প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৭ম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৭, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৯ হিজরী,অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
বরাবরের মতো সেদিনও আমি যথারীতি কলেজে গেলাম। বি.এ. ক্লাসে প্রবেশ করলাম। সামনে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট ছাত্ররা বসা। সেদিন আমার লেক্চারের বিষয় ছিল ‘সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। আমি ছাত্রদের সামনে মুখোমুখী হয়ে দাঁড়ালাম। ভাবলাম, তাদের জানার পরিধি ও জ্ঞানের গভীরতাটা একটু যাচাই করে নিই। ভাবনা অনুযায়ী কাজ। জিজ্ঞাসা করলাম-
প্রিয় ছাত্ররা! নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কোনো চারজন স্ত্রীর নাম বল তো…
এত সহজ প্রশ্ন করে ভিতরে ভিতরে আমি কিছুটা বিব্রত ও লজ্জা বোধ করছিলাম। কেউ হয়তো ভাববে- আরে! বি.এ ক্লাসের ছাত্রদেরকে করার মতো এটাও কি একটা প্রশ্ন হল?!
ক্লাসে চল্লিশজন ছাত্র ছিল। তাদের একজন হাত উঠিয়ে বলল, ডক্টর সাহেব! আমি বললাম, হাঁ, বল। সে উত্তর দিল- খাদীজা রাযিয়াল্লাহু আনহা।
শাবাশ! বলে আমি হাতরে আঙ্গুলে গুণতে শুরু করলাম। কিন্তু সে আর কোনো নাম বলতে পারল না। চুপ হয়ে গেল। এরই মধ্যে অপর এক ছাত্র হাত উঠিয়ে বলল- ডক্টর সাহেব! আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা। আমি বললাম, এই তো বেশ! চমৎকার!
এরপর এ যুবকও চুপ হয়ে গেল। সে-ও আর কোনো নাম উচ্চারণ করতে পারল না। অবশিষ্টরা হয়রান হয়ে বসে রইল। চল্লিশজন ছাত্র সবাই চুপ হয়ে গেল! হাঁ, চল্লিশজন ছাত্র সবাই-ই চুপ হয়ে গেল!!…
আমি অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের দেখছিলাম আর ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা মর্মবেদনার বর্ণমালা বারবার তাদের সামনে আবৃত্তি করছিলাম- আফসোস! আফসোস তোমাদের জন্য!! তোমাদের রাসূলের সঙ্গেই তোমাদের পরিচয় নেই! তোমরা তোমাদের পবিত্র মা‘দের পরিচয়ও জান না! এতটাই উদাসীন তোমরা! কী হবে তোমাদের!…
এরই মধ্যে অপর এক ছাত্র আওয়াজ দিয়ে বলল- ডক্টর সাহেব! ডক্টর সাহেব! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকজন স্ত্রীর নাম আমার মনে পড়েছে। আমি বললাম, বল।
সে বলল, আমিনা! আমিনা!!…
তার জওয়াব শুনে আমার মাথায় হাত! বললাম, আরে নাদান! আমিনা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মায়ের নাম! আল্লাহ তোমায় হেদায়েত দান করুন!…
ছেলেটি লজ্জায় লাল হয়ে গেল; একদম চুপ হয়ে গেল।
অবস্থা দেখে তাদের একজন ভাবল, আমি এমন এক জওয়াব দিব, যাতে ডক্টক সাহেবের চেহারায় ছেয়ে যাওয়া হতাশার মেঘ দূর হয়ে যায়। তাই সে বলল, ডক্টর সাহেব! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকজন স্ত্রীর নাম আমার স্মরণ হয়েছে। বললাম, বল, তাঁর নাম কী? সে বলল, ফাতেমা!!…
তার উত্তর শুনে কিছু ছাত্র হেসে ফেলল। কেউ কেউ তাজ্জবের দরিয়ায় ডুবে গেল। তৃতীয় আরেকটি দল ছিল সেইসব ছাত্রের, যাদের কোনো খবরই ছিল না যে কী হয়েছে! কারণ, তাদের ধারণায় উত্তর সঠিকই হয়েছে। তাদের মতেও ‘ফাতেমা’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীর নাম।…
আস্তাগফিরুল্লাহ!
আমার হতাশা ও মর্মবেদনা বহুগুণ বেড়ে গেল। বললাম, আরে বেখবর! আল্লাহ তাআলা তোমাকে হেদায়েত দান করুন! ফাতেমা রাযিয়াল্লাহু আনহা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে ছিলেন!
এ ছাত্রটির অবস্থাও হল তার পূর্ববর্তীদের ন্যায়। তার উপরও নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেল। বরং সকল ছাত্রই একদম চুপ হয়ে গেল।
সকলেই চুপচাপ। কিছুক্ষণ এভাবেই কেটে গেল। তারপর নীরবতা ভঙ্গ করে আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে, তোমরা আমাকে কোনো ফুটবল টিমের পাঁচজন খোলোয়াড়ের নাম বল। এ বলে আমি কাছাকাছি ও জানাশোনা কোনো টিমের নাম বললাম না; বরং এমন এক টিমের নাম জিজ্ঞাসা করলাম, যার খেলোয়াড়দের নাম আমার ধারণায়ও ছিল না। ভেবেছিলাম তারা আমার এই প্রশ্নের জওয়াব দিতে পারবে না। যাহোক তাদেরকে বললাম, তোমরা ব্রাজিলের ফুটবল টিমের খেলোয়াড়দের নাম বল!
ব্যস, প্রশ্নটা করতে যতটুকু দেরি! পুরো ক্লাশরুমে ‘আমি বলছি… আমি বলছি…’ রব পড়ে গেলে; পুরো রুম গর্জে উঠল। অতঃপর একের পর এক খেলোয়াড়ের নাম উচ্চারিত হতে লাগল; বলা ভালো গার্জিত হতে লাগল রোনাল্ডো… টিডো… ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি হাতের আঙ্গুলে নামগুলো গুণতে শুরু করলাম। গুণতে গুণতে এক হাতের আঙ্গুল হয়ে গেল। অতঃপর আরেক হাতে গুণতে শুরু করলাম। ওই হাতের আঙ্গুলগুলোও শেষ হয়ে গেল। আমি পুনরায় ডান হাতে গুণতে শুরু করলাম। যখন তারা পনেরোতম খেলোয়াড়ের নাম পর্যন্ত পৌঁছল, তখন আমি তাদের বললাম, ব্যস্ ব্যাস্ থামো! আমি যদ্দুর জানি, কোনো টিমে এগারো জনের বেশি খেলোয়াড় থাকে না। তোমরা পনেরো জনের নাম পেলে কোথায়? তারা উত্তর দিল, আমরা সতর্কতামূলক পুরোনো খেলোয়াড়দের নামও বলে দিয়েছি।
আশ্চর্য! তাদের অবস্থাটা খানিক অনুভব করার চেষ্টা করুন!
আরও লজ্জার ব্যাপার হচ্ছে, যখন তারা খেলোয়াড়দের নাম বলছিল আর আমি আঙ্গুলে গণনার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সঙ্গে নামগুলো উচ্চারণও করছিলাম, তখন ভুলবশত আমি যদি কোনো খেলোয়াড়ের নাম ভুল উচ্চারণ করতাম, তা হলে সেটাকে তারা আমার অজ্ঞতা মনে করে হাসত যে, ইনি তো দেখি খেলোয়াড়দের নামও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না! সাথে সাথেই তারা পুনরায় সেই নাম উচ্চারণ করে আমাকে শুধরে দিত যে, আপনি যেভাবে উচ্চারণ করেছেন, তা ভুল।
সঠিক হচ্ছে এই…
আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন-
তারা কি তাদের রাসূলকে চিনে না? ফলে তারা তাকে অস্বীকার করে। (সূরা মু‘মিন : আয়াত ৬৯)
মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ো না
তারা আমার চেহারায় পেরেশানী ও দুশ্চিন্তার ছাপ অনুভব করতে পেরেছিল। তাই অপারগতা প্রকাশ করে কৈফিয়তের সুরে বলল, ডক্টর সাহেব! আমাদের তিরস্কার করবেন না। এতে আমাদের কোনো দোষ নেই। মূলত মিডিয়া এ সকল খেলোয়াড়দের নাম এতবেশি প্রচার ও পরিচিত করে তুলে যে, তাদের নাম আমাদের এমনিতেই মুখস্থ হয়ে যায়!
আমি তাদের বললাম, মিথ্যা বাহানা বানিয়ো না; খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়ো না। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য খবরাখবর প্রচার করা ও দৃশ্যপটে নিয়ে আসার অধিকার মিডিয়ার আছে, কিন্তু মিডিয়ার এ ক্ষমতা কখনোই নেই যে, তোমাদেরকে অমুসলিম খেলোয়াড়দের মতো আকৃতিধারণ ও সাদৃশ্যগ্রহণ করতে বাধ্য করবে; তাদের আচার-আচরণ ও স্টাইল আপন করে নিতে জোর-জবরদস্তি করবে; এবং তোমাদেরকে এ হুকুম দিবে যে, তোমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চল।
বরং তোমরাই সংবাদপত্র তন্ন তন্ন করে তাদের খবরাখবর অনুসন্ধান কর; তাদের নাম মুখস্থ কর; তাদের গল্প কাহিনী বারবার চর্চা কর…
দেখ! মিডিয়া আমাদেরকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ওইসকল খেলোয়ারদেরকে আলোচনার বিষয়বস্তু বানাতে বাধ্য করেনি; আমাদের চালচলন, ওঠাবসা, কথাবার্তা, আকৃতি-গঠন, রঙ-ঢঙ, কাপড়-চোপড় ও খাবার-দাবারসহ যাবতীয় কিছু হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের বরকতময় জীবনের মতো করে গড়ে তুলতে বাধ্য করেনি। আফসোস! তোমরা কি রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ ঘোষণা শোননি- যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩১)
তা ছাড়া মিডিয়ার ওজর দেখানো একেবারেই ভিত্তিহীন। কেননা, একদিকে যেমন খেলাধুলা, সিনেমা, ফিল্ম ইত্যাদি প্রচারের উপকরণ বিদ্যমান রয়েছে, অপরদিকে তেমনই ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন প্রচার-প্রসারের উপকরণও বর্তমান আছে। অবশ্য আমি এটা স্বীকার করি যে, অশ্লীল ও বেহায়াপনার কালচারের বিপরীতে ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার ও সংস্কৃতি প্রচারের মাধ্যম ও উপকরণ তুলনামূলক কম; ভালো ও গ্রহণযোগ্য পত্রিকার সংখ্যা কম, অপরদিকে টিভি চ্যানেলসহ ইন্টারনেটের প্রায় অধিকাংশ প্রোগ্রামই পথভ্রষ্টকারী ও রুচিবোধ-বিরোধী, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের তো কেউ বাধ্য করেনি যে, আমরা দ্বীনি শিক্ষা-দীক্ষা ছেড়ে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব, যারা নিজেরাও দ্বীন-ধর্ম থেকে বঞ্চিত, এবং অন্যদের জন্যও দ্বীন-ধর্ম থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপায়-উপকরণ সরবরাহ করছে।
আরও একটি আশ্চর্য ঘটনা শুনুন! কিছু দিন আগে আমি একটি গ্রামে লেকচার দিয়েছিলাম। আমি আবারও বলছি- সেটি কোনো শহর বা উপশহর ছিল না, সেটি ছিল একটি গ্রাম। সেখানে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন-চরিত।’ আলোচনা শেষে আমি তাদের সামনে সীরাতে নববীর অধ্যয়ন ও তার পরিপূর্ণ অনুসরণে সচেষ্ট হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে আমি ও আমার ছাত্রদের মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ শুনালাম। আমার ঠিক সামনেই একদম মুখোমুখি হয়ে বসা ছিল কয়েকটি অল্প বয়সী ছেলে। যাদের বয়স ১০ এর বেশি হবে না। ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে দিয়ে তাদেরকে বললাম- ‘আমি আমার ছাত্রদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তোমরা আমাকে ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কোনো চারজন স্ত্রীর নাম বল… ‘অতঃপর আমার ছাত্রদেরকে ব্রাজিলের পাঁচজন খেলোয়াড়ের নাম জিজ্ঞাসা করলাম…’ তখন আমার সামনে বসে থাকা সকল ছেলেই চিৎকার দিয়ে বলে উঠল- ‘আমি বলব… আমি বলব…’
বেচারারা মনে করেছিল- এ প্রশ্ন আমি খোদ তাদেরকেই করেছি। প্রিয় পাঠক! এই ঘটনাকে আমি সংরক্ষণ করা জরুরি মনে করলাম এবং মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য উপমা হিসেবে গনীমতরূপে গণ্য করলাম। যাহোক, আমি তাদের একজনের দিকে মনোযোগী হলাম এবং বললাম ওহে দুষ্টু! তুমিই এর উত্তর দাও। সে বলতে শুরু করল- রোনান্ডো… ছেলেটি আরও নাম উচ্চারণ করতে চেয়েছিল।
কিন্তু আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম ব্যস্্, এটুকুই যথেষ্ট। অতঃপর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ওরে পুচকে! তুমি কোন ক্লাসে পড়? সে কোনো রকম ইতস্ততা না করে অকম্পিতভাবে উত্তর দিল, চতুর্থ শ্রেণির খ গ্রুপে।
এরপর আমি আরেকজনের দিকে তাকিয়ে বললাম, হাঁ, এবার তুমি বল। সে বলতে শুরু করল- টিগো… আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কোন ক্লাসে পড়? ছেলেটি উত্তর দিল, পঞ্চম শ্রেণিতে ঘ গ্রুপে।
আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে এল। পরবর্তীতে আমার থেকে এ দুঃখজনক ঘটনা শুনে আরও অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়েছে। এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ যখন নিজের মহান পথপ্রদর্শককে ভুলে সেই সমস্ত লোকের অনুসরণ-অনুকরণে লেগে যায়, যাদের প্রতিটি কথা ও কাজের ভিত্তি হচ্ছে ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে শত্রুতা ও বেয়াদবির উপর; মুসলমানের সন্তানরা যখন অমুসলিমদের কালচারের প্রতিনিধিত্ব করে, তখন আসমান ফেটে যাওয়া ও জমিন বিদীর্ণ হয়ে যাওয়াই উচিত; এবং মানুষের চোখ থেকে অশ্রুর পরিবর্তে নদী প্রবাহিত হওয়া উচিত।
আমি যখন মুসলমানদের সন্তানদেরকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে এতটা অপরিচিত ও অচেনা দেখলাম, তখন আমার অন্তর আমাকে তিরস্কার করল; ভর্ৎসনা করল। আমি বুঝতে পারলাম, এ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুপম আদর্শকে সমগ্র জগতের সামনে ব্যাপক করে দেওয়া। যেন সবদিক থেকেই আওয়াজ ওঠে- যদি কাউকে মডেল বানাতে হয়, যদি নিজেদের পরিবেশ পবিত্র করতে এবং তাহযীব-তামাদ্দুনের জন্য কাউকে আদর্শ বানাতে হয়, তা হলে একমাত্র মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই বানানো হবে; তাঁরই আলোচনা করা হবে; নিজেদের যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি ও কমতিগুলো তাঁরই বাণী ও আমলের আলোকে বিশুদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিশুর মুখে যেন খেলোয়াড়দের নামের পরিবর্তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম উচ্চারিত হয়। কারণ, তিনি আমাদের নিকট আমাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি এমনকি নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়।
প্রিয় পাঠক! আমরা এ বিভাগে পবিত্র সীরাতের মুক্তো বেছে বেছে সংকলন করবো। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মু’জিযা ও তাঁর নবুওয়তের সত্যতার প্রমাণাদি লিখিত হবে। সাথে সাথে আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি দিন প্রতিটি ক্ষণ কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুপম আদর্শের আলোকে অতিবাহিত করব তারও বিবরণ তুলে ধরা হবে ইনশা-আল্লাহ। যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের সমূহ কল্যাণ দানে ধন্য করেন। আমীন॥
