প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৮-৩৯ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

রেওয়ায়ত-১

ইবন শিহাব (রহ.) হইতে বর্ণিত ঃ উমর ইবন আবদুল আযীয (র.) একদিন নামায বিলম্বে পড়িলেন। উরওয়াহ ইবন যুবাইর (রা.) তাঁর নিকট আসিয়া খবর দিলেন যে, মুগীরা ইবন শু’বা যখন কুফায় ছিলেন তখন তিনি একদিন নামায বিলম্বে পড়িলেন। তারপর আবু মাসউদ আনসারী (রা.) তাঁহার নিকট আসিয়া বলিলেন : মুগীরা এই বিলম্ব কেন? আপসার জানা নাই কি জিবরাঈল (আ) অবতরণ করিলেন, অতঃপর নামায পড়িলেন, (তাঁহার সাথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়িলেন, অতঃপর জিবরাঈল (আ.) নামায পড়িলেন, (তাঁহার সাথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়িলেন, তারপর জিবরাঈল (আ.) নামায পড়িলেন, (তাঁহার সাথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়িলেন। তারপর বলিলেন, আপনার প্রতি ইহারই (এইভাবে নামায আদায় করার) নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। উমর ইবন আবদুল আযীম (র.) বলিলেন, উরওয়াহ্! তুমি কি বর্ণনা করিতেছ ভাবিয়া দেখ। জিবরাঈল (আ.)-ই কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নামাযের সময় ঠিক করিয়াছেন? উরওয়াহ্ বলিলেন, বশীর ইবনে মাসউদ আনসারী তাঁহার পিতা হইতে এইরূপ হাদীস বর্ণনা করিতেন।

রেওয়ায়ত-২

উরওয়াহ (রহ.) বলিলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আসর পড়িতেন এখনও সূর্যের আলো আয়েশার হুজরাতে থাকিত, আলো ঘরের মেঝে হইতে প্রাচীরে উঠার পূর্বে।

রেওয়ায়ত-৩

আতা ইবন ইয়াসার (রহ.) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসিল এবং ফজর নামাযের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই লোকের প্রশ্নের উত্তরদানে বিরত রহিলেন। দ্বিতীয় দিন ফজর (সুবহ-এ সাদিক) হইলে পর তিনি ফজরের নামায পড়িলেন। তারপরের দিন ফজর পড়িলেন। (ভোরের আলো) পূর্ণাঙ্গ প্রকাশিত হওয়ার পর। অতঃপর তিনি বলিলেন, নামাযের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? (সেইলোক) বলিল, আমিই সেই ব্যক্তি ইয়া রাসুল্লাহ। তিনি বলিলেন, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী মুহূর্তগুলিই ফজর নামাযের সময়।

রেওয়ায়ত-৪

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী ‘আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজর পড়িতেন তখন মেয়েলোকেরা নামায আদায়ের পর তাহাদের চাদর মুড়ি দিয়া (ঘরের দিকে) ফিরিতেন, অন্ধকারের জন্য তাহাদিগকে চেনা যাইত না।

রেওয়ায়ত-৫

আবু হুরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রকাত পাইয়াছে সে ফজর নামায পাইয়াছে। আর যে ব্যক্তি সূর্য ডুবার পূর্বে আসরের এক রাকাত পাইয়াছে সে আসর পাইয়াছে।

রেওয়ায়ত-৬

নাফি’ (রহ.) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রা.) তাঁহার (অধনস্থ) কর্মকর্তাদের নিকট লিখিয়াছেন, আমার মতে তোমাদের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হইতেছে নামায, তাই যে উহার রক্ষণাবেক্ষণ করিল এবং (নিষ্ঠার সহিত) বরাবর আঞ্জাম দিল সে নিজের দীনের হিফাজত করিল, আর যে নামাযকে নষ্ট করিল, সে নামায ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় দীনি কাজেরও অধিক নষ্টকারী হইবে। তিনি আরও লিখিলেন, তোমরা যোহরের নামায পড়িও যখন ফাই (সূর্য পশ্চিমে হেলিয়া পড়ার পর যে ছায়া হয় তাহা) এক হাত হয়। এই নামাযের সময় তোমাদের প্রত্যেকের ছায়া তাহার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত। আর আসরের নামায পড়িও যখন সূর্য ঊর্ধ্বে উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন থাকে। (সেই সময় হইতে) সূর্যাস্তের পূর্বে সওয়ারী ব্যক্তি দুই অথবা তিন ফরসখ চলিতে পারে এতটুকু সময় পর্যন্ত। আর মাগরিব পড়িও যখন সূর্য ডুবিয়া যায়, আর ইশা পড়িও (শফক) অদৃশ্য হওয়ার পর হইতে এক-তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত। আর যে (ইশা না পড়িয়া) নিদ্রা যায় তার চক্ষুর যেন নিদ্রা নসিব না হয়। আর ফজর (পড়িও) যখন নক্ষত্রসমূহ পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরস্পর খাপিয়া যায়।

রেওয়ায়ত-৭

মালিক ইবন আসবাহী (রা.) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রা.) আবু মূসা আশ’আরী (রা.)-এর নিকট (পত্র) লিখিয়াছেন, সূর্য ঢলিয়া পড়িলে পর তুমি যোহর পড়, আর আসর পড় যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন থাকে, উহাতে হলুদ বর্ণ প্রকাশ হওয়ার পূর্বে। সূর্যাস্তের পর মাগরিব পড়। আর ইশা পড় নিদ্রার পূর্বে। আর নক্ষত্রসমূহ যখন (ফজরের আলোতে) উদ্ভাসিত হয় এবং একে অপরের সহিত খাপিয়া যায় তখন ফজর পড়। আর ফজর নামাযে মুফাছছল হইতে দুইটি দীর্ঘ সূরা পাঠ কর।

রেওয়ায়ত-৮

উরওয়া ইবন যুবায়র (রহ.) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রা.) আবু মূসা আশ’আরী (রা.)-এর নিকট লিখিয়াছেন, তুমি আসর পড়িও যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে; আরোহী তিন ফরসখ পথ চলিতে পারে সেই পরিমাণ সময় পর্যন্ত। আর ইশা পড় তোমার সম্মুখে যখন ইশা উপস্থিত হয় সেই সময় হইতে এক-তৃতীয়াংশ রাত্রি পর্যন্ত। যদি তুমি আরও বিলম্ব কর তবে অর্ধরাত্রি পর্যন্ত করিও। তবে তুমি অলসদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

রেওয়ায়ত-৯

আবদুল্লাহ ইবন রাফি’ (রহ.) আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিকট নামাযের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন। উত্তরে আবু হুরায়রা (রা.) বলিলেন, আমি তোমাকে নামাযের সময়ের সংবাদ দিব, যোহর পড় যখন তোমার ছায়া তোমার সমপরিমাণ হয়। আর আসর পড় যখন তোমার ছায়া তোমার দ্বিগুণ হয়। মাগরিব পড় যখন সূর্য অস্ত যায়। আর ইশা পড় তোমার সম্মুখ (অর্থাৎ তোমার সামনে উপস্থিত ইশার প্রথম সময়) হইতে এক-তৃতীয়াংশ রাত্রি পর্যন্ত আর ফজর পড় গাবস অর্থাৎ গলসে-রাত্রির অন্ধকার কিছুটা অবশিষ্ট থাকিতে।

রেওয়ায়ত-১০

আনাস ইবন মালিক (রা.) বলিয়াছেন, আমরা আসর পরিতাম, অতঃপর লোকজন বাহির হইতেন (কুবায় অবস্থিত) বনি আমর ইবন আউফ-এর বস্তির দিকে, তথায় তাঁহাদিগকে এই অবস্থায় পাইতেন যে, তাঁহারা আসরের নামায পড়িতেছেন।

রেওয়ায়ত-১১

আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন, আমরা আসর পড়িতাম। অতঃপর গমনকারী কুবার দিকে গমন করিতেন এবং তাঁহাদের (কুবাবাসীদের) নিকট আসিয়া পৌঁছিতেন। (এমন সময় যে), সূর্য তখনও উঁচুতে।

রেওয়ায়ত-১২

কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, যোহরের নামায লোকদিগকে সূর্য ঢলার বেশ কিছুক্ষণ পর পড়িতে আমি পাইয়াছি।
জুম’আর সময়

রেওয়ায়ত-১৩

আবু সুহায়ল (রহ.) বর্ণনা করিয়াছেন যে, তাঁহার পিতা মালিক (রহ.) বলিয়াছেন, আমি জুম’আর দিবসে আকীল ইবন আবু তালিবের একটি ছোট চাটাই (অথবা চাদর) দেখিতে পাইলাম। উহা মসজিদের পশ্চিম প্রাচীরের দিকে ফেলিয়া রাখা হইত। প্রাচীরের ছায়া যখন চাটাইকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করিয়া ফেলিত, তখন উমর ইবন খাত্তাব (রা.) বাহির হইতেন এবং জুম’আ পড়াইতেন। জুম’আর নামাযান্তে আমরা প্রত্যাবর্তন করিতাম এবং দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণ করিতাম।

রেওয়ায়ত-১৪

ইবন আবী সালিত (রহ.) হইবে বর্ণিত, উসমান ইবন আফফান (রা.) জুম’আর নামায মদীনায় পড়িয়াছেন, আর আসার ‘মলল’ (মদীনা এবং মলল-এর মধ্যকার দূরত্ব বলা হইয়াছে। মতান্তরে ২২, ১৮, ১৭ মাইল) নামক স্থানে।
মালিক (রহ.) বলেন, ইহা তানজীর (সূর্য পশ্চিমে ঢলার পরপরই জুম’আ আদায় করা) ও দ্রুতগতিতে পথ অতিক্রমের জন্য।
যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পায়

রেওয়ায়ত-১৫

আবু হুরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন যে, নামাযের এক রাকাত পাইয়াছে সে অবশ্য নামায পাইয়াছে।

রেওয়ায়ত-১৬

নাফি’ (রহ.) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) তবে তোমার সিজদাও ফাউত হইয়া গেল।

রেওয়ায়ত-১৭

মালিক (রহ.)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ ইবন উমর ও যায়দ ইবন সাবিত (রা.) তাঁহারা উভয়ে বলিতেন, যে লোক রুকু পাইয়াছে সে সিজদাও পাইয়াছে।

রেওয়ায়ত-১৮

মালিক (রহ.) বলেন, তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলিতেন, যে রুকু পাইয়াছে সে সিজদাও পাইয়াছে। আর যাঁহার উম্মুল-কুরআন ফাউত হইয়াছে তাঁহার অনেক সওয়াব ফাউত হইয়াছে।