প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৭, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
আনাস ইবনে মালেক ছিলেন নিষ্পাপ গোলাপের মতো নিশ্চিন্ত বয়সের ছোট এক বালক, যখন তার মা ‘গুমাইসা’ তাকে শিখিয়েছিলেন কালিমা-ই শাহাদাত। তার হৃদয়ের কোমল পাত্রটিকে তিনি পূর্ণ করে দিয়েছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা দিয়ে …..
আনাস প্রিয় নবীর ভালোবাসায় পাগলপারা হয়ে পড়েছিল শুনতে শুনতে। বিস্ময়ের কিছু নেই, দেখা-সাক্ষাৎ ছাড়া অনেক সময় শুধু শুনে শুনেও প্রেম সৃষ্টি হয় …..
ছোট্ট বালক হৃদয়ে কতবার আকাক্সক্ষা জাগল, আহা! যদি আমি মক্কায় ছুটে যেতে পারতাম তাঁর নূরানী চেহারাখানা দেখতে! অথবা যদি তিনি নিজেই চলে আসতেন ‘ইয়াসরিবে’ আমাকে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে!
বালক আনাসের এই ব্যাকুল আকাক্সক্ষার পর খুব বেশিদিন পার হয়নি, এর মধ্যে ‘ইয়াসরিবে’ ছড়িয়ে পড়ল এই সুসংবাদ-প্রিয় নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এবং তাঁর সঙ্গী আবু বকর সিদ্দীক রওনা করেছেন ইয়াসরিবের উদ্দেশ্যে….
এতে প্রতিটি গৃহে বয়ে গেল আনন্দের জোয়ার…. প্রতিটি হৃদয় নেচে উঠল খুশির ছোঁয়ায়। সব মানুষের ব্যাকুল হৃদয় আর চঞ্চল হৃদয় নেচে উঠল খুশির ছোঁয়ায়। সব মানুষের ব্যাকুল হৃদয় আর চঞ্চল চাহনি আটকে রইল সেই মুবারক পথে,যেই পথ ধরে এগিয়ে আসছেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ও তাঁর সঙ্গী ‘ইয়াসরিব’ এর দিকে।
********
এরপর প্রতিদিন প্রভাতে শিশু বালকেরা হৈ চৈ করে গুজব ছড়াত-
‘মুহাম্মদ এসে পড়েছে’….. ‘এসে পড়েছে….’
এই হৈ চৈ শুনে প্রতিদিনই ঘর থেকে ছুটে বেড়িয়ে পড়ত আনাস অন্য শিশুর সঙ্গে; কিন্ত কাউকেই খুঁজে না পেয়ে চিন্তিত ও বিষন্ন মনে আবার ফিরে আসত ঘরে।
********
কোনো এক আলোকিত ও উজ্জ্বল প্রভাতে ‘ইয়াসরিব’ এর বড় বড় পুরুষ মানুষেরা চিৎকার করে জানাল, ‘মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গী এসে পড়েছেন মদীনার কাছাকাছি।’
বড় বড় লোকরো এগিয়ে গেলেন সেই মুবারক পথের দিকে, যে পথ ধরে তাদের কাছে আসছেন হিদায়াত আর কল্যাাণের নবী…
তারা দলে দলে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলেন তাঁর উদ্দেশ্যে, যাদের মধ্যে ঢুকে ছিল ছোট ছোট শিশু বালকের দল, যাদের চেহারায় ফুটে উঠছিল শিশু-অন্তর ছাপানো, হৃদয় উপচানো আনন্দ-উল্লাস…
আর সেই সব শিশু অগ্রভাগে ছিল আনাস ইবনে মালেক আল-আনসারী।
প্রিয় নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এলেন সঙ্গী আবু বকর সিদ্দীক [রাযিয়াল্লাহু আনহু]-সহ । তাঁরা আগাতে থাকলেন কিশোর বালক আর বড় বড় মানুষের বিশাল দলের মাঝখান দিয়ে…
নারীরা আর ছোট ছোট শিশুরা ছিল ঘর-বাড়ির ছাদগুলিতে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক নজর দেখার জন্য ছটফট করে জানতে চায়-
‘নবী কোনটা?
সে ছিল এক অবিস্মরনীয় দিন…
আনাস ইবনে মালেক নিজের শতাধিক বয়সের দীর্ঘদিন ধরে স্মরণ করেছেন সেই অবিস্মরণীয় দিনটির কথা।
********
প্রিয় নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মদীনায় এখনো স্থির হননি, এরই মধ্যে তাঁর কাছে এলেন আনাসের মা ‘গুমাইসা বিনতে মিলহান’। সঙ্গে ছিল তাঁর ছোট্ট বালকপুত্র, মায়ের সম্মুখে লাফালাফি করছিল আর কপালের ওপর ঝুলছিল বেণীর মতো দুটো কেশগুচ্ছ।
গুমাইসা প্রিয় নবীকে সালাম দিয়ে বললেন,
‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আনসারের প্রতিটি নারী-পুরুষ আপনাকে দিয়েছেন কিছু না কিছু হাদিয়া। কিন্তু আমার কাছে আপনাকে দেওয়ার মতো কিছুই যে নেই এই পুত্রটি ছাড়া! দয়া করে একেই গ্রহণ করুন। আপনার খেদমতের জন্য একে দিয়ে গেলাম।
প্রিয় নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] শিশু বালকটিকে পেয়ে দারুণ খুশি হলেন, সে খুশির ঝিলিক দেখা গেল তাঁর হাস্যোজ্জ্বল চোহারায়। তিনি বালকটির মাথায় বুলিয়ে দিলেন নিজের পবিত্র হাত, নিজের কোমল আঙ্গুলগুলি দিয়ে স্পর্শ করলেন কপালে ঝুলে থাকা তার কেশগুচ্ছ, তাকে যুক্ত করে নিলেন নিজের পরিবারের মধ্যে।
আনাস ইবনে মালেক অথবা প্রিয় নবীর আদরের ‘উনাইস’ ছিলেন দশ বছর বয়সের এক বালক, যেদিন তিনি গৃহীত হয়েছিলেন প্রিয় নবীর খেদমতের জন্য।
প্রিয় নবীর ওফাত পর্যন্ত তিনি তাঁরই পাশে, তাঁরই তত্ত্বাবধানে জীবন কাটিয়েছিলেন।
প্রিয় নবীর একান্ত সাহচর্য লাভ করেন তিনি পূর্ণ দশ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি গ্রহণ করেন প্রিয় নবীর জীবন দর্শন- যা দ্বারা তিনি পরিশুদ্ধ করেন নিজের নফসকে।
মুখস্থ করেন তাঁর হাদীস- যা দ্বারা পরিপূর্ণ করেন নিজের অন্তরকে।
জেনে নেন তাঁর জীবনচরিত, তাঁর ভেতর-বাহির এবং তাঁর উত্তম আখলাক- যা একসময় তাঁর মাধ্যমেই জানতে পেরেছে সমগ্র উম্মত।
********
আনাস ইবনে মালেক দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পেয়েছেন এমন দয়া ও ¯েœহের আচরণ, যা কোনো সন্তান পায়নি পিতার নিকট…….
তিনি স্বাদ গ্রহণ করেছেন তাঁর উন্নত চরিত্রের এবং মহত্তম স্বভাবের, যার জন্য তিনি জগৎময় হয়ে পড়েছেন ঈর্ষণীয়।
আমরা এখন দয়ার নবীর কোমলতা, উদারতা ও ¯েœহপূর্ণ ব্যবহারের কিছু উজ্জ্বল চিত্র উপস্থাপনের ভার দিচ্ছি খোদ আনাস ইবনে মালেকের ওপর। কারণ এ বিষয়ে তিনিই সর্বাধিক জ্ঞাত আর তাঁর বর্ণনাই হবে সর্বাধিক শক্তিশালী…….
আনাস ইবনে মালেক বলেন :
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের, প্রশস্ততম হৃদয়ের এবং পূর্ণতম মমতার অধিকারী……
একদিন তিনি আমাকে একটি কাজে পাঠালেন, আমি সঙ্গে সঙ্গেই বের হলাম কিন্তু তাঁর কাজে না গিয়ে চলে গেলাম বাজারে খেলাধুলায় মত্ত বালকদের সঙ্গে খেলতে। সেখানে পৌঁছার কিছুক্ষণ পর বুঝলাম কেউ একজন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আমার জামা ধরে টানছে……
পেছনে ফিরে তাকালাম, চমকে উঠে দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন মুখে মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে, ‘হে উনাইস! তোমাকে যেখানে যেতে বলেছিলাম সেখানে কি গিয়েছিলে?’
আমি হতভম্ব হয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ…. এক্ষুনি যাব ইয়া রাসূলাল্লাহ….!
‘আল্লাহর কসম! আমি দশ বছর তাঁর খেদমত করেছি, (এই দীর্ঘ সময়ে) তিনি কখনোই এমন প্রশ্ন করেননি, ‘কেন করলে?’ কখনোই বলেননি, ‘কেন করোনি?’
********
প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ডাকতেন আনাসকে, তখন নিজের কণ্ঠে সবটুকু ¯েœহ-মমতা আর আদর মেখে শিশু বাচ্চার মতো করে বলতেন, ইয়া উনাইস! কখনো বলতেন, ইয়া বুনাইয়া (হে আমার আদরের বেটা!)
তিনি তাকে প্রচুর উপদেশ দিতেন, নসিহত করতেন যেগুলো পুর্ণ করে রাখত তার হৃদয়কে, অধিকার করে থাকত তাঁর জ্ঞানের জগৎকে।
তাঁর একটি উপদেশবাণী ছিল এমন :
‘ বেটা! তোমার অন্তরে কারোর প্রতি কোন বিদ্বেষ নেই- এমনভাবে যদি সকাল (থেকে সন্ধ্যা) এবং সন্ধ্যা (থেকে সকাল) কাটাতে পারো তাহলে তুমি তাই কোরো….
বেটা! মনে রেখো ওটাই আমার সুন্নাত। যে আমার সুন্নাত জীবিত করল (দৃঢ়তার সঙ্গে আমল করল) নিশ্চিত সে আমাকে সত্যিকারের মুহাব্বত করল …..
আর যে আমাকে সত্যিকারের মুহাব্বত করল, সে থাকবে আমার সঙ্গে জান্নাতে…
বেটা! যখন তুমি প্রবেশ করবে তোমার গৃহে, পরিবারের লোকদের সালাম দেবে, তাহলে সেটা তোমার ও তোমার পরিবারের লোকদের জন্য হবে বরকতের কারণ।’
********
আনাস ইবনে মালেক প্রিয় নবীর ওফাতের পর বেঁচেছিলেন আশি বছরেরও বেশি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি মানুষের অন্তরকে পূর্ণ করে দিয়েছেন ইলমে রাসূল দ্বারা, ভরে দিয়েছিলেন তাদের জ্ঞান-উপলব্ধিকে ফিকহে নববী দ্বারা…
এর মাঝে তিনি জীবন্ত করে তুলেছেন অন্তরসমূহকে, সাহাবী ও তাবেঈদের মাঝে প্রিয় নবীর আদর্শের প্রসার ঘটিয়ে এবং মানুষের মাঝে মহানবীর অমূল্য বাণী ও মহৎ কর্মের প্রচার করে।
আনাস দীর্ঘ জীবনের বিস্তৃত পরিসরে ছিলেন মুসলিমজাতির আশ্রয়স্থল। তারা ছুটে আসত তাঁর কাছে যখনই সৃষ্টি হতো কোনো জটিলতা, ভরসা করত তাঁরই ওপর যখনই তাদের কাছে অস্পষ্ট বোধ হতো কোনো হুকুম।
কেয়ামতের ময়দানে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাউজে কাউসারের পানি পান করাবেন- এর সত্যতা নিয়ে কিছু লোক তর্ক-বিতর্ক করল। এ বিষয়ে তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ভাবতে অবাক লাগে যে হাউজে কাউসার নিয়ে এমন ঝগড়া-বিবাদ আমাকে দেখতে হচ্ছে। অথচ এমন অনেক অভিজ্ঞ ও বয়স্ক বৃদ্ধ আছেন, যারা প্রত্যেক নামাযের পর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তারা কেয়ামতের ময়দানে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজের পানি পান করার তাওফীক লাভ করেন।
********
আনাস ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু দীর্ঘজীবন কাটিয়েছেন প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুণ্য স্মৃতি স্মরণ করে …
তিনি খুব প্রফুল্ল হতেন প্রিয় নবীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের মুহূর্তটি মনে পড়লে। প্রচুর অশ্রু ঝরাতেন তাঁকে হারানো বিষাদময় দিনটি স্মরণ হলে।
তিনি বারবার প্রিয় নবীর কথা বলতেন, বারবার তাঁকে স্মরণ করতেন। তিনি নিজের কাজে ও কথায় তাঁরই অনুসরণ করতেন, তিনি তাই পছন্দ করতেন যা ছিল প্রিয় নবীর পছন্দ, তিনি সেটাই অপছন্দ করতেন যা ছিল তাঁর অপছন্দ।
আনাস ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহুর জীবনের সেরা স্মরণীয় দিন ছিল দুইটি। একটি ছিল, প্রিয় নবীর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের দিন, অন্যটি ছিল তাঁকে চিরতরে হারানোর দিন।
যখন মনে পড়ত প্রথম দিনের কথা, তিনি খুবই খুশি হতেন এবং সতেজ হয়ে উঠতেন। আর যখন মনে হতো দ্বিতীয় দিনটির কথা, শোকে কাতর হতেন- নিজে এমনভাবে কাঁদতেন যে আশপাশের সকলকেও তাঁর সেই কান্না স্পর্শ করত।
তিনি প্রায়ই বলতেন, আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলাম আমাদের মাঝে আগমনের দিন, আবার তাঁর চির বিদায়ের দিন, ঐ দুটো দিনই আমার জীবনে তুলনাহীন।
মদীনাতে তাঁর আগমনের দিনে সবকিছুই ঝলমলে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। যেদিন তিনি চলে গেলেন আপন প্রভুর সান্নিধ্যে, জগতের সবকিছুই অন্ধকারে ছেয়ে গেল…
তাঁকে সর্বশেষ দেখেছিলাম সোমবার, যখন তাঁর হুজরা থেকে পর্দা সরানো হয়েছিল। সেদিন সকলে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে তাকিয়েছিলেন। তারা প্রায় অস্থির হয়ে পড়েছিলেন, আবু বকর ইঙ্গিতে তাদের স্থির থাকতে বললেন।
সেই দিনেরই শেষ বেলায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে গেল। আমরা যখন তাঁকে দাফন করছিলাম, আমাদের নিকট তাঁর চেহারার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আর কিছু ছিল না।
********
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনাস ইবনে মালেকের জন্য একাধিকবার দুআ করেছেন। তাঁর একটি দুআ ছিল:
‘হে আল্লাহ! তাকে দান করো সম্পদ ও সন্তান, আর বরকত দাও তার জীবনে।’
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীর দুআ কবুল করলেন। আনাস হলেন আনসার সাহাবীদের মাঝে সম্পদে ও সন্তানে সর্বাধিক প্রাচুর্যময়; এমনকি তিনি আপন জীবনকালেই দেখেছিলেন শতাধিক সন্তান ও নাতিকে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনে দিয়েছিলেন এমন বরকত যে তিনি বেঁচেছিলেন পূর্ণ এক শতাব্দীকাল আরও তিন বছর।
আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত প্রাপ্তির ব্যাপারে ছিলেন তীব্র আশাবাদী। তিনি প্রায়ই বলতেন , আমি কিয়ামতের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে হাজির হয়ে বলব, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
এই যে দেখুন আপনার ‘পিচ্চি’ খাদেম উনাইস।
আনাস ইবনে মালেক যখন মৃত্যুমুখে উপনীত হলেন, তখন নিজ পরিবারের লোকদের বললেন, তোমরা আমাকে লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর তালকীন করো।
এরপর তিনি ঐ কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি অসিয়ত করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছোট্ট লাঠি যেন তাঁর সঙ্গে কবরে দাফন করে দেওয়া হয়। সুতরাং সেটা তাঁর দেহের পাশে কামিসের মধ্যে রেখে দাফন করা হলো।
********
অভিনন্দন আনাস ইবনে মালেক আল-আনসারীর প্রতি, আল্লাহ তাআলা পূর্ণ করে দিয়েছেন তার প্রতি কল্যাণ।
তিনি মহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে কাটিয়েছেন পূর্ণ দশ বছর…
তিনি ছিলেন তাঁর হাদীস রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যক্তিত্ব, অন্য দু’জন ছিলেন আবু হুরাইরা এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর…
আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও মুসলিমজাতির পক্ষ থেকে দান করুন সর্বোত্তম বিনিময় ও তাঁর মা গুমাইসাকে।
তথ্যসূত্র :
১. আল-ইসাবা, ১ম খ-, ৭১ পৃষ্ঠা; আত্তারজামা: ১৭৭।
২. আল-ইসতীআব, ১ম খ-, ৭১ পৃষ্ঠা।
৩. তাহযীবুত তাহযীব, ১ম খ-, ৩৭৬ পৃষ্ঠা।
৪. আল-জামউ বাইনা রিজালিস সহীহাইন, ১ম খ-, ৩৫ পৃষ্ঠা।
৫. উসদুল গাবাহ, ১ম খ-, ৩৫৮ পৃষ্ঠা।
৬. সিফাতুস সফওয়া, ১ম খ-, ২৯৮ পৃষ্ঠা।
৭. আল-মাআরিফ, ১৩৩ পৃষ্ঠা।
৮. আল-ইবার, ১ম খ-, ১০৭ পৃষ্ঠা।
৯. সীরাতু বাতল, ১০৭ পৃষ্ঠা।
১০. তারীখুল ইসলাম লিযযাহাবী, ৩য় খন্ড, ৩২৯ পৃষ্ঠা।
১১. ইবনে আসাকির, ৩য় খ-, ১৩৯ পৃষ্ঠা।
১২. ইবনে তাসাকিরআল-জারাহ ওয়াত তাদীল, ১ম খ-, ২৮৬ পৃষ্ঠা।
