প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
৭৬. সর্বনিকৃষ্ট অযোগ্য নির্বোধদের হাতে সমাজের নেতৃত্ব
১. কুরআন -হাদীসের জ্ঞান শূন্য ও ইসলাম ধর্মীয় ব্যাপারে অবজ্ঞা প্রদর্শনকারী সমাজের অযোগ্য নির্বোধ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আগমনকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামাতের অণ্যতম আলামত বলে চিহ্নিত করেছেন।
২. জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা কাব্ বিন উজরা (রাঃ) কে উদ্দেশ্য করে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে লাগলেন-নির্বোধ ব্যক্তিদের নেতৃত্ব থেকে আল্লাহ পাক তোমাকে বাঁচিয়ে রাখুন! নির্বোধের নেতৃত্ব কি?- জিজ্ঞেস করা হলে নবীজী বললেন- আমার পর এমন সব নেতা- নেত্রীদের আগমন হবে,যারা আমার আদর্শকে অবহেলা করবে। প্রচুর মিথ্যা কথা বলবে। সুতরাং যারা-ই মিথ্যুকদেরকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে, অপরাধ -দুর্নীতিতে তাদেরকে সহায়তা করবে, অবশ্যই তারা আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। হাউজে কাউসারে-তারা আমার ধারে- কাছেও আসতে পারবে না। পক্ষান্তরে যারা মিথ্যুকদেরকে সত্যায়ন করেনি, অপরাধ-দুর্নীতিতে সহায়তা করেনি, তারাই আমার উম্মত। আমি তাদের পক্ষে থাকবো। হাউজে-কাউসারে তারা আমার কাছে আসবে। ওহে কাব বিন উজরা..। (জেনে রেখো) রোযা হচ্ছে ঢাল, সাদাকা-পাপকে ধুয়ে দেয় এবং নামায হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ট উপায়। ওহে কাব বিন উজরা ..। (জেনে রেখো) অবৈধ উপার্জনে ক্রয়কৃত খাদ্যে যে মাংস শরীরে বেড়ে উঠলে,তা কখনো-ই জান্নাতে প্রবেশ করবে না; বরং জাহান্নামের আগুনই তার জন্য অধিক মানানসই। ওহে কাব! মানুষ প্রতিদিন (কর্ম শেষে) প্রত্যাগমন করে, কেউ নিজেকে বিক্রি করে দিয়ে আসে, কেউ (নিজেকে জাহান্নাম থেকে) মুক্ত করে আসে। (মুসনাদে আহ্মাদ, মুসনাদে বাযয়ার)
৩. অপর হাদীসে- কিয়ামাত সংঘটিত হবে না,যতক্ষণ না প্রত্যেক জাতিকে মুনাফিকরা নেতৃত্ব দেবে। এখানে মুনাফিক বলতে যাদের অন্তরে খোদা -ভীতি বলতে কিছই নেই, দুর্বল ঈমান, প্রচন্ড মিথ্যাবাদী এবং গন্ডমুর্খ লোক উদ্দেশ্য।
এ রকম নির্বোধ গন্ডমূর্খরা- নেতৃত্বে আসার ফলে সমাজের আমূল বিবর্তন ঘটবে। মিথ্যুককে সত্যবাদী বলা হবে,সত্যবাদীকে মিথ্যুক বলে অবহেলা করা হবে। ঘাতককে বিশ্বস্ত আর বিশ্বস্তকে ঘাতক মনে করা হবে। জ্ঞানীদের মুখ বন্ধ করে -মূর্খরা সমাজ নিয়ে কথা বলবে।
৪. আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন অচিরেই এমন কিছু বছর আসবে যাতে মানুষ ধোকা খাবে। তাতে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী মনে করা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী মনে করা হবে। আত্মসাৎকারীকে আমানতদার মনে করা হবে এবং আমানতদারকে আত্মসাৎকারী মনে করা হবে। সে সময় রুওয়াইবেযা কে? তিনি বললেনঃ রুওয়াইবেযা হচ্ছে সে বেকুব লোক যে জাতীয় ব্যাপারে কথা বলবে। (আহ্মাদ্ ১৫/৩৭-৩৮)
৫. নির্বোধ গন্ডমূর্খ-রা জ্ঞানীদের উপর প্রভাব বিস্তার করবে। ফলে ক্ষমতা এবং শাসনকার্য সম্পূর্ণ তাদের হাতে থাকবে, যেমনটি বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
৬. ইমাম শাবী (রহ.) বলেন- কিয়ামাতের পূর্বমুহূর্তে প্রকৃত জ্ঞান হয়ে যাবে মূর্খতা, আর মূর্খতা হয়ে যাবে প্রকৃত জ্ঞান। এভাবেই দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।
৭. আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, উৎকৃষ্টদের অবহেলা করা হবে এবং নিকৃষ্টদের মর্যাদা দেয়া হবে। ( মুস্তাদরাকে হাকিম)
৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ যখন জামা-কাপড় ও জুতোবিহীন লোকেরা মানুষের নেতৃত্ব দিবে তখনই মনে করবে কিয়ামাত অতি সন্নিকটে। (মুসলিম-৯)
৯. উমর বিন্ খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ কিয়ামাতের অন্যতম আলামত হচ্ছে অযোগ্য অপদার্থ লোক দুনিয়ার নেতৃত্ব দেয়া। (মায্মাউয্ যাওয়ায়িদ্ ৭/৩২৫)
১০. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ যখন নেতৃত্ব অযোগ্যের হাতে তুলে দেয়া হয় তখনই কিয়ামাতের অপেক্ষা করবে। (বুখারী ৬৪৯৬)
১১. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে আরও বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ কিয়ামাতের অন্যতম আলামাত হচ্ছে তুহুত (নিচু লোকেরা) উঊল (ভালো লোকের) উপর নেতৃত্ব দিবে। বর্ণনাকারী হযরত আব্দুল্লাহ বিন্ মাস্উদ (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আব্দুল্লাহ বিন্ মাস্উদ! তুমি কি উক্ত হাদীসটি আমার প্রিয় নবী থেকে শুনেছিলে? তিনি বলেন হ্যাঁ, কাবার প্রভুর কসম! আমি তা প্রিয় নবী থেকে শুনেছি। শ্রোতারা বললো ? তুহুত কি? তিনি বললেনঃ তুহুত মানে নিচু লোক। অপ্রসিদ্ধ ঘরের লোকেরা । (মায্মাউয্ যাওয়ায়িদ্ ৭/৩২৭)
