প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬, মুহাররম-সফর ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
কিন্তু কার্যতঃ সে যখন তাহাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনাদি লইয়া উপস্থিত হইল, তখন তাহারা বলিলঃ ইহাতো সুস্পষ্ট প্রতারণা মাত্র১।

৭. এক্ষণে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বড় অত্যাচারী আর কে হইবে যে আল্লাহর উপর মিথ্যা দোষারোপ করে২, অথচ তাহাকে ইসলামের (আল্লাহর সম্মুখে আনুগত্যের মস্তক অবনমিত করিবার) আহ্বানই জানানো হইতেছিল৩। … এইরূপ যালেমদিগকে আল্লাহ্ কখনও হেদায়াত দান করেন না।

৮. এই লোকেরা নিজেদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করিতে চাহে। আর আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করিতে চাহে। আর আল্লাহর সিদ্ধান্ত হইল, তিনি তাঁহার নূরকে সম্পূর্ণরূপে বিস্তারিত ও প্রসারিত করিবেনই, কাফেরদের পক্ষে তাঁহা যতই অসহনীয় হউক না কেন।

১ মূলে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে যাদু অর্থে এ শব্দ ব্যবহৃত হয়নি, ধোকা ও প্রতারণার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আরবী অভিধানে যাদুর ন্যায় এ শব্দের অর্থও প্রচলিত। আয়াতের মর্ম হচ্ছে ঈসা (আ.) যে নবীর আগমনের সুসংবাদ দিয়ে দিয়েছেন তিনি যখন নিজের নবী হওয়ার সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ নিয়ে আগমন করলেন তখন নবী ইসরাঈল ও ঈসা (আ.)-এর উম্মত তার নবী হওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণরূপে প্রতারণা বলে অভিহিত করলো।
২ অর্থাৎ আল্লাহর প্রেরিত নবীকে মিথ্যা দাবীদার বলে অভিহিত করে এবং নবীর উপর অবতীর্ণ আল্লাহর বাণীকে নবীর মন-গড়া কথা বলে গণ্য করে।
৩ অর্থাৎ প্রথমতঃ সত্য নবীকে মিথ্যা দাবীদার বলা কম যুলুম নয়। তারপর তার উপর আরো এ অতিরিক্ত যুলুম করা যে আহ্বানকারী তো খোদার বন্দেগীর ও আনুগত্যের দিকে আহ্বান করে আর শ্রবণকারী তার উত্তরে তাকে গালিমন্দ দেয় ও তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপবাদ এবং করত দোষারোপ প্রভৃতি অপকৌশল অবলম্বন করে।

৯. তিনিই তো নিজের রসূলকে হেদায়াত ও সত্যদ্বীন সহকারে পাঠাইয়াছেন, যেন উহাকে সর্ব প্রকারের দ্বীনের উপর বিজয়ী করিয়া দেয়, তাহা মুশরিকদের পক্ষে সহ্য করা যতই কঠিন হউক না কেন।

১০. হে লোকেরা যাহারা ঈমান আনিয়াছ, আমি কি তোমাদিগকে সেই ব্যবসায়ের কথা বলিব যাহা তোমাদিগকে পীড়াদায়ক আযাব হইতে রক্ষা করিবে?

১১. তোমরা ঈমান আন আল্লাহ্ ও তাঁহার রসূলের প্রতি। আর জিহাদ কর আল্লাহ’র পথে মাল-সম্পদ ও নিজেদের জানপ্রাণ দ্বারা। ইহাই তোমাদের জন্য অতীব উত্তম, যদি তোমরা জান।

১২. আল্লাহ্ তোমাদের গুণাহ্-খাতা মাফ করিয়া দিবেন এবং তোমাদিগকে এমন সব বাগ-বাগিচায় প্রবেশ করাইবেন যে সবের নীচ দিয়া ঝর্ণা ধারা সদা প্রবাহিত