্তানকে যে কোনো ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন, সে তার সন্তানকে রক্ষা করতে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

বোকাদের কথা তাদের মালিকদেরকে

তাদের প্রতিপক্ষ থেকে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে।

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তাহলে

আল্লাহ তায়ালা তোমাকে তার ক্রোধ থেকে রক্ষা করবেন।
৮
শুধুমাত্র আশাবাদীদের মধ্যেই সুন্দর পৃথিবী দেখা যায়

যদিও শীত শেষ হয়েছে তোমার ঘরের দরজা দিয়ে পাহাড় থেকে আসা তুষার সবদিক থেকে তোমাকে ঘিরে ফেলেছে। অতঃপর বসন্তের দিকে তাকিয়ে থাক এবং পরিষ্কার বাতাসে তোমার নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য তুমি জানালা খুলে দাও। অনেক সামনে তাকাও এবং পুনরায় পাখির ডানার ঝাপট্টা এবং তাদের গান শোন। তুমি দেখবে সূর্য গাছের ডালে তার সোনালী রশ্মি ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং তোমাকে নতুন জীবন দিচ্ছে, একটি নতুন মন নতুন স্বপ্ন। মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াও সুন্দর গাছ খোঁজার জন্য। তুমি সেখানে একাকিত্ব ছাড়া আর কিছু খুঁজে পাবে না। এই হাজার হাজার গাছের দিকে তাকাও যারা তোমাকে ছায়া, ফল দেয় এবং পাখির আনন্দপূর্ণ গান এবং তাদের সুরক্ষা দেয়।

তুমি তোমার জীবনে গতকালকে কি ঘটেছে সেদিকে তাকিয়ো না, গাছের কোনো পাতা ঝড়ে গেলে তা আর ফিরে আসে না। কিন্তু নতুন বসন্ত আসে এবং নতুন পাতা গজায়। গাছের ঝড়া-পাতা, তুমি এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ। মাটিতে ঝড়ে পরা পাতাটির কথা ভুলে যাও আর পৃথিবীর দিকে তাকাও। মাটিতে ঝড়ে পরা পাতাটির কথা ভুলে যাও যা পৃথিবীর একটি অংশ হয়েছে।

অতীত থেকে বর্তমান তোমার সামনে এসেছে এবং আজ গতকালের জন্য আফসোস কর না। এটা কখনো ফিরে আসবে না। আজ পরিতাপ কর না। আজকের ছেড়ে যাওয়া স্বপ্ন, সুন্দর আগামীকালের সূর্যরশ্মি।

এটা অসম্ভব এবং কোনো সুযোগ নেই

যে, তোমার কষ্টের কথায় দুঃখ দূর হয়ে যাবে।

নারীরা পুরুষের অর্ধেক
৯
সুখের সময় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমার কষ্টের সময় সাহায্য করবেন

যখন ইউনুস (আ.) তিমি মাছের পেটে হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন, অন্ধকারে বিশাল স্তর তাকে ঢেকে ফেলেছিল-সমুদ্রের অন্ধকার, তিমি মাছের পেটের অন্ধকার এবং রাতের অন্ধকার। যখন তিনি উদ্বিগ্ন এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন, তিনি সর্বক্ষমতাধর এবং দয়ালু আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয়ে গেলেন। সেই একক সত্ত্বা যিনি তাকে হতাশার সময় সাহায্য করেছেন এবং হতাশা থেকে মুক্তি দান করেছেন। সেই সত্তা যার দয়া অসীম, যিনি তওবা কবুলকারী। অতঃপর তিনি এই মূল্যবান কথাগুলো বলেন- অর্থ : আর স্মরণ কর যুন্নুন (এর কথা), যখন সে রাগ করে নিজের লোকজনদের ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছিল, সে মনে করেছিল আমি (বুঝি) তাকে ধরতে পারব না। (অতঃপর আমি যখন তাকে সত্যি সত্যিই ধরে ফেললাম), তখন সে (মাছের পেটের) অন্ধকারে বসে আমাকে (এই বলে) ডাকল, (হে আল্লাহ!), তুমি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র, তুমি মহান, অবশ্যই আমি সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছি। (সূরা : আল-আম্বিয়া : আয়াত-৮৭)

অর্থ : অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে (তার মানসিক) দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধার করলাম। আর এভাবেই আমি আমার মোমিন বান্দাদের সব সময় উদ্ধার করি। (সূরা আম্বিয়া : আয়াত-৮৮)

আল্লাহ তায়ালা তিনি মাছকে নির্দেশ দিলেন ইউনুস (আ.)-কে কোনো শুষ্ক অঞ্চলে ফেলে দেয়ার জন্য। তিনি কিনারায় চলে আসলেন এবং অসুস্থ এবং দুর্বল হয়ে গেলেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার যতœ নিলেন এবং তার ওপর তার রহমত এবং দোয়া নাযিল করলেন। তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেলেন। এটা তখনই সম্ভব যখন কেউ বিপদের সময় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে এবং আল্লাহ তায়ালা তার কষ্টের সময় তাকে সাহায্য করেন।

তুমি তোমার নিজেকে পরিচালনা করার উপযুক্ত নও, যতক্ষণ না তুমি তোমার জীবনকে পরিচালনা করার উপযুক্ত হও।

দারিদ্র্রতা ঐ পুরুষ যার কোনো স্ত্রী নেই
১০
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি যৌতুক প্রাপ্ত নারী

আবু তালহা উম্মে সুলায়েম বিনতে মিলহানকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দেন এবং তাকে খুব দামি যৌতুক দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তিনি তার সব পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন, আমি কোনো মুশরিককে বিয়ে করতে পারব না। তুমি জানো,হে আবু তালহা! তোমার প্রভু কোনো ব্যক্তির তৈরি এবং তুমি যদি আগুনে ফেলে দাও তাহলে তা পুরে যাবে।আবু তালহা গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে চলে গেল, সে যা দেখছে এবং শুনেছে একেবারেই বিশ্বাস করল না। কিন্তু তার গভীর ভালবাসা তাকে পরের দিন ফিরিয়ে আনল, তাকে আরো বড় এবং দামি যৌতুক প্রস্তাব করল এই আশা করে যে, সে তার প্রতি আরো দুর্বল হবে এবং তার প্রস্তাব গ্রহণ করবে। কিন্তু সে সদয় এবং ভদ্রভাবে বলে দিল, তোমার মতো একজন ব্যক্তিকে কখনো ফিরিয়ে দেয়ার মত না, হে আবু তালহা! কিন্তু তুমি একজন কাফির এবং আমি একজন মুসলিম। আমার জন্য তোমাকে বিয়ে করা জায়েয নয়। তালহা বলল, আমি তোমাকে হলুদ স্বর্ণ এবং সাদা রূপা দেব। তিনি বললেন, : আমি এই সব চাইনা, আমি চাই তুমি মুসলিম হয়ে যাও। তালহা বলল, আমি এই ব্যাপারে কারা সাথে কথা বলতে পারি? তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুঁজতে বের হলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলায়েম যা বলেছিল তা বললেন এবং সে তাকে এই শর্তে বিয়ে করেছিল।

তিনি সেই সকল নারীদের জন্য জ্বলন্ত উদাহরণ যারা গৌরব এবং মহিমা খুঁজে। দেখ কিভাবে তার জীবন মহৎ এবং বিশ্বাসের মহিমায় পূর্ণ হয়ে গেল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কত মহৎ পুরস্কার সে লাভ করবে। তার ভালো বুদ্ধির দিকে তাকাও তাহলে মানুষ তাকে স্মরণ রাখবে এবং তার প্রশংসা করবে।

সে মহৎ এবং রহমতের পুরস্কার অর্জন করেছে। কেননা, সে তার ¯্রষ্টা, নিজের এবং অন্যদের প্রতি সচেতন ছিলেন।

অর্থ : আল্লাহ তায়ালা বলবেন (হ্যাঁ), এ হচ্ছে সেদিন, যেদিন সত্যাশ্রয়ী ব্যক্তিদের তাদের সততা (প্রচুর) কল্যাণ দান করবে। (আর সে কল্যাণ হচ্ছে) তাদের জন্য এমন সুরম্য জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে অমীয় ঝরণাধারা প্রবাহিত থাকবে, সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন এবং তারাও তার (আল্লাহর) ওপর সন্তুষ্ট থাকবে; (বস্তুত) এ হচ্ছে এক মহাসাফল্য। (সূরা মায়েদ : আয়াত-১১০) তাই সে বেহেশতের সুসংবাদ গ্রহণ করল এবং চিরদিনের জন্য বিজয়ীদের সাথে বসবাস করল।

তোমার হাসা উচিত যদি তুমি অন্যদেরকেও

তোমার সাথে হাসাতে চাও।