প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৬, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৭ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
আল্লাহ বড়ই শক্তিমান এবং তিনি অতীব ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
৮। আল্লাহ তোমাদিগকে নিষেধ করেন না এই কাজ হইতে যে, তোমরা সেই লোকদের সহিত কল্যাণময় ও সুবিচারপূর্ণ ব্যবহার করিবে যাহারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সহিত যুদ্ধ করে নাই এবং তোমাদিগকে তোমাদের ঘর-বাড়ি হইতে বহিষ্কৃত করে নাই।
সুবিচারকারীদিগকে তো আল্লাহ পছন্দ করেন ১।
৯। তিনি তোমাদিগকে যে কাজ হইতে বিরত থাকিতে বলেন, তাহা হইতেছেঃ তোমাদের বন্ধুত্ব করা সেই লোকদের সহিত যাহারা তোমাদের সঙ্গে দ্বীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করিয়াছে, তোমাদিগকে তোমাদের ঘর-বাড়ি হইতে বহিষ্কৃত করিয়াছে ও তোমাদিগকে বহিষ্কৃত করার ব্যাপারে পরস্পরের সাহায্য-সহযোগিতা করিয়াছে এই লোকদের সহিত যাহারা বন্ধুত্ব করে তাহারাই যালেম।
১০। হে ঈমানদার লোকেরা, ঈমানদার মহিলারা যখন হিজরাত করিয়া তোমাদের নিকট আসিবে, তখন তাহাদের (ঈমানদার হওয়ার ব্যাপারটি) যাচাই- পরখ করিয়া লও- আর তাহাদের ঈমানের প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ-ই ভালো জানেন। তোমরা যদি নিঃসন্দেহে জানিতে পার যে, তাহারা মুমিন, তাহা হইলে তাহাদিগকে কাফেরদের নিকট ফিরাইয়া দিও না ২। না তাহারা কাফেরদের জন্য হালাল, না কাফের পুরুষরা তাহাদের জন্য হালাল। তাহাদের কাফের স্বামীরা যে মোহরানা তাহাদিগকে দিয়াছিল তাহা তাহাদিগকে ফিরাইয়া দাও। তোমাদের নিজেদের তাহাদিগকে বিবাহ করায় কোনই দোষ নাই যদি তোমরা তাহাদের মোহরানা তাহাদিগকে আদায় করিয়া দাও ৩।
১ মর্ম হচ্ছে যে ব্যক্তি তোমাদের প্রতি শত্রতা পোষণ করে না, বিচারের দাবী হচ্ছে তোমরাও তার সাথে শত্রতা পোষণ করবে না। শত্র ও অশত্র উভয়কে একই পর্যায়ে গণ্য করা এবং উভয়ের সঙ্গে একরূপ ব্যবহার করা বিচারসম্মত নয়। সেই সব লোকদের প্রতি কঠোর ব্যবহার করার হক আছে যারা ঈমান আনার জন্যে তোমাদের উপর অত্যাচার করেছে ও তোমাদেরকে মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে এবং তোমরা দেশ ত্যাগ করার পরও যারা তোমাদের পিছন ছাড়েনি। কিন্তু যেসব লোক এই অত্যাচারে কোন অংশগ্রহণ করেনি, বিচারের দাবী হচ্ছে তোমরা তাদের সাথে সৎ ব্যবহার করবে এবং সম্পর্ক ও আত্মীয়তার দিক দিয়ে তোমাদের উপর তাদের যেসব হক আছে তা পালন করতে কোন ত্রটি করবে না।
২ হোদায়বিয়ার সন্ধির পর প্রথম প্রথম তো মুসলমান পুরুষ মক্কা থেকে পালিয়ে পালিয়ে মদীনায় আসতে থাকে এবং চুক্তির শর্তানুযায়ী তাদের ফিরিয়ে পাঠানো হতে থাকে; কিন্তু এরপর মুসলিম নারীদের ক্রমাগত আগমন শুরু হয়ে যায় এবং কাফেররা চুক্তির দোহাই দিয়ে তাদের ফিরে পাবারও দাবী জানায়। এ সম্পর্কে এই প্রশ্ন উঠে হোদাইবিয়ার চুক্তি কি স্ত্রীলোকদের উপরও প্রযোজ্য হবে? আল্লাহতাআলা এই প্রশ্নের এই উত্তর দেন যে যদি সে মুসলমান হয় এবং এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বস্তুত ঈমানের খাতিরেই সে হিজরত করে এসেছে অন্য কোন কারণে আসেনি তবে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে না। এ আদেশের ভিত্তি হচ্ছে চুক্তিপত্রে লিখিত শর্তে রাজুলুন (পুরুষ) শব্দ লিখিত ছিল যেমন রোখারীর বর্ণনায় উল্লেখিত আছে।
৩ মর্ম হচ্ছে তাদের কাফের স্বামীদের যে মোহর ফিরিয়ে দেয়া হবে সেই মোহরই এই স্ত্রী লোকদের মোহর বলে গণ্য হবে না। বরং এখন যে মুসলমানই তাদের মধ্যে কোন স্ত্রী লোককে বিবাহ করতে ইচ্ছা করবে সে যেন তার মোহর আদায় করে তাকে বিবাহ করে।
