প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১১ম সংখ্যা, মে ২০১৬, রজব-শাবান ১৪৩৭ হিজরী, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
দুমুখো সাপের মত দুমুখো মানুষও আছে যারা দুই মুখেই দংশন করে। পরস্পর বিদ্বেষী দুই পক্ষের নিকটই নিজের মান ও সম্মান রাখতে চায়। উভয় পক্ষের মন রাখার উদ্দেশ্যে প্রত্যেকের নিকট তার সপক্ষে এবং অপর পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিদ্বেষ আরো বৃদ্ধি পায়। যেহেতু প্রত্যেকের নিকটে তার মনের গুপ্ত উদ্দেশ্যের বিপরীত কথা বলে, তাই সে এক প্রকার মুনাফিক। অনেক সময় এ ধরনের লোকেরা গুপ্ত কথা নিয়ে বিপক্ষের নিকট পৌঁছে থাকে; তাই সে এক প্রকার চুগলখোরও।
হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সবচেয়ে মন্দ, যে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে। সে একবার ঐ দলের কাছে একরূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে এবং আরেকবার ভিন্ন একরূপে অপর দলের কাছে আত্মপ্রকাশ করে। (বুখারী, মুসলিম)
যে ব্যক্তি ইহলোকে দুমুখো হবে, কিয়ামতে তার আগুনের দুটি জিহ্বা হবে। (সহীহুল জামে, ৬৩৭২)
মুনাফিকের উদাহরণ যেমন দুই ছাগলপালের মাঝে যাতায়াতকারী বিপথগামী ছাগ। যা এ পালে একবার আসে আবার ও পালে একবার যায়। স্থির করতে পারে না যে সে কোন পালের অনুসরণ করবে। (জিহ্বার আপদ, আব্দুল হামীদ ফাইযী, পৃ. ৮২)
এই কপটতা সমাজে এক ফ্যাশন আকারে স্থান লাভ করেছে। অর্থ ও স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে প্রায় স্থানে প্রায় লোকের নিকট হতে এই কপটতার অভিব্যক্তি ঘটে। হক ও ন্যায় প্রকাশ্যে বলা, বাস্তব ও প্রকৃত অবস্থা খুলে পেশ করা কঠিন ও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই প্রায় মানুষ প্রয়োজনে স্পষ্ট বলতে, অপরকে উপদেশ দিতে এবং কারো প্রতিবাদ করতে ভয় ও সংকোচ বোধ করে থাকে। এরা মানুষকে ভয় করে, অথচ মানুষের প্রতিপালক ও প্রভুকে ভয় করে না! মানুষের নিকট নিজের পজিশন যাবার ভয় করে, অথচ মহান আল্লাহর নিকট তার মর্যাদা যাবার ভয় করে না!
আল্লাহ পাক ঐ ধরনের মানুষদের প্রকৃতি ও আচরণ বর্ণনা করে বলেন : “এরা মানুষকে লজ্জা করে, কিন্তু আল্লাহকে লজ্জা করে না; অথচ তিনি তাদের সাথে থাকেন। যেহেতু তিনি যা পছন্দ করেন না এমন কথা তারা রাত্রিতে পরামর্শ করে এবং তারা যা করে তা সর্বতোভাবে আল্লাহর জ্ঞানায়ত্ত।” (নূরা নিসা : ১০৮ আয়াত)
হযরত মুহাম্মাদ ইব্ন যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) লোকেরা একবার আমার দাদা আব্দুল্লাহ ইব্ন উমার (রা) এর কাছে এসে বলল : আমরা বাদশার কাছে গমন করি এবং তার সাথে বাক্যালাপ করি। যখন সেখান হতে ফিরে আসি তখন তার বিপরীত কথা বলি। আবদুল্লাহ্ (রা) বললেন : আমরা এটাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামানায় মুনাফিকী বলে সাব্যস্ত করতাম। (বুখারী)
