প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৮-৩৯ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

যে লোক আল্লাহকে ভয় করিয়া কাজ করিবে, আল্লাহ তাহার জন্য অসুবিধাজনক অবস্থা হইতে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোন-না কোন পথ করিয়া দিবেন।

৩. আর তাহাকে এমন উপায়ে রেয্ক দিবেন, যে দিক সম্পর্কে তাহার ধারণাও হইবে না। যে লোক আল্লাহর উপর ভরসা করিবে তাহার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহতো নিজের কাজ সম্পূর্ণ করিবেনই। আল্লাহ প্রত্যেকটি জিনিসের জন্য একটি তকদীর নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন।

৪. আর তোমাদের স্ত্রীলোকদের মধ্য হইতে যাহারা হায়েয হইতে নিরাশ হইয়া গিয়াছে, তাহাদের ব্যাপারে তোমাদের মনে যদি কোনরূপ সন্দেহ জাগে, তাহা (তোমরা জানিয়া রাখ), তাহাদের ইদ্দত তিন মাস। আর এই হুকুম তাহাদের জন্যও যাহাদের এখনো হায়েয আসে নাই১। আর গর্ভবতী স্ত্রীলোকদের ইদ্দতকাল সীমা হইল তাদের গর্ভ প্রসব করা পর্যন্ত২।যে লোক আল্লাহকে ভয় করে তাহার ব্যাপারে তিনি সহজ ও সুবিধাজনক ব্যবস্থা করিয়া দেন।

৫. ইহা আল্লাহর বিধান; যাহা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করিয়াছেন। যে লোক আল্লাহকে ভয় করিবে, আল্লাহ্ তাহার পক্ষে অকল্যাণসমূহ দূর করিয়া দিবেন এবং তাহাকে বড় শুভফল দান করিবেন।

৬. তাহাদিগকে (ইদ্দতের সময়-কালে) সেই স্থানে থাকিতে দাও, যেখানে তোমরা বসবাস কর, যে রকম স্থানই তোমাদের হউকনা কেন। এবং তাহাদিগকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাহাদিগকে জ্বালা-যন্ত্রণা দিও না। আর তাহারা যদি গর্ভবতী হয়, তাহা হইলে তাহাদের ব্যয়ভার বহন কর সেই সময় পর্যন্ত, যতক্ষণ না তাহাদের গর্ভ প্রসব হয়। পরে সে যদি তোমাদের জন্য (বাচ্চাকে) স্তন দেয়, তবে উহার পারিশ্রমিক তাহাদিগকে দাও এবং (পারিশ্রমিকের ব্যাপারটি) ভালোভাবে পারস্পরিক কথা-বার্তার মাধ্যমে মীমাংসা করিয়া লও।

টিকাঃ

১ কম বয়সের কারণে হায়েয যদি না আসে বা অনেক স্ত্রীলোকের বিলম্বে হায়েয আসে সেই কারণে যদি হায়েয না আসে, কোন কোন স্ত্রীলোকের জীবনভরও হায়েয আসেনা- যদিও এরূপ ঘটনা খুবই বিরল, যাইহোক, এসকল অবস্থাতে এরূপ স্ত্রীলোকদের ইদ্দতকাল হায়েয থেকে নিরাশ স্ত্রীলোকের ইদ্দতের ন্যায় অর্থাৎ- তিনমাস।

২ অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই যদি স্ত্রী গর্ভমুক্ত হয় অথবা গর্ভকাল যদি চারমাস দশদিন থেকেও বেশি দীর্ঘ সময় চলতে থাকে, সর্ব অবস্থাতেই সন্তান প্রসব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীলোকের ইদ্দত শেষ হবে।