প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৮-৩৯ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
মোরাকাবা কুরআন শরীফ হতে প্রমাণিত
সূরা আলে ইমরানের শেষ রুকুতে আছে-
অর্থাৎ, নিশ্চয় আসমান ও জমীনের সৃষ্টি কৌশলে এবং দিবা রাত্রির পরিবর্তনে জ্ঞানী লোকদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান আছে। তাঁহারা ঐসকল লোক, যাঁহারা দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে।
উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রূহুল বয়ানে লিখিত আছে-
অর্থাৎ, জ্ঞানীগণ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নৈপুণ্যের মধ্যে উপদেশ প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, তোমরা সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা কর, সৃষ্টিকর্তার বিষয় চিন্তা করিওনা। তিনি যে মাত্র সৃষ্টি সম্বন্ধেই চিন্তা ও গবেষণা করিতে বলিয়াছেন তাহার কারণ এই যে, আল্লাহ তায়ালার প্রকৃত তত্ত্ব অবগত হওয়া মানুষের সাধ্যায়ত্ত নহে। কাজেই তাঁহার জাত সম্বন্ধে চিন্তা করিয়া কোনই লাভ নাই।
এই জন্য উল্লিখিত আয়াতে একমাত্র সৃষ্টির সম্পর্কে চিন্তা বা মোরাকাবা সীমাবদ্ধ করিয়াছে। উক্ত তাফসীরে আরও আছে, মানব দুই প্রকার উপাদানে গঠিত, দেহ ও আত্মা। সুতরাং আল্লাহ তায়ালা আয়াত দ্বারা ইন্দ্রিয় সংক্রান্ত ইবাদতের দিকে ইঙ্গিত করিয়াছেন, এবং এই আয়াতাংশ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা আত্মার বন্দেগীর দিকে ইশারা করিয়াছেন।
মানুষ দেহ ও মন দ্বারা গঠিত সুতরাং দেহ ও মন দ্বারা ইবাদত করিতে হইবে :
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রূহুল মায়ানিতে লিখিত আছে
অর্থাৎ, আত্মা ও ভৌতিক শরীর দ্বারা মানুষ গঠিত। উক্ত আয়াতের প্রথম অংশ দ্বারা দৈহিক ইবাদতের দিকে নির্দেশ করিতেছে এবং আয়াতের শেষ অংশ এর দ্বারা আত্মার ইবাদতের দিকে নির্দেশ করিতেছে। যেহেতু তাফাকুর বা চিন্তা করা অন্তর দ্বারাই হইয়া থাকে, শরীর দ্বারা হয় না।
মোরাকাবার অনেক গুণ ও ফজীলত আছে। নিম্নে কতক উল্লেখ করা হইল। তাফসীরে রূহুল মায়ানিতে আছে-
অর্থাৎ, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, “অদ্য রজনীতে আল্লাহ তায়ালা আমার নিকট এই আয়াত অবতীর্ণ করিয়াছেন।” অতঃপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, “যে ব্যক্তি এই আয়াত মাত্র পাঠ করিয়াছে কিন্তু ইহার মধ্যে গভীর চিন্তা করে নাই, সে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হইল।”
