প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৬, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৭-৩৮ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুসলিমদেরকে গালিগালাজ করা ফাসেকী আর তাদের বিপক্ষে লড়াই করা কুফরী। (বুখারী, মুসলিম)

হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পরস্পরকে গালী প্রদানকারীর মধ্যে যে পূর্বে গালি দিয়েছে সে দোষী, যদি নির্যাতিত (প্রথমে যাকে গালি দেয়া হয়েছে) ব্যক্তি পরিসীমা অতিক্রম না করে থাকে। (মুসলিম)

হযরত আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গালি গালাজকারী, অশালীন এবং অভিসম্পাতকারী ছিলেন না। আমাদের কারো উপর তিনি নারাজ হলে কেবল এতটুকু বলতেন যে, তার কি হলো! তার কপাল ধুলাময় হোক! (বুখারী)
ইসলামী শরীয়তে গালি গালাজ, অশালীন, অশ্লীল কথাবার্তা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হল, গালি গালাজের সময় সীমালঙ্ঘন হয়ে যায়। একজন যদি কারো বাবাকে গালি দেয়, তবে অপরজন তার বাবা-মা সহ সকলকে গালি দেয়। এভাবে সীমা লঙ্ঘন হয়ে পরে মারামারির উপক্রম হয়। অশালীন ও অশ্লীল কথা বলতে যারা অভ্যস্ত লোকেরা তাদেরকে ঘৃণা করে। কেউ তাদের সাথে মেলামেশা করতে চায় না। গালমন্দ করা অভদ্রতা ও সভ্যতার পরিপন্থী কাজ, অধিকন্তু এতে অন্য মানুষের কষ্ট হয়। কোনো মুসলিমকে এমনকি কোনো মানুষকে দেয়াও নিষিদ্ধ।

গালির প্রত্যুত্তরে গালি না দেয়া : আব্দুল্লাহ্ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমাকে কেউ তার জানা তোমার কোন ব্যাপার নিয়ে গালি দিলে তুমি তাকে তোমার জানা তার কোন ব্যাপার নিয়ে গালি দিও না। তা হলে তুমি এর সাওয়াব পাবে এবং সে এর পরিণাম ভুগবে। (সহীহুল-জামি, হাদীস ৫৯৪)

অপরাধীকে গালমন্দ ও লাঞ্ছিত না করা : আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জনৈক মদখোর ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে মারতে আদেশ করেন। অতঃপর আমাদের কেউ কেউ তাকে হাত দিয়ে মারলো। আবার কেউ কেউ জুতো দিয়ে। আবার কেউ কেউ কাপড় দিয়ে। যখন সে চলে গেলো তখন কেউ বলে উঠলো : আখ্যাকাল্লাহ্- আল্লাহ্ তোমাকে লাঞ্ছিত করুক। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা এমন বলো না এবং শয়তানকে তার ব্যাপারে সহযোগিতা করো না। (বুখারী, হাদীস ৬৭৭৭)

শয়তান চায় মানুষকে অপরাধী বানিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করতে। তাই অপরাধীকে এমন কথা বললে তার ব্যাপারে শয়তানের শয়তানী উদ্দেশ্য হাসিল হয়।

কোন মুসলমান মৃতকে গাল-মন্দ না করা : আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জনৈক মৃত ব্যক্তিকে মন্দ বলা হলে তিনি বলেন : তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদেরকে একমাত্র সুনামের সাথেই স্মরণ করবে। (নাসায়ী, হাদীস ১৮৩৭)

আয়িশা (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদেরকে কখনো গালি দিও না। কারণ, তারা তো নিশ্চয়ই তাদের কৃতকর্ম নিয়েই পরকালে পাড়ি জমিয়েছে। (বুখারী, হাদীস ৬৫১৬, নাসায়ী, হাদীস ১৯৩৮)

এমনকি মৃতদেরকে গাল-মন্দ করলে তাদের জীবিত আত্মীয়-স্বজন এবং তাদের বন্ধু প্রিয়জনরাও কষ্ট পায়। মুগিরাহ্ বিন্ শুবাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদেরকে কখনো গালি দিও না। কারণ, তাতে জীবিতরাও কষ্ট পায়। (তিরমিযী, হাদীস ১৯৮২)

তবে পথভ্র মৃত বিদ্আতীদের সম্পর্কে সাধারণ জন সাধারণকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের ভুল ত্টি গুলো মানুষের সামনে সবিস্তারে ও সুস্পভাবে তুলে ধরা যেতে পারে।

মুসলমানকে ফাসেক বা কাফের বলা : হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন : কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে যেন ফাসেক অথবা কাফের এর অপবাদ না দেয়। কেননা সে যদি প্রকৃতই তা না হয়ে থাকে তবে এই অপবাদ তার নিজের ঘাড়ে এসে চাপে। (বুখারী)