প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৫, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭ হিজরী, অগ্র-পৌষ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
প্রশ্ন-৩৪ : তিব্বুন নব্বী বলতে কি বুঝায়? প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে এর মৌলিক পার্থক্য কী?
উত্তর: তিব্ব আরবি শব্দ। এ আভিধানিক অর্থ : দেহ ও মনের চিকিৎসা, ২. নম্রতা ও সুকৌশল অবলম্বন, ৩. যাদু, ৪. অভ্যাস, ৫. কোনো বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জনে দক্ষতা। বর্তমানে এর দ্বারা ঔষধ, ঔষধ ব্যবস্থপনা ও চিকিৎসা পদ্ধতিকে বোঝানো হয়। পরিভাষায় চিকিৎসা বিজ্ঞান (ইলমুত তিব্ব) ঐ শাস্ত্রকে বলা হয়, যা শিক্ষা করলে কোনো প্রাণী, বিশেষ করে মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতার দিক দিয়ে শারীরিক অবস্থাদি সর্ম্পকে জ্ঞান লাভ করা যায়। (আল-কানূন ফিত তিব্ব, ইবনে সীনা, ১/৩, ১৩)
তিব্বুন নব্বী বা Prophetic Medicine বলতে আমরা রোগ, ঔষধ ও চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য, সুস্থতা, স্বাস্থ্যের হিফাযত ইত্যাদি সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ ও নির্দেশনাকে বুঝে থাকি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল বিধি-বিধান সম্পর্কে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে চিকিৎসক তাঁর জন্য কী ব্যবস্থাপত্র দিতেন, কোনো সাহাবী অসুস্থ হলে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী উপদেশ দিতেন এবং তিনি নিজে অসুস্থ হলে আরোগ্যলাভের জন্য কী করতেন কিংবা রসূলের উপস্থিতিতে কোনো চিকিৎসক কোনো সাহাবীকে যে ব্যবস্থাপত্র দিতেন, যাতে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপত্তি করেননি, এ সবই তিব্বুন নববীর অন্তর্ভুক্ত। বস্তুত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন ডাক্তার বা চিকিৎসক হিসেবে ছিলোনা। তথাপিও বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে. অসুস্থ ব্যক্তি তাঁর নিকট প্রায়ই আগমন করতো এবং তিনি তাদের আরোগ্যর জন্য ব্যবস্থাপত্র দিতেন এবং আল্লাহ্র নিকট তাদের আরোগ্যলাভের জন্য দু\’য়া করতেন। তাঁর এসব বাণীর উপর ভিত্তি করে তদানীন্তন আরব সমাজে তিব্বুন নববী নামে একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যা বিজ্ঞানের আলোকে উত্তীর্ণ যথার্থ যুক্তিসঙ্গত ও কার্যকারী ব্যবস্থা। অজ্ঞাত কারণে মুসলমান সমাজে এটা দীর্ঘদিন লুকায়িত ছিলো।
বিশ্বনবীর চিকিৎসা বিধান তথা তিব্বুন নববীর সাথে অন্যান্য আধুনিক ও সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতির বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান। এই পার্থক্য সাধারণ ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত চিকিৎসকের সাথে অর্ধশিক্ষিত হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসার পার্থক্যের চেয়েও বেশি। বস্তুত তিব্বুন নববীর উৎসই হচ্ছে কিছু অহী বা প্রত্যাদেশ, কিছু ইলহামভিত্তিক অণুপ্রেরণা বা প্রজ্ঞাপূর্ণ জ্ঞান। তবে এর সিংহভাগই সমাজে প্রচলিত পদ্ধতি এবং শ্রত-অভিজ্ঞতালবদ্ধ জ্ঞানের উৎকর্ষতার ওপর নির্ভরশীল। আর সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিত্তি হচ্ছে তার সবই অনুমান, অভিজ্ঞতা, ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণার ফলাফল।
Modern medicine is based on conjecture, suppositions and experimentation. অপরদিকে তিব্বুন নববী এসবের উপর নির্ভরশীল নয়। Medicine of the Prophet (SAWS) are not based on speculations or results of laboratory investigations. They are based on niche of the Prophecy and perfection of human intellect.
প্রশ্ন-৩৫: প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে তিব্বুন নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা Prophetic medicine -এর তুলনামূলক আলোচনা করুন এবং বিষয়টি বিস্তারিত বুঝিয়ে বলুন।
উত্তর: আমি Prophetic medicine তথা তিব্বুন নববীর একজন ছাত্র। Prophetic medicine কেন উত্তম তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়। আমার যুক্তি হচ্ছে, আর আমার যুক্তির সাথে আপনারা সবাই একমত হবেন যে:
- The divine knowledge is the ever best knowledge, beyond shadow of any doub: আসমানী প্রত্যাদেশ বা অহীর মাধ্যমে যে জ্ঞান লাভ করা যায় তাই সর্বোত্তম এবং সন্দেহের লেশমুক্ত জ্ঞান।
- All Prophets (AS) are men of purity, piety, nobility and high morality সকল নবী আলাইহিমুস সালাম পবিত্র, ধার্মিক, মহৎ ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং উন্নত নৈতিকতাসম্পন্ন।
- They were men of profound wisdom and knowledge. তাঁরা গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞান অধিকারী।
- All Prophets (AS) possess the best minds and the best characters. সকল নবী আলাইহিমুস সালামই সবচেয়ে উন্নত ও সর্বোত্তম চরিত্র ও মনের অধীকারী।
- They were sound in intellect and were mature.তাঁরা যুক্তি, বুদ্ধি ও মেধায় যার যার সময়ে ছিলেন অদ্বিতীয় ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত।
- They were the most learned and nearest to the Truth among the Creations.তাঁরা আল্লাহর সৃষ্টি জগতের ভেতরে সবচেয়ে জ্ঞানী, প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও সত্যের ধারক-বাহক।
So, the practices by such people shall be the best practices, and therefore, the remedies prescribed by such people shall be the best remedies.
সুতরাং এঁরা যে অভ্যাস মেনে চলেন বা চলতে উপদেশ দেন, তা সর্বোত্তম এবং নিরাময়ের যেসব উপায়-উপকরণ বর্ণনা করেন, তা সর্বোৎকৃষ্ট।\r\n\r\nঅপরদিকে রোগ নিরাময়ে নবীগণ অনুসারী বা সাহাবীগণ যেসব উপায়-উপকরণ নির্ধারণ করেন ও ব্যবস্থাপত্র দেন, তাও নি:সন্দেহে সাধারণ ডাক্তার বা চিকিৎসকের চেয়ে অনেক উত্তম ও কার্যকারী।
That is to say, the remedies prescribed by the Companions or followers of the Prophets (AS) are better and effective than the remedies of others, who are the ordinary physicians.
এবার চলুন Prophetic medicine and ordinary medicine এর মৌলিক পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করি।
- Prophetic medicine বা বিশ্বনবীর চিকিৎসা বিধানের ভিত্তি হচ্ছে কিছু আসমানী অহী বা প্রত্যাদেশ, কিছু শ্রতি ও সামাজিক প্রথার অভিজ্ঞতা এবং তাওহীদ ও আখিরাতের চেতনা।
- That is, Divine inspiration অপরদিকে সাধারণ চিকিৎসকের দেয়া ঔষধের ভিত্তি হচ্ছে বস্তুবাদী গবেষণা ও অনুমানপ্রসূত মতামত।\r\nসাধারণ ডাক্তারের ঔষধ নির্ভর করে ধারণা, কল্পনা, অনুমান আর গবেষনার ফলাফলের ওপর। অপরদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেডিসিন নির্ভর করে নুবূয়্যাতের বিশেষ মর্যাদা, বুদ্ধির পূর্ণতা ও জ্ঞানের উৎকর্ষতার ওপর।
- সাধারণ ডাক্তারের বক্তব্য বা ব্যবস্থাপত্র নির্ভর করে মেজাজ, সমসাময়িক স্থান-কাল ও প্রথাসমূহের উপর,অন্যদিকে নবী আলাইহিমুস সালামের মেডিসিন সকল কালের সকল এলাকার সকল লোকের স্বাস্থ্যের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।
