প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
নাম মুআজ, ডাকনাম আবু আবদির রহমান এবং লকব বা উপাধি ইমামূল ফুকাহা, কানযুল উলামা ও রাব্বানিয়্যূল কুলূব। মদীনার খাযরাজ গোত্রের উদায় ইবনু সাদ শাখার সন্তান। অনেকে তাঁকে সালামা ইবন সাদ শাখার সন্তান বলে উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন বনু কুদায়া গোত্রের সন্তান, উদায় ইবন সাদ গোত্রের নন। এ গোত্রের লোকেরা তাঁকে নিজেদের গোত্রের লোক বলে দাবী করতো। (আনসাবুল আশরাফ-১/২৪৭, আল-ইসাবা-৪/৪২৭, সীরাতু ইবন হিশাম-১/৪৬৪, উসুদুল গাবা-৪/৩৭৬) হিজরাতের ২০ বছর পূর্বে ৬০৩ খ্রিস্টাব্দে ইয়াসরিবে (মদীনায়) জন্মগ্রহণ করেন। (আল-আলাম-৮/১৬৬)
তাঁর বংশের উর্ধ্বতন পুরুষ সাদ ইবন আলীর ছিল দুই ছেলে। তাদের নাম সালামা ও উদায়। সালামার বংশকে বলা হয় বনু সালামা। এই বংশে আবু কাতাদাহ, জাবির ইবন আবদিল্লাহ, কাব ইবন মালিক, আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন হারাম-এর মত বিখ্যাত সাহাবী জন্মগ্রহণ করেন। উল্লেখিত ব্যক্তিবৃন্দ ছাড়াও আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির এই বংশের সাথে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সালামার ভাই উদায়-এর বংশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় হিজরাতের সময় শুধু এক মুয়াজ-ই জীবিত ছিলেন এবং হিজরী ১৮ অথবা ১৯ সনে তাঁর মৃত্যুর সাথে এই বংশধারা চিরদিনের জন্য বিলীন হয়ে যায়।
ইমাম সাময়ানী কিতাবুল আনসাব গ্রন্থে হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন তাহিরকে এই উদায়-এর বংশের লোক বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এ তথ্য সঠিক নয়। কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ দ্বারা একথা প্রমাণিত যে, ইসলামের প্রাথমিক পর্বে এই খান্দানের দুই ব্যক্তি জীবিত ছিলেন। তাঁদের একজন মুয়াজ ইবন জাবাল এবং দ্বিতীয় জন তাঁরই ছেলে আবদুর রহমান। আর তাঁরা উভয়ে শামের আমওয়াসের মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। (উসুদুল গাবা – ৪/৩৭৬)
বনু উদায়-এর বাসস্থান তাদের চাচাতো গোী বনু সালামের পাশে মসজিদুল কিবলাতাইন-এর ধারে কাছেই ছিল। হযরত মুয়াজের বাড়িটিও ছিল এখানে।
হযরত মুয়াজের পিতা জাবাল ইবন আমর এবং মাতা হিন্দা বিনতু সাহল আল-জুহাইনিয়্যা। বদরী সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনুল জাদ্দ (রা) তাঁর বৈপিত্রীয় ভাই। (তাবাকাত-৩/৫৭১, ৫৮৩) মুয়াজের ছেলের নাম ছিল আবদুর রহমান। এ জন্য তাকে আবু আবদির রহমান বলে ডাকা হতো। (তাবাকাত- ৩/৫৮৩)
মক্কা থেকে মদীনায় প্রেরিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঈ-ই-ইসলাম হযরত মুসয়াব ইবন উমাইরের (রা) হাতে নবুওয়্যাতের দ্বাদশ বছরে হযরত মুয়াজ যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর বয়স ১৮ বছর। (উসুদুল গাবা-৪/৩৭৬) তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর পরবর্তী হজ্জ মওসুমে মুসয়াব ইবন ;উমাইর মক্কায় চললেন। মদীনাবাসী নবদীক্ষিত মুসলমান ও মুশরিকদের একটি দলও হজ্বের উদ্দেশ্যে তাঁর সঙ্গী হলো। হযরত মুয়াজও ছিলেন এই কাফিলার একজন সদস্য। মক্কার আকাবায় তাঁরা গোপনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীদার লাভ করে তাঁর হাতে বাইয়াত করেন। এটা ছিল আকাবার তৃতীয় বা শেষ বাইয়াত। এই দলটি মক্কা থেকে ফিরে আসার পর মদীনার ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে।
অল্প বয়স্ক মুয়াজ যখন মক্কা থেকে ফিরলেন, ঈমানী আবেগে তার অন্তর তখন ভরপুর। এখন কারও বাড়ি মূর্তি থাকাটা তার নিকট অসহনীয়। মদীনায় ফিরে তিনি এবং তার মত আরও কিছু যুবক সিদ্ধান্ত নিলেন তারা প্রকাশ্যে বা গোপনে যেভাবেই হোক মদীনাকে প্রতীমামুক্ত করবেন। তাদের এই আন্দোলনের ফলে হযরত আমর ইবনুল জামুহ প্রতীমা পূজা ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন।
আমর ইবনুল জামুহ ছিলেন মদীনার বনু সালামা গোত্রের অতি সম্মানিত সরদার। অন্য প্রতীমাটির প্রতি ছিল আমরের অত্যধিক ভক্তি ও শ্রদ্ধা। তিনি অতি যত্ন সহকারে সুগন্ধি মাখিয়ে রেশমী কাপড় দিয়ে সেটি সব সময় ঢেকে রাখতেন। মক্কা থেকে ফেরা এই তরুণরা রাতের অন্ধকারে একদিন চুপে চুপে মূর্তিটি তুলে নিয়ে বনু সালামা গোত্রের ময়লা-আবর্জনা ফেলার গর্তে ফেলে দেয়। ইবন ইসহাক এই উৎসাহী তরুণদের তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন মুয়াজ ইবন জাবাল, আবদুল্লাহ ইবন উনাইস ও সালামা ইবন গানামা। (সীরাতু ইবন হিশা-১/৬৯৯)
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমর ইবন জামুহ যথাস্থানে প্রতীমাটি না পেয়ে খোঁজা-খুঁজি শুরু করলেন। এক সময় ময়লা-আবর্জনার স্তূপে প্রতীমাটি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখে ব্যথিত করলো? তিনি প্রতীমাটি সেখান থেকে তুলে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে আতর-সুগন্ধি লাগিয়ে আবার যথাস্থানে রেখে দিলেন। প্রতীমাকে সম্বোধন করে বললেন ঃ ওহে মানাত, আমি যদি জানতাম, কারা তোমার সাথে এমন আচরণ করেছে! পরদিন রাতে আবার একই ঘটনা ঘটলো। সকালে আমর খুঁজতে খুঁজতে অন্য একটি গর্ত থেকে প্রতীমাটি উদ্ধার করে ধুয়ে মুছে আগের মত রেখে দেবে। পরের রাতে একই ঘটনা ঘটলো। তিনিও আগের মত সেটি কুড়িয়ে এনে একই স্থানে রেখে দিলেন। তবে এ দিন তিনি প্রতীমাটির কাঁধে একটি তরবারি ঝুলিয়ে দিয়ে বলেন আল্লাহর কসম! তোমার সাথে কে বা কারা এমন আচরণ করছে, আমি জানিনে। তবে তুমি তাদের দেখেছো। হে মানাত, তোমার মধ্যে যদি কোন ক্ষমতা থাকে তুমি তাদের থেকে আত্মরক্ষা কর। এই থাকলো তোমার সাথে তরবারি।
রাত হলো। তরুণরা আজও এলো। তারা প্রতীমার কাঁধ থেকে তরবারি তুলে নিয়ে একটি মৃত কুকুরের সাথে সেটি বাঁধলো। তারপর প্রতীমাসহ কুকুরটি একটি নোংরা গর্তে ফেলে চলে কবিতা আবৃত্তি করেন। তার প্রথম লাইনটি এমনঃ আল্লাহর কসম! তুমি যদি সত্যিই ইলাহ হতে তাহলে এমনভাবে কুকুর ও তুমি এক সাথে গর্তে পড়ে থাকতে না। (সীরাতু ইবন হিশাম-১/৪৫৩-৫৪)
এভাবে আমর ইবন জামুহ মূর্তিপূজার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। (দ্রঃ সুওয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবা-৭/১২২-১২৬, হায়াতুস সাহাবা-১/২৩০, সীরাতু ইবন হিশাম-১/৪৫২, ৪৫৩, ৬৯৯)
হযরত মুয়াজের ইসলাম গ্রহণের অল্পকাল পরে হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরাত করেন। বিন সাদ বলেন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ ও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের মধ্যে ভ্রাতৃ-সম্পর্ক প্রতিা করে দেন। এ বিষয়ে কোন মতবিরোধ নেই। তবে মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক থেকে একটি বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর ইবন আবী তালিবের সাথে মুয়াজেরে দ্বীনী ভ্রাতৃত্ব কায়েম করেন। মুহাম্মাদ ইবন উমার ইবন ইসহাকের এ বর্ণনা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেছেনঃ এটা কেমন করে হতে পারে? দ্বীনী মুওয়াখাত বা ভ্রাতৃ-সম্পর্কের বিষয়ী ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় আগমনের পর বদর যুদ্ধের পূর্বে। বদর যুদ্ধের পর মীরাসের আয়াত নাযিল হলে মুওয়াখাতের রীতি রহিত হয়ে যায়। আর জাফর ইবন আবী তালিব এর অনেক আগে মক্কা থেকে হাবশায় হিজরাত করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আবী তালিব এর অনেক আগে মক্কা থেকে হাবশায় হিজরাত করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় এ মুওয়াখাত বা ভ্রাতৃত্বের রীতি চালু করেন জাফর তখন হাবশায় এবং এই ঘটনার প্রায় সাত বছর পর তিনি মদীনায় আসেন। সুতরাং জাফর ইবন আবী তালিবের সাথে হযরত মুয়াজের ভ্রাতৃ-সম্পর্ক প্রতিতি হয়েছিল- মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের এমন ধারণা একটি মারাত্মক ভ্রান্তি। (দ্রঃ তাবাকাত-৩/৫৮৪, আনসাবুল আশরাফ-১/২৭৭, তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত-২/৯৭, আল-আলাম-৮/১৬৬, সীরাতু ইবন হিশাত-১/৫০৫)
ইবন সাদ বলেন ঃ মুয়াজ বিশ অথবা একুশ বছর বয়সে বদর যুদ্ধে যোগদান করেন। এরপর উহুদ, খন্দকসহ সকল যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যোগ দেন। (তাবাকাত-৩/৫৮৪, আল-আলাম-৮/১৬৬) হযরত মুয়াজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবিদ্দশায় কুরআন মজীদ হিফজ করে। রাসূলে কারীমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনকালে যে ছয় ব্যক্তি কুরআন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন তিনি তাদের অন্যতম। (আল-আলাম-৮/১৬৬)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় বনু সালামার মহল্লায় একটি মসজিদ নির্মিত হলে হযরত মুয়াজ এই মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হন। একদিন তিনি ঈশার নামাযে সূরা বারাকাহ পাঠ করেন। পিছনে মুকতাদীদের মধ্যে ছিলেন কর্মক্লান্ত এক ক্ষেত মজুর। হযরত মুয়াজের নামায শেষ করার আগেই তিনি নামায ছেড়ে চলে যান। নামায শেষে মুয়াজ বিষয়টি জানতে পেরে মন্তব্য করেনঃ সে একজন মুনাফিক (কপট মুসলমান)। লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট মুয়াজের বিরুদ্ধে নালিশ জানালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজকে ডেকে বললেনঃ মুয়াজ! তুমি কি মানুষকে ফিতনায় ফেলতে চাও? তারপর তিনি বলেনঃ ছোট ছোট সূরা পাঠ করবে। কারণ, তোমার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও ব্যস্ত লোকও থাকে। তাদের সবার কথা তেমার স্মরণে থাকা উচিত। (বুখারী-১/৯৮)
হিজরী নবম সনে হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক অভিযান শেষ করে সবে মাত্র মদীনায় ফিরেছেন। এমন সময় রমজান মাসে ইয়ামনের হিময়ার গোত্রের শাসকের দূত মদীনায় খবর নিয়ে আসে যে, ইয়ামনবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। এ খবর পেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানকার আমীর হিসাবে মুয়াজ ইবন জাবালকে মনোনীত করেন। আমীর মনোনীত হওয়ার পূর্বে হযরত মুয়াজের সকল সহায়-সম্পত্তি ঋণের দায়ে বিক্রী হয়ে গিয়েছিল। হযরত জাবির ইবন আবদিল্লাহ বলেনঃ চেহারা-সুরত, স্বভাব-চরিত্র ও দানশীলতার দিক দিয়ে মুয়াজ ছিলেন সর্বোত্তম লোকদের অন্যতম। দরায হস্তের কারণে তিনি প্রচুর ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদাররা তাগাদা দিতে শুরু করলে কিছুদিন তিনি বাড়িতে লুকিয়ে থাকেন। তারা তাদের পাওনা আদায় করে দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুরোধ করলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজকে ডাকলেন। পাওনাদার হাজির হলো। তারা বললো ইয়া রাসূলুল্লাহ, মুয়াজের নিকট থকে আমাদের পাওনা আদায় করে দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজের দুর্দশা দেখে পাওনাদারদের বলেন ঃ যে তার পাওনা মাফ করে দেবে আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথার পর কিছু পাওনাদার তাদের দাবি ছেড়ে দেয়। তবে অনেকে দাবি ছাড়তে নারাজি প্রকাশ করে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুয়াজ, তুমি ধৈর্য ধর। তারপর তিনি মুয়াজের সকল সম্পদ পাওনাদারদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। তাতেও তার সব ঋণ পরিশোধ হলো না। তখন তিনি পাওনাদারদের বললেনঃ এর অতিরিক্ত তোমরা পাবে না, এই গুলিই নিয়ে যাও।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবার থেকে হযরত মুয়াজ রিক্ত হস্তে বনু সালামার দিকে ফিরে গেলেন। সেখানে এক ব্যক্তি বললো আবু আবদির রহমান, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু সাহায্য চাইলে না কেন? আজ তো তুমি একেবারে কপর্দকহীন হয়ে পড়েছ। মুয়াজ বললেনঃ চাওয়া আমার স্বভাব নয়। মুয়াজের কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মরণ ছিল। একদিন পর তিনি মুয়াজকে ডাকলেন এবং তাকে ইয়ামনে আমীর হিসাবে নিযুক্তির কথা জানিয়ে বললেনঃ আশা করা যায় আল্লাহ তোমার ক্ষতি পুষিয়ে দেবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। (উসুুদুল গাবা-৪/৩৭৭, তাজকিরাতুল হুফ্ফজ-১/২১, তাবাকাত-৩/৫৮৪)
