প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৬, জমা.সানী-রজব ১৪৩৭ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

২১. সন্তানের পক্ষে পিতার দুআ অবশ্যই গ্রহণযোগ্য

হযরত আবুতা হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিনটি ক্ষেত্রে দুআ কবুল হয়। এতে কোন সন্দেহ নেই (কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে)। (১) পির দুআ সন্তানের জন্য, (২) পথিক মুসাফিরের দুআ ও (৩) অত্যাচারিত ব্যক্তির দুআ আর্তনাদ। (মিশকাত ১৯৫ পৃঃ)
উক্ত হাদীস দ্বারা পিতার দুআর গুরুত্ব বুঝা যায়।

মোল্লা আলী কারী রহ. মিশকাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মিরকাতে উল্লেখ করেছেন :

যদিও এখানে মাতার কথা উল্লেখ নেই কিন্তু পিতার দুআ যদি অবশ্যই কবুল হয় তাহলে মাতার দুআ আরও অধিক গ্রহণীয় হবে। সন্তানের উচিৎ পিতা-মাতার খেদমত করতে থাকা, দুআ নিতে থাকা এবং এমন আচরণ না করা যার দ্বারা তারা ব্যথিত হন এবং তাদের কেউ মুখে বদ-দুআ করে বসেন। কেননা যেভাবে তাদের দুআ কবুল হয় সেভাবে তাদের বদ-দুআও কুবল হয়। যদিও অধিক ভালবাসার কারণে বদ-দুআ থেকে বেঁচে যায়। তাদের দুআর দ্বারা দুনিয়া আখেরাত সুন্দর হয় এবং বদ-দুআর দ্বারা উভয় জাহানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

২২. পিতা-মাতার সামনে সন্তানের হাসা এবং হাসানো উভয়ই ফযীলতপূর্ণ

হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- পিতা-মাতার সামনে খাটের উপর তোমার এই ভাবে গড়িয়ে যাওয়া যে, তুমি তাদেরকে হাসাচ্ছো এবং তারা তোমাকে হাসাচ্ছে এটা তোমার আল্লাহর রাস্তায় তলোয়ার দিয়ে জিহাদের চেয়েও উত্তম। (দুররে মানসুর, ৪র্থ খন্ড, ১৭৩ পৃা ও বায়হাকী)
ফায়দা: পিতা-মাতার সামনে খুশি ও আনন্দিত থাকা এবং তাদেরকে খুশি রাখা, তাদের সামনে মুচকি হাসি দেয়া, তাদের সামনে এমন কথা বলা যার ফলে তারা হাসে, খুশি হয়; এগুলো সবই সওয়াবের কাজ এবং এটাও এক প্রকারের খেদমত এবং জিহাদ থেকে উত্তম। সহজে এত সওয়াব নিতে কে প্রস্তুত?

২৩. পিতা-মাতার খেদমত নফল হজ্জ ও ওমরা থেকে উত্তম

হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাযির হলো এবং বলল- আমি জিহাদ করার ইচ্ছা করেছি, কিন্তু আমি এর উপর সামর্থ্য রাখি না (হতে পারে এই ব্যক্তি অত্যন্ত দুর্বল ছিল অথবা কোন একটি অঙ্গ সুস্থ ছিল না, যার ফলে সে জিহাদ করতে সামর্থবান ছিল না)। তার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন- তোমার পিতা-মাতা কেউ কি জীবিত আছে? সে বলল, মাতা জীবিত আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি তোমার মাতার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। (তার খেদমত ও আনুগ্যতের ক্ষেত্রে) যখন তুমি এর উপর আমল করবে তখন তুমি হজ্জকারী, ওমরাকারী ও জিহাদকারী হবে। অতএব যখন তোমার মা তোমাকে ডাকবে, তখন তুমি (তার আনুগ্যত্যের ক্ষেত্রে) আল্লাহকে ভয় কর (অবাধ্য আচরণ করো না) বরং তার সাথে উত্তম আচরণ ও সদ্ব্যবহার কর।

২৪. মৃত্যুর পর পিতামাতার সেবা করার সুযোগ

হযরত উসাইদ ইবনে রবীআ সায়েদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন সেখানে একজন আনসারী ব্যক্তি উপস্থিত হলো। সে জিজ্ঞেসা করল, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পর আমার পিতা-মাতার সাথে সদাচারণের সুযোগ আছে কী? তিনি উত্তরে বলেন : হ্যাঁ ৪টি বিষয় রয়েছে। যথাঃ-
১. তাদের শান্তি ও ক্ষমা প্রার্থনা করা,
২. তাদের প্রতিশ্রতি পূর্ণ ও বাস্তবায়ন করা,
৩. তাদের স্বজন ও সহচরদের সম্মান করা,
৪. রক্তের সম্পর্ক রক্ষা করা, যাদের ব্যতিত তোমার কোন সম্পর্ক নেই। এটাই তাদের মৃত্যুর পর তাদের প্রতি তোমার সদাচরণের উপায়।

২৫. পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী দূর করার মাধ্যম

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম. বলেন-একদা তিন ব্যক্তি কোথাও যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে তারা এক গুহায় আশ্রয় নেয়। তখন পাহাড় চূড়া থেকে এক বড় পাথর তাদের গুহার মধ্যে পড়ে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল, ফলে তারা গুহার মধ্যে বন্দী হয়ে গেল।

এই অবস্থায় তারা একে অপরকে বলল, যে সব আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছ, তা আজ আল্লাহর সামনে উল্লেখ কর এবং সে আমলের অসীলা বা মাধ্যম দিয়ে আল্লাহর কাছে এ বিপদ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সাহায্য চাও।
তাদের একজন বলল- আমার পিতা-মাতার উভয়ে বৃদ্ধ ও দুর্বল ছিলেন। আমার ছোট ছোট সন্তান ছিল। আমি দিনভর বকরীর রাখালী করতাম। যখন সন্ধ্যায় ঘরে আসতাম তখন দুধ দোহন করে সর্বপ্রথম আমার পিতা-মাতাকে পান করাতাম।
একবার বাড়ীতে ফিরতে আমার কিছুটা দেরি হয়ে গেল। ফলে আমার পিতা-মাতা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ঘুমিয়ে গেলেন। আমি প্রতিদিনের ন্যায় যখন দুধ দোহন করে নিয়ে এলাম তখন দেখলাম, আমার পিতা-মাতা ঘুমিয়ে গেছেন, তখন আমি তাদেরকে জাগাতে অপছন্দ করলাম এবং তাদের পূর্বে আমার সন্তানদেরকে দুধ পান করাতে অপছন্দ করলাম। এভাবে দোদুল্যমান অবস্থায় ফজর (সকাল) হয়ে গেল।

হে আল্লাহ! যদি তুমি জান যে, এই কাজে একমাত্র তোমার সন্তুষ্টির জন্যই করেছিলাম, তাহলে আজ আমাদেরকে এই মসিবত থেকে উদ্ধার কর। এ দুআর আহবানে আল্লাহ তাআলা গুহার মুখ থেকে পাথরটা কিছুটা সরিয়ে দিলেন।
দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল। আমি তার প্রতি সেরূপই আসক্ত ছিলাম, স্বামী যেরূপ তার স্ত্রীকে ভালবাসত তার প্রতি আসক্ত থাকে। একবার তার কোন প্রয়োজন দেখা দিলে আমার কাছে এক হাজার দিরহাম চাইল। তখন আমি তাকে তার দেহভোগ করার শর্তারোপ করলাম। প্রথমে সে এতে রাজি ছিল না। কিন্তু বাধ্য হয়ে রাজী হয়ে গেল এবং আমি তাকে দিনার-টাকা-পয়সা দিলাম। অতঃপর যখন আমি গোনাহ করার ইচ্ছা করলাম তখন সে বলল- আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে হক ব্যতীত ভোগ করো না। একথা শুনে আমি উঠে গেলাম।
হে আল্লাহ! যদি আমি এই কাজ তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি তাহলে আমাদেরকে রক্ষা কর। অতঃপর পাথর কিছুটা সরে গেল।

তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! আামি এক শ্রমিককে টাকার বিনিময়ে নিয়েছিলাম। কাজ শেষে সে বলল, আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি তার পাওনা দিয়ে দিলাম। কিন্তু কোন এক কারণে সে নেয়নি, বরং টাকা রেখে চলে গিয়েছে। আমি তার পাওনাকে ব্যবসায় লাগিয়ে দেই। ফলে এর দ্বারা কয়েকটি গোলাম এবং এক পাল ছাগল হয়ে গেল। একদা সেই লোক একসময় ফিরে এসে বলল, আমার পাওনা আমাকে ফিরিয়ে দাও। এতে কম করো না। তখন আমি বললাম, এসব যা কিছু তুমি দেখছ, সবকিছুই তোমার। তুমি তা নিয়ে যাও।

যখন সে বলল, আল্লাহকে ভয় কর এবং বিদ্রুপ করো না। আমি বললাম, আমি তোমার সাথে বিদ্রুপ করছি না। এসব জিনিস নিয়ে যাও। সে সব জিনিস নিয়ে চলে গেল।

হে আল্লাহ! যদি আমার এই কাজ একমাত্র তোমার রাজী খুশি করার জন্য করে থাকি তাহলে আমাদের অবশিষ্ট বিপদ দূর করে দাও।

পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের দুআ কবুল করেন এবং তাদের উপর থেকে বিপদ দূর করে দেন।

২৬. পিতা-মাতার পক্ষ থেকে দান করলে তার সওয়াব তারা পান

মৃত ব্যক্তির দুআ করার দ্বারা উপকার করা যায়। তাদের পক্ষ থেকে সদকা খয়রাত করা হলেও তাদের আমলনামায় সওয়াব পৌঁছে যায়। পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সদকা করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, আমার মা ইন্তেকাল করেছেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা দান করি, তাহলে তার কোন উপকার হবে কী? রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- হ্যাঁ। সে আরজ করল- আমার একটি খেজুর বাগান আছে। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে এই বাগান আমার মাতার পক্ষ থেকে সদকা করে দিলাম।
পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি খেয়াল রাখা, তাদের সাথে উত্তম আচরণ করা, তাদের হক আদায় করা এবং পিতা-মাতার প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার কারণে তাদের সেবা করা, যেন তারা তার পিতার কথা স্মরণ করে তার জন্য দুআ করে। এসবই নিজের মাতা-পিতার সাথে উত্তম আচরণ করার শামিল।

২৭. পিতামাতার প্রিয়জনদের সম্মান করলে সম্মানকারীর মর্যাদা বাড়ে

সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, মক্কার পথে এক গ্রাম্য ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এর সাথে সাক্ষাত করল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাকে সালাম করলেন। তাকে তার গাধার উপর উঠিয়ে নিলেন এবং তার মাথার বাঁধা পাগড়ী তাকে দিয়ে দিলেন। এই দৃশ্য দেখে আবদুল্লাহ ইবনে দিনার তাকে জিজ্ঞেস করলেন- আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন, সে এক গ্রাম্য ব্যক্তি। সাধারণ কিছুর দ্বারাই সে খুশি হয়ে যায়। (আপনি তাকে এত ইজ্জত সম্মান করেছেন! এর কারণ কী?) আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন- তার পিতা আমার পিতার বন্ধু ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সবচেয়ে বড় নেকী হল পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধবের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখা ও উত্তম আচরণ করা।
যদি পিতা দরিদ্র হন, অথবা কোন অসুস্থতা বা পাগলামীর কারণে কাজ কর্ম করতে না পারেন, আয় উপার্জন করতে না পারেন, কিন্তু দারিদ্র ও অর্থ না থাকায় কারণে উপার্জন করতে পারে না এবং এমন কোন কাজও মেলে না যার দ্বারা তিনি জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, পিতাম মুসলমান হোক বা কাফের সর্বাবস্থায় তার যাবতীয় খরচ বহন করা তার ছেলের উপর ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন- অ-সাহিব হুমা ফিদ দুনয়া মারুফ (তাদের সাথে দুনিয়াতে ন্যায়সঙ্গত সদাচারণ কর)
নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার দেওয়া হাদিয়া-স্বরূপ। যদি তোমাদের মালের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদের মাল তোমাদের জন্য।

রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই কথা দ্বারা বুঝা যায়, তারা আয় উপার্জন করতে অক্ষম হলে তাদের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা সন্তানের উপর ওয়াজিব। তবে পিতা-মাতার জন্য তাদের টাকা-পায়সা শুধু শুধু নিজের কাছে নিয়ে নেওয়া, নিজের মর্জি-মাফিক খরচ করা, অথবা, অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা কোনটাই সমীচীন নয়। অবশ্য যদি ছেলে আনন্দচিত্তে তাকে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দেয় তাহলে কোন অসুবিধা নেই।

তবে নিজের এবং নিজের পরিবার পরিজনদের খরচ পিতা-মাতার খরচের উপর প্রাধান্য পাবে।
ভাল এবং উত্তম কাজ এটাই যার দ্বারা নিজের মনে প্রশান্তি অর্জিত হয়, মানুষ যা কিছুই বলুক না কেন এবং যে যা ফাতোয়া দিক না কেন উত্তম ব্যবহার এবং ভালো কাজ করা উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে গোনাহ হল যা মনের মধ্যে খটকা এবং সন্দেহ সৃষ্টি করে।

২৮. উত্তম আচরণ গোনাহের পরিপূরক কয়েকটি বাস্তব সত্য ঘটনা

(১) হযরত আব্দুল্লাহ ইবেন জাফর ইবনে খাকান আল মারুযী রহ. বলেন- আমি জ্ঞানার্জন ও হাদীস শ্রবণের জন্য বসরা যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলাম। কিন্তু আমার মাতা আমাকে যেতে নিষেধ করলেন। আমি তার আনুগত্য করি। আল্লাহ তাআলা এর মধ্যে আমার প্রতি বরকত দান করুন।
(২) এক বুযুর্গ বলেন, আহমদ ইবনে আলী বাগদাদের প্রসিদ্ধ আলিম ছিলেন। তিনি অধিক তাকওয়ার অধিকারী ছিলেন। তিনি কুতাইবা সফর করার জন্য তার মায়ের কাছে অনুমতি চাইলেন, তার মা তাকে সফরের অনুমতি দেননি এবং কিছুদিন পরই ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তিনি সফরে বের হন। খোরসান, অতঃপর বলখ শহরে পৌঁছেন , কুতাইবা পৌঁছে ইন্তেকাল করেন। কুতাইবার লোকজন তাকে খুব ইজ্জত-সম্মান ও আদর-সমাদার করত। তিনি বলতেন, এসবই ইলম এবং মায়ের সন্তুষ্টি অর্জন করার ফল।
(৩) যায়েদ বলেন, আমি হাসান বসরী (রা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, পিতা-মাতার দুআ সন্তানের জন্য কেমন? হাসান বসরী রহ. বলেন, নাজাতের মাধ্যম। অতঃপর পুনরায় বদদুআর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন ধ্বংসের মাধ্যম।
(৪) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, এক লোক তার কাছে এসে বলল- আমার দ্বারা অনেক বড় গোনাহ সংঘটিত হয়েছে। এখন আমার জন্য তওবা করার কোন রাস্তা আছে কি?
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন- তোমার মাতা জীবিত আছেন কী? সে বলল, না। তিনি বলেন- আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তার নৈকট্য অর্জন কর। অতঃপর কেউ তাকে জিজ্ঞেস করল- আপনি তাকে তার মা জীবিত থাকার কথা জিজ্ঞেস করলেন কেন? তিনি বলেন- আমি এমন আমলের কথা জানি না যা আল্লাহর কাছে পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করার চেয়ে বেশি প্রিয়।
(৫) অনুরূপভাবে এক মহিলা তার কাছে আসল, যে যাদু শিক্ষা করছিল এবং তওবা করতে চাইল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে একই উত্তর দিলেন।
(৬) আবু নওফল থেকে বর্ণিত, একব্যক্তি হযরত ওমর রা. এর কাছে এসে বলল- আমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি। ওমর রা. বললেন- তোমার পিতা-মাতার কেউ কি জীবিত আছেন? সে বলল, আমার পিতা জীবিত আছেন। ওমর রা. বললেন-যাও, পিতার সাথে উত্তম আচরণ কর। যখন সে চলে গেল তখন ওমর রা. বললেন- ঐ সত্তার শপথ. যার কুদরতী হাতে আমার জান। যদি তার মাতা জীবিত থাকত এবং তার সাথে উত্তম আচরণ করতো, তাহলে আমার আশা যে, জাহান্নামের আগুন তাকে কখনোই গ্রাস করত না।
(৭) বিখ্যাত প্রসিদ্ধ তায়েবী জলীল রহ. বলেন, পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করা গোনাহের কাফফারা (পরিপূরক) ।
(৮) আহমাদ ইবনে আল মুনকাদী রহ. বলেন- আমি আমার মায়ের পায়ের কাছে রাত অতিবাহিত করি এবং আমার ভাই ওমর নামায পড়ে রাত অতিবাহিত করে। কিন্তু আমার কাছে তার রাত আমার রাতের তুলনায় অধিক প্রিয় নয়।
(৯) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা হুদহুদ পাখির থেকে সুলাইমান ইবনে দাউদ আ. এর শাস্তি এই জন্যই দূর করে দেন যে, হুদহুদ পাখি তার মায়ের সাথে উত্তম আচরণকারী ছিল। মাতার সাথে উত্তম আচরণ করার ফলে আল্লাহ তায়ালা আগত শাস্ত্ িসরিয়ে দিলেন।
(১০) ইমাম শাফী (রহ.) বলেন- (পিতা-মাতার ব্যাপারে) তাদের নাফরমানী করা গোনাহে কবীরাসমূহের একটি।
আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ
(১১) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, আমার এক স্ত্রী ছিল। হযরত ওমর রা. (পিতা) আমাকে বললেন- তাকে তালাক দিয়ে দাও। আমি অস্বীকার করলাম। হযরত ওমর রা. রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন এবং তাকে জানালেন। রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- নিজের পিতা মাতার আনুগত্য কর। (আবু দাউদ শরীফ ১২০)
(১২) হযরত উবাদা ইবনে সামিত রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ পিতা-মাতার নাফরমানী করো না। যদি তারা তোমাকে দুনিয়া থেকে বের হয়ে যেতে বলেন, তাহলে দুনিয়া থেকে বের হয়ে যাও।
(১৩) হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : পিতা-মাতার সাথে সদ্বব্যহার কর। তাহলে তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের সাথে সদ্বব্যবহার করবে। (জামে কবীর ১/৪৫৮)