প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭, জমা.সানি-রজব ১৪৩৮ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২৩-২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
মিশকাতুতল মাসাবীহ শরীফে বর্ণিত আছে-
হযরত হাছান (রা.) হইতে বর্ণিত আছে যে, ইলম দুই প্রকার যথা-
ইলমে তাসাউফ, ইহাতেই উপকার লাভ হইবে। দ্বিতীয় প্রকারের ইলম, উহা ইলমূললেছান বা মৌখিক ইলম অর্থাৎ যাহা শুধুমাত্র শিক্ষা করা হইয়াছে। উহা মানুষের উপর আল্লাহ তায়ালার দলিল স্বরূপ হইবে। আল্লাহ তায়ালা ঐ প্রকার আলেমদিগকে কিয়ামতের দিবস প্রশ্ন করিবেন যে, তুমি ইলম শিখিয়াছ বটে, কিন্তু আমল কর নাই কেন? উক্ত কওলের ব্যাখ্যায় মিরকাতে লিখিতেছেন-
ইলম দুই প্রকার-শরীয়ত এবং মা’রেফত। মেশকাত শরীফে অন্য এক হাদীসে আছে-
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন-ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক নর-নারীর প্রতি ফরজ। উপরি উক্ত হাছান (রা.) হইতে বর্ণিত হাদীসের মর্মের অনুকূলে জানা গিয়াছে যে, ইলম দুই প্রকার-মা’রেফেত ও শরীয়ত। এই জন্যই তাফসীরে রুহুল বয়ানে ও সিররুল আসরারে উক্ত হাদীসের মর্মে ইলমে তাসউফ শিক্ষা করা ফরজ বলিয়াছেন যাহা ইতিপূর্বে বর্ণিত হইয়াছে।
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় মেরকাত শরীফের প্রথম খণ্ডে লিখিত আছে-
শরীয়ত যথার্থরূপে অনুসরণ করিতে না পারিলে মা’রেফতের কিছুই লাভ হয় না, যেই রূপ মা’রেফত শিক্ষা না করিলে শরয়িত যথার্থরূপে আদায় হয় না। উভয়কে সংরক্ষণের জন্য উভয়ের দরকার। এই কারণে ইমাম মালেক (রহ.) লিখিয়াছেন, যে ব্যক্তি শুধু ফিকহ শিক্ষা করিয়াছে, তাসাউফ শিক্ষা করে নাই, সে ব্যক্তি ফাসেক। আর যে ব্যক্তি শুধু মারেফত শিক্ষা করিয়াছে, ফিকহ শিক্ষা করে নাই, সে ব্যক্তি জিন্দিক (কাফের)। যে ব্যক্তি এতদুভয় ইলম শিক্ষা করিয়াছে, সে ব্যক্তি উপযুক্ত।
ঐ কিতাবে আবু তালেব মক্কী বলিয়াছেন যে, উক্ত উভয় প্রকারের ইলমই আসল। একটি ব্যতীত অন্যটি সম্পূর্ণ হইতে পারে না। যেমন ইসলাম ও ইমান। এই দুইটির মধ্যে একটি দেহ অন্যটি প্রাণ স্বরূপ সম্বন্ধ। ইহার একটির অভাব হইলে মানুষ যেমন বাঁচিতে পারে না, সেইরূপ শরীয়ত ও মারেফতের একটি ব্যতীত অপরটি বাঁচিতে পারে না। উক্তরূপ আশআতুল্লুমআ ও মোজাহেরে হক কিতাবে লিখিত আছে।
