প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

নামাযে দুনিয়ার কোন কথা বলা

মুআবিয়া বিন্ হাকাম সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : নামাযে দুনিয়ার কোন কথাই বলা চলবে না। বরং তা হচ্ছে আল্লাহ্ তাআলার পবিত্রতা ও তাঁর মহিমা বর্ণনা এবং কুরআন তিলাওয়াতের সমষ্টি মাত্র। (মুসলিম, হাদীস ৫৩৭)

দুনিয়ার উদ্দেশ্যে যে কোন এলাকার কোন মসজিদে একত্রিত হওয়া

আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : অচিরেই দুনিয়ার শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায় আসবে যারা মসজিদে মসজিদে গোলাকার হয়ে বসবে। তাদের মূল লক্ষ্য হবে দুনিয়া। তোমরা কখনো তাদের সাথে বসবে না। কারণ, তাদের প্রতি আল্লাহ্ তাআলার কোন প্রয়োজন নেই। (আস্-সিল্সিলাতুস্-স্বাহীহাহ্, হাদীস ১১৬৩)

প্রথম বৈঠক করতে ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে গেলে প্রথম বৈঠকের জন্য তাঁর আবারো ফিরে আসা

মুগীরা বিন্ শুবা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কোন ইমাম সাহেব যদি প্রথম বৈঠক না করে দু রাকআত নামায পড়েই দাঁড়িয়ে যায়। অতঃপর সম্পূর্ণরূপে দাঁড়ানোর আগেই তার তা স্মরণ আসে তা হলে সে যেন প্রথম বৈঠকের জন্য অবশ্যই বসে পড়ে। আর যদি সে ইতিমধ্যে সম্পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে যায় তা হলে সে যেন আর না বসে। বরং ভুলের জন্য দুটি সাজ্দাহ দিয়ে দেয়। (আবু দাউদ, হাদীস ১০৩৬)

নামাযরত অবস্থায় এদিক ওদিক তাকানো

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযরত অবস্থায় এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন : তা হচ্ছে শয়তানের ছোঁ। যার মাধ্যমে সে তোমাদের কারোর নামাযের মনোযোগিতা ছিনিয়ে নেয়। (বুখারী, হাদীস ৭৫১, ৩২৯১)

এক হাতের আঙ্গুলগুলোকে অন্য হাতের আঙ্গুলগুলোর মাঝে প্রবেশ করানো

আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমাদের কেউ কোন নামাযের জন্য ওযু করলে সে যেন তার এক হাতের আঙ্গুলগুলোকে অন্য হাতের আঙ্গুলগুলোর মাঝে প্রবেশ না করায়। (আস্-সিল্সিলাতুস্-স্বাহীহাহ্, হাদীস ১২৯৪)

নামাযরত অবস্থায় নামাযীদের মাঝে খালি জায়গা রাখা

আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : নামাযরত অবস্থায় নামাযীদের মাঝে খালি জায়গা রাখা থেকে আমাকে দূরে রাখো তথা আমাকে যেন তা আর কখনো দেখতে না হয়। (আস্-সিল্সিলাতুস্-স্বাহীহাহ, হাদীস ১৭৫৭)

কাতারের খালি স্থান পূরণ করে একে অপরের সাথে মিলে মিলে দাঁড়ালে আল্লাহ্ তাআলার রহ্মত ও ফিরিশ্তাগণের মাগফিরাতের দোআ পাওয়া যায়।

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা রহমত বর্ষণ করেন এবং তদীয় ফিরিশ্তাগণ মাগফিরাত কামনা করেন ওদের জন্য যারা নামাযে কাতারবদ্ধ হয়ে একে অপররে সাথে মিলে মিলে দাঁড়ায়। (ইবনু ওয়াহাব/জামি ২/৫৮)

নামাযরত অবস্থায় নিজ কাপড় কিংবা চুল একত্রিত করা ও বাঁধা

আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : আমাকে আদেশ করা হয়েছে সাতটি হাড়ের উপর সিজ্দাহ করতে। কপাল (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করেছেন) দুহাত, দুপা তথা হাঁটু এবং দু পায়ের আঙ্গুলাগ্র। আর যেন আমরা (নামাযরত অবস্থায়) নিজ কাপড় ও চুল একত্রিত না করি এবং না বাঁধি। (মুসলিম, হাদীস ৪৯০)

বিনা প্রয়োজনে মসজিদের মাঝে অবস্থিত বড় বড় খুঁটিসমূহের মধ্যবর্তী জায়গায় নামায পড়া

র্কুরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমাদেরকে খুঁটিসমূহের মধ্যবর্তী জায়গায় নামায পড়তে নিষেধ করা হতো। এমনকি সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হতো। (ইব্নু খুযাইমাহ্, হাদীস ১৫৬৭)

কোন ফরয নামাযের ইক্বামাতের পরও যে কোন সুন্নাত কিংবা নফল নামাযে রত থাকা

আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : যখন কোন ফরয নামাযের ইক্বামাত দেয়া হয় তখন উক্ত ফরয নামায ছাড়া তখন অন্য কোন (সুন্নাত বা নফল নামায) পড়া চলবে না। (মুসলিম, হাদীস ৭১০)

নামাযে দোআরত অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো

আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : নামাযে দোআরত অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টি ক্ষেপণকারীদের সতর্ক হওয়া উচিত তারা যেন তা দ্বিতীয়বার না করে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টি হৃত-লুণ্ঠিত হবে। (মুসলিম, হাদীস ৪২৯)

মেযবানের অনুমতি ছাড়া ইমামতি করা নিষেধ

আবু আত্বিয়্যাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: মালিক বিন্ হুওয়াইরিস্ (রা) প্রায়ই আমাদের মসজিদে আসতেন। একদা তাঁরই উপস্থিতিতে নামাযের ইক্বামাত দেয়া হলে আমি তাঁকে বললাম: সামনে বাড়–ন। নামায পড়িয়ে দিন। তিনি আমাকে বললেন ঃ তোমাদের কাউকে নামায পড়াতে বলো। অতঃপর আমি নামায না পড়ানোর কারণ একটু পরেই বলছি। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন : কেউ কারোর নিকট মেহমান হলে সে যেন তাদের ইমামতি না করে। বরং তাদের কেউই যেন তাদের ইমামতি করে। (আবু দাউদ, হাদীস ৫৯৬)

আবু মাস্উদ্ বদ্রী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তুমি কারোর ঘরে কিংবা তার অধীনস্থ জায়গায় তার অনুমতি ছাড়া কোন নামাযের ইমামতি করবে না। তেমনিভাবে তুমি কারোর ঘরে তার সম্মানজনক সুনির্দিষ্ট বসার জায়গায় তার অনুমতি ছাড়া বসবে না। (মুসলিম, হাদীস ৬৭৩ আবু দাউদ, হাদীস ৫৮২)

একটিমাত্র কাপড় থাকলে নামাযের সময় পুরো শরীরে পেচিয়ে পরিধান করা নিষেধ

আব্দুল্লাহ্ বিন্ উমর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যখন তোমাদের কেউ এক কাপড়ে নামায পড়ে তখন সে যেন তা তার কোমরেই বেঁধে নেয়। সে যেন তা ইহুদিদের ন্যায় পুরো শরীরে পেঁচিয়ে পরিধান না করে। (স্বাহীহুল-জামি, হাদীস ৬৫৬)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তোমাদের কারোর নিকট দুটি কাপড় থাকলে সে যেন উভয় কাপড় পরেই নামায পড়ে। আর যদি তার নিকট একটিমাত্র কাপড় থাকে তা হলে সে যেন তা নিম্ন বসন হিসেবেই পরিধান করে। ইহুদিদের ন্যায় সে যেন তা পুরো শরীরে পেঁচিয়ে পরিধান না করে। (আবু দাউদ, হাদীস ৬৩৫)