প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৫, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭ হিজরী, অগ্র-পৌষ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
পৃথিবীতে এমন কোনো বিচরণশীল (জীবিত) প্রাণী নেই যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ পাক নেননি। আর তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল এবং সঞ্চয়। সবকিছু রেকর্ডভুক্ত আছে স্পষ্ট কিতাবে। (সূরা হূদ : ৬)
আরবি দাব্বাতুন শব্দের অর্থ হলো- বিচরণশীল প্রাণী (Moving creature)। বিচরণশীল প্রাণী বলতে ঐসব প্রাণীকে বুঝায় যাদের জীবন আছে, জীবন চক্রের মাধ্যমে যারা বর্ধিত হয় এবং যারা চলাচল করার ক্ষমতা রাখে। সকল জীবনধারী প্রাণী এবং জীবকোষ এর আওতায় পড়ে। এ আয়াতে ব্যবহৃত আরো দুইটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো মুস্তাক্কার যার অর্থ- পিতার ঔরসে, মায়ের গর্ভে এবং ডিমের ভেতরে জন্মকোষের অবস্থান। প্রত্যেক জীবের এবং জীবকোষের এবং অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট অণুজীবের নিজস্ব বাসস্থান এবং খাদ্য পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা আছে। বাসস্থানগুলোর ভূ-মন্ডলে, বায়ুমন্ডলে, জলস্থলে, মাতৃগর্ভে যেখানে হোক না কেন তারা অসংখ্য বিচিত্র ধরনের উৎস থেকে খাদ্য পুষ্টি সংগ্রহ করে। এ খাদ্য পুষ্টি কেবলমাত্র তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তই করে না, সেই সঙ্গে তাদের বাচ্চাদেরও ক্ষুধা নিবৃত্ত করে। আর সবার জন্য সর্বত্র খাদ্যপুষ্টির ব্যবস্থা করে রেখেছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক।
প্রত্যেক প্রাণী কিভাবে খাদ্যপুষ্টি সংগ্রহ করবে এবং কিভাবে তাদের আবাসস্থল নির্ণয় করবে তা সবই তাদের সহজাত প্রবৃত্তির মধ্যে নিহিত। যখন কোনো এলাকায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয় এবং পরিবেশ বিরূপ হয়ে ওঠে তখন জীবকূল নতুন এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। সেখানকার আবহাওয়া প্রতিকূল নয় এবং খাদ্যের সরবরাহও পর্যাপ্ত। পৃথিবীতে যতো পাখি আছে তাদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিযায়ী (Migratory)। এ দুই-তৃতীয়াংশ পাখির সংখ্যা হবে কয়েক কোটি।
এরা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে প্রতি বছর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে হাজির হয়। এরূপ অনেক জীব-জন্তু আছে যারা সময় সময় দেশত্যাগ করে খাদ্যের সন্ধানে কিংবা বাসস্থানের খোঁজে। পাখি ও প্রাণীদের মাইগ্রেশনের রহস্যের বিশদ তথ্য সাম্প্রতিক শতাব্দীতে সংগৃহীত হয়েছে।
সুতরাং সকল জীবনধারী প্রাণী ও জীবকোষ যে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন সকলের জীবনব্যাপি খাদ্যপুষ্টি অপরিহার্য। এ খাদ্যপুষ্টির ব্যবস্থা করে থাকেন মহান আল্লাহ পাক যিনি সমগ্র সৃষ্টির প্রতিপালক এবং রক্ষক।
