প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৬, জমা.সানী-রজব ১৪৩৭ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২২ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
বায়ু নির্গমন সন্দেহে নামায ছেড়ে দেয়া নিষেধ
আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: তোমাদের কেউ নামাযে থাকাবস্থায় নিজ পায়ুপথে নড়াচড়া অনুভব করলে সে যদি এ ব্যাপারে সন্দিহান হয় যে, তার ওযু ভেঙ্গে গিয়েছে না কি ভাঙ্গেনি, তা হলে সে যেন নামায ছেড়ে না দেয় যতক্ষন না সে (বায়ু নির্গমনের) আওয়াজ শুনতে পায় অথবা (তার নাকে) দুর্গন্ধ অনুভব করে। (আবু দাউদ, হাদীস ১৭৭)
নামাযরত অবস্থায় কাউকে সামনে দিয়ে যেতে দেয়া নিষেধ
আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : যখন তোমাদের কেউ নামাযরত অবস্থায় থাকে তখন সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে যেতে না দেয়। বরং সে যেন তাকে যথাসাধ্য বাধা দেয়। তাতেও সে নিশ্চেষ্ট না হলে তাকে শক্তি প্রয়োগে বাধা দিবে। কারণ সে হচ্ছে শয়তান। (মুসলিম, হাদীস ৫০৫)
খুত্ববা চলাকালীন কারোর সাথে কথা বলা নিষেধ
আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন; জুমুআর দিন তুমি যদি তোমার সাথীকে বলোঃ চুপ থাকো; অথচ ইমাম সাহেব খুৎবা দিচ্ছেন তা হলে তুমি একটি অযথা কাজ করলে। (বুখারী, হাদীস ৯৩৪ মুসলিম, হাদীস ৮৫১)
ঘুমন্ত অথবা কথায় ব্যস্ত ব্যক্তির পেছনে নামায পড়া নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ঘুমন্ত ব্যক্তি ও যে এখন কথা বলছে এমন কারো পেছনে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৬৯৪ ইবনু মাজাহ্. হাদীস ৯৬৯) তবে অন্য কোথাও জায়গা না পেলে প্রয়োজনে যে কোন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে সামনে রেখেও রাত্রি বেলায় নফল নামায পড়া যায়।
আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন :
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রি বেলায় নফল নামায পড়তেন; অথচ আমি তিনি ও তাঁর ক্বিবলার মাঝে মৃত ব্যক্তির ন্যায় লম্বা হয়ে শুয়ে থাকতাম। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৯৬৬)
বিনা ওযুতে নামায পড়া নিষেধ
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমাদের কারোর ওযু না থাকলে ওযু ছাড়া তার কোন নামায কবুল করা হবে না। (মুসলিম, হাদীস ২২৫)
নামাযের ভেতর বাম হাতের উপর ভর দিয়ে বসা নিষেধ
আব্দুল্লাহ বিন্ উমর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন নামাযের ভেতর বাম হাতের উপর ভর দিয়ে বসতে এবং তিনি বলেন: এ জাতীয় নামায ইহুদিদেরই নামায। (স্বাহীহুল-জামি, হাদীস ৬৮২২)
কোমরে হাত রেখে নামায পড়া নিষেধ
আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কোমরে হাত রেখে নামায পড়তে। (মুসলিম, হাদীস ৫৪৫)
নামাযে যেসব বিষয় নিষেধ
আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের আদেশ করেন এবং তিনটি কাজ থেকে নিষেধ করেন। তিনি আমাকে প্রতি দিন “দুহা” তথা সূর্যের তাপ বেড়ে যাওয়ার সময়কার দু রাক্আত নামায, ঘুমের আগে বিতরের নামায এবং প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখতে আদেশ করেন। তেমনিভাবে তিনি আমাকে মোরগের মতো ঠোকর দিতে, কুকুরের মতো তথা উভয় হাঁটু খাড়া করে দুহাত ও দুপাছা জমিনে বিছিয়ে বসতে এবং শিয়ালের মতো এদিক-ওদিক তাকাতে নিষেধ করেন। (আহ্মাদ্, হাদীস ৭৭৫৮, ৮১০৬)
আনাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা সিজ্দাহ্ করার সময় শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে রাখো। তোমাদের কেউ যেন নিজের উভয় কনুই কুকুরের ন্যায় জমিনে বিছিয়ে না দেয়। (মুসলিম, হাদীস ৪৯৩)
বারা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: যখন তুমি সিজ্দাহ্ করবে তখন তোমার উভয় হাতের তালু জমিনে রাখবে এবং তোমার কনুইদ্বয় জমিন থেকে উঁচিয়ে রাখবে। (মুসলিম, হাদীস ৪৯৪)
আব্দুর রহ্মান বিন্ শিব্ল (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাকের ঠোকর কিংবা হিংস্র পশুর ন্যায় দু কনুই জমিনে বিছিয়ে সিজ্দাহ্ করা অথবা উটের ন্যায় মসজিদের নির্দিষ্ট কোন স্থানে সর্বদা নামায পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৮৬২)
নামাযে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে থুতু ফেলা নিষেধ
আব্দুল্লাহ্ বিন্ উমর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ক্বিবলার দিকে তথা তাঁর সামনের দেয়ালেই কিছুটা থুতু দেখতে পান। তখন তিনি তা দ্রুত মুছে ফেলে নিজ সাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন : তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ালে সে যেন তার সামনের দিকে থুতু না ফেলে। কারণ, আল্লাহ্ তাআলা তার সামনেই থাকেন যখন সে নামায পড়ে। (বুখারী, হাদীস ৪০৬ মুসলিম, হাদীস ৫৪৭)
তবে নামাযরত অবস্থায় অগত্যা কারোর বেশি থুতু আসলে সে যেন তার বাঁ দিকে কিংবা পায়ের নিচে থুতু ফেলে অথবা কোন রুমালে ফেলে উক্ত রুমালের এক পার্শ্ব দিয়ে অন্য পার্শ্ব ঘষে তাতে পুরাপুরি মিশিয়ে দেয়।
আনাস্ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ক্বিবলার দিকে কিছুটা কফ দেখে তিনি খুবই মর্মাহত হন। যা তাঁর চেহারায় অতি দ্রুত পরিুট হয়। তখন তিনি তা নিজ হাতে মুছে ফেলে বললেন : নিশ্চয়ই যখন তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ায় তখন সে তার প্রভুর সাথে বিশেষ সাক্ষাৎ দেয় কিংবা তার প্রভু তার মাঝে ও ক্বিবলার মাঝে অবস্থান করেন। অতএব তোমাদের কেউ যেন তার ক্বিবলার দিকে থুতু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাঁ দিকে কিংবা পায়ের নিচে থুতু ফেলে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরের এক পার্শ্ব হাতে নিয়ে তাতে থুতু ফেলেন। এরপর উক্ত চাদরের একাংশ অন্যাংশের উপর চেপে দেন এবং বলেনঃ অথবা এভাবে থুতু চাদরে মিশে ফেলবে। (বুখারী, হাদীস ৪০৫ মুসলিম হাদীস ৫৫১)
নামাযরত অবস্থায় নামাযীরা বাঁ দিকে কিংবা পায়ের নিচে থুতু ফেলা ও তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার সুযোগ ছিলো বলেই তখন তা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কারণ তখনকার মসজিদগুলোতে কোন কার্পেট বা বিছানা ছিলো না। তবে বর্তমান যুগে যখন মসজিদগুলো কার্পেট সজ্জিত তাই এখন আর সে বিধান পালন করার কোন যৌক্তিকতাই নেই। বরং বর্তমানে এ টিস্যু পেপারের যুগে হাদীসে বর্ণিত দ্বিতীয় নিয়মই অতি সহজেই পালন করা যায়।
