প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৭, মুহাররম-সফর ১৪৩৯ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

পরের জমি জবরদখল না করা

যেন-তেন-প্রকারে পরের জমি অথবা জায়গা দখল করে ফসল উৎপাদন করে হারাম খায় এক শ্রেণীর মানুষ। পদের ভারে অথবা জনশক্তির জোরে পরের জিনিসকে নিজের করে নিতে তাদের কোন অসুবিধা হয় না। যেন ‘লাঠি যার মাটি তার। জোর যার মুলুক তার।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি (অন্যের) অর্ধহাত পরিমাণও জমি জবরদখল করবে (কিয়ামতের দিন) সে ব্যক্তির ঘাড়ে ঐ জমির (নীচে) সাত (তবক) জমিনকে বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারী ২৪৫৩, মুসলিম ১৬১২ নং) অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অর্ধহাত পরিমাণও জমি জবর-দখল (আত্মসাত) করবে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহতাআলা কিয়ামতের দিন ঐ জমির সাত তবক পর্যন্ত খুঁড়তে আদেশ করবেন।

অতঃপর তা তার গলায় বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে; যতক্ষণ পর্যন্ত না সমস্ত লোকদের বিচার-নিষ্পত্তি শেষ হয়েছে (ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ সাত তবক আধ হাত জমি তার গলায় লটকানো থাকবে)!’ (আহমাদ ৪/১৭৩, ত্বাবারানীর কাবীর, ইবনে হিব্বান ৫১৪২, সহীহুল জামে’ ২৭২২ নং) আরো এক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অর্ধহাত পরিমাণও জমি নাহক জবর-দখল (আত্মসাত) করবে সে ব্যক্তিকে আল্লাহতাআলা কিয়ামতের দিন ঐ জমির সাত তবক পর্যন্ত নীচে ধসিয়ে দেবেন। (বুখারী) তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি সেই জিনিস দাবি করে, যে জিনিস তার নয়, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় এবং সে যেন নিজের ঠিকানা দোযখে বানিয়ে নেয়।’ (মুসলিম, ৬১ নং) তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর যে গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্য যবেহ করে, আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর যে নিজ পিতামাতাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর যে কোন দুষ্কৃতিকারী বা বিদআতীকে আশ্রয় দেয় এবং আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর যে ভূমির (জমি-জায়গার) সীমাচিহ্ন পরিবর্তন করে।

(মুসলিম, ১৯৭৮ নং) অপরের স্থাবর-অস্থাবর ধন-সম্পত্তি দাবির জোরে কাযীর কাছে কসম খেয়ে নিজের বলে প্রমাণ করে যে ব্যক্তি তা ভোগ করে সে আল্লাহর নিকট অতি ঘৃণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের মাল অনধিকার আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে কসম করে, সে ব্যক্তি এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, যেন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন।’ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথার সমর্থনে আল্লাহর কিতাব থেকে এই আয়াত আমাদের জন্য পাঠ করলেন:

إِنَّ الَّذِيْنَ يَشْتَرُوْنَ بِعَهْدِ اللهِ وَ أَيْمٰنِهِمْ ثَمَنًا قَلِيْلًا أُولٰٓئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ وَ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ وَ لَا يُزَكَّهِيْهِمْ ۪ وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ

অর্থাৎ, যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অঙশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা আল ইমরান, ৭৭ আয়াত।

বুখারী ৬৬৭৬, ৬৬৭৭, মুসলিম ১১০ নং, আবু দাউদ, তিরমিযী ইবনে মাজাহ) অপরের গাফলতি অথবা সরলতার সুযোগ নিয়ে তার জমি অথবা জায়গা ছলে-বলে কলে-কৌশলে রেকর্ড করে নেওয়াও জমি জবর-দখলের শামিল। কয়েক বছরের জিন্দেগীর জন্য পরের জমি নাহক দখল করে কবরে গেলে তার দ্বারা উপকৃত হবে উত্তরাধিকারীরা। আর দখলকারী কবরে কয়েক হাত জায়গা নিয়ে আযাব ভোগ ও আফসোস করতে থাকবে।