প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
৩৮.এমন তিনটি কাজ/বস্তু আছে; যার মধ্যে তারতম্য করার সুযোগ নেই
মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া, আতার র. ও কাতাদা র. থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: তবে তোমরা যদি বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শন করতে চাও (আহযাব : ৬)
এ আয়াতে মুসলমানদেরকে ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও বিধর্মী আত্মীয়দের প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩৯. সকল সৃষ্টিজীব আল্লাহর পরিবারস্থ লোক
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সমস্ত সৃষ্টিজীব আল্লাহ তাআলার পরিবারভুক্ত। সুতরাং ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়পাত্র যে তার সৃষ্টিজীবের প্রতি সদয়।
ফায়দা : সৃষ্টিজীবের মধ্যে মুসলমান, কাফির, মানুষ, পশু, জ্বীন, ইত্যাদি সবকিছুই গণ্য। তাই প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি সদাচরণ করা ইসলামী শিক্ষা ও আল্লাহ তাআলার নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও পছন্দনীয় কাজ। একটি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক পাপি মহিলাকে ক্ষমা করা হয়েছে একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর সুবাদে। পক্ষান্তরে অপর একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, এক মহিলাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এ কারণে যে সে একটি বিড়াল প্রতিপালন করতো, কিন্তু তাকে আটকিয়ে রাখত। অথচ খেতে দিত না।
যখন পশুর ক্ষেত্রে এ অবস্থা তখন সর্বশ্রে সৃষ্টি মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার ও সদাচরণ করলে কী পরিমাণ সওয়াব হবে? অপর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না।
৪০.হতভাগা কে ?
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন. একবার কতিপয় সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন জানিয়ে বলেন, কুরাইশরা মুসলমানদেরকে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছে, অবর্ণনীয় ক্ষতি করেছে। সুতরাং আপনি তাদের বিরুদ্ধে বদ-দুআ করেন। প্রতিউত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বদ-দুআ করার জন্য প্রেরিত হইনি। আমি তো মানুষের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছি। এ সংক্রান্ত আরও অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তায়েফের হৃদয়বিদারক ঘটনা আমি হেকায়েতে সাহাবা গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখ করেছি। ঐসব হতভাগারা মুসলমানদের নিদারুণ কষ্ট-যাতনার মধ্যে নিক্ষেপ করেছিল। লেলিয়ে দেওয়া যুবকদের প্রহারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীর মুবারক রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিলো। তা দেখে পাহাড়ের দায়িত্বশীল ফিরিশতাগণ বলেন, আপনি অনুমতি দিন তায়েফের উভয় পাশের পাহাড়গুলো একত্রিত করে তাদের সকলকে পিষে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দেন, আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, এরা মুসলমান না হলেও পরবর্তীতে এদের সন্তানদের মধ্যে এমন লোক জন্মগ্রহণ করবে যারা মুসলমান হবে এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে।
৪১.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও বদ-দুআ করেননি
উহুদের যুদ্ধে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর কাফিররা প্রচণ্ডবেগে আক্রমণ করে দাঁত মুবারক শহীদ করে দেয়। তখন উপস্থিত লোকেরা আবেদন করে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার জাতিকে হেদায়েত দাও। এরা তো অবুঝ এবং প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়। হযরত উমর (রা.) আবেদন করে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি যদি তাদেরকে নূহ (আ) এর মতো বদদুআ করতেন তাহলে আমরা সকলে ধ্বংস হয়ে যেতাম। কিন্তু আপনি সর্বদা এ দুআ-ই করেছেন যে, ইয়া আল্লাহ আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা করে দাও। তারা তো বুঝে না।
৪২.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহনশীল ও উত্তম চরিত্রের নিদর্শন ছিলেন
কাজী ইয়াজ (রহ.) বলেন, আমাদের প্রত্যেকের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও অবস্থা সম্পর্কে গভীরভাবে অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করা উচিত। এজন্য যে, তিনি সহনশীল ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত, বদান্যতা ও দানশীলতার চূড়ান্ত স্তরে উপনীত ছিলেন। তাই দেখা যায় সীমাহীন কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কাফিরদেরকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য; আবার কখনও তাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করেছেন।
৪৩.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধৈর্য ও ক্ষমা সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর ঘটনা
গওয়াছ ইবনে হারিছের একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা। একদা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাকী শয়ন করেছিলেন। তখন গওয়াছ তরবারী হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হলে গওয়াছ ধমকের সুরে বলে, হে মুহাম্মাদ! বল, এখন তোমাকে (আমার আক্রমন থেকে) কে রক্ষা করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দেন, আল্লাহ। উত্তর শোনা মাত্র কাঁপতে কাঁপতে তার হাত থেকে তরবারী মাটিতে পড়ে যায়। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরবারী হাতে নিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বল দেখি এবার আমার হাত থেকে কে তোমাকে বাঁচাবে? এখন সে (অত্যন্ত বিনয়ের সাথে) বলে, আপনি উত্তম তরবারী পরিচালনাকারী (অর্থাৎ আমাকে ক্ষমা করে দিন)। তখন দয়ার আধার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেন।
৪৪.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি
এ বিষয়ে জনৈক ইহুদী মহিলার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদ্যে বিশ মিশ্রিত করার ঘটনা খুব প্রসিদ্ধ। উক্ত মহিলা স্বেচ্ছায় স্বীকারও করেছিল যে, সে আল্লাহর রাসূলের খাদ্যে বিষ মিশিয়েছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে কখনও বিন্দু মাত্র প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তদ্রুপ লবীদ বিন আছম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদু করেছিল। তিনি এ বিষয়ে অবহিত হয়েছিলেন। কিন্তু তদন্ত ও অনুসন্ধান করেননি। সারকথা, এরূপ ২/৪টি ঘটনা নয় বরং হাজারও ঘটনা রয়েছে যে, তিনি শত্র“দের থেকে কখনও বিন্দুমাত্র প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। সবসময় তাদের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন।
৪৫.পরস্পর যার মধ্যে সদাচরণ নেই সে মুমিন নয়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত পরস্পরের মধ্যে সদাচরণ না করবে। তখন সাহাবায়ে কিরাম নিবেদন করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাদের মধ্যে সকলেই তো স্বাভাবিকভাবে একে অপরের প্রতি দয়া করে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সচরাচর নিজেদের মধ্যে যা করা হয় তা দয়া নয়। দয়া ঐটা যা ব্যাপকভাবে করা হয়।
৪৬.অভিশাপ আর অভিশাপ
একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করেন। তখন সেখানে কতিপয় কুরাইশ নেতা বসা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই রাজত্ব ও কর্তৃত্ব কুরাইশদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে যতদিন তারা অনুগ্রহপ্রার্থীকে অনুগ্রহ করবে এবং কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে সত্য ও ন্যায়ের কথা বলবে, কোন কিছু বণ্টন করলে সমভাবে ইনসাফের সাথে করে, যারা উক্ত বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখবে না তাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, ফিরিশতাদের অভিশাপ ও সকল মানুষের অভিশাপ। আরেকদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ উপবিষ্ট ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগমণ করতে দেখে তারা সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হন, এ ভেবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসন গ্রহণ করবেন। তিনি দরজায় এসে দাঁড়িয়ে উভয় পাশে গত রেখে ইরশাদ করেন, তোমাদের উপর আমার অনেক হক আছে। জাতীয় নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব কুরাইশদের হাতে থাকবে যতদিন পর্যন্ত তারা ২টি বিষয়ের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিবে। যথা (১) কোন অনুগ্রহকারী অনুগ্রহ চাইলে তার প্রতি অনুগ্রহ করবে, (২) কারো প্রতি কোন প্রতিশ্র“তি দিলে তা রক্ষা করবে। পক্ষান্তরে উক্ত ২টি বিষয়ের প্রতি যারা লক্ষ্য রাখবে না তাদের প্রতি আল্লাহ, ফিরিশতা ও সকল মানুষের (পক্ষ থেকে) অভিশাপ বর্ষিত হবে।
৪৭.চড়–ই পাখিকে অন্যায়ভাবে হত্যা (জবাই) করলেও তার কৈফিয়ত দিতে হবে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সামান্য একটি চড়–ই পাখিকে অন্যায়ভাবে জবাই করবে কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন-এর কি হক আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জবাই করলে (রান্না) ভক্ষণ করবে। তবে এমনটি যেন করা না হয় যে, জবাই করে ফেলে দিয়ে চলে যাবে।
৪৮.খাদেমের হক কতটুকু ?
অসংখ্য হাদীসে উল্লেখ আছে যে, তোমাদের অধীনে যেসব সেবক-সেবিকা আছে তাদেরকে তোমরা যা খাও তাই খেতে দাও। তোমরা যা পরিধান কর তাদেরকে তা পরিধান করতে দাও। কারো সাথে একমত না হতে পারলে (বনিবনা না হলে) তাকে বিক্রয় করে দাও। অন্যথায় কষ্ট-যাতনার মধ্যে নিক্ষেপ করার কোন অধিকার কারো নেই।
৪৯.অধীনস্তদের প্রতি সদাচরণ করা বরকতময় কাজ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন কেউ কোন খাদ্য রান্না করে তোমাদের জন্য কিছু নিয়ে আসে (তাপ, ধোয়া ইত্যাদির কষ্ট সহ্য করে) তখন তোমাদের উচিত হবে তাকে খানার মধ্যে তোমার সাথে শরীক করা। যদি পরিমাণ এতই কম হয় যে, তাকে শরীক করা সম্ভব হচ্ছে না তবে তা থেকে সামান্য অংশ তাকে দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, অধীনস্তদের প্রতি সদাচরণ করা বরকতময় কাজ। পক্ষান্তরে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা খারাপ ও দুর্ভাগ্যময়। সারকথা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের প্রতি সদাচরণ করার প্রতি তাগিদ ও উৎসাহ প্রদান করেছেন।
৫০.সমভাবে লেনদেন করা সদাচরণ নয়
বাস্তবিক সদাচরণ হলো অন্যদের পক্ষ থেকে উদাসীনতা, অমুখাপেক্ষিতা, সম্পর্কহীনতা, গরমিল ইত্যাদি দেখা দিলে তোমরা তাদের সাথে মিলেমিশে, আন্তরিকতা ও প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে থাকার জন্য চেষ্টা করবে। এ দিকে লক্ষ্য করবে না যে, সে কেমন আচরণ করেছে? বরং সর্বদা একথা চিন্তা করবে যে, আমার দায়িত্বে অন্যের প্রতি কী করার (অধিকার) আছে এবং আমার কী করা উচিত? তোমরা সর্বদা অন্যদের অধিকার রক্ষার প্রতি সচেতন থাকবে। যেন কখনও এমনটি না হয় যে, অন্যের অধিকার আমার দায়িত্বে অনাদায় ও অপূর্ণ রয়ে গেছে; যে জন্য কিয়ামতের দিন আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। নিজের অধিকার ও প্রাপ্য পূর্ণ করার বাসনা ভুলেও মনের মধ্যে কল্পনা করবে না। বরং পূর্ণ না হলে আরও অধিক খুশি হবে এভেবে যে, পরকালে যে সওয়াব ও পূর্ণ পাওয়া যাবে তা এর চেয়ে অনেক বেশি (অধিক) হবে।
৫১. সম্পর্ক ছিন্নের পরও মিলে যাওয়ার নির্দেশ
জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার একজন আত্মীয় (স্বজন) রয়েছে। আমি তার সাথে সদাচরণ করি। কিন্তু সে আমার সাথে অসদাচরণ করে। আমি তার সাথে ভাল ও কোমল আচরণ করি কিন্তু সে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। আমি তার সাথে সকল প্রকার লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বদা ধৈর্যধারণ করি কিন্তু সে আমার প্রতি অধৈর্য হয়ে খারাপ আচরণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার বর্ণনা যদি সত্য ও সঠিক হয় তবে তুমি তার মুখের উপর মাটি মিশ্রিত করে দিয়েছ। (অর্থাৎ সে স্বয়ং অপদস্থ হবে) আর তোমার প্রতি আল্লাহর সাহায্য থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার এ অভ্যাসের উপর অটল থাকবে।
৫২.আল্লাহর সাহায্য নাযিল হলে কোন ক্ষতি নেই
যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্য কারো সাথী হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কারো অনিষ্ট তাকে বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না এবং কারো সম্পর্ক ছিন্ন করা তার কল্যাণের পথে প্রতিবন্ধক হতে পারে না।
তুমি চলে যেন না হে রব, তোমার চলে যাওয়া অভিশাপ
আমি স্বয়ং এতেও রাজি আছি যে, আমার সময় ত্যাগ করি
তবে এ কথা স্পষ্ট যে, আল্লাহ যদি কারো সাহায্যকারী হন তবে তাকে অন্যের সাহায্যের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন অবশিষ্ট আছে কি? কেননা সমগ্র পৃথিবী তো বাধ্যতামূলক তার সাহায্যকারী। দুনিয়ার সবকিছুই মিলিত হয়ে যদি তার ক্ষতি করতে চায় তবে কেউ কিছুই করতে পারবে না।a
