প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
১. মহান আল্লাহ বলেন :
وَ مَا لِلظَّالِمِيْنَ مِنْ نَّصِيْرٍ
জালিমের কোন সাহায্যকারী হবে না। (সূরা আল-হাজ্জ : ৭৯)
মহান আল্লাহ বলেন : জালিমের জন্য কেউ দরদী বন্ধু হয়ো না আর না এমন কোনো সুপারিশকারী হবে যার কথা মেনে নেয়া হবে। (সূরা আল-মুমিন : ১৮)
২. জুলুম অন্ধকারময় ধোয়ায় পরিণত হবে
হযরত জাবের (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা জুলুম করা থেকে দূরে থাকে। কেননা, কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকারময় ধোঁয়ায় পরিণত হবে। (তোমরা) কার্পণ্যের কলুষতা থেকেও দূরে থাকো। কেননা, কার্পণ্যই তোমাদের পূর্বেকার অনেক জনগোীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কার্পণ্য তাদেরকে রক্তপাত ও মারপিট করতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং হারামকে হালাল করতে উস্কানি যুগিয়েছে। (মুসলিম)
৩. পিলু গাছের ডাল আত্মসাত করলেও জান্নাত হারাম হবে
হযরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফের মাধ্যমে কোন মুসলমানের হক আত্মসাত করবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন অনিবার্য এবং জান্নাত হারাম করে দেবেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলো : হে আল্লাহর রাসূল! সেটা যদি কোন তুচ্ছ জিনিস হয়? তিনি বললেন, তা পিলু গাছের একটা ডাল হলেও। (মুসলিম)
৪. একটি আবা আত্মসাত করে জাহান্নামী
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, কিরকিরা নামক এক ব্যক্তি রাসূলে আকরামের মালপত্র দেখাশুনার কাজে নিযুক্ত ছিল। লোকটি মারা গেলে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি দোযখে যাবে। (এ কথার পর) সাহাবীগণ তার বাড়িতে খোঁজ-খবর নিতে গেলেন। (উদ্দেশ্য, লোকটি কেন দোযখী হলো)। তারা লোকটির ঘরে একটি আবা (এক ধরনের পোশাক) পেলেন। লোকটি এই পোশাক আত্মসাত করেছিল। (বুখারী)
৫. এক বিঘত পরিমাণ জমিতে জুলুম
হযরত আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমিতে জুলুম করল (অর্থাৎ জোরপূর্বক দখল করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ) তার গলায় সাত তবক জমিন পরিয়ে দেবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
৬. কিয়ামতে আত্মসাতকৃত সম্পদ বহন করতে হবে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ অন্যায় (বা অবৈধভাবে) কিছু গ্রহণ করলে কিয়ামতের দিন সে তা বহন করতে করতে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে। কাজেই আমি তোমাদের কাউকে আল্লাহর দরবারে এ অবস্থায় হাযির হতে দেখতে চাই না যে, সে (আস্ত) উট বহন করবে আর তা আওয়াজ করতে থাকবে অথবা গাভী (বহন করে নিয়ে আসবে আর তা) হাম্বা হাম্বা রব করতে থাকবে। অথবা ছাগলের বোঝা বহন করে নিয়ে আসবে আর তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ রব করতে থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)
৭. সূচ পরিমাণ কিছু গোপন করাও খিয়ানত
হযরত আদী ইবনে উমায়ের (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বর্ণনা করতে শুনেছি, আমরা তোমাদের কাউকে কোন সরকারি পদে নিয়োগ করলাম। এরপর সে এক সূচ পরিমাণ অথবা তার চেয়ে বেশি কিছু যদি আমাদের থেকে গোপন করে, তবে সে খিয়ানতকারী রূপে গণ্য হবে। সে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে হাযির হবে। আনসার গোত্রের জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি তার সামনে দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিন। (বর্ণনাকারী) বলেন : আমি যেন এ দৃশ্যটা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন : তোমার কি হয়েছে? সে বললো : আমি আপনাকে এভাবে এভাবে বলতে শুনেছি। তিনি বললেন : আমি এখনও তাই বলবো। আমরা তোমাদের কাউকে কোন পদে নিয়োগ করলে সে কম-বেশি সব কিছু নিয়ে আসবে। তা থেকে তাকে যা দেওয়া হবে তা-ই সে নেবে, আর যা থেকে তাকে বারণ করা হবে, তা থেকে বিরত থাকবে। (মুসলিম)
৮. একটি চাদরের জন্য শহীদ হল জাহান্নামী
হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন : খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী এসে বললেন : অমুক ব্যক্তি শহীদ, অমুক ব্যক্তি শহীদ। এভাবে তারা এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন : অমুক ব্যক্তি শহীদ। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কখনো নয়, আমি তাকে একটি চাদর কিংবা একটি আবার জন জাহান্নামী হতে দেখেছি। এটা সে আত্মসাত করেছিল। (মুসলিম)
