প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৬, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৭-৩৮ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

১. আল্লাহর তসবীহ করিয়াছে এমন প্রত্যেকটি জিনিস যাহা আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর বুকে বিরাজ করিতেছে। তিনিই সর্বজয়ী ও মহা বিজ্ঞানী।
২. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা কেন সেই কথা বল যাহা কার্যতঃ কর না?
৩. আল্লাহর নিকট ইহা অত্যন্ত ক্রোধ উদ্রেককারী ব্যাপার যে, তোমরা বলিবে এমন কথা যাহা কর না।
৪. আল্লাহতো ভালোবাসেন সেই লোকদিগকে যাহারা তাঁহার পথে এমনভাবে কাতারবন্দী হইয়া লড়াই করে যেন তাহারা ইস্পাত নির্মিত প্রাচীর১।
১ এর থেকে তো প্রথমতঃ জানা গেল সেই মুমিনরাই আল্লাহতা-য়ালার সন্তুি লাভে কৃতার্থ হয় যারা তাঁর রাস্তায় প্রাণপাত করতে ও বিপদ বরণ করতে প্রস্তুত থাকে। দ্বিতীয়তঃ এ কথাও জানা গেল যে, আল্লাহতা-য়ালা সেই সেনাদলকে পছন্দ করেন যার মধ্যে তিনটি গুণ পাওয়া যায় (১) তারা খুব বুঝে-সুঝে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে, এমন কোন পথে লড়াই করেনা যা আল্লাহর পথ নয়। (২) তারা বিশৃঙ্খলা ও বিচ্ছিন্নতায় লিপ্ত হয় না বরং দৃঢ় শৃঙ্খলার সঙ্গে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে। (৩) শত্র\”র মুকাবিলায় তারা লৌহপ্রাচীরবৎ হয়ে থাকে।

৫. আর স্মরণ কর মুসার সে কথা, যাহা সে নিজ জাতির লোকজনকে বলিয়াছিল, হে আমার জাতির জনগণ তোমরা কেন আমাকে উৎপীড়িত কর? … অথচ তোমরা ভালোভাবেই জান যে, আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল২। পরে তাহারা যখন বক্রতা অবলম্বন করিল, তখন আল্লাহ্ও তাহাদের দিলকে বাঁকা করিয়া দিলেন। বস্তুতঃ আল্লাহ্ ফাসেক লোকদিগকে হেদায়াত দান করেন না৩।
৬. আর স্মরণ কর মরিয়ম পুত্র ঈসার সেই কথা, যাহা সেই কথা যাহা সে বলিয়াছিল, হে বনী ইসরাঈল। আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পাঠানো রসূল৪। সত্যতা বিধানকারী সেই তওরাতের, যাহা আমার পূর্বে আসিয়াছে; আর সুসংবাদদাতা এমন একজন রাসূলের যে আমার পরে আসিবে, যাহার নাম হইবে আহমাদ৫।
২ একথা এজন্যে বলা হয়েছে বনী ইসরাঈল নিজ নবীর সাথে যেরূপ ব্যবহার করেছিল মুসলমান নিজ নবীর সঙ্গে যেন সেরূপ ব্যবহার না করে। অন্যথায় বনী ইসরাঈলের ভাগ্যে যে পরিণাম ঘটেছে তারাও অনুরূপ পরিণাম থেকে রক্ষা পাবে না।
৩ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার রীতি এ নয় যে যারা নিজেরা বাঁকা পথে চলতে চায় তিনি অহেতুক তাদের সোজা পথে চালাবেন, এবং যেসব লোক তাঁর অমান্যতায় উৎসাহী ও তৎপর তিনি তাদের বলপূর্বক সত্য-সঠিক পথে এনে কৃতার্থ করবেন।
৪ এ বনী ইসরাঈলের দ্বিতীয় অবাধ্যতার দৃান্ত। প্রথম নাফরমানী তারা নিজেদের উত্থান যুগের সূচনায় করেছিল। আর দ্বিতীয় নাফরমানী তারা করেছিল এই যুগের শেষ পর্যায়ে একেবারে সমাপ্তিতে যার পরে তাদের উপর চিরদিনের জন্যে আল্লাহর অভিশাপ পতিত হয়েছে। এই দুই ঘটনা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে খোদার রাসূলের সাথে বনী ইসরাঈলদের ন্যায় ব্যবহারের পরিণাম সম্পর্কে মুসলমানের সতর্ক করা।
৫ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এ হচ্ছে হযরত ঈসা (আ)-এর স্প ভবিষ্যৎ বাণীর উল্লেখ।
এর