প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৬, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৭ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় অথবা হারানো বস্তুর ঘোষণা দেয়া নিষেধ

আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
তোমরা কাউকে মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখলে বলবেঃ আল্লাহ্ তাআলা তার ব্যবসায় লাভ না দিক! তেমনিভাবে তোমরা মসজিদে কাউকে হারানো কোন বস্তু খুঁজতে দেখলে তথা এ সংক্রান্ত কোন ঘোষণা দিতে দেখলে বলবেঃ আল্লাহ্ তাআলা তার হারানো বস্তুটি ফিরিয়ে না দিক! (তিরমিযী, হাদীস ৫৬৪)

তবে প্রয়োজনে এগুলোকে ভালোভাবে সিদ্ধ করে কিংবা পাকিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

উমর (রা) একদা জুমার খুত্বায় এক পর্যায়ে বলেন : হে মানব সকল! তোমরা এমন দুটি উদ্ভিদ খাচ্ছো যা আমি নিকৃ বলেই মনে করি। তা হলোঃ পিয়াজ ও রসুন। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমন কাজও করতে দেখেছি যে, তিনি মসজিদে কারো থেকে এগুলোর দুর্গন্ধ পেলে তাকে বাকী কবরস্থানের দিকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিতেন। সুতরাং কেউ এগুলো খেলে সে যেন তা ভালোভাবে পাকিয়ে খায়। (মুসলিম, হাদীস ৫৬৭ ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৪২৬)

মসজিদ নিয়ে পরস্পর গর্ব করা নিষেধ

আনাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষকে মসজিদ নিয়ে গর্ব করতে নিষেধ করেছেন। (ইবনু হিব্বান, হাদীস ১৬১৩)

কোন মসজিদের দরজায় প্রস্রাব করা নিষেধ

মাকহুল্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দরজাগুলোতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (হীহুল-জামি হাদীস ৬৮১৩)
তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সাওয়াবের নিয়্যাতে সফর করা যাবে না। সে মসজিদগুলো হলোঃ হারাম (মক্কা) শরীফ, মসজিদে আকসা এবং মসজিদে নববী। (বুখারী, হাদীস ১১৯৭, ১৯৯৫ মুসলিম, হাদীস, হাদীস ৮২৭ তিরমিযী, হাদীস ৩২৬)

মসজিদে এমন কিছু রাখা নিষেধ যা নামাযীকে অমনোযোগী করে

আস্লাম্যিাহ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমি উসমান (রা) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কাবা ঘরে ঢুকে) আপনাকে ডেকে কি বলেছিলেন: তখন তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন:

আমি তোমাকে শিঙ দুটো ঢাকার আদেশ করতে ভুলে গিয়েছিলাম। (মূলতঃ শিঙ দুটো ইস্মাঈল এর পরিবর্তে সবাই করা ভেড়ারই শিঙ ছিলো) কারণ, কাবা ঘর তথা যে কোন মসজিদে এমন কিছু থাকা উচিত নয় যা নামাযীকে নামায থেকে গাফিল করে। (আবু দাউদ, হাদীস ২০৩০)

মসজিদে ঢুকে দুরাকাত নামায না পড়ে বসা নিষেধ

আবু ক্বাতাদাহ্(রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন দুরাকাআত নামায আদায় না করে না বসে। (বুখারী, হাদীস ৪৪৪, ১১৬৩; মুসলিম, হাদীস ৭১৪)

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: সুলাইক্ গাত্বাফানী (রা) জুমার দিন মসজিদে ঢুকে তাড়াতাড়ি বসে পড়লেন যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে সুলাইক্! দাড়াও। সংক্ষিপ্তভাবে দু রাক্আত নামায পড়ে নাও। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাপকভাবে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমাদের কেউ খুৎবা চলা কালীন মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন সংক্ষিপ্তকারে দুরাক্আত নামায পড়ে নেয়। (মুসলিম, হাদীস ৮৭৫)

বিচ্ছিন্ন হয়ে নামাযে দাঁড়ানো নিষেধ

আবু মাস্উদ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দাঁড়ানোর সময় আমাদের কাঁধগুলো স্পর্শ করে বলতেন ঃ তোমরা সবাই নামাযের কাতারে একদম সোজা হয়ে দাঁড়াও। একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কখনো দাঁড়িও না। তা হলে তোমাদের অন্তরগুলোর মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃি হবে। তোমাদের মধ্যকার বয়স্ক ও বুদ্ধিমানরা যেন আমার নিকটবর্তী জায়গায় অবস্থান করে। অতঃপর তাদের পরবর্তীরা। এরপর আরো পরবর্তীরা। (মুসলিম, হাদীস ৪৩২ নাসায়ী, হাদীস ৮০৩)

মসজিদে শোরগোল করা নিষেধ

আব্দুল্লাহ্ বিন মাস্উদ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা বিভেদ করো না তা হলে তোমাদের অন্তরে ভিন্নতা সৃি হবে। আর তোমরা মসজিদে বাজারের ন্যায় কোলাহল ও দ্বন্দ্ব-বিরোধ থেকে দূরে থাকবে। (মুসলিম, হাদীস ৪৩২ আবু দাউদ, হাদীস ৬৭৫)