প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৮ম সংখ্যা,ফেব্রুয়ারী ২০১৬,রবি.সানি-জমা.আউ ১৪৩৭ হিজরী,মাঘ-ফাল্গুন ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

৪২. যিনা ব্যভিচারের ব্যাপক প্রসার

১. যিনা-ব্যভিচারের ছড়াছড়ি কিয়ামাতের আরেকটি আলামত। আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মুর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনকারী থাকবে। (বুখারী ৮০.৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)

২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ অচিরেই এমন কিছু বছর আসবে যা মানুষকে ধোঁকায় ফেলে দিবে। তাতে অশ্লীল কাজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়বে। (হাকিম ৪/৫১২ সহীহুল্ জামি, হাদীস ৩৫৪৪)

৩. শুধু ব্যভিচার যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয় । বরং তা একদা হালালও মনে করা হবে। আবু আমির আশ্আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ আমার উম্মাতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিক্লের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালালা মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)
ব্যাপক ও প্রকাশ্য যৌনাচার ও অশ্লীলতা
১. কিয়ামাতের পূর্বক্ষণ লুকিয়ে নয় বরং প্রকাশ্যে ও দিবালোকে অশ্লীলতা ও যৌনচার শুরু হবে। এমনকি তা রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে।
২. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- “কিয়ামাতের নিদর্শনার মধ্যে ঃ ভূ-পৃে এমন কেউ থাকবে না, যার প্রতি আল্লাহর কোন প্রয়োজন আছে (অর্থাৎ আল্লাহর কাছে যার সামান্য মূল্য আছে)
৩. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন ! এ উম্মত নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না জনৈক পুরুষ জনৈক মহিলাকে রাস্তায় শুইয়ে ব্যভিচার করবে। তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই হবে যে বলবে ঃ যদি তুমি মহিলাটিকে এ দেয়ালটির আড়ালে নিয়ে ব্যভিচার করতে! (মাজ্মাউয্ যাওয়ায়িদ্ ৭/৩৩১)

৪. যখন সকল খাঁটি মমিন- মুসলমান মৃত্যু বরণ করবে তখন দুনিয়াতে এমন কিছু লোক বেঁচে থাকবে যারা গাধার ন্যায় জনসমক্ষে ব্যভিচার করবে। নাওয়স্ বিন সামআন (রাঃ) থেকে বর্ণিত বলেন ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ তখন একমাত্র খারাপ লোকই বেঁচে থাকবে। যারা গাধার ন্যায় জনসমক্ষে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে এবং তাদের উপরই কায়িম হবে কিয়ামাত। (মুসলিম)

৫. বর্তমান কালে নিদর্শনটি বাস্তবায়ন লক্ষ করা যাচ্ছে। টিভি পর্দায় প্রতিদিন হাজারো অশ্লীল – নোংরা দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। ইন্টারনেট খুলা খুলি যৌনাচারের দৃশ্য-প্রচার -ব্যাপক করে যুব সম্প্রদায়কে ব্যভিচারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

৬. এহেন পরিস্থিতিতে মুমিন মাত্র-ই আল্লাহর কাছে বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। নিজেকে সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে পবিত্র রাখতে হবে। সর্বদা দৃষ্টি নিচের দিকে রাখতে হবে। লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে হবে। টেলিভিশনের সামনে বসে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দুষ্টু বন্ধু- বান্ধবের সংশ্রব ত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন! আমীন!

৪৪. গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক প্রসার

১. গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক প্রসার কিয়ামাতের আরেকটি আলামাত। সাহ্ল বিন্ সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ অচিরেই শেষ যুগে দেখা দিবে ভূমি ধস,নিক্ষেপ ও বিকৃতি । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! তা কখন? তিনি বললেন ঃ যখন বাদ্যযন্ত্র ও গায়ক- গায়িকা বেশি হারে প্রকাশ পাবে। (ইব্নু মাজাহ্ ২/১৩৫০ সহীহুল্ জামি, হাদীস ৩৫৫৯)
২. শুধু বাদ্যযন্ত্র যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা হালালও মনে করা হবে। আবূ আমির আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে এমন কিছু লোক আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যাযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)
৩. বর্তমান সময়ে গান- বাদ্য এবং অশ্লীল মিউজিক -মানুষের নিয়মিত অভ্যাসে পরিনত হওয়ার ফলে অন্তরে কপটতার ব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে। এই কপটতা-ই মানুষকে -নামায আল্লাহর স্মরণ,কুরআন পাঠ এবং কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ করে দিয়েছে। আল্লাহতালা বলেন- “একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করতে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্রা- বিদ্রুপ করে । এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সুরা লুকমান-৬)

৪. অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার উপরোক্ত আয়াতে -অবান্তর কথাবার্তা- বলতে গান-বাজনা এবং বাদ্যযন্ত্র উদ্দেশ্য বলেছেন। হাদীসে গান – বাদ্য শ্রবণকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যভিচার এবং মদ্য পানের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

৫. ব্যাপকভাবে গান-বাজনা এবং আধুনিক মিউজিককে কেন্দ্র কর প্রতিদিন নিত্যনতুন স্যাটেলাইট মিউজিক-চ্যানেল আবিস্কৃত হচ্ছে। দিন-রাত ২৪ঘন্টার বিশেষ মিউজিক রেডিও-ষ্টেশন গড়ে উঠছে। এগুলোতে কোন সংবাদ বা ভাল কিছু প্রচারিত হচ্ছে না।

৬. এটা-ই কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন, যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহুকাল পূর্বেই আমাদেরকে বলে গেছেন। সকল মুসলমানকে এগুলো থেকে সতর্ক হতে হবে।
৭. আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বলেন- সিঞ্চনে যেমন ফসল বেড়ে উঠে, তেমনি গান-বাজনা শুনার ফলে অন্তরে কপটতা (নেফাকী) গড়ে উঠে।