প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৬, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৭ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
ইসলামী শরীয়তের শিক্ষার পাশাপাশি মারিফাত শিক্ষারও যথে গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু তা শরীয়াতের বিধানকে উপেক্ষা করে না বরং শরীয়তের আমলের মাধ্যমে মারিফাতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। যার মানদণ্ড হচ্ছে কুরআনুল কামীম এবং সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বর্তমানে সমাজে বিভিন্ন ধরনের ধোকাবাজদের প্রভাব বিস্তার লাভ করেছে। তারা ইসলামী শরীয়ত মানে না, আর তারা তথাকথিত মারিফাত শিক্ষার নামে ভণ্ডামী করায় ব্যস্ত। দেশের ভিন্ন স্থানে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে তথাকথিত দরবারগুলোতে ইসলামী শরীয়ত বিবর্জিত নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে নারীদেরকে পর্দার অন্তরাল থেকে বের করে নিয়ে আসছে যে, কোরআনে মারিফাত শিক্ষার নির্দেশ আছে তাই নারীদেরকেও তা শিখতে হবে আর পীর হলো নিজের পিতার মত তার সামনে পর্দা করার কোনই প্রয়োজন নেই। খোলা মন নিয়ে মারিফাত শিক্ষার জন্য সরল মনা নারীগণ ঐ সকল ভণ্ড পীরের দরবারে এসে নানা প্রকারের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী পুরুষ রাতের বেলায় মারিফাত শিক্ষা নামে একত্র হয়ে বসে আর ভণ্ড পীর তাদেরকে তালিম দেয়। এটা সম্পূর্ণ রূপে না জায়েয ও হারাম।
যে সকল নারীরা পর্দাহীনভাবে ভণ্ডদের দরবারে আসছে এবং যারা এই কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে মারিফাতের নাম দিয়ে ধোকাবাজীর দরবার খুলেছে এরা উভয় দলই নিঃসন্দেহে জাহান্নামী। বেপর্দার সাথে চলাফেরা করা আর মানব সমাজে ধোকা দেয়া উভয়ই কোরআন বিরোধী কাজ। নারী সমাজে ধোকা দেয়ার জন্য নানা প্রকার কৌশল অবলম্বন করে, আর নারীদের পিছনে শয়তান কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। যাতে করে, নারীরা পর্দাহীনতার সাথে চলাফেরা করে কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়ে নিজেও জাহান্নামী হয় ও অপরকে জাহান্নামী করতে পারে। কিন্তু নারীদের এ কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য আপ্রাণ চো চালাতে হবে ইসলামী শরীয়তের আইন মেনে চলে।
অপরদিকে তথাকথিত ভণ্ড পীর ফকিরের ঐ মিষ্টি সুর থেকে বাঁচতে হবে। তারা বলে থাকে পীর হচ্ছে বাবা সমতুল্য কিন্তু তারা কি জানেনা যে, পীরের সাথেও পর্দা করা ফরয-এর সমর্থনে সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) এর ঘটনাটি উল্লেখ করা যেতে পারে। মিশকাতুল মাশাবীহের কিতাবুণিকা অধ্যায়ে উম্মুল মুমিনিন হযরত উম্মে সালমা (রা.) বর্ণনা করেন যে, একদা আমি এবং হযরত মায়মুনা (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মো মাকতুম (রা.) এসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসলেন (আর তিনি অন্ধ ছিলেন বিধায় আমরা দুজন পর্দা করার প্রয়োজন মনে না করে জায়গায় বসে রইলাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাঁর থেকে পর্দা করো। উম্মে সালমা নিবেদন করলেন, হে রাসূল! ইনি কি অন্ধ নন? ইনি তো আমাদের দেখছেন না। জওয়াবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা দুজন কি অন্ধ তোমরা কি তাকে দেখছ না ?
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মহিলাদেরকে অন্য পুরুষ পানে তাকানো থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকতেই হবে। কেননা উক্ত সাহাবী ছিলেন পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, সেই সাথে ছিলেন অন্ধ। অপরদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদ্বয়ও ছিলেন পুত পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী। তা সত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধ সাহাবী থেকে পর্দা করার নির্দেশ দিলেন। যেন তার দিকে দৃি উঠানো না হয়। যেখানে বিন্দু মাত্র কু-দৃরি সম্ভাবনা ছিল না সেখানেও যদি একটুকু কঠোরতা অবলম্বন করা হয়, তবে বর্তমান এ ফিতনার যুগে মহিলাদের অপর পুরুষের দিকে উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে তাকানোর অনুমতি কিভাবে দেয়া যেতে পারে? এখান থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত সেই সকল নারীর। যারা পর্দাহীনতার সাথে দুনিয়াদার ধোকাবাজ ভণ্ড পীর ফকীরের সামনে বিনা দ্বিধায় আসা-যাওয়া করেন। এ যাতায়াত পরকালীন জীবনে এক করুণ ভয়াবহ পরিস্থিতির রূপ নিবে এবং পর্দাহীনতার কারণেই জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে। সকল ভণ্ড পীর ফকীরদের ধোকা থেকে বাঁচার জন্য হুশিয়ার থাকতে হবে। আর তাদের হাতে মারিফাত শিক্ষার নামে মুরিদ হওয়া কখনই জায়েয নেই বরং সুস্প হারাম। আল্লাহতাআলা সকল মুসলিম নারীদের ঐ সমস্ত পথ থেকে বেঁচে থাকার শক্তি দিন।
