প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬, রমাদান-শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

নামাযের মধ্যে পাথর কিংবা অন্য কোন কিছু স্পর্শ করা নিষেধ

মুআইক্বীব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তুমি নামায পড়াবস্থায় মুছা জাতীয় কোন কাজ করতে যাবে না। একান্ত যদি তা করতেই হয় তা হলে তা একবারই করবে শুধু পাথরগুলো সমান করার জন্য। (আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬)

মল-মূত্র কিংবা কঠিন ক্ষুধার জ্বালা চেপে রেখে নামায আদায় করা নিষেধ

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: খাবার উপস্থিত (তা খাওয়ার বিশেষ প্রয়োজনও রয়েছে) এবং মল-মূত্রের চাপও রয়েছে এমতাবস্থায় নামায আদায় হবে না। (মুসলিম, হাদীস ৫৬০)

ওড়না ছাড়া কোন সাবালিকা মেয়ের নামায পড়া নিষেধ

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : আল্লাহ্ তাআলা ওড়না বিহীন কোন সাবালিকা মেয়ের নামায গ্রহণ করেন না। (আবু দাউদ, হাদীস ৬৪১)

চুল বাঁধা অবস্থায় পুরুষদের নামায আদায় করা নিষেধ

আবু সাদ অথবা আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আবু রাফি (রা) হাসান (রা) কে মাথার চুল বাঁধা অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর চুলের বাঁধন খুলে দিলেন অথবা এমন করতে নিষেধ করে বললেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদেরকে মাথার চুল বাঁধা অবস্থায় নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : এটি হচ্ছে শয়তানের খোঁপা। (আবু দাউদ, হাদীস ৬৪৬ ইবনু মাজাহ, হাদীস ১০৫১ আহমাদ্ ৬/৮, ৩৮১ দারিমী ১/৩২০)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস (রা) একদা আব্দুল্লাহ্ বিন্ হারিসকে মাথার চুল বাঁধা অবস্থায় নামায পড়তে দেখলে তিনি তা খুলে দেন। আব্দুল্লাহ বিন্ হারিস্ নামায শেষ করে আব্দুল্লাহ বিন্ আব্বাস (রা) কে বললেনঃ আপনি আমার মাথা নিয়ে এতো ব্যস্ত হলেন কেন? তখন তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: এর দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির ন্যায় যে তার উভয় হাত বাঁধা অবস্থায় নামায আদায় করছে। (মুসলিম, হাদীস ৪৯২ আবু দাউদ, হাদীস ৬৪৭)

মুখ ঢেকে অথবা গায়েব চাদর দুদিকে লটকিয়ে রেখে সালাত আদায় করা নিষেধ

আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ঢেকে এবং গায়ের চাদরখানা দুদিকে লটকিয়ে রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৬৪৩)
সুব্হে সাদিকের ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে শুধু অনুমানের ভিত্তিতেই ফজরের আযান দেয়া নিষেধ
বিলাল (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন : অর্থাৎ ফজর তথা সুব্হে সাদিক এ ভাবে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর উভয় হাত দুদিকে সম্প্রসারণ করে হযরত বিলালকে দেখিয়েছেন) সুস্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ফজরের আযান দিবে না। (আবু দাউদ, হাদীস ৫৩৪)

ইমাম সাহেবের মুক্বতাদীদের তুলনায় আরো উঁচু জায়গায় দাঁড়ানো

হুযাইফাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কেউ কারোর নামাযের ইমামতি করতে গেলে সে যেন তাদের চাইতে আরো উঁচু জায়গায় না দাঁড়ায়। (আবু দাউদ, হাদীস ৫৯৮)

উট বসার জায়গায় নামায পড়া নিষেধ

বারা বিন্ আযিব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উট বসার জায়গায় নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন : তোমরা উট বসার জায়গায় নামায পড়ো না। কারণ, উট হচ্ছে শয়তানের জাত। তেমনিভাবে তাঁকে ছাগল বসার জায়গায় নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন : তাতে নামায পড়বে। কারণ, ছাগল হচ্ছে বরকতময় পশু। (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৩)

একই দিনে কোন ফরয নামায দুবার পড়া নিষেধ

মাইমূনাহ্ (রা) এর আযাদ করা গোলাম সুলাইমান (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি আব্দুল্লাহ বিন্ উমর (রা) কে মসজিদের মাঝে বসে থাকতে দেখলাম; অথচ অন্যরা সবাই জামাতে নামায পড়ছে। তখন আমি বললাম: হে আব্দুর রহমানের পিতা! আপনি সবার সাথে নামায পড়ছেন না কেন? উত্তরে তিনি বললেন: আমি ইতিপূর্বে উক্ত নামাযটি পড়েছি। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, একই দিনে কোন (ফরয) নামায দু বার পড়া যায় না। (নাসায়ী, হাদীস ৮৬২)
তবে কেউ কোন ফরয নামায পড়ার পর অন্যদেরকে উক্ত নামায জামাতে পড়তে দেখলে তাদের সাথে নফলের নিয়্যাতে দাঁড়িয়ে যাবে।

একদা মিহজান (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় নামাযের আযান হয়ে গেলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে উঠে গিয়ে নামায শেষ করে এসে দেখলেন, মিহজান (রা) সেখানেই বসে আছেন। তখন তিনি তাঁকে বললেনঃ তুমি নামায পড়লে না কেন? তুমি কি মুসলমান নও? তিনি বললেন: অবশ্যই আমি মুসলমান। তবে আমি নিজ এলাকায় নামায পড়ে এসেছি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যখন তুমি এমতাবস্থায় আসবে তখনও তুমি মানুষের সাথে নামায পড়বে। যদিও তুমি ইতিপূর্বে নামায পড়ে থাকো। (নাসাঈ, হাদীস ৮৫৯)

কোন ফরয নামায পড়ার পর পরই সেখানেই অন্য কোন নফল বা সুন্নাত নামায আদায় করা নিষেধ

মুআবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: কোন সুন্নাত কিংবা নফল নামায কোন ফরয নামায পড়ার পর পরই তার সাথে মিলিয়ে পড়ো না যতক্ষণ না তুমি কোন কথা বলবে অথবা মসজিদ থেকে বের হয়ে যাবে। (মুসলিম, হাদীস ৮৮৩ আবু দাউদ, হাদীস ১১২৯)
মুআবিয়া (রা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমাদের কেউ জুমুআর নামায পড়লে সে যেন এরপর পরই অন্য কোন নামায না পড়ে যতক্ষন না সে কোন কথা বলে অথবা মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। (মুসলিম, হাদীস ৮৮৩ আবু দাউদ, হাদীস ১১২৯)

মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করোনা

আব্দুল্লাহ্ বিন্ উমর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল (রা) ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। তবে তাদের জন্য তাদের ঘরই উত্তম। (আবু দাউদ, হদীস ৫৬৭)

তবে মসজিদে যাওয়ার আগে যে কোন মহিলাকে অবশ্যই তার স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। তেমনিভাবে তাকে তার ঘর থেকে বের হতে হবে বিশেষ করে রাত্রি বেলায় এবং কোন রকম সাজ-সজ্জা ও সুবাস-সুগন্ধ না লাগিয়ে নিতান্ত সাধারণ বেশে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ উমর (রা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করে : তোমরা তোমাদের মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। যদি তারা তোমাদের কাছে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায়। (মুসলিম, হাদীস ৪৪২)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ উমর (রা) থেকে আরো বর্নিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমরা মহিলাদেরকে রাত্রি বেলায় মসজিদে যেতে অনুমতি দিবে। (মুসলিম, হাদীস ৪৪২ আবু দাউদ, হাদীস ৫৬৮)
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমরা আল্লাহ্ তাআলার বান্দিদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। তবে তারা যেন ঘর থেকে বের হয় কোন রকম সাজ-সজ্জা ও সুবাস-সুগন্ধ না লাগিয়ে। (আবু দাউদ, হাদীস ৫৬৭)
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : কোন মহিলা যদি খোশবুদার ধোঁয়া গ্রহণ করে তা হলে সে যেন আমাদের সাথে ইশার নামায পড়তে না আসে। (মুসলিম, হাদীস ৪৪৪)

একই রাত্রিতেই দুবার বিতিরের নামায পড়া নিষেধ

ত্বাল্ক্ব বিন্ আলী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
একই রাত্রিতে দুবার বিতিরের নামায পড়া যাবে না। (আবু দাউদ, হাদীস ১৪৩৯ তিরমিযী, হাদীস ৪৭০)

মাগরিবের নামায দেরি করে পড়া নিষেধ

আবু আইয়ূব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : আমার উম্মত সর্বদা কল্যাণ ও সহজাত স্বভাবের উপর থাকবে যতক্ষণ না তারা মাগরিবের নামায দেরি করে পড়ে। এমন দেরি যে আকাশে তখন প্রচুর নক্ষত্র প্রজ্বলিত হয়। (আবু দাবু, হাদীস ৪১৮)

নামায ও সালামে ত্রটি করা নিষেধ

আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
নামায ও সালামে কোনভাবেই ত্রটি করা চলবে না। (আবু দাউদ, হাদীস ৯২৮)

দুটি কাপড় থাকা সত্ত্বেও একই কাপড়ে নামায পড়া নিষেধ

বুরাইদাহ্ বিন হুম্বাইব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড়ের কিছু অংশ বাম কাঁধে রাখা ছাড়া কাউকে একই কাপড়ে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। তেমনিভাবে তিনি নিষেধ করেছেন চাদর বা জামা ছাড়া শুধু পাজামা পরেই কাউকে নামায পড়তে। (আবু দাউদ, হাদীস ৬৩৬)