প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ-৮ম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৮ হিজরী, মাঘ-ফাল্গুন ১৪২৩বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
৯৮. মুমিনের স্বপ্ন সত্য হওয়া
১. মানুষ ঘুমের মধ্যে যা কিছু দেখে তন্মধ্যে কিছু দিবালোকের ন্যায় সত্য, কিছু সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিছু দুঃস্বপ্ন। আর কিছু নফসের ধোকা। কিয়ামাতের পূর্বের মুহূর্তে মুমিনদেরকে আল্লাহ প্রচুর সত্য-স্বপ্ন দেখাবেন। কিয়ামাতের নিদর্শন সম্বলিত বহু ইঙ্গিত তাতে দেয়া থাকবে।
২. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – আমার মৃত্যুর পর সুসংবাদ ছাড়া নবুওয়তের সকল দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। সুসংবাদ কি? -জিজ্ঞেস করা হলে নবীজী বললেন- মুমিনের সত্য-স্বপ্ন,যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে দেখানো হবে। (মুসনাদে আহমদ)
৩. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ (কিয়ামাতের) সময় যতই ঘনিয়ে আসবে ততই কোন মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। তবে তোমাদের মধ্যে সব চাইতে বেশি সত্য স্বপ্ন দেখবে সে ব্যক্তি যে সব চাইতে বেশি সত্য কথা বলে। কারণ, মুসলমানের স্বপ্ন তো নবুওয়াতের পঁয়তাল্লিশাংশের একাংশ। বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, আর যা নবুওয়াতের একাংশ তা তো আর মিথ্যা হতে পারে না। (বুখারী ৭০১৭;মুসলিম ২২৬৩)
৪. স্বপ্ন তিন প্রকারঃ
১। আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বাহক সু-স্বপ্ন
২। অভিশপ্ত শয়তান কর্তৃক দুঃস্বপ্ন
৩। ব্যক্তিগত কর্ম অনুযায়ী স্বপ্ন
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – তোমাদের কেউ যদি স্বপ্নে খারাপ ও ভয়ঙ্কর কিছু দেখে, সাথে সাথে উঠে যেন সে বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করে। দুঃস্বপ্নের বিবরণ কাউকে শুনানো থেকে বিরত থাকে! স্বপ্নে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় বিবরণ থাকতে দেখা ভাল লক্ষণ, কিন্তু উভয় হাত ঘাড়ের পেছনে বাঁধা অবস্থায় বন্দি দেখা খারাপ লক্ষণ। শিকল পায়ে বন্দি থাকার ব্যাখ্যা হবে, দ্বীনের উপর অবিচল থাকা। (মুসনাদে আহমদ, মুসলিম ,তিরমিযী, আবু দাউদ)
৫. হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) হাদীসের ব্যাখ্যায় লেখেন – শেষ জমানায় মুমিনের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না এর ব্যাখ্যা হচ্ছে স্বপ্নগুলো সম্পূর্ণ সত্য বাস্তবসম্মত হবে। মিথ্যা বা সন্দেহের অবকাশ থাকবে না। বাস্তব সম্মত হওয়ায় মুমিনের কাছে সম্পূর্ণরূপে ধরা পড়বে। শেষ জমানায় মুমিন অপরিচিত (গরিব) থাকবে, যেমনটি হাদিসে এসেছে- অপরিচিত অবস্থার মধ্য দিয়ে ইসলামের সূচনা। অচিরেই ইসলাম আবার অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সত্য-স্বপ্ন হবে তখন মুমিনের একমাত্র সম্বল। সত্য-স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ পাক তাকে সুসংবাদ দেবেন। দ্বীনের উপর দৃঢ়-অবিচল থাকতে সাহায্য করবেন । ( ফাতহুল বারী)
৬. কখন এ সত্য স্বপ্ন দেখা দিবে তা নিয়ে আলিমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে যা নিম্নরূপঃ
(ক) কিয়ামাতের পূর্বক্ষণ যখন ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে। অত্যধিক হত্যাকান্ড ও ফিতনার দরুন যখন শরীয়তের নিদর্শনসমূহ মুছে যাবে। তখন মানুষের প্রয়োজন দেখা দিবে কোন এক নবীর আবির্ভাবের। কিন্তু আমাদের নবী তো সর্বশেষ নবী। তাঁর পর তো আর কোন নবী আসবেন না। তাই মুসলমানরা তখন সুসংবাদ ও সতর্কতা মূলক সত্য স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে।
(খ) মু মিনদের সংখ্যা যখন কমে যাবে এবং কাফির মুশরিক, ফাসিক ও মুর্খের সংখ্যা বেড়ে যাবে তখন মু মিনদেরকে সম্মান ও সান্ত¡না দেয়ার জন্য এ সত্য স্বপ্ন দেখানো হবে।
(গ) ঈসা (আঃ) যখন কিয়ামাতের পূর্বক্ষণে দুনিয়াতে অবতরণ করবেন তখনকার মু মিন এ সত্য স্বপ্ন দেখবেন। কারণ, তাঁরা হবেন সত্যবাদী মুসলমান এবং তাঁদের স্বপ্নও হবে সত্য।
৯৯. নামাযের ইমামতি নিয়ে মুসল্লিদের ধাক্কাধাক্কি
১. আগেই পড়ে এসেছেন যে, দ্বীনের ব্যাপারে ব্যাপক মূর্খতা প্রকাশের ফলে নির্বোধ লোকদের হাতে নেতৃত্ব চলে যাবে। এমনকি মসজিদে ইমামতি করার জন্যও তখন ভাল ইমাম পাওয়া যাবে না। ফলে ইমাম নির্ধারণে মুসল্লিরা ধাক্কাধাক্কি করবে। শরীয়তের বিষয়ে মূর্খ এবং কেরাত অশুদ্ধ বলে কেউ-ই ইমামতি করতে চাইবে না।
২. সালমা বিনতে হুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – কিয়ামাতের নিদর্শনাবলীর একটি হচ্ছে , নামাযের সময় মুসল্লিরা ইমাম নির্ধারণে ধাক্কাধাক্কি করবে। বিশুদ্ধ কুরআন পাঠ জানে -এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। (আবু দাউদ)
৩. আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেনÑ এমন এক জমানা আসবে, যখন মানুষ মসজিদে সমবেত হয়ে নামায আদায় করবে। তাদের মধ্যে একজন মুমিন -ও পাওয়া যাবে না। ( মুস্তাদরাকে হাকিম)
৪. আরব বিশ্বে (আলহামদুলিল্লাহ) এখন পর্যন্ত এমন কাল আসেনি। প্রতিটি শহরে জ্ঞানীগণ কাজ করে যাচ্ছেন। মসজিদে মসজিদে দ্বীনের দরস চালু আছে। শিক্ষার্থী এবং কুরাআনের পাঠক-ও প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।
৫. আমাদের উপমহাদেশে ইসলামী শিক্ষা আজ অবহেলার পাত্র। মুসলমান আজ বিধর্মী স্কুল-মুখী। ধর্মহীন আধুনিক শিক্ষা-ই তাদের কাছে প্রকৃত শিক্ষা। ইসলামী শিক্ষা যতটুকু আছে তা-ও বন্ধ করার (ষড়যন্ত্র) চলছে। অনেক মসজিদ আছে যেখানে হাজারো মুসল্লির সমাগম হয়, কিন্তু একজন বিশুদ্ধ জ্ঞানীর দেখা পাওয়া যায় না। হাদিসের প্রেক্ষাপট আরবে তৈরি না হলেও অনারবে ঠিক-ই হয়ে গেছে।
১০০. মোহরের মূল্য বৃদ্ধি, অতঃপর হ্রাস
খারেজা বিন সালত বারজামী বলেন- নামাযের উদ্দেশ্যে আমরা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ -এর সাথে ঘর থেকে বের হলাম। ইমাম তখন রুকুতে ছিলেন, আমরা রুকু করলাম। অতঃপর গিয়ে মুসল্লিদের সাথে কাতারে শরীক হলাম। তখন এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আস সালামু আলাইকুম হে আবু আব্দুর রহমান- বলল। উত্তরে তিনি বরলেন, আল্লাহু আকবার! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন! নামায শেষে আমরা বললাম- ব্যক্তি বিশেষে সালাম প্রদানকে কেন্দ্র করেই হয় আপনি তা বলেছিলেন!! বললেন-হ্যাঁ…। কিয়ামাতের নিদর্শনাবলীর মধ্যে ঃ
(১)। মসজিদকে পারাপারের পথ হিসেবে ব্যবহার। (২) ব্যক্তি বিশেষে সালাম প্রদান। (৩) ব্যবসায় স্বামীর সাথে স্ত্রীর অংশগ্রহণ। (৪) মোহরের মূল্য বৃদ্ধি অতঃপর হ্রাস। (৫) এবং হ্রাস পেলে কিয়ামাত অবধি আর মূল্য বৃদ্ধি হবে না। (মুস্তাদরাকে হাকিম, তাবারানী)
১০১.অশ্বের মূল্য বৃদ্ধি অতঃপর হ্রাস
খারেজা বিন সালত বারজামী বলেন- নামাযের উদ্দেশ্যে আমরা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ-এর সাথে ঘর থেকে বের হলাম। ইমাম তখন রুকুতে ছিলেন, আমরা রুকু করলাম। অতঃপর গিয়ে মুসল্লিদের সাথে কাতারে শরীক হলাম। তখন এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আস সালামু আলাইকুম হে আবু আব্দুর রহমান- বলল। উত্তরে তিনি বললেন আল্লাহু আকবার! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন! নামায শেষে আমরা বললাম- ব্যক্তি বিশেষে সালাম প্রদানকে কেন্দ্র করেই হয় আপনি তা বলেছিলেন!! বললেন-হ্যাঁ…। কিয়ামাতের নিদর্শনাবলীর মধ্যে ঃ (১) মসজিদকে পারাপারের পথ হিসেবে ব্যবহার। (২) ব্যক্তি বিশেষে সালাম প্রদান। (৩) ব্যবসায় স্বামীর সাথে স্ত্রীর অংশগ্রহণ। (৪) মোহরের মূল্য বৃদ্ধি অতঃপর হ্রাস। (৫) এবং হ্রাস পেলে কিয়ামাত অবধি আর মূল্য বৃদ্ধি হবে না। (মুস্তাদরাকে হাকিম, তাবারানী)
১০২. অত্যাধিক বর্জ্রপাত
১. অত্যাধিক বর্জ্রপাত ও বজ্রাঘাতে নিহতের হার বেড়ে যাওয়া কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঘটনাও বেড়ে যাবে। এমনকি মানুষ পাশের এলাকায় গিয়ে বলতে থাকবে- গতরাতে তোমাদের এদিকে বজ্রপাতের আওয়াজ শুনতে পেলাম। উত্তরে তারা বলবে-অমুক,অমুক এবং অমুক বজ্রপাতে মারা গেছে। (মুসনাদে আহমদ)
২. বজ্র হচ্ছে এক প্রকার বৈদ্যুতিক ঝটকা, যা বিজলী গর্জনের মুহূর্তে আকাশ থেকে বর্ষিত হয়। এরকম বজ্রঘাতের মাধ্যমেই আল্লাহ পাক ছামূদ জাতিকে ধ্বংস করেছিলেন- আর যারা ছামূদ, আমি তাদেরকে হেদায়েত দেখিয়েছিলাম, অতঃপর তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধ থাকা-ই পছন্দ করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে অবমাননাকর আযাব এসে ধৃত করল। (সূরা ফূছছিলাত-১৭)
৩. অন্যত্র আল্লাহ পাক বলেন- অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে- আদ ও ছামুদের আযাবের মত। (সূরা ফূছছিলাত-১৩)
অপর আয়াতে আল্লাহ পাক বজ্রাঘাতকে মহা প্রলয়ঙ্করী বলে সাব্যস্ত করেছেন।
