প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬, রমাদান-শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

১. মৃত্যুপথযাত্রীকে কলেমার তালকীন : মৃত্যুগপথযাত্রী অসুস্থ মানুষকে কালিমা বা শাহাদাতাইনের তালকীন করতে হবে, অর্থাৎ তাকে কালিমা পাঠের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

২. দুআ করা : মৃত্যুপথযাত্রী অসুস্থ ব্যক্তিকে বা মৃত ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তার জন্য ও তার পরিজনদের জন্য ভাল দুআ করতে হবে। এ সময়ের দুআয় ফিরিশতাগন আমীন বলেন বলে সহীহ্ হাদীসে বলা হয়েছে। (মুসলিম, ২/৬৩৩-৬৩৪)

৩. কারো মৃত্যু হলে উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব : কারো মৃত্যু হলে উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য সুন্নাত নির্দেশিত দায়িত্ব হলো, তার চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে দেওয়া, একটি বড় কাপড়ে তার পুরো দেহ আবৃত করা এবং তাকে দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা।

৪. শোক প্রকাশ, সান্তনা ও সমবেদনা জানানো : মৃত্যু সবসময়ই বেদনা বয়েআনে জীবিতদের জন্য। তবে বেদনার প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষা হলো, মৃতের আত্মীয়-স্বজনরা তিনদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক শোক প্রকাশ করতে পারেন। এ সময়ে স্বাভাবিক নীরব ক্রন্দন, ব্যাথার প্রকাশ ও পোশাক পরিচ্ছদের অপারিপাট্য থাকতে পারে। তিন দিনের পর আর বাহ্যিক শোক বা ক্রন্দন থাকবে না। আর চিৎকার করে ক্রন্দন, হাহুতাশ, বিলাপ, বুক বা গাল চাপড়ানো, চুল ছেড়া বা মাথা মুণ্ডন করা ইত্যাদি সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। মৃতের স্বজনদের এ শোকের সময়ে অন্যান্য মুসলিমের দায়িত্ব তাদেরকে সান্তনা দেওয়া ও দুআ করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যদি কেউ তার মুমিন ভাইকে কোনো বিপদ মুসিবতে সান্ত্বনা দেয়, তবে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন মহামূল্যবান সবুজ রাজপোশাক পরাবেন।” (বিস্তারিত দেখন, নাসিরুদ্দীন আলবানী, আহকামুল জানাইয, পৃ: ১৬৩)

৫. মৃতের পরিবার-পরিজনের জন্য খাদ্য সরবরাহ করা : কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার-পরিজন শোকে মুহ্যমান থাকে। ঐ সময় আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের কর্তব্য হল তাদেরকে খাদ্য সরবরাহ করা। মুতার যুদ্ধে জাফর (রাঃ) শহীদ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে বলেছিলেন, তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা কর। কেননা আজ তাদের প্রতি এমন জিনিস বা এমন বিষয় এসেছে, যা তাদেরকে ব্যস্ত রেখেছে। (ইবনু মাজাহ হা/১৬১০; আবুদাউদ হা/৩১৩২ সনদ হাসান)

৬. মৃতের ঋণ দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা : বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা জানি যে, মৃতকে দাফনের পূর্বেই দ্রুত তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে তার সকল সম্পদ ব্যয় করতে হবে। কারণ তার ঋণ পরিশোধের আগে উত্তরাধিকার বন্টন হয় না। যদি ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ তার না থাকে তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকে তা পরিশোধ করার। যদি এরূপ কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা না থাকে, তবে কেউ দয়া করে তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করলেও হবে। হাদীস শরীফে বারংবার বলা হয়েছে যে, মৃতের ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সে আবদ্ধ থাকে এবং ঋণ পরিশোধ করা না হলে তাকে জাহান্নামে দেওয়া হয়।

৭. মৃত মুসলিম সম্পর্কে ভালো সাক্ষ্য দেয়া :

৭.১ বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কারো মৃত্যুর পরে যদি তার নিকটতম প্রতিবেশী এবং তার সম্পর্কে অবগত মানুষেরা যদি তার দীনদারী বা পাপাচার সম্পর্কে স্বতস্ফুর্তভাবে প্রশংসা বা নিন্দা করে তবে তা আল্লাহর নিকট কবুল হয়। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, একব্যক্তির মৃত্যুর পরে মানুষেরা তার ধার্মিকতার প্রশংসা করতে থাকেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পাওনা হয়ে গেল। অন্য এক ব্যক্তির মৃত্যুর পরে বিভিন্ন মানুষ তার ধার্মিকতার নিন্দা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : পাওনা হয়ে গেল। এ কথার মর্ম সম্পর্কে সাহাবীরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন: মুমিনগণ দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষী, কাজেই তারা যাকে ভাল বলল তার জন্য জান্নাত পাওনা হলো। আর তারা যাকে খারাপ বলল তার জন্য জাহান্নাম পাওনা হলো। (বুখারী আস-সহীহ ১/৪৬০,২/৯৩৪;মুসলিম, আস-সহীহ ২/৬৫৫; আলবানী, আহকামুল জানাইয, পৃ: ৪৪।)

৭.২ আপন মুসলমান মৃতদের গুণাবলী বয়ান করো এবং তাদের দোষসমূহ বয়ান করো না। (আবু দাউদ)

৭.৩ অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যদি কোনো মুসলিমের মৃত্যুর পরে তার নিকটতম প্রতিবেশীদের মধ্যে থেকে ৪ ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, তারা তার সম্পর্কে ভাল ছাড়া খারাপ কিছুই জানে না, তাহলে মহান আল্লাহ বলেন, তোমরা তার বিষয়ে যা জান তার পক্ষে আমি তা কবুল করে নিলাম, এবং তার বিষয়ে তোমরা যা জান না তার সে সকল অপরাধ আমি ক্ষমা করে দিলাম। (হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৫৩৪; আহমদ, আল-মুসনাদ ২/৪০৮,৩/২৪২; আহকামূল জানাইয, পৃ : ৪৫)

৭.৪ আমাদের দেশে অনেক সময় মৃতদেহ সামনে রেখে সালাতুল জানাযার আগে সমবেতদেরকে প্রশ্ন করা হয়, লোকটি কেমন ছিল? সমবেত মানুষেরা বলেন, লোকটি ভাল ছিল। এ প্রক্রিয়াটি সুন্নাত বিরোধী কর্ম ও একেবারেই আত্মপ্রবঞ্চনা মাত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাহাবীগণ কেউ কখনোই এভাবে মুসল্লীদেরকে প্রশ্ন করেন নি। হাদীসে স্বতস্ফূর্ত প্রশংসার মূল্যায়ন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাদীস থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যায় যে, প্রশংসা বা নিন্দা দীনদারী বিষয়ক হতে হবে।

৭.৫ সবচেয়ে বড় কথা হাদীস শরীফে বারংবার বিষয়টিকে সাক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মুমিন আল্লাহর কাছে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে পারেন না। যার বিষয়ে মুমিন অন্তর থেকে জানেন যে, লোকটি বদকার ছিল তার বিষয় কি মুমিন সাক্ষ্য দিতে পারেন যে, সে নেককার ছিল? আর এরূপ সাক্ষ্য দিয়ে কি আল্লাহকে প্রতারণা করা যাবে? এজন্য মূল বিষয় হলো, মুমিন এমন জীবন যাপন করবেন যে, তার নিকটবর্তীরা তার বিষয়ে ভাল ছাড়া মন্দ জানবেন না, তার দীনদারির ও সদাচারণের কারণে তাদের মুখ থেকে স্বতস্ফুর্তভাবে তার দীনদারির প্রশংসা প্রকাশিত হবে। আর এরূপ সাক্ষ্যের ফলেই আল্লাহ তার গোপন গোনাহগুলি ক্ষমা করবেন এবং তাকে জান্নাত দিবেন।

৮. মুসলমানের জানাজায় অংশ নেয়া তার অধিকার :

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক হাদীসে সালাতুল জানাযায় অংশ নেওয়া ও মৃতের অনুগমন করার গুরুত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। শুক্রবারে বা সিয়ামরত অবস্থায় সালাতুল জানাযায় শরীক হওয়া আরো বেশি ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যদি কেউ সালাতুল জানাযায় শরীক হয় তবে সে এক কীরাত সাওয়াব লাভ করবে। আর যদি কেউ দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত জানাযার সাথে গমন করে ও উপস্থিত থাকে তবে সে দু কীরাত সাওয়াব লাভ করবে। আর একটি কীরাত হলো বিশাল পর্বত পরিমাণ।(বুখারী, আস-সহীহ ১/৪৪৫; মুসলিম, আস-সহীহ ২/৬৫২-৬৫৩। )রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন : যে মৃতের উপর মুসলমানদের একটা বড় জামাত নামায পড়ে, যার সংখ্যা একশত পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তারা সকলেই আল্লাহতায়ালার কাছে এই মৃতের জন্য সুপারিশ করে অর্থাৎ ক্ষমা ও রহমতের দুআ করে, তাদের সুপারিশ অবশ্যই কবুল হবে। (মুসলিম)

৯. জানাযা বহন ও সাথে গমন :

জানাযা বহন ও সাথে গমনের সময় সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করাই সুন্নাত। এ সময়ে সশব্দে কালিমা পড়া, যিকির করা, কথা বলা, ক্যাসেট বাজানো ইত্যাদি সবই সুন্নাত বিরুদ্ধ বিদআত ও মাকরুহ কর্ম। হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আল্লামা কাসানী বাদাইউস সানাইয় কিতাব লিখেছেন: জানাযার অনুসরণের সময় নীরবতাকে স্থায়ী করবে বা পরিপূর্ণ নীরবতা পালন করবে। এ সময়ে সশব্দে এক মুসলমানের মৃত্যুতে
অন্য মুসলমানের করণীয়

১০. কবর যিয়ারত :

কবর যিয়ারত করা সুন্নাতসম্মত নেক আমল। সুন্নাতের আলোকে যিয়ারতের উদ্দেশ্য দুটি: (১) আখেরাতের স্মরণ ও (২) মৃতব্যক্তিকে সালাম প্রদান ও তাঁর জন্য দুআ করা। যিয়ারতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরবাসীদেরকে সালাম প্রদান করতেন এবং খুবই সংক্ষেপে দুআ করতেন।

দুআ-১ :

اَلسَّلَامُ عَلٰى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ الْمُسْلِميْنَ وَ يَرْحَمُ اللهُ الْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنَّا وَ الْمُسْتَأْخِرِيْنَ وَ إِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَاحِقُوْنَ

উচ্চারণ : “আস-সালামু আলা আহ্লিদ দিয়া-রি মিনাল মুমিনীন ওয়াল মুসলিমীন, ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুস্তাক্ক্দিমীনা মিন্না- ওয়াল মুস্তাখিরীন, ওয়া ইন্না- ইনশা-আল্লাহু বিকুম লা-হিকূন।
অর্থ : “মুসলমান ও মুমিন অধিবাসীদের উপর সালাম। আমাদের মধ্য থেকে যারা অগ্রবর্তী (আগে চলে গিয়েছেন) এবং যারা পরবর্তী (যারা এখনো জীবিত রয়েছেন, পরে মৃত্যুবরণ করবেন) সবাইকে আল্লাহ রহমত করেন। আমরাও আল্লাহর মর্জিতে আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবো। (মুসলিম, কিতাবুল জানাইয, নং ৯৭৪)

দুআ-২ :

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَاۤ اَهْلَ الْقُبُوْرِ ، يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَ لَكُمْ ، اَنْتُمْ سَلَفُنَا وَ نَحْنُ بِالْاَثَرِ

উচ্চারণ : “আস-সালামু আলাইকুম ইয়া-আহ্লাল ক্কুবূর, ইয়াগ্ফিরুল্লাহু লানা- ওয়া লাকুম্, আন্তুম সালাফুনা- ওয়া নাহ্নু বিল আসার।
অর্থ : তোমাদের উপর সালাম, হে কবরবাসিগণ, আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদের ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের পূর্বসূরী আর আমরা তোমাদের পিছনে।

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার কিছু কবরের পার্শ্ব দিয়ে গমন করেন। তখন তিনি কবরগুলোর দিকে মুখ ফিরিয়ে উপরের কথাগুলো বলেন। (তিরমিযী (৮-কিতাবুল জানাইয, ৫৯-বার..ইযাদাখালাল মাকাবির) ৩/৩৬৯ (ভারতীয় ১/৩১৩))

১১. মৃত মুসলমানের জন্য করণীয় :

১১.১ প্রিয়জনদের মৃত্যুর পরেও মনের আকুতি থাকে তাদের জন্য কিছু করার বা দেওয়ার। এক্ষেত্রে সন্তানদের মূল দায়িত্ব হলো নিজে ইসলাম পালন ও বেশি বেশি নেক আমল করা। কারণ সন্তানগণ যে নেক আমলই করুক না কেন তার পূর্ণ সাওয়াব পিতমাতা লাভ করবেন, এতে সন্তানদের সাওয়াব কমবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, সন্তান তার পিতামাতারই উপার্জন। (তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৬৩৯;আবু দাউদ,আস-সুনান ৩/২৮৯;নাঈনম, আস-সুনান ৭/২৪১;ইবনু মাজাহ ২/৭৬৮-৭৬৯। হাদীসটি সহীহ। )

১১.২ এজন্য সন্তানের নেক আমলও পিতামাতার উপার্জন বলে গণ্য। বিভিন্ন হাদীস থেকে বিষয়টি জানা যায়। নিজেদের নেক আমলের পাশাপাশি আরো কিছু কর্ম করার নির্দেশনা হাদীস থেকে পাওয়া যায়। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আগমন করে বলে, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার পিতামাতার মৃত্যুর পর তাদের খেদমতের জন্য আমি কী করতে পারি? তিনি বলেন: তাদের জন্য দুআ করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের চুক্তি ও ওয়াদা বাস্তবায়িত করা, তাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত রক্তসম্পর্কের আত্মীয়দের আত্মীয়তা রক্ষা করা এবং তাদের বন্ধুদের সম্মান করা। (আবু দাউদ, আস-সুনান ৪/৩৩৬; ইবুন মাজাহ ২/১২০৮; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ৪/১৭১। হাকিম ও যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

১১.৩ সাহাবী সাদ ইবনু উবাদা (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, আমার আম্মার মৃত্যুর সময় আমি কাছে ছিলাম না। এখন আমি যদি দান করি তাহলে কি তিনি সাওয়াব পাবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: হ্যাঁ। তখন তিনি তার একটি খেজুরের বড় বাগান অথবা একটি পানির কূপ ওয়াকফ দান করেন। (বুখারী, আস-সহীহ ১/৪৬৭,৩/১০১৫;মুসলিম, আস-সহীহ ৩/১২৫৪; আবূ দাউদ ২/১৩০, ৩/১১৬; আলবানী, আহকামূল জানাইয, পৃ: ১৭২)

১১.৪ এভাবে বিভিন্ন হাদীসে মৃতের জন্য দুআ ও দানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুরআন খতম, কালিমা খতম ইত্যাদির কোনো নির্দেশনা কোনো সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয় নি। কোনো কোনো আলিম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু দুআ ও দানের নির্দেশ দিয়েছেন, এগুলির বাইরে যাওয়া অনর্থক। অনেক আলিম বলেছেন যে যেহেতু দুআ বা দানের সাওয়াব আল্লাহ মৃতকে দেবেন, কাজেই কুরআন বা কালিমা খতমের সাওয়াবও দিতে পারেন, অসুবিধা কী? যদি মৃতের সন্তান বা আপনজনেরা মৃতকে সাওয়াব দেওয়ার উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করেন, তবে হয়ত আল্লাহ সে সাওয়াব মৃতকে পৌঁছে দিতেও পারেন। যারা কুরআন পড়তে পারেন না তারা দান ও দুআ করবেন। খতমের জন্য অনুান একেবারেই সুন্নাত বিরোধী কর্ম।

১১.৫ মৃতের জন্য দানের ক্ষেত্রে সুন্নাত পদ্ধতি হলো ওয়াকফ দান ব স্থায়ী দান। মসজিদ, মাদ্রাসা, ইয়াতিমখানা বা যে কোনো জনকল্যাণমূলক প্রতিানে জমি, ঘর, ঘরের অংশ, ফ্যান, বই-পুস্তক ইত্যাদি স্থায়ীরূপে দান করাই সর্বোত্তম দান। আমরা অনেক সময় দেশীয় লোকাচারের উপর নির্ভর করে অন্ন দান বা কুলখানির ব্যবস্থা করি। দানের এ পদ্ধতি সুন্নাতের ব্যতিক্রম।