প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৭, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

অনেক সময় জমি-জায়গা বা টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়। সেই বিবাদ মীমাংসার জন্য অনেক সময় থানা-পুলিশ ও কোর্ট-হাকিমের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু সেখানে দলীল-প্রমাণ ও সাক্ষী-সাবুত ছাড়া মীমাংসা হয় না। নিজের হক হলেও তা হাকিমের কাছে দলীল বা সাক্ষী দ্বারা প্রমাণ করতে না পারলে বাহ্যত সে হক তার নয়। বাহ্যত যার হাতে আছে, মাল তারই। দলীল বা সাক্ষী ছাড়া ভিতরের খবর কে বলতে পারে? দলীল-সাক্ষী কিছু না থাকলে কসমের পালা আসে। প্রতিবাদী নির্দোষ বলে অথবা সে মাল তার বলে কসম খেতে পারলে তা তারই হয়ে যায়। হাকিম বা বিচারক তো আর গায়েবের খবর জানেন না। তিনি বাহ্যিক দলীল, সাক্ষী বা কসম দ্বারা বিচার করে দেন।

কিন্তু অনেক সময় সে বিচার বাহ্যদৃষ্টিতে সঠিক হলেও বাস্তবদৃষ্টিতে বেঠিক হয়। হকদার দলীল বা সাক্ষী উপস্থিত করতে না পেরে নিজের হক থেকে বঞ্চিত হয়। অবশ্য সে হক কিয়ামতে তার জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু প্রতিবাদী জেনেশুনে যদি বাদীর হক ঐ ফায়সালা অনুযায়ী গ্রহণ করে, তাহলে তা বিচারকের দেওয়া ফায়সালা বলে তার জন্য ঐ মাল হালাল হয়ে যাবে না। বাহ্যত বিচারকের ফায়সালা পরের (হারাম) মালকে হালাল করতে পারে না। এ ব্যাপারে দ্বীনের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আর তোমরা আমার নিকট বিচার নিয়ে আসছো। সম্ভবত তোমাদের কেউ কেউ একে অন্যের চাইতে দলীল ও প্রমাণ পেশকরণে অধিক পারদর্শী। ফলে আমি তার নিকট থেকে আমার শোনা মতে তার সপক্ষে ফয়সালা দিয়ে তার ভাইয়ের কিছু হক তাকে দিয়ে দিই, তাহলে সে যেন তার কিছুই গ্রহণ না করে। যেহেতু আমি তো (এ অবস্থায়) তার জন্য (জাহান্নামের) আগুনের একটি অংশ কেটে দিই।’ (বুখারী, মুসলিম ১৭১৩ নং)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের কসম দ্বারা কোন মুসলিমের অধিকার হরণ করে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ দোযখ ওয়াজেব এবং বেহেশত হারাম করে দেন।’ লোকেরা বললো, ‘যদিও সামান্য কিছু হয় তাও, হে আল্লাহর রাসূল?’ বললেন, ‘যদিও বা পিল্লু (গাছের) একটি ডালও হয়।’ (মালেক, মুসলিম ১৩৭, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ২৩২৪ নং) তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন জিনিস দাবি করে যা তার নয়, সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।’ (ইবনে মাজাহ, সহীহুল জামে’ ৫৯৯০ নং) প্রকাশ থাকে যে, ইসলামে যার যে হক নেই, সেই হক যদি কোন তাগুতী সরকার দিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা নাহক। ইসলাম কারো হক নষ্ট করেনি। ইসলামের ভাগবণ্টনে সম্পূর্ণটাই ইনসাফভিত্তিক। যেহেতু মহান সৃষ্টিকর্তা কারো প্রতি জুলুম করেন না। (সুরা ইউনুস, ৪৪ আয়াত) এখন যদি কোন মুসলিম তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাগুতী আইনের বলে নিজের নাহক অধিকার আদায় করে, তাহলে তা তার হারাম খাওয়া হবে।

মক্কা শরীফ থেকে ফুরফুরার পীর সাহেবের আহ্বান রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান

ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর আল্লামা শাইখ আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী সাহেব হজের সফরে মক্কায় অবস্থানকালীন সেখান থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বার্মার মজলুম রোহিঙ্গাদের প্রতি সকল প্রকার ধর্মীয়, রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলমত নির্বিশেষে সকলকে মানবিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বার্মার নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করায় উলামা মাশায়েখসহ বাংলার আপমর মুসলিমদের প্রশংসা করেছেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সেই সাথে নমনীয়তা দেখানোয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সহ যেসব দেশ রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী-পুলিশ ও রাখাইন বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের বর্বরোচিত গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালিয়ে বার বার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সকল প্রকার নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও ধর্ষণের বিচার এবং মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যে মানবিক বিপর্যয় রোধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য ফুরফুরার পীর সাহেব পরামর্শ দিয়েছেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞে বার্মা সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মগদের উদ্বুগ্ধ করায় সেদেশের নেতা অং সাং সুচিকে দায়ী করেছেন শাইখ মিশকাত সিদ্দীকি। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থা নিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বঘোষিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীদের নীরবতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করা সর্বস্ব হারানো রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রমের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছেন। এটা সত্য যে, এই মুহূর্তে এর চেয়ে জরুরি কাজ আর কিছু নেই। কিন্তু আমি নিজে হজের সফরে দেশের বাহিরে। সেজন্য সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারছি না। তবে অনেকেই ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নিচ্ছেন, যার পতি আপনার আস্থা ও নির্ভরতা হয় তার সাথে আপনারা যোগ দিতে পারেন এই মহৎ কাজে। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে খুবই সচেতনাতার সাথে। আর সরকারের প্রতি এই আশাবাদ ব্যক্ত করি, ত্রাণ কার্যক্রম শুধুমাত্র সরকারিভাবে সীমিত পর্যায়ে না রেখে বাংলার আপমর মুসলিমদের বার্মার মজলুম রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দিন