প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬, মুহাররম-সফর ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

হযরত সামুরা ইব্ন জুনদুব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা পরস্পরকে আল্লাহর লানত, ক্রোধ ও দোযখ দ্বারা লানত দিও না। (আবূ দাউদ, তিরমিযী) হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সত্যবাদী মুমিনের জন্য এটা শোভা পায় না যে, সে অত্যাধিক লানতকারী হবে। (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুমিন ব্যক্তিকে লানত বা অভিশাপ দেয়া কতল করার সমতুল্য।(বুখারী, মুসলিম)

হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : অধিক লানতকারীরা মহাপ্রলয়ের দিন সুপারিশকারীও হতে পারবে না এবং সাক্ষীও হতে পারবে না। (মুসলিম)

হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বান্দা যখন কোন কিছুর উপর লানত করে তখন তা আসমানের দিকে উঠে যায়। কিন্তু আসমানের দরজা সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। তখন তা পৃথিবীতে ফিরে আসে। কিন্তু সাথে সাথে পৃথিবীর দরজাও বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং তা আবার ডানে বামে ছুটাছুটি করে। কিন্তু সেখানেও যদি তা কোন স্থান না পায় তবে যার প্রতি লানত দেয়া হয়েছে সেখানে ফিরে যায়। যদি তা লানতের উপযোগী হয় তবে সেখানে পতিত হয়। অন্যথায় লানতকারীর কাছেই ফিরে যায়। (আবু দাউদ)

হযরত ইমরান ইব্ন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ভ্রমণে ছিলেন। (আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম)। এক আনসার মহিলা উটনীর পিঠে সওয়ার ছিল। সে তার উটনীকে তিরষ্কার করছিল আর লানত দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বলছিলেন : উটের পিঠের সামানপত্র নামিয়ে রেখে এটিকে ছেড়ে দাও। কেননা এখন এটি অভিশপ্ত। ইমরান (রা) বলেন : আমি এখনও যেন উটনীকে দেখতে পাচ্ছি। তা লোকজনের মাঝে চরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কেউ তার প্রতি দৃষ্টিপাত করছে না। (মুসলিম)

যেসব ক্ষেত্রে অভিশাপ দেয়া যায় :যেমন মহান আল্লাহ বলেন :

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ۚ أُولَٰئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَىٰ رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَٰؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَىٰ رَبِّهِمْ ۚ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ

অর্থঃ আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে। (সূরা হুদ : ১৮ )

ইমাম নববী (রহঃ) বলেন : সহীহ হাদীস হতে একথা প্রমাণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত দিয়ে বলেছেন : যে সব নারী পরচুলা লাগিয়ে নিজেদের কেশ লম্বা করে এবং যারা ঐ কাজ করে দেয় তাদের প্রতি আল্লাহর লানত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : আল্লাহ্ সুদখোরদের লানত দিয়েছেন। তিনি (নবী) জীব-জন্তুর ছবি নির্মাণকারীদের লানত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন : যারা জমির সীমানা অবৈধভাবে বদল করে তাদের প্রতি আল্লাহর লানত। যে ডিম চুরি করে, যে আপন পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়, যে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কিছুর নামে যবাই করে, এদের সকালের প্রতি আল্লাহ্ লানত দিয়েছেন। তিনি বলেন : যে ব্যক্তি মদীনা মনোয়ারায় শরীয়াত বিরোধী কোন কাজের প্রচলন করে এবং যে ব্যক্তি কোন বিদাআতী কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয় : তাদের প্রতি আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতা এবং সকল মানব লানত প্রদান করেন। তিনি এ বলে বদ্ দুআ করেছেন : হে আল্লাহ্! তুমি লানত বর্ষণ কর রেআল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যার গোত্রের উপর। কেননা তাঁরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। রেঅল, যাকওয়ান ও উসাউয়া আরবের তিনটি গোত্রের নাম। তিনি বলেছেন : আল্লাহ্ তায়ালা ইয়াহুদীদের লানত দিয়েছেন। তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বা সিজ্দার স্থানে পরিণত করেছে। যে সব পুরুষ নারী সাজে সজ্জিত হয় এবং যে সব নারী পুরুষের বেশে সজ্জিত হয় তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত দিয়েছেন। বর্ণিত সব কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এর কিছু সহীহ বুখারী এবং কিছু সহীহ মুসলিম আর কিছু উভয় কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আমি এখানে শুধু সংক্ষিপ্তভাবে ইশারা করেছি। (রিয়াদুস সালেহীন)