প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৭, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৮ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
১১৭. চতুস্পদ পশু ও জড় পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা
১. চতুস্পদ পশু ও জড়ো পদার্থের মানুষের সাথে কথা বলা কিয়ামাতের আরেকটি আলামত। জড়ো পদার্থ তখন বলে দিবে কার অনুপস্থিতিতে কি ঘটছে। মানুষের উরু তখন বলে দিবে তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কি করেছে।
২. চতুষ্পদ জন্তুর সাথে কথা বলার ঘটনা নবীযুগেই ঘটেছিল।
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- একদা এক নেকড়ে বাঘ জনৈক রাখালের পাশ দিয়ে যেতেই তার ছাগল পাল থেকে একটি ছাগল ছিনিয়ে নেয়। রাখাল নেকড়ে বাঘটিকে তাড়িয়ে তার হাত থেকে ছাগলটিকে উদ্ধার করে। নেকড়ে বাঘটি একটি ঢিলার উপর চড়ে লেজ গুটিয়ে বসে রাখালটিকে উদ্দেশ্য করে বললঃ তুমি আমার রিযিকটুকু ছিনিয়ে নিলে যা আল্লাহ্ তা’আলা আমর জন্য ব্যবস্থা করেছেন। রাখালটি তা শুনে বললঃ আল্লাহ্’র কসম! আমি আজকের মতো কখনো কোন নেকড়ে বাঘকে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখিনি। নেকড়ে বাঘটি বললোঃ এর চাইতে আরো আশ্চর্য হচ্ছে দু’টি মরু প্রান্তরের মধ্যকার খেজুর গাছ বিশিষ্ট জনপদের সেই ব্যক্তি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম),যিনি আল্লাহ্ তা‘আলার ইচ্ছায় পূর্বাপর সবকিছুই বলে দিতে পারেন। রাখালটি ছিলো ইহুদি। সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ঘটনাটি জানালে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সত্যবাদী বলে আখ্যায়িত করেন। অতঃপর বলেনঃ
এটি তো কিয়ামাতের আলামতগুলোর একটি আলামত। অচিরেই এমন হবে যে, কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘরে ফিরে আসলে তার জুতা ও হাতের ছড়ি/চাবুক বলে দিবে তার স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কী করেছে। (আহ্মাদ্ হাদীস ৮০৪৯)
৩. আবূ সাঈদ খুদরীর বর্ণনায় রয়েছে, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! লোকটি তো সত্য কথাই বলেছে। কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না হিংস্র পশু মানুষের সাথে কথা বলে, কোন ব্যক্তির ছড়ি/ চাবুকের অগ্রভাগ জুতার ফিতা তার সাথে কথা বলে এবং কোন ব্যক্তির উরু বলে দেয় তার স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কী করেছে। ( আহ্মাদ্ ৩/৮৩-৮৪)
৪. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- “জনৈক ব্যক্তি ষাঁড়ের কাঁধে মাল বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছিল। ষাঁড় লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল- আমার সৃষ্টি কৃষি কাজের জন্য, মাল বোঝাইয়ের জন্য নয়। তা দেখে লোকেরা বলতে লাগল- বাহ! ভারী আশ্চর্য তো!! ষাঁড় কথা বলছে দেখছি!! নবীজী বললেন- আমি,আবু বকর এবং উমর তা বিশ্বাস করি।” (মুসলিম)
আল্লাহ পাক বলেন- “তিনি সৃষ্টির মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।” (সূরা ফাতির)
৫. কতিপয় গবেষক এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক বহুল ব্যবহৃত বাণী- প্রেরকযন্ত্র, মোবাইল, টেলিফোন এবং ইলেক্ট্রনিক চিপ উদ্দেশ্য বলেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য হল ঈমানদারের দায়িত্ব হাদীসে যেভাবে এসেছে হুবহু সেভাবেই বিশ্বাস করে নেয়া। কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে না যাওয়া।
১১৮. মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সকল বিধর্মী রাষ্ঠ্রের একক অবস্থান
১. কিয়ামাত পূর্বমুহূর্তে সকল বিধর্মী পরাশক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। কিন্তু বরাবরের মত আল্লাহ মুসলমানদেরকে কাফেরদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করবেন।
২. ইতিহাসে আপনি পড়ে থাকবেন, মুসলিম বিশ্বের উপর দিয়ে এ পর্যন্ত অনেক ক্রান্তিকাল এবং ঝড়-ঝাপটা অতিবাহিত হয়েছে। প্রতিবারই আল্লাহ মুসলমানদেরকে রক্ষা করেছেন। প্রথম বার খৃষ্ঠ-সম্প্রদায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। আল্লাহ পাক মুসলমানদেরকে বিজয়ী করেছেন। এরপর তাতারি সম্প্রদায় মুসলিম বিশ্বে আগ্রাসন চালিয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মুসলমান বানিয়ে মুসলিম বিশ্বের শক্তিকে আরো দ্বিগুণ করেছেন। সম্প্রতি ইহুদী-খ্রিষ্টান সমন্বিত ক্রুসেড-যুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব আক্রান্ত। সঠিক পথে ফিরে আসলে আল্লাহ তালা-ও মুসলমানদেরকে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- “আল্লাহ নিশ্চয় তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহ সাহায্য করে।নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর ।” (সূরা হজ্ব-৪০) অপর আয়াতে- “আল্লাহ লিখে দিয়েছেনঃ আমি এবং আমার রাসূলগন অবশ্যই বিজয়ী হব! নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী (সূরা মুজাদালা-২১)
৩. সাউবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- “প্লেট সামনে রেখে যেমন একে অপরকে খাদ্যের জন্য ডাকাডাকি করে, ঠিক তেমনি সকল বিধর্মী জাতি মুসলমানদের নিঃশেষ করতে একে অপরকে ডাকাডাকি
“সেদিন কি আমরা সংখ্যায় কম থাকব হে আল্লাহর রাসূল?” জিজ্ঞেস করা হলে নবীজী বললেন- না..! সংখ্যায় তোমরা অনেক থাকবে। তবে স্রোতের আবর্জনার মত। শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের আতঙ্ক উঠিয়ে আল্লাহ তোমাদের অন্তরে এক প্রকার লাঞ্চনা গেঁথে দেবেন।’ লাঞ্চনা কি? দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা এবং মৃত্যুর প্রতি বিতৃষ্ণা।” (আবু দাউদ কিতাবুল মালাহিম,৩/৩৬১০ মুসনাদে আহমদ)
৪. বর্তমান সময়ে কুফুরী মতবাদ মুসলমানদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে। মুসলমানদের চেহারায় আজ লাঞ্চনা আর অসহায়ত্বের ছাপ। সংখ্যায় কম বলে…?! না..। সংখ্যায় প্রায় দেড়শ কোটি। পৃথিবীর এক চুতর্থাংশে জনগোষ্ঠী। কিন্তু স্রোতের আবর্জনার মত তারা আজ বিক্ষিপ্ত। বিধর্মীদের অন্তরে আজ মুসলমানদের আতঙ্ক নেই। ইসলাম ও মুসলমানকে তারা আজ অবহেলা ও তিরস্কারের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
৫. এত উজ্জ্বল অতিতেতিহাস থাকা সত্তেও মুসলমান আজ দুর্বল কেন…?। হ্যাঁ..! নবীজী সত্যই বলেছেন। “ দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা এবং মৃত্যুর প্রতি বিতৃষ্ণা। আল্লাহ আমাদেরকে বিশুদ্ধ ইসলামের দিকে ফিরে আসার তওফীক দান করুন।
