প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

হযরত আলী (রা.) এর ফতওয়া

হযরত আলী (রা.)-এর শাসনামলে বিখ্যাত কবি ফরাযদাক-এর পিতা গালেব একটি উট যবেহ করেছিল। যবেহ করার সময় তাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর নাম উচ্চারণ করা হয়েছিল বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতদসত্ত্বেও হযরত আলী (রা.) সে উটের গোশত ……… আয়াতের মর্মানুযায়ী হারাম বলে ঘোষণা করেছিলেন এবং সাহাবীগণও হযরত আলী (রা.)-এর এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

হযরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা.)-এর ফতওয়া

অনুরূপ ইমাম মুসলিম তাঁর উস্তায ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার সনদে হযরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা.)-এর একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সে হাদীসের শেষভাগে রয়েছে যে, একজন স্ত্রীলোক হযরত আয়িশা (রা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন, হে উ¤মূল মুমিনীন! আজমী লোকদের মধ্যে আমাদের কিছুসংখ্যক দূর সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাদের মধ্যে সব সময় কোনো না কোনো উৎসব লেগেই থাকে। উৎসবের দিনে কিছু হাদিয়া-তোহফা তারা আমাদের কাছেও পাঠিয়ে থাকে। আমরা তাদের পাঠানো সেসব সামগ্রী খাবো কি না? জবাবে হযরত আয়িশা (রা.) বলেছিলেন,

সে উৎসব দিবসের জন্য যেসব পশু যবেহ করাহয়, সেগুলো খেয়ো না, তবে তাদের ফলমূল খেতে পার। (তাফসীরে কুরতুবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ২০৭)
মোটকথা, দ্বিতীয় সূরতটি, যা-তে নিয়ত থাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর নৈকট্য লাভ, কিন্তু যবেহ করা হয় আল্লাহর নামেই, সেটিও হারাম হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সন্তুষ্টি বা নৈকট্য অর্জন, এর মধ্যে সামঞ্জস্য থাকার দরুন আয়াতের হুকুম দ্বিতীয় আয়াত এরও প্রতিপাদ্য সাব্যস্ত হওয়ার এ শ্রেণীর পশুর মাংসও হারাম হবে।

তৃতীয় সূরত হচ্ছে পশুর কান কেটে অথবা শরীরের অন্য কোথাও কোনো চিহ্ন অঙ্কিত করে কোনো দেব-দেবী বা পীর-ফকীরের নামে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেগুলো দ্বারা কোনো কাজ নেওয়া হয় না, যবেহ করাও উদ্দেশ্য থাকে না। বরং যবেহ করাকে হারাম মনে করে। এ শ্রেণীর পশুকে আলোচ্য দু-আয়াতের কোনটিরই আওতায় পড়ে না, এ শ্রেণীর পশুকে কুরআনের ভাষায় বাহীরা বা সায়েবা নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ ধরনের পশু সম্পর্কে হুকুম হচ্ছে যে, এ ধরনের কাজ অর্থাৎ কারও নামে কোনো পশু প্রভৃতি জীবজন্তু উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া কুরআনের সরাসরি নির্দেশ অনুযায়ী হারাম। যেমন বলা হয়েছে :

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা বাহীরা বা সায়েবা শরীয়ত অনুমোদিত করেননি তবে এ ধরনের হারাম আমল কিংবা সংশ্লিষ্ট পশুটিকে হারাম মনে করার ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণেই সেটি হারাম হয়ে যাবে না। বরং হারাম মনে করাতেই তাদের একটা বাতিল মতবাদকে সমর্থন এবং শক্তি প্রদান করা হয়। তাই এরূপ উৎসর্গিত পশু অন্যান্য সাধারণ পশুর মতোই হালাল।

তবে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পশুর উপর তার মালিকের মালিকানা বিনষ্ট হয় না, যদিও সে ভ্রান্ত বিশ্বাসের ভিত্তিতে এরূপ মনে করে যে, এটি আমার মালিকানা থেকে বের হয়ে যে নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, তারই মালিকানায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু শরীয়তের বিধানমতে যেহেতু তার সে উৎসর্গীকরণই বাতিল, সুতরাং সে পশুর উপর তার পরিপূর্ণ মালিকানা কায়েম থাকে। সে মতে উৎসর্গকারী যদি সেই পশু কারও নিকট বিক্রয় করে কিংবা অন্য কাউকে দান করে দেয়, তবে ক্রেতা ও দানগ্রহীতার জন্য সেটি হালাল হবে। পৌত্তলিক সমাজের অনেকেই মন্দির বা দেব-দেবীর ছাগল-গরু ইত্যাদি পশু-পাখি উৎসর্গ করে সেগুলো মন্দিরের পূজারী বা সেবায়েতদের হাতে তুলে দেয়। সেবায়েতরা সেসব পশু মুসলমানদের নিকটও বিক্রয় করে থাকে।

একশ্রেণীর কুসংস্কারগ্রস্ত মুসলমানকেও পীর-বুযুর্গের মাযারে এরূপ করতে দেখা যায় অর্থাৎ তাদেরকে ছাগল-মুরগি ইত্যাদি ছেড়ে আসতে দেখা যায়। মাযারের খাদেমরাই সাধারণত উৎসর্গিত সেসব জন্তু ভোগ-দখল করে থাকে। যেহেতু মূল মালিক খাদেমগণের হাতে এগুলো ছেড়ে যায় এবং এগুলোর ব্যাপারে খাদেমদের পূর্ণ এখতিয়ার দিয়ে থাকে, সেহেতু এ শ্রেণীর জীবজন্তু ক্রয় করা, যবেহ করে খাওয়া, বিক্রয় করে লাভবান হওয়া সম্পূর্ণ হালাল।

আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে মান্নত সম্পর্কিত মাসআলা

আল্লাহ ব্যতীত অন্য যে কোনো কিছুর নামে জীব-জানোয়ার উৎসর্গ করার সাথে সম্পর্কযুক্ত আরও একটি মাসআলা হচ্ছে পৌত্তলিকদের দেব-দেবী এবং কোনো কোনো অজ্ঞ মুসলমান কর্তৃক পীর-বুযুর্গদের মাযার-দরগায় যেসব মিষ্টান্ন বা খাদ্যবস্তু মানত করা হয় বা সেসবের নামে উৎসর্গ করা হয়, সেগুলোতেও মূল কারণÑ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সন্তুষ্টি বা সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্য থাকে বলেই ফিকহবিদগণ হারাম বলেছেন। আর এগুলো খাওয়া-পরা, অন্যকে খাওয়ানো এবং বেচাকেনা করাকেও হারাম বলা হয়েছে। বাহরুর-রায়েক প্রভৃতি ফিকহর কিতাবে এ ব্যাপারে সবিস্তার বিবরণ রয়েছে। এই মাসআলাটি উৎসর্গিত পশু-সংক্রান্ত মাসআলার উপর কেয়াস করে গ্রহণ করা হয়েছে।

ক্ষুধার আতিশয্যে নিরুপায় অবস্থার বিধি-বিধান

উল্লেখিত আয়াতে চারটি বস্তুকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতঃপর এর ব্যতিক্রমী বিধানও বর্ণনা করা হয়েছে। যথা ……………………

এই হুকুমে এতটুকু অবকাশ রাখা হয়েছে যে, ক্ষুধার আতিশয্যে যে ব্যক্তি নিতান্তই অনন্যোপায় হয়ে পড়বে, সে যদি উল্লেখিত হারাম বস্তু থেকে কিছুটা খেয়েও নেয়, তবে তার কোনো পাপ হবে না। কিন্তু এর জন্য শর্ত হলো এই যে, সে (১) স্বাদ গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হবে না এবং (২) প্রয়োজনের পরিমাণ অতিক্রম করবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাকারী, মহান দয়ালু।
এখানে ক্ষুধার তাড়নায় মরনোন্মুখ ব্যক্তির প্রাণ রক্ষার জন্য দুটি শর্তে উল্লেখিত হারাম বস্তু নিতান্ত প্রয়োজন পরিমাণে খাওয়ার পাপকে তুলে দেওয়া হয়েছে।

অনোন্যপায় ব্যক্তির সংজ্ঞা

শরীয়তের পরিভাষায় ক্ষুধার আতিশয্যে ব্যাকুল সে ব্যক্তিকে বলা হয়, যার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। সাধারণ কষ্ট কিংবা প্রয়োজনকে ব্যাকুলতা বলা হয় না। কাজেই যে লোক ক্ষুধার এমন পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হয় যে, তখন কোনো কিছু না খেতে পারলে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে, তখন সে ক্ষেত্রে তার পক্ষে দুটি শর্তে এসব হারাম বস্তু খেয়ে নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। একটি শর্ত হলো যে, উদ্দেশ্য হবে শুধু জান বাঁচানো বা সে খাবারের পরিমাণ এতটুকুতে সীমিত রাখবে, যাতে শুধু প্রাণটুকুই রক্ষা পেতে পারে, পেট ভরে খাওয়া কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া তখনো হারাম হবে।

জ্ঞাতব্য বিষয়

এ ক্ষেত্রে কুরআনুল কারীম মরণাপন্ন অবস্থায়ও হারাম বস্তু খাওয়াকে হালাল বা বৈধ বলেনি, বলেছে (তাতে তার কোনো পাপ নেই)। এর মর্ম এই যে, এসব বস্তু তখনো যথারীতি হারামই রয়ে গেছে, কিন্তু যে লোক খাচ্ছে তার অনন্যোপায় অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হারাম খাদ্য গ্রহণের পাপ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কোনো বস্তুর হালাল হওয়া আর গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া এক কথা নয়, এ দুয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। ক্ষুধার তাড়নায় অনন্যোপায় লোকদের জন্য যদি এসব বস্তু হালাল করে দেওয়া উদ্দেশ্য হতো, তা হলে হারাম বা অবৈধতাকে রহিত করে দেওয়াই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখানে তার কোনো পাপ নেই কথাটি যোগ হিসাবে গ্রহণ করার যে পাপ তা-ও পূর্বের মতোই বলবৎ রয়েছে। তবে অন্যন্যোপায় ব্যক্তির জন্য হারাম বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে সে পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে মাত্র।

অনন্যোপায় অবস্থায় ঔষধ হিসাবে হারাম বস্তুর ব্যবহার

উপরোক্ত আয়াতের মর্মানুযায়ী একথাও সাব্যস্ত হয়ে গেল যে, কারও জীবন বিপন্ন হয়ে পড়লে সে ঔষধ হিসাবে হারাম বস্তু ব্যবহার করতে পারে। তবে আয়াতের মর্মার্থ অনুযায়ীই এ ব্যাপারেও কিছু শর্ত রয়েছে বলে মনে হয়।

(১) প্রকৃতই অনন্যোপায় এবং জীবন-সংশয়ের মতো অবস্থা হতে হবে। সাধারণ কষ্ট বা রোগব্যাধির ক্ষেত্রে এ নির্দেশ কার্যকর হবে না।

(২) হারাম বস্তু ছাড়া অন্য কোনো কিছুই যদি এ রোগের চিকিৎসার ব্যাপারে কার্যকর না হয় কিংবা যদি পাওয়া না যায়। কঠিন ক্ষুধার সময়ও অবকাশ এমন ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যখন প্রাণ রক্ষা করার মতো আর অন্য কোনো হালাল খাবার না থাকে কিংবা সংগ্রহ করার কোনো ক্ষমতা না থাকে।

(৩) সে হারাম বস্তু গ্রহণে যদি প্রাণ রক্ষা পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়। ক্ষুধার তাড়নায় অনন্যোপায় ব্যক্তির জন্য যেমন এক লোকমা হারাম মাংস খেয়ে নেওয়া সাধারণত তার প্রাণ রক্ষার নিশ্চিত উপায়।

অনিশ্চয়তার ক্ষেত্রে হারাম ঔষধ ব্যবহার

যদি কোনো ঔষধ এমন হয় যে, তার ব্যবহার উপকারী বলে মনে হয় বটে, কিন্তু তাতে তার সুস্থতা নিশ্চিত নয়, তা হলে এমতাবস্থায় সে হারাম। ঔষধের ব্যবহার উল্লেখিত আয়াতের ব্যক্তিক্রমী হুকুমের আওতায় জায়েয হবে না। এরই সঙ্গে আরও দুটি শর্ত। কুরআনের আয়াতে উল্লেখ রয়েছে যে, তার ব্যবহারে কোনো উপভোগ যেন উদ্দেশ্য না হয় এবং যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার করা না হয়।

উল্লেখিত আয়াতের পরিষ্কার বর্ণনা ও ইঙ্গিতসমূহের দ্বারা যেসব শর্ত ও বাধ্যবাধকতার বিষয়ে জানা যায়, সে সমস্ত শর্তসাপেক্ষে যাবতীয় হারাম ও নাপাক ঔষধের ব্যবহার তা খাবারই হোক কিংবা বাহ্যিক ব্যবহারেরই হোক, সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের ফোকাহায়ে কেরামের ঐকমত্যে জায়েয। এ সমস্ত শর্তের সারমর্ম হলো পাঁচটি বিষয় :

১. অবস্থা হবে অনন্যোপায়, অর্থাৎ প্রাণনাশের আশঙ্কা সৃষ্টি হলে।
২. অন্য কোনো হালাল ঔষধ যদি কার্যকর না হয় কিংবা পাওয়া না যায়।
৩. এই ঔষধের ব্যবহারে আরোগ্য লাভ যদি নিশ্চিত হয়।
৪. এর ব্যবহারে যদি কোনো আনন্দ লাভ উদ্দেশ্য না হয়।
৫. প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার করা না হয়।

অনন্যোপায় অবস্থা ব্যতীত সাধারণ চিকিৎসা ও ঔষধে হারাম বস্তুর ব্যবহার

অনন্যোপায় অবস্থা সংক্রান্ত মাসআলাটি তো উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে কুরআনের স্পষ্ট আয়াত ও ওলামাগণের ঐকমত্যে প্রমাণিত হয়ে গেল, কিন্তু সাধারণ রোগ-ব্যাধিতেও না-পাক ও হারাম ঔষধ ব্যবহার করা জায়েয কি না, এ মাসআলার ব্যাপারে ফকীহগণের মতবিরোধ রয়েছে। অধিকাংশ ফকীহর মতে অনন্যোপায় অবস্থা এবং উল্লেখিত শর্তসমূহের অবর্তমানে কোনো হারাম বস্তু ঔষধরূপে ব্যবহার জায়েয নয়। কারণ, হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আল্লাহ ঈমানদারদের জন্য কোনো হারামের মধ্যে আরোগ্য রাখেননি। (বুখারী)

অপরাপর কোনো কোনো ফকীহ হাদীসে উদ্ধৃত এক বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একে জায়েয সাব্যস্ত করেছেন। ঘটনাটি হলো, ওরায়নাবাসীদের, যা সমস্ত হাদীসগ্রন্থের উদ্ধৃত রয়েছে। তা হলো এই যে, একসময় কিছুসংখ্যক গ্রাম্য লোক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়। তারা ছিল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উষ্ট্রীর দুধ ও মূত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন, যাতে তারা আরোগ্য লাভ করেছিল।
কিন্তু এ ঘটনায় এমন কতিপয় সম্ভাব্যতা বিদ্যমান, যাতে হারাম বস্তুর ব্যবহারের (বৈধতায়) সন্দেহ সৃষ্টি হয়। কাজেই সাধারণ রোগ-ব্যাধির ক্ষেত্রে অনন্যোপায় অবস্থা এবং শর্তসমূহের উপস্থিতি ছাড়া হারাম ঔষধ ব্যবহার না করাই হচ্ছে আসল হুকুম।

কিন্তু পরবর্তী যুগের ফকীহগণ বর্তমান যুগে হারাম ও নাপাক ঔষধপত্রের আধিক্য এবং সাধারণ অভ্যাস ও জনগণের দুর্বলতার প্রতি লক্ষ রেখে অন্য কোনো হালাল ও পবিত্র ঔষধ এ রোগের জন্য কার্যকর নয় কিংবা পাওয়া না যাওয়ার শর্তে তা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।

দুররে-মুখতার গ্রন্থের বি পরিচ্ছেদের পূর্বে উল্লেখ রয়েছে যে, হারাম বস্তু-সামগ্রী ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করার প্রশ্নে মতবিরোধ রয়েছে। সাধারণভাবে শরীয়ত অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ। যেমন বাহরুর-রায়েক গ্রন্থের স্তন্যদান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদেও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তানবীর কিতাবের রচয়িতা এক্ষেত্রে এবং স্তন্যদান সম্পর্কিত অধ্যায়েও হাবী কুদসী কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, কোনো কোনো আলিম ঔষধ ও চিকিৎসার জন্য হারাম বস্তু সামগ্রীর ব্যবহারকে এই শর্তে জায়েয বলেছেন যে, সে ঔষধের বস্তু সামগ্রীর ব্যবহারে আরোগ্য লাভ সাধারণ ধারণায় নিশ্চিত হতে হবে এবং কোনো হালাল ঔষধও তার বিকল্প হিসাবে যদি না থাকে। যেমন একান্ত তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির জন্য মদের এক ঢোক পান করে জীবন রক্ষা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই অভিমত ফতওয়ায়ে আলমগীরীতেও ব্যক্ত করা হয়েছে।

অমুসলিম রাষ্ট্রে তৈরিকৃত ঔষধ ব্যবহারের মাসআলা

উল্লেখিত বিশ্লেষণে সে সমস্ত বিলেতী এ্যালোপ্যাথিক ঔষধপত্রের হুকুমও জানা গেল, যা ইউরোপ প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানী হয়ে আসে এবং যাতে শরাব, এ্যালকোহল কিংবা অপবিত্র বস্তুর উপস্থিতি জানাকথা ও নিশ্চিত বিষয়। বস্তুত যেসব ঔষধে হারাম ও নাপাক বস্তুর উপস্থিতি সন্দিগ্ধ, তার ব্যবহারে আরও অধিকতর অবকাশ রয়েছে। অবশ্য সতর্কতা উত্তম। বিশেষত যখন কোনো কঠিন প্রয়োজন থাকে না তখন সতর্কতা অবলম্বন করাই কর্তব্য। (সূত্র : তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪১৪-৪২৭)