প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৭, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৮ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ পরিচিতি

হাজ্জের আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। ইসলামী পরিভাষায় হাজ্জ হলো আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়কালে নির্দিষ্ট ক্রিয়া-পদ্ধতির মাধ্যমে মাক্কাহ্য় গিয়ে বাইতুল্লাহ যিয়ারাত করার ইচ্ছা করা।

‘উমরাহ এর আভিধানিক অর্থ হলো ঃ আবাদ স্থানের সংকল্প করা, পরিদর্শন করা, সাক্ষাৎ করা। ইসলামী পরিভাষায় ‘উমরাহ হলো ঃ আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে অনির্দিষ্ট সময়কালে নির্দিষ্ট ক্রিয়া-পদ্ধতি সহকারে মাক্কায় গিয়ে বাইতুল্লাহ যিয়ারাতের সংকল্প করা।

‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : তোমরা পরপর একত্রে হাজ্জ ও ‘উমরাহ করো। কেননা এ হাজ্জ ও ‘উমরাহ দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়। যেমন হাপর আগুনে লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর হয়। একটি কবুল হজ্জের বিনিময় জান্নাত ছাড়া কিছু নয়। (হাসান সহীহ : তিরমিযী হা/৮১০- হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু মাজাহ হা/২৮৮৭, আহমাদ হা/১৬৭, ৩৬৬৯, ১৫৬৯৪, ১৫৬৯৭, ১০৬৯৮, সিলসিলাহ সহীহাহ হা/১২০০। ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি সহীহ, সহীহ ও গরীব। আহমাদ শাকির বলেন (হা/৩৬৬৯, ১৫৬৩৪) : সানাদ সহীহ। শু‘আইব আরনাউত্ব বলেন : হাদীসটি সহীহ লিগাইরিহি। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।)

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : যদি কেউ হাজ্জ করে এবং তাতে কোনরূপ অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ না করে, তবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ তরে দেয়া হয়।(হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/৮১১- হাদীসের শব্দাবলী তার। ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান ও সহীহ। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীস সহীহ। হাজ্জাতুন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম))

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : কবুল হাজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছু নয়। আর দুই ‘উমরাহ তার মধ্যকার গুনাহসমূহের কাফ্ফারাহ স্বরূপ। (হাদীস সহীহ : আহমদ হা/৯৯৩১- হাদীসের শব্দাবলী তার। শু‘আইব আরনাউত্ব বলেন : এর সানাদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। আহমাদ শাতির বলেন (হা/৭৩৪৮, ৯৯০৩) : এর সানাদ সহীহ। দারিমী হা/১৭৯৫, ‘আবদুর রাযযাক হা/৮৭৯৮, তিরমিযী হা/৯৩৩। ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান সহীহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : “এক ‘উমরাহর পর আরেক ‘উমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফ্ফারাহ। আর জান্নাতই হলো কবুল হাজ্জের প্রতিদান।” (সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম হা/৩৩৫৫, আহমাদ হা/৯৯৫৫, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকলো, সে যেন ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে হাজ্জ থেকে ফিরে আসবে যেদিন তাকে তার মা জন্ম দিয়েছে। (হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১৪২৪- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ মুসলিম হা/৩৩৫৭। নাসায়ী হা/৩২৬২৭, ইবনু মাজাহ হা/২৮৮৯- তাহক্বীক্ব আলবানী : সহীহ। আহমদ শাকির বলেন (হা/৭১৩৬, ৯২৮৪) : এর সানাদ সহীহ। দারিযী হা/১৭৯৬- তাহক্বীক্ব হুসাইন সালীম আসাদ : সানাদ সহীহ।)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম ‘আমল কোনটি? তিনি বললেন : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন : আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন : কবুল হাজ্জ। (হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/২৫- হাদীসের শব্দাবলী তার, অনুরূপ সহীহ মুসলিম হা/২৫৮। তিরমিযী হা/১৬৫৮- ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান সহীহ, তাহক্বীক্ব আলবানী : সহীহ। দারিমী হা/২৩৯৩- তাহক্বীক্ব হুসাইন সালীম আসাদ : হাদীস বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। আহমদ হা/৭৫৯০- তাহক্বীক্ব শু‘আইব : সানাদ সহীহ। ইবনু হিব্বান হা/১৫৩, ইবনু আবূ ‘আসিম ‘জিহাদ’ হা/২১, ইবনু মানদাহ ‘আল-ঈমান’ হা/২৮৮, বাগাভী হা/১৮৪০।)

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো জিহাদকে সর্বোত্তম ‘আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : না, বরং তোমাদের (নারীদের) জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হলো, হাজ্জে মাবরূর (কবুল হাজ্জ)। (হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১৪২৩- হাদীসের শব্দাবলী তার, আহমদ হা/২৪৪৯৭, এবং আহমাদ শাকিরের তাহক্বীক্ব হা/২৪৩৪৪, ২৪২৬৪, ২৪৩০৩, ২৫২০১, ২৫২০৪, বায়হাক্বী সুনানুল কুবরা হা/৮৪০১। আহমাদ শাকির বলেন : সানাদ সহীহ। উল্ল্যেখ, আহমাদের বর্ণনার রয়েছে : হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ হলো নারীদের জিহাদ।)

রামাযান মাসে ‘উমরাহ করার ফাযীলাত

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক আনসারী মহিলাকে বলেন : রামাযান মাস এলে ‘উমরাহ করে নিবে। কেননা, রমযানের একটি ‘উমরাহ একটি হাজ্জের সমতুল্য। (হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৩০৯৭, নাসায়ী হা/২১১০- হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু মাজাহ হা/২৯৯১- তাহক্বীক্ব আলবানী : সহীহ। ইরওরাউল গালীল হা/৮৬৯। দারিমী হা/১৮৫৯- তাহক্বীক্ব হুসাইন সালমি আসাদ : সানাদ সহীহ। আহমাদ হা/১৭৬০০, ২০২৫ – তাহক্বীক্ব শু‘আইব আরনাউত্ব : হাদীসটি সহীহ। আহমাদ শাকির বলেন (হা/২৮০৯, ১৫২০৬, ১৪৮১৮, ১৭৫৩০, ১৭৫৩২, ১৭৫৯২) : সানাদ হাসান ও সহীহ।)

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : রামাযান মাসে একটি ‘উমরাহ করা একটি ফরয হাজ্জ আদায় করার সমান অথবা তিনি বলেছেন : আমার সাথে একটি হাজ্জ আদার করার সমান।(হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১৭৩০- হাদীসের শব্দাবলী তার, এবং হাদীসের প্রথমাংশ সহীহ মুসলিম, এবং আহমদ হা/২৮০৮, ১৪৭৯৫, ১৪৮৮২, ১৫২৭০, ১৭৫৯৯)

শিশুদের হাজ্জ করানোর ফাযীলাত

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা তার শিশু সন্তানকে উঁচিয়ে ধরে বললো : হে আল্লাহর রাসূল! এর জন্য কি হাজ্জ আছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : হাঁ, তবে এর সাওয়াব তোমার। (হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৩৩১৭- হাদীসের শব্দবলী তার, তিরমিযী হা/৯২৪, ইবনু মাজাহ হা/২৯১০- উভয়ে জাবির হতে, ইরওয়াউল গালীল হা/৯৮৫। ইমাম তিরমিযী বলেন : জাবির বর্ণিত হাদীসটি গরীব। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীস সহীহ।)

ইহরাম অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে তার ফযীলাত

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর সাথে এক সফরে ছিলাম। সে সময় ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তি হঠাৎ তার উটের পিঠ হতে পড়ে গিয়ে ঘাড় ভেঙ্গে মারা গেলো। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তোমরা তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল দাও এবং দু’ কাপড় কাফন দাও। তবে তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা, ক্বিয়ামাতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।(হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১৭১৭, সহীহ মুসলিম হা/২৯৪৯, মিরমিযী হা/৯৫১- হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু মাজাহ হা/৩০৮৪, ইরওয়াউল গালীল হা/১০১৬। ইমাম তিরমিযী বলেন : এই হাদীসটি হাসান ও সহীহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

তালবিয়া পাঠের ফাযীলাত

আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হাজ্জ সর্বোত্তম? তিনি বললেন : যে হাজ্জে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা হয় ও কুরবানী করা হয় সেই হাজ্জ উত্তম। (হাসান সহীহ : তিরমিযী হা/৮২৭- হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু মাজাহ হা/২৯২৪, ইবনু খুযাইমাহ হা/২৬৩১, দারিমী হা/৮১৫১, দারাকুতনী হা/২৪৪৬, মুস্তাদরাক হাকিম হা/১৬৬৫- যাহাবীর তা‘লীক্বসহ, ত্বাবারানী কাবীর হা/৭৯৭, বাযযার হা/৭২, সিলসিলাহ সহীহাহ হা/১৫০০। ইমাম হাকিম বলেন : এই হাদীসের সানাদ সহীহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : যে কোন মুসলমান তালবিয়া পাঠকারীর অনুসরণে তার ডান ও বামের পাথর, বৃক্ষরাজি সবকিছুই তার সাথে তালবিয়া পাঠ করে। যতক্ষণ না যমীন তার এদিক ওদিক তথা ডান ও বাম পার্শ্ব হতে ধ্বংস হয়ে যায়।(হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/৮২৮- হাদীসের শব্দাবলী তার- তাহক্বীক্ব আলবানী : সহীহ। ইবনু খুযাইমাহ হা/২৬৩৪- তাহক্বীক্বডক্টর মুস্তাফা আ‘যী : এর সানাদ সহীহ। বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২৫৫০)

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : আমি যেন দেখছি, মূসা (আঃ) সানিয়্যাহ থেকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় অবতরণ করেছেন এবং এভাবেই তিনি মহান আল্লাহর নিকটে যাচ্ছেন।(হাদীস হাসান : আবূ ইয়ালা হা/৪৯৬২, ত্বাবারানী কাবীর হা/১০১০৬- হাদীসের শব্দাবলী উভয়ের, সিলসিলাতুল আহাদীসির সহীহাহ্ হা/২০২৩। আবূ ইয়ালার তাহক্বীক্ব গ্রন্থে হুসাইন সালীম আসাদ বলেন : সানাদ যঈদ। আল্লামা হায়সামী ‘মাজমাউয যাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে (হা/৫৩৫১) বলেন : হাদীসটি আবূ ইয়ালা ও ত্বাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদ হাসান। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।)

সায়িব ইবনু খাল্লাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন আমার সাহাবীদের এবং যারা আমার সাথে রয়েছে তাদেরকে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ করি।(হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/৮২৯- হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু মাজাহ হা/২৯২২, আহমাদ হা/১৬৫৫৭। ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান ও সহীহ। আহমাদ শাকির বলেন (হা/১৬৫০৯, ১৬৫২০, ১৬৫২১, ১৬৫২২) : এর সানাদ সহীহ। শু‘আইব আরনাউত্ব বলেন : সানাদ সহীহ এবং রিজাল সিক্বাত। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি সহীহ।)

হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার ফাযীলাত

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : আল্লাহ অবশ্যই ক্বিয়ামাতের দিন হাজরে আসওয়াদকে উত্থিত করবেন। তার দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখতে পাবে। একটি জিহবা বা মুখ থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে এবং যারা তাকে ন্যায়নিষ্ঠভাবে স্পর্শ করেছে তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। (হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/৯৬১- হাদীসের শব্দাবলী তার- ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীস সহীহ। অনুরূপ আহমাদ হা/২২১৫- তাহক্বীক্ব শু‘আইব আরনাউত্ব : হাদীসটি সহীহ। আহমাদ শাকির বলেন (হা/২৬৪৩, ২২১৫, ২৩৯৮, ২৭৯৭, ৩৫১১) : এর সানাদ সহীহ। দারিমী হা/১৮৩৯- তাহক্বীক্ব হুসাইন সালীম আসাদ : সানাদ সহীহ। মুস্তাদরাক হাকিম হা/১৯৮০- যাহাবীর তা‘লীক্বসহ। ইমাম হাকিম বলেন : এই হাদীসের সানাদ সহীহ, এর সহীহ শাহেদ রয়েছে। ইবনু মাজাহ হা/২৯৪৪, ইবনু হিব্বান, ইবনু খুযাইমাহ হা/২৭২৫, বায়হাক্বী।)

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি : হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর স্পর্শ পাপ সমূহকে সম্পূর্ণ মুছে দেয়। (হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/৯৫৯, মুস্তাদরাক হাকিম হা/১৭৯৯- হাদীসের শব্দাবলী উভয়ের, আহমদ হা/৫৭০১, ইবনু হিব্বান, বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ হা/৯৫২৮, ইবনু খুযাইমাহ হা/২৭২৯- তাহক্বীক্ব ডক্টর মুস্তাফা আ‘যমী : সানাদ হাসান। শু‘আইব আরনাউত্ব বলেন : হাদীসটি হাসান। আহমাদ শাকির বলেন (হা/৫৬২১, ৫৭০১) : এর সানাদ সহীহ। ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান। ইমাম ইবনু হিব্বান, ইমাম হাকিম, ইমাম যাহাবী এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : হাজারে আসওয়াদ হলো জান্নাতের পাথর। পাথরটি দুধের চাইতেও বেশি সাদা ছিল। কিন্তু আদম সন্তানের গুনাহ একে কালো করে দিয়েছে। (হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/৮৭৭- হাদীসের শব্দবলী তার, নাসায়ী হা/২৯৩৫- হাদীসের প্রথমাংশ, ইবনু খুযাইমাহ হা/২৯৩৩- তাহক্বীক্ব ডক্টর মুস্তফা আ‘যমী : সানাদ হাসান। ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান ও সহীহ। ইমাম ইবনু খুযাইমাহ ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “হাজরে আসওয়াদ বরফের চাইতে সাদা ছিল কিন্তু শির্কপন্থীদের পাপ তাকে কালো বানিয়ে ফেলেছে।” (বায়হাক্বী, আহমাদ, সহীহ আত-তারগীব হা/১১৪৬। আহমদ শাকির বলেন (হা/২৭৯৬, ৩০৪৭) : সানাদ সহীহ))

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি : হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকুত থেকে দুটি ইয়াকুত। এ দুটির আলোকপ্রভা আল্লাহ নি¯প্রভ করে দিয়েছেন। তিনি যদি এ দুটির প্রভা নিস্তেজ না করতেন তাহলে তা পূর্ব -পশ্চিমের মাঝে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিতো। (সহীহ লিগাইরিহি : তিরমিযী হা/৮৭৮- হাদীসের শব্দাবলী তার, অনুরূপ ইবনু হিব্বান হা/৩৭১০- তাহক্বীক্ব শু‘আইব আরনাউত্ব : হাসান লিগাইরিহি, আহমাদ হা/৭০০০, মুস্তাদরাক হাকিম হা/১৬৭৭-১৬৭৯ যাহাবীর তা‘লীক্বসহ)

যমযমের পানির ফাযীলাত

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : যমযমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে।(হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/১৪৮৪৯- তাহক্বীক্ব শু‘আইব আরনাউত্ব : হাদীস হাসান, ইবনু মাজাহ হা/৩০৬২- তাহক্বীক্ব আলবানী : হাদীস সহীহ। বায়হাক্বী। হাদীসের শব্দাবলী সকলের। হাদীসটিকে একদল হাদীসবিশারদ সহীহ বলেছেন। ইরওয়াউল গালীল হা/১১২৩, সিলসিলাহ সহীহাহ্ হা/৮৮৩, এবং আলবানী প্রণীত ‘মানসিকুল হাজ্জ ওয়াল ‘উমরাহ’)

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : যমযমের পানি বরকতময়, স্বাদ অšে¦ষণকারীর খাদ্য এবং রোগীর ঔষধ। (হাদীস সহীহ : তায়ালিসি হা/৪৫৩- হাদীসের শব্দাবলী তার, ত্বাবারানী সাগীর হা/২৯৬, সিলসিলাহ সহীহাহ্ ১০৫৬ নং হাদীসের নিচে। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল্লামা হায়সামী ‘মাজমাউয যাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে (হা/৫৭১১) বলেন : হাদীসটি বাযযার ও ত্বাবারানী সাগীর বর্ণনা করেছেন, বাযযার এর রিজাল সহীহ রিজাল।

১। “যমযমের পানি স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য এবং রোগীর জন্য নিরাময়।” (বাযযার, সহীহ আত-তারগীব হা/১১৬২। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি সহীহ)

২। “এটা বরকতময় এবং স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য।” (আহমাদ হা/২১৫২৫- তাহক্বীক্ব শু‘আইব আরনাউত্ব : হাদীস সহীহ)

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : যমীনের উপর সর্বোত্তম পানি হলো যমযমের পানি।(হাদীস হাসান : ত্বাবারানী কাবীর হা/১১০০৪- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ আত-তারগীব হা/১১৬১। আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আল্লামা হায়সামী ‘মাজমাউদ যাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে (হা/৫৭১২) বলেন : হাদীসটি ত্বাবারানী কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এর রিজাল সিক্বাত এবং ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।)

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের সাথে পাত্রে ও মশকে করে যমযমের পানি বহন করতেন। তা অসুস্থদের উপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন।(হাদীস সহীহ : সিলসিলাতুল আহদীসিস সহীহাহ্ হা/৮৮৩- হাদীসের শব্দাবলী তার থেকে গৃহীত, তিরমিযী হা/৯৬৩, বুখারীর ‘তারীখুল কাবীর, বায়হাক্বী। শায়খ আলবানী হাদীনটিকে সহীহ বলেছেন।)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাক্কাহ বিজয়ের পূর্বে মাদীনাহ্য় থাকাবস্থায় সুহাইল ইবনু ‘আমরের কাছে এজন্য লোক পাঠিয়েছিলেন যে, আমাদের জন্য যমযমের পানি হাদীয়া পাঠাব এবং পাঠাতে ভুল করবে না। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর কাছে দুই কলস পানি পাঠালেন।(হাদীস সহীহ : বায়হাক্বী সুনানুল কাবীর হা/৯৭৬৭- হাদীসের শব্দাবলী তার- জইয়্যিদ (ভাল) সানাদে জাবির সূত্রে। এর মুরসাল সহীহ শাহিদ বর্ণনা রয়েছে মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক হা/৯১২৭। দেখুন, আলবানী প্রণীত মানাসিকুল হাজ্জ ওয়াল ‘উমারহ, এবং সিলসিলাহ সহীহাহ হা/৮৮৩ এর নীচে।)

হাজ্জের বাহনের বিনিয়মে হাজীর সাওয়াব লাভ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি : হাজ্জে গমনকারী ব্যক্তির উট (চলার পথে) যখনই পা উত্তোলণ করে এবং হাত রাখে এর বিনিময়ে (অর্থাৎ প্রতিটি কদমের বিনিময়ে) আল্লাহ ঐ হাজ্জকারীর জন্য সাওয়াব লিখে দেন। অথবা এর দ্বারা তার একটি গুনাহ মুছে দেন অথবা এর দ্বারা তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (হাদীস হাসান : বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান হা/৩৮২১- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ আত-তারগীব হা/১১০৬। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।)

হাজ্জ ও ‘উমরাহ্কারীর দু‘আ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর পথের গাজী (যোদ্ধা), হাজ্জ এবং ‘উমরাহ্কারী – এরা আল্লাহর দল। তারা দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয় এবং তারা কিছু চাইলে তাদেরকে তা দেয়া হয়। (হাদীস হাসান : ইবনু মাজাহ হা/২৮৯৩- হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু হিব্বান হা/৪৬১৩, সহীহ আত-তারগীব হা/১১০৮, সিলসিলাহ সহীহাহ হা/১৮২০। আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আল্লামা বুসয়রী ‘মিসবাহু যুজাজাহ’ গ্রন্থে (হা/১০২৬) বলেন, এর সনদ হাসান। আল্লামা হায়সামী ‘মাজমাউয যাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে (হা/৫২৮৮) বলেন, হাদীসটি বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং এর রিজাল সিক্বাত।

হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ করার জন্য খরচ করার ফাযীলাত

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তার ‘উমরাহ সম্পর্কে বলেছেন, তুমি তোমার পরিশ্রম এবং তোমার খরচ অনুপাতে নেকী পাবে। (হাদীস সহীহ : মুস্তাদরাক হাকিম হা/১৭৩৩- যাহাবীর তা‘লীক্বসহ। হাদীসের শব্দাবলী তার। সহীহ আত-তারগীব হা/১১১৬। ইমাম হাকিম বলেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ।এর সহীহ শাহেদ রয়েছে। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, “তুমি তোমার ‘উমরাহ্র সাওয়াব তোমার খরচ অনুপাতে পাবে।” (হাকিম। তিনি বলেন, সহীহ)

জামারাতে কঙ্কর মারার ফাযীলাত

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তুমি যখন জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, তা তোমার জন্য ক্বিয়ামাতের দিনে নূর হয়ে গেলো। (হাসান সহীহ : বাযযার, সহীহ আত-তারগীব হা/১৫৫৭- হাদীসের শব্দাবলী তার থেকে গৃহীত, মাজমাউয যাওয়ায়িদ হা/৫৫৮৫। তাহক্বীক্ব আলবানী : হাদীস হাসান সহীহ।)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হাজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলো। অতঃপর মৃত্যুবরণ করলো। ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার জন্য হাজ্জের সাওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি ‘উমরাহ্র উদ্দেশ্যে বের হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করলো, ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার জন্য ‘উমরাহ্র সাওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি জিহাদের উদ্দেশ্যে যোদ্ধা হিসেবে বের হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করলো, ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার জন্য মুজাহিদের সাওয়াব লিখা হবে। (হাসান সহীহ : আবূ ইয়ালা হা/৬২২৭-হাদীসের শব্দাবলী তার, অনুরূপ ত্বাবারানী আওসাত হা/৫৪৮০, মাজমাউয যাওয়ায়িদ হা/৫২৭৪, সহীহ আত-তারগীব হা/১২৬৭। আলবানী বলেন, হাদীসটি সহীহ লিগাইরিহি।)

বায়তুল্লাহ তাওয়াফের ফাযীলাত

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কেউ যদি যথাযথভাবে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে এবং দুই রাক‘আত সালাত আদায় করে তবে তার একটি ক্রীতদাস আযাদ করার সমান সাওয়াব হয়। তাওয়াফের প্রতিটি কদমে আল্লাহ তার একটি করে গুনাহ ক্ষমা করেন এবং একটি করে নেকী লিখে দেন। (হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/৪৪৬২- হাদীসের শব্দাবলী তার, তিরমিযী হা/৯৫৯, আবূ ইয়ালা হা/৫৬৮৮, বায়হাক্বীর সুনান, বাগাভী ‘শারহুস সুন্নাহ’ হা/১৯১৬, ইবনু খুযাইমাহ, মুস্তাদরাক হাকিম হা/১৭৯৯- যাহাবীর তা‘লীক্বসহ, মিশকাত হা/২৫৮০, মাজমাউয যাওয়ায়িদ হা/৫৪৭৫। আহমাদ শাকির বলেন, (হা/৫৭০১)-এর সানাদ হাসান। ইমাম তিরমিযী, শু‘আইব আরনাউত্ব ও ইমাম বাগাভী বলেন, হাদীসটি হাসান। ইমাম হাকিম, ইমাম, যাহাবী, ইবনু হিব্বান, ইবনু খুযাইমাহ ও অন্যরা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অনুরূপ শায়খ আলবানী বলেন, হাদীসটি সহীহ। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “হে বানী ‘আবদে মান্নাফ! এ বায়তুল্লাহ ঘর তাওয়াফে এবং সালাত আদায়ে কাউকে বাধা দিবে না, চাই দিনে রাতে যেকোন সময়েই ইচ্ছা করুক না কেন।” (তিরমিযী, নাসায়ী, দারিমী, ইবনু মাজাহ, দারাকুতনী, বায়হাক্বী ও আহমাদ। ইমাম তিরমিযী, ইমাম হাকিম, ইমাম যাহাবী ও শায়খ আলবানী বলেন, হাদীসটি সহীহ। ইরওয়াউল গালীল হা/৪৮১)

আরাফাহ দিবসের ফাযীলাত

ইবনুল মুসায়্যিব হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আরাফাহ্র দিন অপেক্ষা এমন কোন দিন নেই যেদিন আল্লাহ অত্যধিক পরিমাণ বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন এবং তিনি (আল্লাহ) নিকটবর্তী হন আর ফিরিশতাদের নিকট তাদেরকে নিয়ে গৌরব প্রকাশ করে বলেন, এরা কি প্রার্থনা করে? (হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৩৩৫৪- শব্দাবলী তার, অনুরূপ নাসায়ী তারগীব হা/১১৫৪, সিলসিলাহ সহীহাহ হা/২৫৫১, ইরওয়াউল গালীল হা/৪৪৯।

শায়খ আলবানী এবং একদল মুহাদ্দিসীনে কিরাম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে- (১) ইবনু রাযীন তার জামি‘ গ্রন্থে বৃদ্ধি করেছেন, “আল্লাহ বলেন, হে আমার ফিরিশতারা! তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি তাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিলাম।” (সহীহ আত-তারগীব হা/১১৫৫ : হাদীসটি সহীহ লিগাইরিহি); (২) আল্লাহ আরাফাহ্র অধিবাসীদের ব্যাপারে আকাশের অধিবাসীদের নিকট গর্ব প্রকাশ করেন এবং তাদেরকে বলেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এলোমেলো চুলে, ধূলোমলিন অবস্থায় আমার কাছে এসেছে।” (ইবনু হিব্বান, আহমাদ, হাকিম, সহীহ আত-তারগীব হা/১১৫২, ১১৫৩। ইমাম হাকিম বলেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

মাথার চুল মুড়ানো ও ছেঁটে ফেলার ফাযীলাত

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীর উপর দয়া করুন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! চুল খাটোকারীরা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীর উপর দয়া করুন। সাহাবীগণ আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! চুল খাটোকারীরা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীর উপর দয়া করুন। নাফি‘ বলেন, অতঃপর চতুর্থবারের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (শুধু একবার) বললেন, এবং চুল খাটোকারীদের উপর দয়া করুন। (হাদীস সহীহ : সহীতুল বুখারী হা/১৬১২, সহীহ মুসলিম হা/৩২০৫- হাদীসের শব্দাবলী উভয়ের, চতুর্থ বারের কথাটি বুখারীর।)

যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ফাযীলাত

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এমন কোন দিন নেই যে দিনসমূহের সৎকাজ আল্লাহর নিকট যিলহাজ্জ মাসের এই দশ দিনের সৎকাজ অপেক্ষা অধিক প্রিয়। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করার চাইতেও বেশি প্রিয়? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও এর চাইতে অধিক প্রিয় নয়। তবে কোন ব্যক্তি যদি (নিজের) জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করতে বেরিয়ে যায় এবং এই দু‘টির কোন কিছু নিয়ে আর ফিরে না আসতে পারে তার কথা ভিন্ন। (হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/৭৫৭- হাদীসের শব্দাবলী তার, অনুরূপ ইবনু মাজাহ হা/১৭২৭, আবূ দাউদ হা/২৪৩৮। ইমাম তিরমিযী বলেন, ইবনু আব্বাস বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব। শায়খ আলবানী বলেন, হাদীস সহীহ।)