প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৭, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৮ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
১. হে নবী! তোমরা যখন স্ত্রীলোকদিগকে তালাক দিবে, তখন তাহাদিগকে তাহাদের ইদ্দতের জন্য তালাক দাও১। আর ইদ্দতের সময়-কাল ঠিকভাবে গণনা কর। আর আল্লাহকে ভয় কর যিনি তোমাদের রব২। (ইদ্দত-কালে) না তোমরা তাহাদিগকে তাহাদের বসবাস ঘর হইতে বহিষ্কৃত কর, আর না তাহারা নিজেরা বাহির হইয়া যাইবে৩। তবে যদি তাহারা কোন সুস্পষ্ট অন্যায় কাজ করিয়া বসে তবে অন্য কথা৪- ইহা আল্লাহর নির্দিষ্ট করা সীমা।আর যে কেহ আল্লাহর নির্দিষ্ট করা সীমাসমূহ লঙ্ঘন করিবে, সে নিজের উপর যুলুম করিবে। তোমরা জান না, সম্ভবতঃ আল্লাহ উহার পর (মিলে-মিশের) কোন অবস্থা সৃষ্টি করিয়া দিবেন।
২. পরে যখন তাহারা নিজেদের (ইদ্দতের) সময়-কালের শেষে পৌঁছিবে, তখন হয় তাহাদিগকে ভালোভাবে (নিজেদের স্ত্রীত্বে) বাঁধিয়া রাখিবে, কিংবা ভালোভাবে তাহাদের হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইবে। আর এমন দুই জন লোককে সাক্ষী বানাইবে যাহারা তোমাদের মধ্যে সুবিচারবাদী হইবে৫। আর (হে সাক্ষীদ্বয়!) সাক্ষ্য ঠিক ঠিকভাবে আল্লাহর জন্য আদায় কর। এই সব তোমাদিগকে নসীহতস্বরূপ বলা হইতেছে-এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এই নসীহত যে আল্লাহ ও পরকালের দিনের প্রতি ঈমানদার৬।
টীকাঃ
১ ‘ইদ্দতের জন্যে তালাক দেয়ার’ দুইটি মর্ম হতে পারে। প্রথম- হায়েযের অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিওনা। বরং এমন সময় তালাক দাও যে সময় থেকে তার ‘ইদ্দত’ শুরু হতে পারে। দ্বিতীয়- ইদ্দতের মধ্যে রুজুর (পুনঃগ্রহণের) অবকাশ রেখে তালাক দাও, এরূপভাবে তালাক দিওনা যার দ্বারা ‘রুজু’র অবকাশ-ই-না থাকে। হাদীসসমূহে এই আদেশের যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় সে অনুসারে তালাকের পদ্ধতি হচ্ছে : হায়েযের সময় তালাক না দেয়া। বরং সেই তোহারে তালাক দেয়া যার মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করেনি বা সেই অবস্থায় তালাক দেয়া যখন স্ত্রীর গর্ভবতী হওয়া জানা যায় এবং একই সময় তিন তালাক না দিয়ে ফেলা।
২ অর্থাৎ তালাককে ‘খেল-তামাশা’ মনে করোনা, যে তালাকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ঘটে যাওয়ার পর এটাও স্বরূপ রাখা না হয় যে- কখন তালাক দেয়া হয়েছিল, কখন ইদ্দত শুরু হ’ল ও কখন তা শেষ হবে। যখন তালাক দেয়া হয়, তখন তার তারিখ ও সময় স্মরণ রাখা আবশ্যক এবং এও স্মরণ রাখা দরকার যে কোন্ অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়েছে।
৩ অর্থাৎ পুরুষ ক্রোধ বশে স্ত্রীকে যেন ঘর থেকে বের করে না দেয় এবং স্ত্রীও যেন ক্রোধ করে গৃহত্যাগ না করে। ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘর তার, সেই ঘরেই উভয়কে থাকতে হবে। যাতে কোন পারস্পরিক আনুকূলের অবস্থা যদি সৃষ্টি হয়, তবে তা থেকে যেন ফায়দা উঠানো যায়। উভয়ে যদি এক ঘরে অবস্থান করে তবে তিন মাস বা তিন হায়েয আসা পর্যন্ত বা গর্ভবর্তী অবস্থায় প্রসব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ সুযোগ বারবার আসার সম্ভাবনা আছে।
৪ অর্থাৎ যদি কুবদন চলে বা ইদ্দতের মধ্যে ঝগড়া লড়াই করে ও কুবাক্য বলতে থাকে।
৫ এর মর্ম- তালাকে সাক্ষী রাখা ও রুজু করার সময়ও সাক্ষী রাখা।
৬ এই পথগুলো দ্বারা স্বতঃই বোঝা যায় যে- উপরে যে হেদায়াত দেয়া হয়েছে তা উপদেশ স্বরূপ বলা হয়েছে, কানুন হিসেবে তা নির্দেশ দেয়া হয়নি। যদি কেউ উপরে বর্ণিত পদ্ধতি ভঙ্গ করে তালাক দিয়ে বসে, ইদ্দত ঠিকভাবে গণনা না করে স্ত্রীকে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই ঘর থেকে বহিষ্কার করে, ইদ্দতের পর যদি রুজু করে তো স্ত্রীকে নির্যাতন করার জন্যে রুজু করে, এবং বিদায় করে দেয় তো ঝগড়া বিবাদের সঙ্গে বিদায় করে এবং তালাক, ‘মোফারেকত’ যাই হোক না কেন, কোন অবস্থা যদি সাক্ষী না রাখে তবে তার জন্যে তালাক, রুজু ও মোফারেকতের আইনগত পরিণতির মধ্যে কোন পার্থক্য সৃষ্টি হবে না। অবশ্য আল্লাহ তায়ালার উপদেশের বিরোধী কাজ করায় একথা প্রমাণিত হবে যে তার অন্তরে আল্লাহ ও ‘শেষ দিন’ সম্পর্কে সঠিক ঈমান বর্তমান নেই; এই কারণে সে এমন কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করেছে যা একজন সাচ্চা মু’মিনের পক্ষে করা উচিত নয়।
